Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2021/12/Article-Rules-Bangla.html

আর্টিকেল লেখার নিয়ম | বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম

আর্টিকেল লেখার নিয়ম - বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম — কন্টেন্ট রাইটিং হচ্ছে মার্কেটিং এর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অনেকেই আছেন যারা মনে করেন যে, কন্টেন্ট রাইটিং মানে হচ্ছে শুধুমাত্র ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইটের জন্যে আর্টিকেল লেখা। আপনিও যদি তাদের মতো ভেবে থাকেন তবে আপনার ধারণাটিও কিন্ত কিছুটা ভুল রয়েছে। কেননা যদি আপনি ইউটিউব ভিডিও স্ক্রিপ্ট লিখেন সেটাও কিন্ত এই আর্টিকেল রাইটিং বা কন্টেন্ট রাইটিং কাজের মধ্যে পড়ে।

আর্টিকেল লেখার নিয়ম

পেজ সূচীপত্রঃ

ট্র্যাফিক বা ভিজিটরকে ওয়েবসাইটের প্রাণ বলা হয়ে থাকে। ওয়েবসাইটে কোনো ভিজিটর না থাকলে তবে উক্ত ওয়েবসাইটের কোনো মূল্য নেই। অর্থাৎ ভিজিটর ব্যতীত সেই ওয়েবসাইটকে ঘরে পড়ে থাকা ব্যক্তিগত ডায়রির সঙ্গেই তুলনা করাই চলে। ওয়েবসাইটে বিভিন্ন পদ্ধতিতে মার্কেটিং করার মাধ্যমে ভিজিটর বৃদ্ধি করা যায়। আর হাই কোয়ালিটি সম্পূর্ণ আর্টিকেল ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ভালোমানের আর্টিকেল বা কোয়ালিটি সম্পূর্ণ পোস্ট ব্যতীত কখনোই ওয়েবসাইটে ভিজিটর বা ট্র্যাফিক ধরে রাখা সম্ভপর হবেনা। আর যদি আপনার ওয়েবসাইটে তথ্যপূর্ণ ভালোমানের কিংবা কোয়ালিটি সম্পূর্ণ আর্টিকেল থাকে তবে গুগল, বিং, ইয়াহু ইত্যাদি সার্চ ইঞ্জিন গুলো থেকে এমিনিতেই ওয়েবসাইটে অর্গানিক ট্র্যাফিক পাওয়া যায়। তাই সেই হিসেবে আর্টিকেল হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের জন্য বিশাল কিছু। কিন্তু মনে রাখা ভালো আর্টিকেল যেন তেন ভাবে আগডুম-বাগডুম যা ইচ্ছা তাই লিখলেই হবেনা।

আর্টিকেল রাইটিং করার জন্য কিছু নিয়ম কানুন এবং কিছু কৌশল রয়েছে। আর্টিকেল লেখার নিয়ম কিংবা বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম জানা থাকলে আপনারা খুবই সহজেই আপনার ওয়েবসাইটে অনেক বেশি পরিমাণে অর্গানিক ভিজিটর পাবেন। তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম বা হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল লেখার সকল নিয়ম সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

কন্টেন্ট লেখার সময়ে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপরে লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি আপনি একজন ভালোমানের একজন আর্টিকেল রাইটার হতে চান তবে আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র আপনার জন্য। আপনি যদি ব্লগিং করতে চান তাহলে আপনাকে আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে অবশ্যই ভালোভাবে জানতে হবে।

আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত লেখার শুরুতেই আপনাদেরকে বলে দিচ্ছি, আর্টিকেল লেখা সহজ কোনো কাজ নয়। অনেকেই আছেন যারা মনে করেন ভালো গ্রামার এবং ইংরেজি ভোকাবুলারি সম্পর্কে ভালো জানা থাকলেই আর্টিকেল লেখা সম্ভব। মূলত বিষয়টি কিন্তু এই রকম নয়। আর্টিকেল লেখা হচ্ছে এক ধরনের আর্টের মতোন। যে কাজ সকলের দ্বারা হয়না।

আমি হাসিবুর রহমান ৫-৬ বছর ধরে কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বিভন্ন ওয়েবসাইট এবং মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ করেছি। এই লম্বা সময়ে রাইটিং লাইফে আমি অনেক কিছুই জানতে পারছি ও শিখতে পারছি। আজকের এই আর্টিকেলে, আমি আমার ৪ থেকে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা গুলো আপনাদের সাথে টিপস আকারে শেয়ার করবো।

আমি আশা করি, আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটা যেকোনো আর্টিকেল রাইটার এবং যারা আর্টিকেল রাইটার হতে চান তাদের জন্য কাজে আসবে। প্রিয় পাঠক আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানার আগে চলুন জেনে নেই কন্টেন্ট কিঃ

কন্টেন্ট কি - কন্টেন্ট রাইটিং কি

কন্টেন্ট তৈরির অন্যতম প্রক্রিয়া হচ্ছে আর্টিকেল রাইটিং। আমরা অনলাইনে যেকোনো ওয়েবসাইটে ভিজিট করে টেক্সট, ইমেজ, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি পড়ি ও দেখি এবং শুনে থাকি মূলত এগুলোই হলো কন্টেন্ট। ওয়েবসাইটে যেকোনো টেক্সটকে বলা হয়ে থাকে টেক্সট কন্টেন্ট এবং ওয়েবসাইটে যে অডিও গুলো শুনে থাকি সেগুলো হচ্ছে অডিও কন্টেন্ট। 

এছাড়াও ওয়েবসাইটে যেসকল ভিডিও দেখে থাকি সেগুলোকে বলা হয় ভিডিও কন্টেন্ট। প্রিয় পাঠক কন্টেন্ট রাইটিং বলতে সাধারনভাবে আমরা আর্টিকেল রাইটিংকে বুঝে থাকি। যেমনঃ বাংলায় কোনো বিষয়ে লিখে ওয়েবসাইটে পাবলিশ করাকে বলা বাংলা কন্টেন্ট রাইটিং কিংবা বাংলা আর্টিকেল রাইটিং। 

বিভিন্ন ফরম্যাটে আপনারা ওয়েব কন্টেন্ট লিখতে পারবেন। যেমনঃ ব্লগ পোস্ট, ভিডিও স্ক্রিপ্ট, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, কেস স্টাডি, রিভিউ, ইবুক, ল্যান্ডিং পেইজের কপি, ইউটিউব ভিডিওর ডেসক্রিপশন বা বর্ণনা, ইমেইল নিউজলেটার, হোয়াইট পেপার, পডক্যাস্টের আউটলাইন ও স্ক্রিপ্ট, ওয়েবসাইটের কপি ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ এডসেন্স একাউন্ট খোলার নিয়ম

কন্টেন্ট রাইটিং কেন প্রয়োজন

ভালো কন্টেন্ট লেখার মাধ্যমে আপনারা সম্ভাব্য টার্গেট অডিয়েন্সের নজর সহজেই কাড়তে পারবেন, সেলসের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারবেন, সম্ভাব্য টার্গেট অডিয়েন্সের আস্থা অর্জন করতে পারবেন, পুরাতন কাস্টমারদের আস্থা ধরে রাখতে পারবেন। 

ইন্টারনেট ইউজারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবার কারণে ওয়েব ভিত্তিক কন্টেন্ট দিয়ে কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে চায় প্রতিটি ব্যবসা ও ব্র্যান্ড। একজন কন্টেন্ট রাইটার কিংবা আর্টিকেল রাইটার হিসেবে আপনি সেই লক্ষ্য পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবেন। যেমনঃ কন্টেন্ট দিয়ে ওয়েবসাইটের এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন) ভালো করতে।

আর্টিকেল লেখার নিয়ম - বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম

একটি কোয়ালিটিফুল আর্টিকেল লেখার জন্য বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে তারপরে আর্টিকেল লেখার প্রয়োজন হয়। আপনি চাইলেই হয়তোবা এখন একটা কোয়ালিটিফুল আর্টিকেল লিখতে পারবেন না। কিন্তু যদি আপনি সত্যি সত্যি কোয়ালিটি সম্পূর্ণ আর্টিকেল লিখতে চান তাহলে আপনি সেটা লিখতে পারবেন। 

ভালোমানের আর্টিকেল লেখার জন্য প্রয়োজন চেষ্টা, সুন্দরভাবে লেখার কলাকৌশল সম্বন্ধে ভালোভাবে ধারণা রাখা। প্রিয় পাঠক আপনি বেশি বেশি প্রাক্টিস করার মাধ্যমে আর্টিকেল লেখার কলাকৌশল সম্পর্কে জেনে ভালোমানের একজন আর্টিকেল রাইটার হতে পারবেন। আর্টিকেল লেখার সময় আমাদের মাঝে বেশিরভাগ রাইটার প্রথমেই যে ভুলটা করে থাকে সেটা হচ্ছে, ভিজিটরদের কাছে কি উদ্দেশ্যে নিয়ে আর্টিকেলটা লিখছে সেটা শনাক্ত করার পূর্বেই কন্টেন্ট লেখা শুরু করে দেন। 

একজন রাইটার হিসেবে আপনাকে কখনোই এমন ভাবা উচিত নয় যে, আগে আর্টিকেল লিখি পরবর্তীতে পাঠকরা এমনিতেই ওয়েবসাইটে আসবে। সেজন্য আর্টিকেল লেখার পূর্বে আপনার পাঠকগুলো কে কে সেটা নির্বাচন করুন এবং পাঠকদের চাহিদা সম্পর্কে জানুন।

আপনার কন্টেন্টের টপিক নির্বাচন করা হয়ে গেলে পাঠকদের চাহিদা অনুসারে নিদিষ্ট টপিক নিয়ে আর্টিকেল লিখুন। টপিক ভালোভাবে রিসার্চ করুন। আপনার খুঁজে বের করা টপিক নিয়ে অন্যান্য সকল ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট পড়ে জেনে নিন তাদের লেখাতে কোন কোন জায়গায় গ্যাপ রয়েছে সেগুলো খুঁজে বাহির করুন। 

আর্টিকেলে এমন কিছু সম্পর্কে লিখবেন না যে লেখা অন্য ওয়েবসাইটে পূর্বে থেকে লেখা আছে। কন্টেন্টের মাঝে আপনার সৃজনশীলতাকে তুলে ধরুন। কন্টেন্টর মাঝে স্টেপ বাই স্টেপ বিস্তারিত কথা তুলে ধরার চেষ্টা করুন। এমনভাবে লিখুন যেন আপনার আর্টিকেলটি একজন পাঠক পড়ে একটা সঠিক ডিসিশনে পৌঁছাতে পারে।

বলা হয়ে থাকে আর্টিকেলই হচ্ছে ওয়েবসাইটের রাজা। অর্থাৎ রাজা ঠিক না হলে আপনার সাইটের কোনো কিচ্ছু ঠিকঠাক নাই। সাইটে আপনার কন্টেন্ট লেখার মূল উদ্দেশ্য যেহেতু আপনার আর্টিকেলটি কোটি কোটি মানুষ পড়ে উপকৃত হবে এবং টাইমলাইনে শেয়ার করবে। 

তাই এই বিষয়ে আপনাকে কয়েকটি নিয়ম কানুন অনুসরণ করে কন্টেন্ট লিখতে হবে। আর্টিকেল লেখার নিয়ম গুলোকে কিছু ভাগে ভাগ করা যায়। কোয়ালিটিফুল আর্টিকেল লেখার জন্য যেগুলো আপনাকে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। উল্লেখযোগ্য ২টি বিষয়গুলো হলোঃ আর্টিকেলের বিষয়বস্তু নির্বাচন এবং পাঠকদের প্রয়োজনীতার কথা মাথায় রাখা।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের সেরা হোস্টিং কোম্পানি

আর্টিকেল লেখার নিয়ম - বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম

ব্যক্তি ভেদে যদিওবা একেক জনের লেখার ধরণ ও স্টাইল একেক রকমের হয়। তবুও ব্যাসিক বিষয় গুলো কিন্ত একই। যদি আপনি আর্টিকেল রাইটিংয়ে একদম নতুন হয়ে থাকেন তবে নিচে উল্লেখ করা বিষয়গুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে একজন ভালোমানের আর্টিকেল রাইটার হতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেই আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে।

১। সুন্দর আর্টিকেল টাইটেল ব্যবহার — ইনফর্মেটিভ এবং আই ক্যাচি টাইটেল

কোনো কন্টেন্টের ভিতরের অংশে কি কি আছে সেটা শুরু দিকেই প্রকাশ পায় সুন্দর একটা টাইটেলের মাধ্যমে। কোনো আর্টিকেলের টাইটেল যতবেশি আকর্ষনীয় হবে, ভিজিটরদের দৃষ্টি ততবেশি আকর্ষিত হবে। কারণ কন্টেন্টের টাইটেল ভালো না হলে সেই পোস্টে ক্লিক কম পরার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়াও কন্টেন্টের টাইটেল ভালো না হলে গুগল এবং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে র‍্যাংক করবে না। 

তাই কন্টেন্ট র‍্যাংক এবং বেশি বেশি ক্লিক পাওয়ার জন্য প্রথমে ভালো একটা টাইটেল নির্বাচন করতে হবে। একজন পাঠকের চোখে সর্বপ্রথমেই যেটা পরে সেটা হচ্ছে টাইটেল। আর টাইটেল দেখেই একজন ভিজিটর সিদ্ধান্ত নেয় সেই আর্টিকেলটি পড়বে কি আর্টিকেলটি পড়বে না।

মনে করুন আপনি অনলাইনে ইনকাম সম্পর্কে একটি কন্টেন্ট লিখবেন, তার জন্য অবশ্যই আপনাকে এমন একটি সুন্দর বা আই ক্যাচি টাইটেল রাখবেন যাতে করে পাঠকরা সহযেই বুঝতে পারে। অনলাইনে ইনকাম করার জন্য টাইটেল গুলো হওয়া উচিত যেমনঃ প্রতিদিন ১০০০ হাজার টাকা ইনকাম করার উপায়। 

কিংবা অনলাইনে কিভাবে আয় করা যায় এবং কিভাবে প্রতিদিন অনলাইন থেকে ৫০০ টাকা আয় করবেন। এখন এই সকল কৌতূহল প্রশ্নের টাইটেল গুলো পাঠকদের মনে সারা ফেলবে এবং এই সকল কন্টেন্ট পড়ার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। তাই সুন্দর আর্টিকেল তৈরি করতে সুন্দর টাইটেল ব্যাবহার করুন।

আরও পড়ুনঃ ডোমেইন অথরিটি কি | ডোমেইন অথরিটি বাড়ানোর উপায়

২। সুন্দর ফিচার ইমেজ ব্যবহার - আর্টিকেল রিলেটেড ইমেজ ব্যবহার করুন

একটি আর্টিকেলকে অধিকবেশি আকর্ষণীয় করে তোলার জন্যে অবশ্যই আর্টিকেলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ইমেজ ব্যবহার করুন। এতে করে যেমন আপনার আর্টিকেলটি দেখতে সুন্দর লাগবে তেমনি আপনার কথা কিংবা আপনি আসলে কি বোঝাতে বা কি মেসেজ দিতে চাচ্ছেন সেটা আরো ভালোভাবে ফুটে উঠবে। 

তাই আপনার আর্টিকেলের জন্য অবশ্যই ১টি ভালো বা গর্জিয়াস লুকিং ফিচার ইমেজ ব্যবহার করতে হবে। সুন্দর ফিচার ইমেজ ব্যবহার করার কারণে আপনার আর্টিকেলের প্রতি পাঠকদের মনোযোগ সহজেই আকর্ষণ করবে। যদি ফিচার ইমেজ ভালো ও সুন্দর হয় তাহলে আপনার আর্টিকেলের প্রতি কিন্ত ক্লিকও বেশি বেশি হবে।

ইমেজ ব্যবহার করে আপনি যে কথা সহজেই পাঠকদের বোঝাতে পারবেন, সেই কথা লিখে বোঝাতে গেলে হয়তোবা অতিরিক্ত ২০০টি শব্দ দিয়ে লিখতে হতো। তারপরও যেটা লিখে বোঝানো সম্ভবপর হবে সেটা হয়েতোবা ইমেজ দ্বারা বোঝানো সম্ভবপর না। আবার যেটা ইমেজ ব্যবহার করে বোজানো সম্ভবপর সেটা হয়তোবা পুরোপুরি ভাবে লিখে বোঝানো সম্ভবপর নয়। কাজেই আপনার আর্টিকেলের বিষয়বস্তুর সাথে রিলেটেড ইমেজ ব্যবহার করুন।

৩। ক্যাটাগরি সিলেক্ট করুন

প্রতিটি আর্টিকেলের জন্য অবশ্যই অবশ্যই ক্যাটাগরি সিলেক্ট করতে হবে। একটা ভালোমানের আর্টিকেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ক্যাটাগরি সিলেক্ট করা। তাই যখনি আপনি কোনো আর্টিকেল লিখবেন তখন ক্যাটাগরি নির্বাচন করে দিবেন।

৪। ইন্ট্রো - সারাংশ উল্লেখ করুন

আর্টিকেল রাইটিং করার সময় শুরুর অংশে সংক্ষেপে কিছু লিখতে হবে যে আপনি মূলত সম্পূর্ণ আর্টিকেলটিতে কি কি লিখতে যাচ্ছেন, পাঠকরা আপনার আর্টিকেলটি কেন পড়বে, এখান থেকে তারা কি কি শিখবে এবং জানতে পারবে সে বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা দিতে চেষ্টা করুন।

শুরুর অংশে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ২০০ শব্দের মাঝে অবশ্যই আপনার সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি সম্পর্কে কিছু ইনফরমেশন দিতে হবে। যেখানে আপনার মূল টপিকের কিওয়ার্ড গুলো উল্লেখ করা থাকবে এবং আপনার আর্টিকেলটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পাঠকরা পেয়ে যাবে।

ইন্ট্রো বা সারাংশতে আপনি এমন কিছু কখনই উল্লেখ করবেন না যাতে করে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে পাঠকরা প্রতারিত হয়। যেমন আপনি আর্টিকেলের শুরুতে লিখলেন ইলিশ মাছ সম্পর্কে কিন্ত পাঠকরা ভেতরে গিয়ে দেখতে পেল রুই মাছ। সেজন্য আপনি আর্টিকেলের ভেতরে যা লিখবেন সেটার একটা স্পষ্ট ধারণা দিন আর্টিকেলের ইন্ট্রোতে বা সারাংশতে।

ইন্ট্রো বা সারাংশ এমনভাবে দিন যাতে করে পাঠকরা দেখেই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্যে বেশ আগ্রহ প্রকাশ করে। কেননা আপনি সম্পূর্ণ ভাবে আর্টিকেলটির যে বিষয়টি উল্লেখ করবেন সেটার ছোট একটি ইন্ট্রো পড়লে সহজেই পাঠকগণ বুঝতে পারবেন আপনি মূলত কোন পূর্ণাঙ্গ বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন। 

সহজ ভাষায় ভাবুন তো কোনো একটা মুভির ট্রেইলার দেখে যদি কেউ পছন্দ না করে তাহলে সেই মুভিটা কি কেউ দেখতে চাইবে। সকলের উত্তর হবে না। তাই আর্টিকেল লেখার শুরুতে প্রথমেই ১০০ থেকে ২০০ শব্দের সারাংশ রাখুন।

আরও পড়ুনঃ সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেন কি | গুগলে ওয়েবসাইট র‍্যাংক করার উপায়

৫। সহজ ভাষায় আর্টিকেল লিখুন

অতিরিক্ত লম্বা বাক্য এবং জটিল শব্দ যেকোনো লেখাকে অনেক বেশি জটিল করে তোলে। ব্লগ বা ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে এই ধরনের আর্টিকেল টার্গেট অডিয়েন্সের বিরক্তি বৃদ্ধি করে মাত্র। তাই আমাদের উচিত সহজেই বোঝা যায় এমন শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করা। আপনি যেহেতু দীর্ঘসময় ধরে ওয়েবসাইট চালান তাই আপনার সাইটে আসলে টার্গেট অডিয়েন্স কারা সেটা বুঝতে পারেন। দীর্ঘসময় ধরে কন্টেন্ট দেওয়ার মাধ্যমে পাঠকদের সাথে এক ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাই বাস্তবে কথা বলার ভঙ্গিতে আপনার আর্টিকেল লিখুন। প্রয়োজন হলে টার্গেট অডিয়েন্সকে সরাসরি সম্বোধন করতে পারেন।

৬। প্যারাগ্রাফ আকারে লেখা

আর্টিকেল লেখার সময় কোনো প্যারাগ্রাফকে খুববেশি বড় করা উচিত নয়। আর্টিকেল লেখার সময় আপনাকে অবশ্যই ছোটো ছোটো প্যারা আকারে লিখতে হবে। একটা বিশাল বড় লেখার ব্লক বেশিরভাগ সময় পাঠকরা পড়তে চায়না, কেননা এইভাবে কন্টেন্ট পরে মজা পাওয়া যায়না। আর এতে করে আর্টিকেল পাঠকরা পড়ে আরম বোধ করে না।

বিশাল বড় প্যারা আকারে আর্টিকেল লিখলে পাঠকরা পড়তে বিরক্তিবোধ করে যার কারণে অনেক সময় পাঠকগণ সম্পূর্ণ আর্টিকেল না পড়েই বাহির হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেজন্য দরকার সুন্দর করে প্যারা আকারে সাজিয়ে কন্টেন্ট লেখা। প্যারা আকারে সাজিয়ে গুছিয়ে আর্টিকেল লিখলে আপনার পোস্টটি দেখতে অনেক বেশি সুন্দর লাগবে। 

এক্ষেত্রে আপনি আর্টিকেল লেখার পূর্বে জনপ্রিয় কিছু ব্লগ সাইটগুলোতে ভিজিট করে আইডিয়া নিতে পারেন। মূলত তারা কিভাবে একটি আর্টিকেল সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখছে। কোনো প্যারা অনেক বড় হয়ে গেলে সেটাকে ভেঙ্গে ২ অথবা ৪ প্যারায় লিখুন। এতে করে লেখা দেখতে সুন্দর দেখাবে।

৭। আর্টিকেলের গঠন পরিষ্কার রাখুন

আপনার আউটলাইনের প্রত্যেকটি পয়েন্টকে আর্টিকেলের একেকটি অংশ হিসেবে গণ্য করতে পারেন। পয়েন্ট গুলাকে ব্যাখ্যা করার জন্য প্রয়োজন হলে সাব-পয়েন্টে ভাগ ভাগ করে নিন। আর্টিকেলের গঠন পরিষ্কার রাখার জন্যে স্টেপ বাই স্টেপ বিষয়টিকে তুলে ধরুন। সঙ্গে উদাহরণ ব্যবহার করতে পারলে টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ ওয়ার্ডপ্রেস শিখে আয় করুন ঘরে বসেই | ওয়ার্ডপ্রেস থিম কাস্টমাইজেশন কোর্স

৮। সাবহেডিং ট্যাগ - হেডিং ট্যাগের ব্যবহার

একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে আর্টিকেল লেখার সময় যথাযথ ভাবে হেডিং ট্যাগগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে। একটি কোয়ালিটিফুল আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে হেডিং ট্যাগের ব্যবহার করা অন্তত গুরুত্বপূর্ণ। HTML –এ ৬ ধরনের হেডিং ট্যাগ রয়েছে যেমনঃ h1, h2, h3, h4, h5, h6। আর্টিকেলের শুরুতে h1 ট্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং h2, h3, h4,h5, h6 ইত্যাদি ট্যাগগুলো পোস্টের ক্ষেত্র বিশেষে যখন যার দরকার সেটা ব্যবহার করা হয়। 

আর্টিকেলের মাঝে h2 ট্যাগ কিংবা h3 ট্যাগ অবশ্যই ব্যবহার করবেন। আর্টিকেল লেখার মাঝে একটা সাবহেডিং অবশ্যই ইউজ করবেন এবং উক্ত সাবহেডিংয়ে আপনার মেইন কিওয়ার্ডটিকে ব্যবহার করবেন। লেখার মাঝে মাঝে কখনো দরকার হলে বুলেট পয়েন্ট কিংবা নাম্বারিং ব্যবহার করতে পারেন। এটি করার কারণে আপনার আর্টিকেলটি দেখতে সুন্দর দেখাবে।

৯। আর্টিকেল রিসার্চ করুন

ভালোমানের একজন আর্টিকেল রাইটার হওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমেই অনেক বেশি পরিমাণে রিসার্চ করার মানসিকতা রাখতে হবে। যদি আপনি রিসার্চ করতে না পারেন তাহলে কখনোই আপনি একটা ভালোমানের ইনফর্মেটিভ কন্টেন্ট লিখতে পারবেন না। আমি এখানে আর্টিকেল রিসার্চ করা বলতে বোঝাতে চাচ্ছি, 

আপনি যে টপিকটাকে নিয়ে লিখতে চান সেই টপিক সম্বন্ধে পূর্বে থেকে ভালোভাবে রিসার্চ করে সেই বিষয়ে ভালোভাবে জেনে নিন। এরপর আপনার নির্বাচন করার টপিকের উপরে একটা সম্পূর্ণ ইনফর্মেশনে ভরা কন্টেন্ট লিখুন। এতেই পাঠকগণ আপনার আর্টিকেল থেকে ভ্যালু পাবে।

এছাড়া আরেকটি কাজ করুন সেটা হচ্ছে বেশি বেশি পড়ুন। যতবেশি পড়তে পারবেন ততবেশি আপনার ভালোভাবে ইনফর্মেটিভ আর্টিকেল লেখার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। আমরা এখানে শুধুমাত্র পাঠ্যবই পড়ার কিন্ত কথা বলছি না, ইন্টারনেটে প্রত্যেকটা টপিকের উপরে লাখ লাখ আর্টিকেল, ব্লগ পোস্ট দেখতে পারবেন। 

আপনি যে বিষয়ের উপর ইন্টারেস্টেড, উক্ত বিষয়ের উপরে থাকা ব্লগ পোস্ট, আর্টিকেল পড়া শুরু করুন। এতে করে শুধুমাত্র আপনার ভোকাবুলারি বৃদ্ধি পাবে না, বরং কিভাবে ইন্টারেস্টিং ভাবে আর্টিকেল লিখতে হয় সেটাও আপনি শিখতে পারবেন। যেকোনো তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্যে বর্তমান সময়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় ও কিছু বিশ্বাসি ওয়েবসাইট রয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে আমার মতে উইকিপিডিয়া হচ্ছে সেরা।

আরও পড়ুনঃ গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট এপ্রুভ হচ্ছে না | গুগল অ্যাডসেন্স কিভাবে এপ্রুভ করবেন

১০। অরিজিনাল আর্টিকেল লিখুন

আর্টিকেল অবশ্যই ১০০% ইউনিক হতে হবে। কোনো ভাবেই অন্যের পোস্ট কপি পেস্ট করা যাবেনা। সবসময় চেষ্টা করবেন আর্টিকেল অরিজিনাল এবং ইউনিক লেখার। যদি আর্টিকেল লেখার মতো দরকারি কোনো কিছু না থাকে তাহলে একেবারেই ভুলভাল ও কপি করবেন না। যদি আপনি আর্টিকেল লিখতে চান তাহলে আর্টিকেল লেখার জন্য কখনো অন্যের আর্টিকেল পড়ে আইডিয়া নিতে যাবেন না। (এটা ১০০% ইউনিক আর্টিকেলে লেখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)। 

তাহলে আপনি কখনো ইউনিক ও অরিজিনাল আর্টিকেল লিখতে পাবেন না। হ্যাঁ কখনো অন্যের লেখা কপি করে আপনার সাইটে লিখবেন না। আর্টিকেল লেখার সময়ে কোনো ইনফরমেশনের প্রয়োজন হলে সেই সম্পর্কে গুগল থেকে দেখে নিবেন। অবশ্যই ১০০% সঠিক তথ্য প্রদান করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ রিসোর্চের সঙ্গে লিংক করে দিবেন।

এছাড়া যদির আপনার সাইটের আর্টিকেলের প্ল্যাগারিজম থাকে তবে সেটা সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করা তো দূরের কথা, বরং সেটা রাখার কারণে আপনার সাইটের আরও বেশী ক্ষতি হবে। তাই আর্টিকেল পোস্ট করা কিংবা ক্লায়েন্টদেরকে ডেলিভার করার পূর্বে অবশ্যই দেখে নিন আপনার আর্টিকেলটি ইউনিক নাকি প্ল্যাগারিজম আছে।

১১। কন্টেন্টের বিষয় নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করুন

আপনি যে বিষয়ে নিয়ে আর্টিকেল লিখতে যাচ্ছেন, সেই বিষয় সম্পর্কে আপনি হয়তোবা ইতোমধ্যে বেশ ভালোই জানেন। কিন্তু হ্যাঁ একটা বিষয় সম্পর্কে জানা এবং সেই বিষয়কে নির্ভরযোগ্য ভাবে উপস্থাপন করাটা কিন্ত মোটেও এক নয়। তাই আউটলাইনে থাকা পয়েন্টগুলোকে নিয়ে তথ্য কালেক্ট শুরু করে দিন। কালেক্ট করা তথ্যগুলো আলাদা একটি ডকুমেন্টে নোট করে রেখে দিন। এক্ষেত্রে আপনারা তথ্যসূত্র উল্লেখ করে কপি ও পেস্ট করতে পারেন। প্রয়োজন হলে কোনো নোট টেকিং অ্যাপের সাহায্য নিতে পারেন।

১২। আর্টিকেলের কত শব্দের হওয়া ভালো

আর্টিকেলের মাঝে আপনি যতবেশি ডিটেইলস লিখতে পারবেন ততবেশি ভালো। অবশ্যই সর্বনিম্ন ৬০০ শব্দের কম লিখবেন না। সবসময় বেশি শব্দের লেখার চেষ্টা করুন এবং আর্টিকেল ইনফর্মেটিভ রাখবেন অবশ্যই। ৬০০ শব্দের নিচে আর্টিকেল পাবলিশ না করাই ভালো। মনে রাখবেন আর্টিকেল বিশাল বড় করে লিখার সময়ে আবার আগডুম-বাগডুম কিছু লেখা যাবেনা। 

সহজ ভাষাতে সহজ বাক্য ব্যবহার করে আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করুন যাতে সকলের বুঝতে সুবিধে হয়। আর্টিকেলটি সবসময় ইনফর্মেটিভ করার চেষ্টা করুন। কেননা এটাই হচ্ছে হাই কোয়ালিটি আর্টিকেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আর্টিকেলটি যখন লিখবেন তখন একটা নির্দিষ্ট বিষয়ের উপরে লিখবেন। যে টপিক লিখছেন সেটার বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে লিখে পাঠকের মনোযোগ ভিন্নদিকে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না কখনো। হাই কোয়ালিটি সম্পূর্ণ আর্টিকেল লিখে পাঠকদের কাছে বিশ্বাস লাভ করুন। 

কেননা কোনো পাঠক যদি আপনার আর্টিকেল পড়ে উপকৃত হয় এবং খুশি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আপনার আর্টিকেল আরও পড়তে আসবে। আর এটি আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার ডেভেলপ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। আর্টিকেল লেখার নিয়ম বা গুগল সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার জন্য নির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন রয়েছে যা গুগল ওয়েবমাস্টারে বলে দেওয়া থাকে।

আরও পড়ুনঃ মোবাইল দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি | মোবাইল দিয়ে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করুন

১৩। আর্টিকেলের ব্যাকরণ এবং বানান দেখুন

আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে ব্যাকরণ এবং শুদ্ধ বানান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ ব্যাকরণ এবং অশুদ্ধ বানান থাকলে আপনার পাঠকগণ আস্থা হারিয়ে ফেলবে। যখনি আপনার আর্টিকেলটিতে ভুল ব্যাকরণ ও বানান অশুদ্ধ থাকবে তখন আপনার আর্টিকেলটি থেকে পাঠকগণ বাহির হয়ে যাবে। আর্টিকেল যতটা সম্ভব সিম্পল রাখুন। তাই কোনো আর্টিকেল পাবলিশ করার আগে অবশ্যই অবশ্যই ব্যাকরণ ও বানান দেখে নিন। 

আর্টিকেল করার জন্য অবশ্যই শুদ্ধ বানান ও গ্রামারের উপরে খুবই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কোন বাক্য খুব বেশি বড় করার প্রয়োজন নেই। আর্টিকেল লেখার সময় ছোট ছোট সিম্পল বাক্য বেশি বেশি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। কঠিন কঠিন কোন শব্দ ব্যবহার না করাই ভালো, আমরা দৈনন্দিন জীবনে যেসকল শব্দগুলো ব্যবহার করি সেগুলা ব্যবহার করেই আর্টিকেল লিখুন। কমপ্লেক্স সেন্টেন্স যতটা কম পারা যায় ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

১৪। আর্টিকেলের মূল পয়েন্ট গুলোতে স্থির থাকুন

কোনো একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় সেটা থেকে অন্যান্য বিষয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্ত আর্টিকেল লেখার সময় মূল বিষয়ের বাইরে যেন মূল কথাবার্তা থেকে সরে না যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। মনে করুন, আপনি ভালো ল্যাপটপ কেনার উপায় সম্পর্কে আপনি ২০ মিনিটের একটি ভিডিও তৈরি করছে। এখন সেক্ষেত্রে ভিডিওতে বিভিন্ন ল্যাপটপ ব্র্যান্ডের নাম চলে আসতে পারে। 

কিন্তু ভিডিওতে বারবার বিভিন্ন মডেলের নাম উল্লেখ করতে থাকলে সেগুলোর ফিচারস সম্পর্কে কথাবার্তা অনেক জটিল হয়ে যাবে। তাই কন্টেন্ট লেখার সময় শুধুমাত্র আউটলাইনের পয়েন্টগুলোকে ব্যাখ্যা করুন। প্রয়োজন হলে বাছাই করা ফিচারস গুলো নিয়ে নেক্সট টাইম বিভিন্ন মডেলের উপরে ভিডিও তৈরি করুন।

১৫। আর্টিকেলের বিষয়বস্ত নির্বাচন

একটি আকর্ষণীয় আর্টিকেল লেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই লেখার বিষয়বস্ত নির্বাচন করতে হবে। বিষয় সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম আপনার নিজের ভালোলাগাকে প্রাধান্য দিতে হবে। অর্থাৎ আপনার কোন কোন বিষয় ভালো লাগে? আপনি কোন কোন বিষয় সম্পর্কে ভালো জানেন? আপনার কি কি নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে? কোন কোন বিষয় নিয়ে আপনি রিসার্চ করতে ও ঘাটঘাটি করতে ভালোবাসেন? এমনই কোন একটি ভালোলাগার এবং জানার বিষয় সম্পর্কে আর্টিকেল লিখুন।

যদি আপনার মাঝে উপরের গুণগুলো থাকে তবে আপনার লেখাটি দ্রুত ও অনেক বেশি সুন্দর হবে। যদিওবা আপনি যেকোনো বিষয়েই লিখতে পারেন তাহলে আপনি জানেন না এমন বিষয়ে প্রথমেই লিখতে গেলে আপনার অনেক বেশি রিসার্চ করতে করতে অনেক সময় পার হয়ে যাবে। যার ফলে আপনার মাঝে বোরিং ভাব চলে আসবে ও একটা সময় হয়তো লেখালেখির ইচ্ছাটাই বাদ দিবেন। 

তাই আমি বলব জানা শোনা বিষয় সম্পর্কে লেখার চেষ্টা করেন। আর জানেন না এমন কোনো বিষয়েও আপনি লিখতে পারবেন। তবে সেজন্য আপনাকে আগে উক্ত বিষয় সম্পর্কে অনেক ঘাটঘাটি করার প্রয়োজন হবে, অনেক বেশি রিসার্চ করতে হবে তারপরে কন্টেন্ট লিখতে হবে।

আরও পড়ুনঃ ব্লগে পোস্ট করার নিয়ম | ব্লগ সাইটে SEO friendly পোস্ট করার নিয়ম

১৬। বারবার নিজের আর্টিকেল পড়ুন এবং এডিট করুন

হয়তো আপনি একবারের চেষ্টাতে আর্টিকেল লেখা সম্পূর্ণ করেছেন। কিন্তু এখন কথা হচ্ছে আপনি কি একে ভালোমানের আর্টিকেল বলতে পারবেন? হয়তো আর্টিকেলের আউটলাইনে কিছু বাদ পড়ে গেছে। আর্টিকেলের মাঝে হয়তো আরও বেশি ভালো তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হতো। মূল পয়েন্টের বাইরে গিয়ে হয়তোবা বেশি কিছু বলেছেন। আর্টিকেল হয়তোবা টার্গেট অডিয়েন্সের জন্যে অনেক কঠিন হয়ে গেছে। অথবা আর্টিকেল হয়তো জটিল সকল শব্দ ও জটিল বাক্যে ভর্তি।

একবারের প্রচেষ্টায় ভালোমানের আর্টিকেল বানানো অনেক কঠিন কাজ। তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছেঃ একবারের চেষ্টায় ভালোমানের আর্টিকেল বানানো আপনার জন্যে বাধ্যতামূলক না। আর্টিকেল লেখা শেষ হলে সেটা আপনি জোরে জোরে পড়তে থাকুন। যদি মনে হয় কোনো জায়গাতে খটকা আছে তবে সেই জায়গায় পরিবর্তন করুন। 

যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি নিজেই পরিষ্কারভাবে আপনার আর্টিকেল বুঝতে পারছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এই কাজ করতে থাকুন। আপনার টার্গেট অডিয়েন্সের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন কারও মতামত নিলে আরও ভালো হবে। তাই আর্টিকেল লেখা শেষ হওয়ার পরে সেটা ভালোভাবে রিভাইজ করুন। আর্টিকেলে যেন কোনো প্রকার গ্রামাটিক্যাল ইরর থাকেনা।

এছাড়াও যদি আপনি আপনার আর্টিকেলের কোয়ালিটি সম্পর্কে সেরকম কনফিডেন্ট না হয়ে থাকেন তবে আর্টিকেল রাইটিং শেষ করার পরে সেটা আপনার কয়েকজন বন্ধুবান্ধবদেরকে পড়তে দিন। তারা যদি মনে করে আর্টিকেলটি খুবই সহজে পড়া যায়, লেখার ধরণ মানসম্মত সব কিছু ঠিকঠাক আছে। তবে সেক্ষেত্রে আপার কনফিডেন্স আরও বৃদ্ধি পাবে।

১৭। পাঠকের প্রয়োজনীতার কথা মাথায় রাখুন

আর্টিকেল লেখার সময়ে পাঠকদের কথা মাথায় রেখে অবশ্যই আর্টিকেল লিখতে হবে। কেননা আপনি যখন আর্টিকেলটি যাদের জন্যে লিখছেন তারা যদি এখান থেকে কিছু শিখতে না পারলে কিংবা কিছু জানতে না পারলে আপনার আর্টিকেল লেখার কোনো মূল্য নেই। আর্টিকেলের বিষয় সিলেক্ট করার পরপরই আপনার ভাবা প্রয়োজন আপনি যাদের জন্যে আর্টিকেলটি লিখছেন তারা আসলে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে কি জানতে চাচ্ছেন। আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্সগুলো আপনার আর্টিকেল থেকে উপকৃত হলে তারা আপনার নিয়মিত পাঠক ও কাস্টমারে পরিণত হবে।

সেজন্য লেখার শুরুতেই আপনাকে রিসার্চ করতে হবে যে, পাঠকরা মূলত কোন বিষয় খুজছে, কি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছে। যদি আপনি যদি এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আর্টিকেল লিখেন তবে আপনার লেখার উদ্দেশ্য খুবই সহজে পূরণ হবে। সবসময় চেষ্টা করবেন সঠিক ও অধিক তথ্যপূর্ণ দেয়ার। তবে আপনি যে বিষয় সম্পর্কে লিখছেন সেই বিষয়েই তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবেন। 

অপ্রাসঙ্গিক কোনো তথ্য দিয়ে আর্টিকেলের সাইজ বড় করবেন না। কেননা ভিজিটর অধিক পরিমাণে তথ্য সম্পর্কে জানতে চান তবে তিনি যে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি পড়তে আসছে সেটার বাইরে অন্য কোনো তথ্য থাকলে পাঠক বিরক্ত হবে ও পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে এবং সাইট থেকে বাহির হয়ে যাবে।

আরও পড়ুনঃ গুগল অ্যাডসেন্স কি? গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়

১৮। বুলেট পয়েন্ট ও নাম্বার ব্যবহার করুন

যদি আপনার আর্টিকেলে কোন বিষয় সিরিয়াল বাই সিরিয়াল কোনো টপিক থাকে, তবে অবশ্যই সেটা লিস্ট আকারে বুলেট পয়েন্ট কিংবা নাম্বারিং করে দিবেন। এই পদ্ধতি করে দেয়ার ফলে আর্টিকেলটি পড়তে এবং বুঝতে সুবিধা হবে।

১৯। সকাল বেলা আর্টিকেল রাইটিংয়ের জন্য ভালো সময়

একটি রিসেন্ট স্টাডিতে জানা গেছে যে, বেশিরভাগ প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটাররা সকাল বেলা আর্টিকেল লিখে থাকেন। কেননা একটা ফ্রেশ ঘুমের পরে সকাল বেলাতে ব্রেন ঠান্ডা হয়ে থাকে, মন মেজাজ চাংগা থাকে, যার ফলে খুবই তাড়াতাড়ি আর্টিকেল রাইটিংয়ের ভালো আইডিয়া পাওয়া যায়। আপনিও সকাল বেলা আর্টিকেল লেখার ট্রাই করতে পারেন।

এছাড়াও অনেক সময় দেখা যায়, খুব বেশি হৈচৈ পূর্ণ জায়গাতে কোয়ালিটি সম্পূর্ণ আর্টিকেল লেখা সম্ভব হয়না। হৈচৈ করার কারণে আপনার মন সারাক্ষণ এদিকে সেদিক ছোটাছুটি করবে। যার কারণে আপনি আর্টিকেলে লেখার সময় ঠিকভাবে মন দিতে পারবেন না। তাই আমি বলবো যখন আপনি আর্টিকেল লিখবেন তক্ষণ নিরিবিলি কোনো জায়গায় বসে আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করবেন।

২০। সময় নিয়ে কাজ করুন

আপনার আর্টিকেলটি যদি একবসায় লেখা সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে চিন্তা করার কোনো কিছু নাই। কিছুক্ষণ বাহিরে ঘোরাফেরা করে ফ্রেশ হয়ে এসে আবার পুনরায় লিখতে বসে পড়ুন। মনে রাখবেন সময়ের চাপ নিয়ে কখনো কোয়ালিটিফুল আর্টিকেল লেখা সম্ভব না।

আরও পড়ুনঃ কিভাবে ব্লগ সাইট বানাবো | ব্লগ কিভাবে তৈরি করে | কীভাবে ব্লগ করবেন

আর্টিকেল লিখে কত টাকা আয় করা যায়?

বাংলা এই পর্যন্ত অসংখ্য ব্লগসাইট আছে যেগুলো অন্য ভাষার ব্লগের তুলনায় অনেক কম। একজন ভালো কনটেন্ট রাইটার হতে পারলে আপনি অনেক টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন। সেটা হোক নিজের ওয়েবসাইটে পোস্ট করে বা গেস্ট ব্লগিং করে। বর্তমান সময়ে বাংলা আর্টিকেলের চাহিদা প্রচুর রয়েছে। যার ফলে আপনি খুবই সহজে বাংলা আর্টিকেল রাইটিংয়ের জব পেয়ে যাবেন।

বর্তমানে অনলাইনে অনেক বাংলা কন্টেন্ট লিখে আয় করার সাইট রয়েছে যেগুলোতে কাজ করে আপনি আর্টিকেল লিখে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। সাধারণত দেখা যায় প্রতি ১০০০ ওয়ার্ড বাংলা আর্টিকেলের মূল্য রাখা হয় ২০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত। আপনি প্রতিদিন চাইলে ৪ থেকে ৫টি করে আর্টিকেল লিখতে পারবেন। এছাড়াও আর্টিকেল লিখে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারবেন।

শেষ কথাঃ

আর্টিকেল লেখার নিয়ম বা বাংলা বাংলা আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে আপনারা বিস্তারিত জানতে পারলেন। উপরোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনারা প্রফেশনালমানের আর্টিকেল লিখতে পারবেন। আমি যদি কোনো বিষয় মিস করে থাকি কিংবা আপনি আরও কিছু সম্পর্কে জানতে চান তবে অবশ্যই সেটা আমাদেরকে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন। 

পরিশেষে বলতে চাই যদি আপনি একদম আর্টিকেল লিখতে না পারেন তবে কখন হতাশ হবেন না। প্রয়োজনে আর্টিকেল রাইটার হায়ার করে নিন। যা আপনার ওয়েবসাইট সাইট গ্রো করতে সহায়তা করবে। আপনি হয়তোবা শুরুর দিকে প্রফেশনালমানের আর্টিকেল লিখতে পারবেন না। কিন্তু নিয়মিত কাজ করার কারণে এই গুণটি আপনার মাঝে আয়ত্ব করতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ

আরও পড়ুনঃ Upwork একাউন্ট খোলার নিয়ম

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া