Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2021/11/what-is-domain-authority.html

ডোমেইন অথরিটি কি | ডোমেইন অথরিটি বাড়ানোর উপায়

ডোমেইন অথরিটি কি — আপনি যদি ব্লগিং এর ক্ষেত্রে থাকেন তবে আপনি অবশ্যই ডোমেইন অথরিটি এবং পেজ অথরিটির কথা শুনে থাকবেন, এটাকে সংক্ষেপে DA এবং PA বলা হয়। গুগলের সমস্ত ওয়েবসাইট গুলোর নিজস্ব আলাদা আলাদা ডোমেইন অথরিটি রয়েছে। আপনারও যদি একটি সাইট থাকে, তাহলে সেই ওয়েবসাইটেরও কিন্ত একটি অথরিটি আছে।

ডোমেইন অথরিটি কি
সাইটের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ডোমেইন অথরিটি বাড়ে, ডোমেইন অথরিটি বাড়ানোর অনেক উপায় আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ভালো উপায় হল হাই কোয়ালিটি আর্টিকেল, উচ্চ মানের dofollow এবং nofollow ব্যাকলিংক, গেস্ট পোস্ট ইত্যাদি, যা ব্যবহার করে বেশিরভাগ ব্লগার তাদের ব্লগের বা সাইটের অথরিটি বাড়ায়।

আপনার যদি নিজেরও একটি ব্লগ বা সাইট থাকে তবে আপনারও ডোমেইন অথরিটি এবং পেজ অথরিটি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা উচিত, তাই আজকের পোস্টে আপনি জানবেন ডোমেইন অথরিটি কি বা DA/PA কি? সাইটের জন্য ডোমেইন অথরিটির সুবিধা কি এবং একটি ব্লগের জন্য DA, PA কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এই আর্টিকেলে পাওয়া যাবে।

ডোমেইন অথরিটি কি?

ডোমেইন অথরিটি, যাকে সংক্ষেপে DA বলা হয়, ব্লগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, একটি সাইটের যতবেশি ডোমেইন অথরিটি থাকবে, তার র‍্যাংকিং তত বাড়বে। যাইহোক, একটা কথা বলে রাখি যে DA মানে গুগলের কাছে ডোমেইন অথরিটি নয়। মোজ কোম্পানি যা একটি টুল সাইট, এর অধীনে ডোমেইনটিকে 1 থেকে 100 রেটিং দেওয়া হয়ে থাকে, যে সাইটের ডোমেইন রেটিং (DR) বেশি, সার্চ ইঞ্জিনে তার র‍্যাংকিংও তত উন্নত হয়, তাই আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, যেসব সাইটের DA/DR বেশি, সেখানেও ট্রাফিক পাওয়া যায় বেশি।

আমি আগেই বলেছি যে প্রতিটি ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথরিটি আলাদা হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সাইটের অথরিটি বাড়ে, তবে এর মানে এই নয় যে সাইটটি খুব পুরানো তবেই এর রেটিং বাড়বে। যখন আপনি সাইটে উচ্চমানের এসইও ফ্রেন্ডলি বিষয়বস্তু পাবলিশ করবেন এবং আরও অনেক কিছুর মাধ্যমে ডোমেইন অথরিটি বৃদ্ধি করা যায়। খুব উচ্চ মানের ব্যাকলিংক তৈরি করে, আপনি আপনার সাইটের অথরিটি অনেকাংশে বাড়াতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ ওয়েব হোস্টিং কি | হোস্টিং কত প্রকার

পেজ অথরিটি (PA) কি?

ডোমেইন অথরিটি যেমন Moz কোম্পানি তৈরি করেছে, পেজ অথরিটিও (PA) কিন্ত তৈরি করেছে মার্কেটিং অ্যানালিটিক্স কোম্পানি Moz। পেজ অথরিটিও এমন একটি স্কোর যা পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ। যদি আপনি ব্লগের একটি পৃষ্ঠাকে সেরা হিসেবে র‍্যাংক করতে চান। আপনি যদি পজিশনে র‍্যাংক করতে চান, তাহলে আপনাকে সেই পেজের PA স্কোর বাড়াতে হবে। 

কারণ আপনার পোস্টের র‍্যাংকিং পেজ অথরিটির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তবে ব্যাপারটা এমন নয় যে শুধু পেইজের সাথে বেশি সম্পর্কিত। কেনননা কোনো পোস্ট মূলত সার্চ ইঞ্জিন কর্তৃপক্ষ সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করাবে। এমনকি আপনি যদি সাইটে অনন্য এবং সেরা মানের সার্ভিস সরবরাহ করেন, তাহলে আপনার পোস্টগুলো ভালো র‍্যাংক করতে পারে।

কিভাবে ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথরিটি বাড়ানো যায়?

ওয়েবসাইট অথরিটি বাড়ানো অনেক উপায় আছে, যেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো। আপনি যদি এই পদ্ধতিগুলো আপনার সাইটে প্রয়োগ করেন তাহলে ডোমেইন অথরিটি বৃদ্ধি করতে পারবেন।

সাইটে অর্গানিক ট্র্যাফিক আনুন

ওয়েবসাইটে ভিজিটর বা ট্রাফিকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্গানিক ট্রাফিক। সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে কোনো কিছু সার্চ করার পরে যদি কেউ আপনার সাইটটির কোনো আর্টিকেল সার্চলিস্টে খুঁজে পায় এবং সেখানে ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে, তবে এই ধরণের ভিজিটরকে অর্গানিক ট্রাফিক বলা হয়। আপনি যদি ডোমেইন অথরিটি বাড়াতে চান, তাহলে চেষ্টা করুন যাতে ব্যবহারকারীরা আপনার সাইটে অর্গানিকভাবে আসে।

যার মানে গুগলে সার্চ করে এবং আপনার সাইটের পোস্টে ভিজিট করে। তার জন্য আপনাকে একটি অনন্য এবং আকর্ষণীয় পোস্ট প্রকাশ করতে হবে। যদি আপনার সাইটের পোস্টগুলো ইউনিক এবং ইনফরমেশন ফুল থাকে তাহলে সাইটে অর্গানিক ট্রাফিক পাওয়া যায়। পোস্ট যদি অন্যদের থেকে আলাদা হয় তবে অবশ্যই এটি গুগলে র‌্যাংক করবে, এতে অর্গানিক ট্রাফিক বাড়বে, ট্রাফিক বাড়ার কারণে ডোমেইন অথরিটিও বাড়বে।

কোয়ালিটি ব্যাকলিংক

ওয়েবসাইটের অথরিটি বাড়ানোর জন্য, আপনাকে বিভিন্ন সাইট থেকে মানসম্পন্ন ব্যাকলিংক তৈরি করতে হবে। মনে রাখবেন যে আপনার উচ্চ স্প্যাম স্কোর (Spam Score) আছে এমন কোনও সাইট থেকে ব্যাকলিংক নেওয়া উচিত নয়, শুধুমাত্র বিশ্বস্ত সাইট থেকে ব্লগের জন্য ব্যাকলিংক তৈরি করুন। এতে করে আপনার সাইটের ডোমেইন অথরিটি বাড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ ব্লগে পোস্ট করার নিয়ম | ব্লগ সাইটে SEO friendly পোস্ট করার নিয়ম

কমেন্ট ব্যাকলিংক

ব্যাকলিংক তৈরি করতে, আপনাকে এমন সাইটগুলি খুঁজে বের করতে হবে যেখানে ট্র্যাফিক বেশি আসে। এই ধরনের সাইটে আপনাকে কমেন্ট করতে হবে এবং কমেন্টে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক যুক্ত করে দিতে হবে, যাতে পাঠকরা আপনার সাইটটি দেখতে পারেন। মনে রাখবেন এই ধরনের সাইটগুলো থেকে নেওয়া বেশিরভাগ ব্যাকলিংকই কিন্ত নোফলো। কিন্তু টেনশনের কোনো কারণ নেই, কেননা dofollow ব্যাকলিংক এর পাশাপাশি সাইটে nofollow ব্যাকলিংক থাকা প্রয়োজন।

গেস্ট পোস্ট করুন

বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্লগ সাইটগুলোতে গেস্ট পোস্ট করুন। এখন হয়তোবা আপনি ভাবতে পারেন যে, নিজের ওয়েবসাইট রেখে অন্য কারো ওয়েবসাইটে কেন পোস্ট করতে যাবো? আপনার সাইটের ভিজিটর বাড়ানোর জন্য আপনাকে গেস্ট পোস্টিং করতে হবে। বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলোতে গেস্ট পোস্টিং করে আপনি সেই আর্টিকেলের মাঝে নিজের ওয়েবসাইটের লিংকটিকে যুক্ত করতে পারেন। 

এতে করে আপনার কি লাভ হবে, উক্ত ওয়েবসাইটের ভিজিটররা আপনার সাইটের লিংকটিতে ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইটে চলে আসবে। এছাড়াও জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলোতে গেস্ট পোস্টিং করে নিজের ওয়েবসাইটের লিংকটিকে দিতে পারলে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনগুলোর কাছে আপনার ওয়েব সাইটটি গ্রহণযোগ্যতা বেশি পাবে। ফলে আপনার সাইটে ভিজিটরও বাড়বে সেই সাথে বাড়বে আপনার সাইটের ডোমেইন অথরিটি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপনার সাইটের নামে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। আপনি ফেসবুকে একটি পেজ তৈরি করুন এবং যেখানে আপনি ব্লগে প্রকাশিত পোস্টগুলি শেয়ার করতে থাকুন, এটি করার মাধ্যমে সেখান থেকে আপনার ব্লগে ট্র্যাফিক আসবে, পেজের ফলোয়ার বাড়বে এবং আপনার সাইট ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। একইভাবে, আপনি টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, লিঙ্কডইন এর মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সাইটের নামে একটি পেজ তৈরি করুন, এতে আপনার পাঠক বাড়বে, এভাবে বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাফিক আসবে, ব্লগে ট্রাফিক বাড়বে এবং ডোমেইন অথরিটি বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুনঃ ওয়ার্ডপ্রেস শিখে আয় করুন ঘরে বসেই | ওয়ার্ডপ্রেস থিম কাস্টমাইজেশন কোর্স

সাইট লোডিং স্পিড 

যদি আপনার সাইট লোডিং হতে সময় বেশি লাগে তবে এটি ব্যবহারকারীদের সাইট থেকে বাউন্স ব্যাক করে, যার কারণে বাউন্স রেট বেড়ে যায়, এটি সাইটের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে, তাই এর কার্যকারিতার দিকে বিশেষ মনোযোগ দিন। সাইটটি সহজ এবং দ্রুততার সাথে লোডিং হওয়ার ব্যাবস্থা করুন। ওয়েবসাইটে সহজ ও ফাস্ট লোডিং টেমপ্লেটটি ব্যবহার করুন, কেননা যখনি সাইটটি দ্রুত লোড হবে তখন ব্যবহারকারীদের বেশি অপেক্ষা করতে হবে না এবং দ্রুত সাইটে গিয়ে তাদের কাজের আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

এই হল কিছু পদ্ধতি যেগুলো ব্যবহার করে বেশিরভাগ ব্লগার তাদের ডোমেইন অথরিটি বাড়ানোর চেষ্টা করে। একটা কথা বলি, ডোমেইন অথরিটি বাড়াতে সময় লাগে, এর জন্য আপনাকে একটু পরিশ্রম করতে হবে। এখানে বর্ণিত উপায়ে আপনারা সাইটের রেটিং উন্নত করতে পারবেন। 

কিভাবে ওয়েবসাইটের পেজ অথরিটি (PA) বাড়ানো যায়?

ডোমেইন অথরিটি এবং পেজ অথরিটি দুটি সম্পূর্ণ আলাদা, যখন ডোমেইন অথরিটি উন্নত করতে হয়, তখন উপরে উল্লেখিতভাবে ডোমেইন অথরিটি বাড়ানো যায়, একইভাবে পেজ অথরিটি বাড়াতে হলে পেজের জন্য আরও মানসম্পন্ন ব্যাকলিংক তৈরি করতে হবে, পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে হবে এবং এর ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেরা এবং আকর্ষণীয় সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে, এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে আপনি পেজের অথরিটি বাড়াতে পারবেন। ডোমেইন অথরিটির তুলনায় পেজ অথরিটি দ্রুত বাড়ানো যায়, পেজ অথরিটি দ্রুত বাড়ানোর উপায় হচ্ছে ব্যাকলিংক তৈরি করার সময় আপনার ব্লগের সাথে সম্পর্কিত ব্লগে কমেন্টের মাধ্যমে ব্যাকলিংক তৈরি করতে হবে।

কিভাবে ডোমেইন অথরিটি এবং পেজ অথরিটি চেক করবেন?

আপনি DA এবং PA চেক করার জন্য অনেক টুল ওয়েবসাইট পাবেন, এর জন্য Google এ যান এবং DA PA Checker সার্চ করুন, এর পরে অনেকগুলি ওয়েবসাইট চলে আসবে, আপনি যেকোনো সাইটে যেতে পারেন, সেখানে আপনাকে আপনার ব্লগের URL লিখতে হবে। শুধু check-এ ক্লিক করুন। তারপর আপনার সাইটের ডোমেইন অথরিটির যে স্কোর তা প্রকাশ করবে। এছাড়াও আপনি ডোমেইন অথরিটি চেক করার জন্য ওয়েবসাইট এসইও চেকার সাইটটিও ব্যবহার করতে পারেন। আপনি এতে DA, PA, ডোমেইন বয়স, TB (টোটাল ব্যাকলিংক) একসাথে দেখতে পাবেন।

আমি আশা করি এই পোস্টের সাহায্যে, ডোমেইন অথরিটি কি বুঝতে পারছেন এবং ডোমেইন অথরিটি বাড়ানোর উপায় সম্পর্কে জানতে পারলেন। এই আর্টিকেল সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ!

আরও পড়ুনঃ সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেন কি | গুগলে ওয়েবসাইট র‍্যাংক করার উপায়

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া