Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2021/08/what-is-freelancing-in-bangla.html

ফ্রিল্যান্সিং কি | ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো | ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায়

ফ্রিল্যান্সিং কি | কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবো — ফ্রিল্যান্সিং মানে হচ্ছে স্বাধীন বা মুক্তপেশা। কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে না হয়ে স্বাধীনভাবে বা মুক্তভাবে কাজ করাকে মূলত ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়। ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজ করে ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করে থাকেন। ফিল্যান্সিং বা মুক্তপেশার মাধ্যমে যেকোনো প্রচলিত চাকরির থেকে অনেক বেশি পরিমাণে টাকা ঘরে বসে থেকে ইনকাম করা যায়। আসলে ফ্রিল্যান্স এর কাজে নিজের স্বাধীনতা থাকে বলেই ফ্রিল্যান্সিং মুক্তপেশা হিসেবে সবার কাছে অনেক পছন্দের একটি পেশা।

ফ্রিল্যান্সিং কি | ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো | ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায়

বর্তমানে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং তালিকার বেশ ভালো অবস্থানে অবস্থান করছে। আমাদের দেশের লাখ লাখ তরুন-তরুণী ও যুবক বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং কে ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করছে এবং অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করে বিদেশি মুদ্রা নিয়ে আসছে। বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশে সরকারি এবং বেসরকারি চাকরির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার কারণে বর্তমানে শিক্ষিত তরুণ-তরুণী এবং অনেক ৫০ এর অধিক বয়স্কের মানুষরা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারকে আনন্দের সাথে ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করছে।

আমরা বেশিরভাগ লোক জেনে রাখি যে, ফ্রিল্যান্সিং হলো একটা মুক্ত পেশা বা স্বাধীন জব। বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং একটি স্বাধীন পেশা হিসেবে অনেক বেশি পরিচিত। তাই জন্য অনেকেই মনে করেন যে কারো অধীনস্তে চাকরি না করে ঘরে বসে থেকে ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করা গেলে কেনইবা শুধু শুধু অন্যের অধীনে চাকরি করবো? মূলত বাস্তব ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং কি একটি মুক্ত পেশা নাকি ফ্রিলান্সিং মুক্ত পেশা নয়, সেই সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়ার জন্য আজকের আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে অনেক ধরনের ভুল ধারণা আছে। অনেকেই আবার সেই ভুল ধারণাকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষকে ফ্রিল্যান্সিং শেখানোর কথা বলে বিভিন্ন আইটি সেন্টার ওপেন করে নামমাত্র ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আপনাকে জ্ঞান দিয়েই লাখ লাখ টাকা মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে।

আপনি হয়তোবা ইতোপূর্বে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে অনেক কিছুই শুনেছেন। হয়তোবা কখনো কৌতুহলের বশে গুগল কিংবা অনন্যা যায়গা থেকে ফ্রিল্যান্সিং কি সেই বিষয় সম্পর্কে জানবার চেষ্টা করছেন। যদি আপনি ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান, তবে অনুরোধ আজকের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন। আশা করি আপনি ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবো এই সকল বিষয়ে পরিপূর্ণ ধারনা লাভ করবেন এবং এই ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে আপনার সকল ভুল ধারণা ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

আমরা আজকের এই আর্টিকেলে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে নিম্নোক্ত টপিকগুলোকে নিয়ে বিস্তারিত খুটিনাটি আলোচনা করবো-

(১) Freelancer কি
(২) ফ্রিল্যান্সিং কি
(৩) ফ্রিল্যান্সিং অর্থ কি
(৪) ফ্রিল্যান্সিং করার সুবিধা কি
(৫) ফ্রিল্যান্সিং করার অসুবিধা কি কি
(৬) ফ্রিল্যান্সিং করে প্রতিমাসে কত টাকা ইনকাম করা সম্ভব
(৭) ফ্রিল্যান্সিং কে ক্যারিয়ার হিসেবে কিভাবে গড়বো
(৮) কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবো
(৯) কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো
(১০) কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করার পারিশ্রমিক হাতে পাবো
(১১) ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কিভাবে বেশি বেশি কাজ পাবো

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্যে অথবা ফ্রিল্যান্সিং কে ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়ার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই উপরোক্ত সকল বিষয়গুলাে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে। আর তা নাহলে যেকোনো অসাধু আইটি সেন্টারের মাধ্যমে আপনার কষ্টের সকল টাকা বৃথা যেতে পারে। তবে চলুন আর দেরি না করে উপরোক্ত সকল বিষয় গুলো সম্পর্কে পয়েন্ট আকারে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং বলতে কি বুঝায়

ঘরে বসে থেকে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন বায়ার বা ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজের চুক্তি করে সেই কাজটিকে শেষ করে অনলাইনের মাধ্যমে বায়ার বা ক্লায়েন্টের কাছে পৌছে দেয়ার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার পদ্ধতিকে বলে হয়ে ফ্রিল্যান্সিং। আপনি হয়তোবা এই ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি সম্পর্কে এখনো ক্লিয়ার হতে পারেন নি। আমি এই বিষয়ে আপনাকে আরো সহজতর ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছি।

সাধারণত দেখা যায় একজন ব্যক্তি পড়ালেখা শেষ করার পরে কোনো একটি কোম্পানিতে চাকরি করার জন্য তার সিভি (কারিকুলাম ভিটা) সাবমিট করে। সিভি দেখার পরে এবং ইন্টারভিউ শেষে কোনো কোম্পানি তাকে যোগ্য প্রাথী মনে করলে চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে থাকে। তখন সেই নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যক্তি কোম্পানিতে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত নিয়মিত রুটিন মাফিক কাজকর্ম করার মাধ্যমে প্রতিমাসে একটি নির্দিষ্ট বেতন পেয়ে থাকে।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্যে ঠিক সেইমভাবে একজন ব্যক্তির যে বিষয়ে দক্ষতা আছে বা যে বিষয়ে সে অনেক ভালোভাবে কাজ করতে পারে, সেই বিষয়ে কাজ করার জন্য অনলাইনে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসগুলোতে কাজের জন্যে গিগ বা আবেদন করে। তখন ক্লায়েন্ট বা বায়ার তার কাজের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করে তার কাছে উপযুক্ত মনে করলে, তখন তাকে তার কাজটি করে দেয়ার জন্য নিয়োগ করে। এই জন্য ফ্রিল্যান্সিংকে অনেকেই এক ধরনের চাকরি বলে থাকে।

তবে একটি সাধারণ চাকরি আর ফ্রিল্যান্সিং চাকরির মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। নরমাল যেকোনো জবে নিয়মিত নির্ধারিত সময়ে কোনো কাজ করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। তা নাহলে আপনি জব ধরে রাখতে পাবেন না। সেই সঙ্গে কাজ সঠিক মতো কাজ না করতে পারলে মাঝে মাঝে অফিসের বসের ঝারি খেতে হবে।

কিন্তু মনে রাখবেন ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে সেই ধরনের কোনো ধরা বাধা নিয়ম নাই। এখানে আপনি আপনার ইচ্ছামতো কাজ করতে পারবেন। আপনি যখন চাইবেন তখনি কাজ করতে পাবেন, আবার আপনার মন যদি না চায় কাজ করতে তাহলে আপনি সেই কাজ করা থেকে বিরত থাকতে পারবেন। মূলত এই কারণেই ফ্রিল্যান্সিংকে স্বাধীন পেশা বা মুক্ত পেশা বলা হয়ে থাকে এবং বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অধিকাংশ মানুষ পছন্দ করে।

তবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে সফলতা অর্জন করতে হলে আপনি খুব বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন না। কেননা আপনি ইচ্ছামতে বা স্বাধীনভাবে কাজ করার মনোভাব নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে আপনি কখনোই একজন ভালোমানের ফ্রিল্যান্সার হতে পাবেন না। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আপনি যত বেশি পরিমাণে সময় ব্যয় করতে পারবেন এবং ক্লায়েন্ট বা বায়ারদের সঙ্গে নিয়মিত কমিউনিকেড করতে পারবেন, আপনি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে ততবেশি পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। সেই সঙ্গে ইচ্ছামতো কাজ না করে একটি সাধারণ জবের মতো টাইম মেইন্টেনস করে কাজ করলে বায়ার বা ক্লায়েন্ট আপনাকে দাঁড়া কাজ করাতে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করবে। 

আরও পড়ুনঃ ইউটিউব কেন অনলাইনে আয় করার সহজ উপায়?

ফ্রিল্যান্সাররা কিভাবে কাজ করে?

ফ্রিল্যান্সাররা কিভাবে তাদের কাজগুলো সম্পূর্ণ করে থাকে বা ফ্রিল্যান্সাররা তাদের এই কাজগুলোকে মার্কেটপ্লেসে থেকে কিভাবে পায়, আপনি এই বিষয়টি বুঝতে পারলে ফ্রিল্যান্সিং কি? সেই বিষয়টা আপনার কাছে একেবারে পানির মতো ক্লিয়ার হয়ে যাবে। ফ্রিলান্সাররা কিভাবে কাজ করে থাকে বোঝার সুবিধার্থে আপনি নিম্নোক্ত দেয়া চিত্রটি দেখুন-

ফ্রিল্যান্সিং কি | ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো | ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায়

মনে করুন, আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার আর আমার একটি গার্মেন্টস কোম্পানি রয়েছে। আমার গার্মেন্টস কোম্পানিটি নতুন হওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষ আমার কোম্পানি সম্পর্কে কিছুই জানে না। কাজেই আমি চাচ্ছি আমার গার্মেন্টসের নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবো, যাতে করে সেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মানুষ সহজে আমার গার্মেন্টস কোম্পানি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে।

এক্ষেত্রে একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্যে প্রয়োজন আছে অনেক রকমের উপকরণ। প্রথমত, গার্মেন্টসের নামে অবশ্যই একটি অ্যাট্রাক্টিভ লোগো তৈরি করতে হবে। এরপর লোগো সহ গার্মেন্টস কোম্পানির নামে একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে হবে। সেই সঙ্গে ওয়েবসাইটটি যাতে মানুষ গুগল অথবা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে দেখতে পায়, সেজন্য ওয়েবসাইটের এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন) করার প্রয়োজন হবে। তাহলে আমার গার্মেন্টস কোম্পানির ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্যে প্রয়োজন একজন ওয়েব ডিজাইনার, একজন লােগো ডিজাইনার এবং একজন এসইও এক্সপার্ট অর্থাৎ সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন এক্সপার্টের।

এখন আমার গার্মেন্টস কোম্পানির নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য অনলাইনে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে প্রথমেই আমাকে একজন ভালোমানের লোগো ডিজাইনার খুঁজতে হবে। একজন ভালোমানের লোগো ডিজাইনার খোজার জন্যে আমি অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে আমার লোগো ডিজাইনের বর্ণনা লিখে একটি পোস্ট করবো। তারপরে সেই পোস্টটি দেখে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার এই লোগো ডিজাইনের কাজটি করে দেয়ার জন্য আবেদন করবে। যারা কাজটি করার জন্য আবেদন করবে আমি তাদের প্রোফাইল দেখে যাকে আমার কাছে ভালোমানের লোগো ডিজাইনার মনে হবে আমি ঠিক তার সঙ্গে যোগাযোগ করবো। 

তারপরে সেই লোগো ডিজাইনার কাজটি করার জন্য কত ডলার হলে কাজ করতে পারবে, কিভাবে আমার সেই কাজটি করবে, কাজ করার জন্যে কতদিন সময় নেবে ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার পরে আমি তাকে আমার কাজটি করতে বলবো। তারপর সেই কাজটি সঠিকভাবে করে দেয়ার পরে যখন আমার নিকট সাবমিট করবে, ঠিক তখন আমি তাকে টাকা পেমেন্ট করবো।

তাছাড়া যখন আপনি বিভিন্ন অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেপ্লেসে প্রতিনিয়ত কাজ করবেন, আপনি তখন অটোমেটিকভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠার কারণে বিভিন্ন বায়ার বা ক্লায়েন্ট তাদের কাজ করানোর জন্যে সরাসরি আপনার প্রোফাইলের সাহায্য আপনার সঙ্গে কমিউনিকেশন করবে। যখন আপনি এই লেভেলের একজন ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন, তখন আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করা আপনার জন্য কোনো ব্যাপারই হবেনা। মূলত এই ভাবে একজন ফ্রিল্যান্সার ঘরে বসে অনলাইনে কাজ করে টাকা ইনকাম করে থাকে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এই ভাবে বলা যায় যে, নিজের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার মাধ্যমে অনলাইনে কাজ করে টাকা ইনকাম করাকেই বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং।

তাছাড়া উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাও বুঝতে পারলাম যে, ফ্রিল্যান্সিং যদিও একটি স্বাধীন পেশা বা মুক্ত পেশা। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজের অবস্থানকে ভালো করার জন্যে ও বেশি পরিমাণে টাকা ইনকাম করার জন্য ইচ্ছামতো ভাবে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। একজন ফ্রিল্যান্সার অনলাইনে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলাে যতবেশি পরিমাণে সময় এবং শ্রম ব্যায় করতে পারবে, সেই ফ্রিল্যান্সার ফ্রিল্যান্সিং ঘরে বসে করে মাসে ততবেশি পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবে। আর যারা ফ্রিল্যান্সিংকে স্বাধীন পেশা হিসেবে ধরে নিয়ে স্বাধীনভাবে বা ইচ্ছামতো কাজ করবে, তারা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের কখনোই সফলতা লাভ করতে পারবে না।

আরও পড়ুনঃ অনলাইন থেকে আয় করার সহজ উপায়

ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা কি | ফ্রিল্যান্সিং কেন করা উচিত

ফ্রিল্যান্সিং করার সবথেকে বড় সুবিধে হচ্ছে এখানে ব্যাক্তির স্বাধীনতা আছে। কাজের জন্য কোনো দায়বদ্ধতা থাকেনা এবং বসের বকা খাওয়ার কোনো ধরনের সুযোগ নেই।

(১) যেকোনো সময় ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন।
(২) নগদ কোনো টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়না।
(৩) একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটর কানেকশনের সাহায্যে কাজ শুরু করতে পারবেন।
(৪) প্রতিদিন সকাল ৯ টায় অফিসে যাওয়ার জন্য চিন্তা করতে হবে না।
(৫) আপনার নিজের সময় অনুযায়ী ইচ্ছামতো কাজ করতে পারবেন।
(৬) আপনার এখানে কোনো বস নেই। এখানে আপনি নিজেই আপনার অফিসের বস।
(৭) জব করার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন।
(৮) একটি সাধারণ চাকরির চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে টাকা ইনকাম করা সম্ভব।
(৯) কাজ করার কোনো লিমিটেশন নেই। যতবেশি কাজ করতে পারবেন ততবেশি টাকা ইনকাম।
(১০) ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে প্রত্যেকমাসে একাধিক পেমেন্ট নেয়া সম্ভব হয়। যা অন্য কোনো অফলাইন জবে পাওয়া সম্ভবপর হয়না।
(১১) অল্প সময় ব্যয় করে বেশি পরিমাণে টাকা ইনকাম করা সম্ভব হয়।
(১২) ঘরে বসে থেকে কাজ করা সম্ভব হয়। কোনো অফিসের প্রয়োজন নেই। 
(১৩) কোনো ধরনের ইনভেস্মেন্ট করার প্রয়োজন নেই।
(১৪) আপনার অভিজ্ঞতাকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর অসুবিধা কি কি?

প্রত্যেকটি প্রোডাক্টের বা কাজের যেমন মন্দ দিক থাকে, ঠিক তেমনিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রেও কিছু কিছু অসুবিধা আছে। কাজেই ফ্রিল্যান্সিং কে ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়ার পূর্বে ফ্রিল্যান্সিং এর মন্দ দিক গুলো সম্পর্কে জেনে রাখাটা ভালো। ফ্রিল্যান্সিং এর অসুবিধা সমূহ না জেনে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে প্রবেশ করার পরে সফলতা অর্জন করলে না পারলে, আপনি পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক অভাব অনটনে পড়ে যেতে পারেন পারেন।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের যে সমস্ত অসুবিধাগুলো আছে—

(১) কাজের কোনো নিরাপত্তা বা কাজের কোনো ধরনের গ্যারান্টি নেই। কোনো কোনো সময় এমনও হতে পারে যে আপনি সারা মাসেও একটিমাত্র কাজও পাবেন না।
(২) আপনাকে মার্কেটপ্লেসে অন্য সকল ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
(৩) প্রথমে ক্লায়েন্ট বা বায়ার পেতে আপনাকে অনেক বেশি পরিশ্রম করার প্রয়োজন হবে।
(৪) আপনি ক্রমাগত আপনার অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নতি করতে হবে।
(৫) আপনার পোর্টফোলিং আকর্ষণীয় হতে হবে।
(৬) বেশিরভাগ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টা সম্পর্কে বোঝে না যার কারণে ফ্রিল্যান্সিংকে তারা কোনো সম্মানজনক পেশা হিসেবে দেখেন না।
(৭) নিজের সকল কাজ নিজেকেই করতে হবে। অন্যকে দাঁরা কাজ করানোর সুযোগ থাকেনা।
(৮) ফ্রিল্যান্সিং করে পেমেন্ট নেয়ার জন্য কিছু অসুবিধা আছে।
(৯) ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কোনো সুযোগ থাকেনা।
(১০) কাজ করলে আপনি টাকা পাবেন কিন্তু যদি কাজ না করেন তাহলে আপনি কোনো টাকা পাবেন না।

ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায়?

ফ্রিল্যান্সিং করে আপনি মূলত কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন তা আপনার কাজের দক্ষতার উপরে নির্ভর করবে। আপনার কাজের কোয়ালিটি যতবেশি ভালো হবে, আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে ততবেশি পরিমাণে কাজ পাবেন আর যতবেশি পরিমাণে কাজ পাবেন ততবেশি পরিমাণে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং আপনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করে কাজের মাধ্যমে ডলার ইনকাম করার পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে হবে।

আমার জানা মতে ফ্রিল্যান্সাররা ঘন্টা ভিত্তিক, দিন এবং সপ্তাহ হিসাবে কন্ট্রাকের মাধ্যমে ডলার ইনকাম করে। এই ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে যার অবস্থান যতবেশি ভালো, সে ততবেশি কাজ পেয়ে থাকে এবং ততবেশি পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারে।

ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায়?

ফ্রিল্যান্সিং কি | ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো | ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায়

উপরোক্ত চিত্রটি বিশ্বের জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস UpWork থেকে নেওয়া। বাংলাদেশে আপওয়ার্কের সবথেকে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সার হচ্ছেন জনাব আমানুর রাহমান। তিনি মার্কেটপ্লসে মূলত ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করে থাকেন। উপরোক্ত চিত্রে ভালোভাবে দেখুন, তিনি ইতোমধ্যে আপওয়ার্ক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে থেকে প্রায় ২০২ টি মতো কাজ সম্পূর্ণ করেছেন। আমানুর রহমান বর্তমানে প্রতি ঘন্টায় কাজের জন্যে ৫০ ডলার করে চার্জ নিয়ে থাকেন। এই ক্ষেত্রে যদি তিনি ৫ ঘন্টা কোনো কাজ করে থাকেন, তবে তিনি ৫ ঘন্টার জন্যে ২৫০ ডলার পেয়ে যাবেন যা বাংলাদেশি টাকা দাঁড়ায় ২০ হাজার টাকা।

এছাড়াও উপরোক্ত চিত্রে আপনি আরো দুই জন বাংলাদেশি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সারের ফটো দেখতে পাচ্ছেন। তারাও তাদের প্রতি ঘন্টা কাজের জন্য ৫০ ডলার করে চার্জ নিয়ে থাকেন। আপনি প্রতি ঘন্টায় কত ডলার করে নিবেন বা কোন কাজের জন্যে কত ডলার পাবেন, তা মূলত আপনার জনপ্রিয়তা এবং কাজের কোয়ালিটির উপরে নির্ভরশীল। আসল কথা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আপনার দক্ষতার যতবেশি প্রমাণ দিতে পারবেন, ফ্রিল্যান্সিং করে অনলাইন থেকে আপনি ততবেশি ডলার আয় করতে পারবেন।

বাংলাদেশে আমার দেখা এবং অনেক ভালো ভালো ফ্রিল্যান্সার আছে যারা প্রত্যেকমাসে ২থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছে। এছাড়াও আমাদের পাঁশের দেশ ভারতে অনেক ভালোমানের দক্ষ ফ্রিল্যান্সার রয়েছে, যারাও প্রত্যেক মাসে ৪ থেকে ৫ লাখা টাকা ইনকাম করছে।

আরও পড়ুনঃ ছাত্রদের জন্য অনলাইনে আয়

ফ্রিল্যান্সিং এ বাংলাদেশের অবস্থান কত?

ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পরেই আছে আমাদের বাংলাদেশের অবস্থান। সারাবিশ্বে ফ্রিল্যান্সিং জনসংখ্যার প্রায় ২৭% কর্মী বসবাস করে বাংলাদেশে। বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, সেলস এন্ড মার্কেটিং সাপোর্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া, ভিডিও এডিটিং ও প্রযুক্তি দিকগুলোয় কাজের প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যায়। আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সারদের গড় পারিশ্রমিক প্রত্যেক মাসের ইনকাম ৬০ মার্কিন ডলার অর্থাৎ যা বাংলাদেশি টাকায় কনভার্ট করলে হয়ে দাড়ায় ৫ হাজার টাকার মত। তবে হ্যাঁ ফ্রিল্যান্সিং এ আমাদের দেস থেকে আরো বেশি টাকা ইনকাম করার পথ ওপেন আছে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কত?

২০১৯ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ৮ নাম্বার পজিশনে। আমাদের পাঁশের দেশ ভারত বাংলাদেশের থেকে ফ্রিলান্সিং ক্ষেত্রে মাত্র ২ শতাংশ এগিয়ে ছিলো। সারাবিশ্বে যতগুলো ফ্রিল্যান্সার আছে, তার মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার বাংলাদেশের আছে। এছাড়া আমাদের পার্শ্ববর্তী আরেকটি দেশ হচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্থান ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে ৪ নাম্বার পজিশনে ছিলো। আমি বিশ্বাস করি ২০২২ সালের মাঝে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করব | ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো ২০২১

আশাঁ করি ইতোমধ্যে আপনি জেনে গেছেন যে, ফ্রিল্যান্সিং করে ঘরে বসে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা যায়। সুতরাং অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করার জন্য আপনার প্রয়োজন একটি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এছাড়াও অনেকেই আছেন যারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কাজ করে থাকে এবং আরো প্রয়োজন হবে ইন্টারনেট সংযোগের। 

তারপর ফ্রিল্যান্সিং করার জন্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যেবিষয়টি দরকার তা হচ্ছে, আপনার কোনো একটি বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রাখতে হবে। আপনি নিজেকেই প্রশ্ন করুন তোহ, আপনি কোন বিষয়ে কোন কাজের পরে ভালো জ্ঞান রাখেন, যেটি কেউ আপনাকে সেই কাজটি করতে বললে আপনি খুব সহজেই কাজটি করতে পারবেন। যেকোনো কাজে আপনার অভীজ্ঞতা, দক্ষতা এবং কাজ করার ইচ্ছাশক্তি থাকলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে প্রতি মাসে ঘরে বসে স্মার্ট এমাউন্ট আয় করতে পারবেন। যদি আপনার কোনো বিষয় সম্পর্কে দক্ষতা না থাকলে তবে আমি বলবো আপনাকে দাঁরা ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব নয়।

যদি আপনার কোনো বিষয়ে সম্পর্কে অভীজ্ঞতা, দক্ষতা না থাকে তবে আপনাকে শুরুতেই কোনো একটি কাজকে ভালোভাবে শিখতে হবে। কাজ শেখার জন্য আমি সাজেস্ট করবো, যে বিষয়ে সম্পর্কে আপনার কাজ করার আগ্রহ রয়েছে এবং যে কাজ করে আপনি আনন্দিত হোন এবং যে কাজটি আপনি সহজেই শিখতে পারবেন বলে আপনার মনে হয়, আপনি অবশ্যই সেই কাজটিকে শিখে নিন। এক্ষেত্রে কাজ শেখার জন্যে আমি বলবো আপনি ছয় মাস থেকে এক বছর ব্যয় করুন অথবা তার চেয়েও বেশি সময় ধরে কাজ শিখুন যাতে করে আপনি সেই কাজের প্রতি এক্সপার্ট হতে পারেন। 

আপনি হয়তোবা মনে মনে ভাবছেন ফ্রিল্যান্সিং করার জন্যে আপনার পক্ষে ১ বছর সময় ব্যয় করাটা সম্ভব না। তবে আমি আপনাকে বলবো, ভাইয়া-আপু ফ্রিল্যান্সিং তবে আপনার জন্য নহে। আপনি ফ্রিল্যান্সিং করার চিন্তাভাবনা না করে অনন্যা কোনো ধরনের কাজ করার চেষ্টা করেন। বেঁচে থাকার জন্যে ফ্রিল্যান্সিং কেই পেশা হিসেবে নিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নাই। যদি আপনি মনে করেন যে, কোনো কাজ না জেনে বা কোনো বিষয়ে দক্ষ না হয়ে আজকে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে আগামীকাল থেকে টাকা ইনকাম করা শুরু করবেন, তবে ভাইয়া/আপু ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করা আপনার জন্য শুধুমাত্র স্বপ্ন হয়েই থাকবে। 

আপনি ঠান্ডা মস্তিষ্কে চিন্তা করুন তো, আমাদের দেশের একজন ব্যক্তি ভালোমানের চাকরি পাবার আশায় ক্লাশ ১ থেকে শুরু করে অনার্স/মাস্টার্স করার জন্যে ১৮ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত লেখাপড়া করে। দীর্ঘ এই ২০ বছর লেখাপড়া শেষ করার পর প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতনের একটি চাকরি পাওয়ার জন্য লাখ লাখ লোকের সঙ্গে চাকরির মার্কেটে কম্পিটিশন করে। তারপরে সেই কঠিন কম্পিটিশনে যদি টিকতে পারে তবে প্রতিদিন সকাল ৯ ঘটিকা থেকে বিকাল ৫ ঘটিকা পর্যন্ত সারাটাদিন কাজ করে প্রতিমাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকে। 

একজন মানুষ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা মূল্যে চাকরি করার জন্যে তার জীবনে ২০টি বছর পরিশ্রম করবার পারলে ফ্রিল্যান্সিং করে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করার জন্যে আপনি কেন শুধুমাত্র ১টি বছর সময় ব্যয় করতে পারবেন না? কাজেই আমি পূর্বে অনেকবার বলেছি, এই ধরনের স্বল্প ধৈর্য্য আপনার মাঝে না থাকলে ফ্রিল্যান্সিং পেশা মোটেও আপনার জন্য না।

আরও পড়ুনঃ বিজ্ঞাপন দেখে টাকা ইনকাম | টাকা ইনকাম করার ওয়েবসাইট

কাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং | ফ্রিল্যান্সিং শিখতে চাই

(১) যাদের কাজ শেখার প্রচুর আগ্রহ রয়েছে।
(২) মিনিমাম যেকোনো একটি কাজের প্রতি দক্ষতা আছে।
(৩) যাদের নগদ অর্থ ইনকামের লোভ নেই ( মার্কেটপ্লেসে আজ এসে কাল থেকে টাকা ইনকাম করা পার্টি)। 
(৪) টাকার প্রতি যাদের অনেক বেশি লোভ নেই।
(৫) ইংরেজিতে দক্ষতা যাদের ভালো।
(৬) আর্ন্তজার্তিক পর্যায়ে যারা সহজে কমিউনিকেড করতে জানে।

আপনি কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন তা আমার মনে হয় আপনি সেটা উপরোক্ত আলোচনা থেকে ক্লিয়ার হয়েছেন। আপনি একটি বিষয়ে ক্লিয়ার ভাবে জেনে রাখুন, ফ্রিল্যান্সিং করে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য কোনো ধরনের সহজ অর্থাৎ শর্টকাট কোনো রাস্তা নাই। ফ্রিল্যান্সিং করে কাজ করার বিনিময়ে ডলার বা টাকা ইনকাম করতে হয়। কাজেই ফ্রিল্যান্সিং করে ঘরে কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার বা টকা ইনকাম করতে চাইলে আপনাকে প্রথমে কোনো একটি বিষয়ের উপরে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আপনার দক্ষতাই ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার পথ সৃষ্টি করে দেবে।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার কিভাবে গড়বো?

যারা নতুন তারা হয়তোবা ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শব্দটাকে শুনে কিছুটা হলেও অবাক হচ্ছেন তাই না। এখানে অবাক হয়ে যাওয়ার কিছু নেই ভাই। সারাবিশ্বে কোটি কোটি মানুষ বর্তমানে বিভিন্ন জব যুক্ত না হয়ে ফ্রিল্যান্সিংকে তাদের ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়ে প্রতি মাসে ঘরে বসে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছে। বাংলাদেশেও কয়েক লাখ ফ্রিল্যান্সার আছে যারা ফ্রিল্যান্সিংকে তাদের ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে প্রতি মাসে লক্ষ টাকার উপরে ইনকাম করছে। ফ্রিল্যান্সিং করে কি পরিমাণে টাকা ইনকাম করা যায় এবং ফ্রিল্যান্সিং এ বাংলাদেশ কোন অবস্থানে আছে, এসকল বিষয় নিয়ে পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করছি। ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চাইলে নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয় আপনাকে ঠিক করে নেয়ার প্রয়োজন হবে-

(১) নিজের লক্ষ্য ঠিক করে নিতে হবে

প্রথমেই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আপনি ফ্রিল্যান্সিং পেশা হিসেবে নিয়ে পার্ট টাইম অথবা ফুল টাইম কাজ করবেন অথবা চাকরি বা অন্যান্য কোনো পেশার পাশাপাশি পার্ট টাইম ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করবেন। আমার মতে আপনি যদি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে চান তবে ফ্রিল্যান্সিংকে ফুল টাইম জব হিসাবে আপনাকে বেছে নেয়ার প্রয়োজন হবে। পক্ষান্তরে জব করার পাশাপাশি আপনার মেধাকে কাজে লাগিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বাড়তি কিছু টাকা ইনকাম করতে চাইলে, কাজ করার জন্যে আপনাকে নির্ধারিত কিছু টাইম বের করে নিতে হবে। টাইম মেইনটেন না করে আপনি যখন খুশি তখন ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ করার চেষ্টা করলে ফ্রিল্যান্সিং করে আপনি খুব বেশি একটা সফলতা লাভ করতে পাবেন না।

(২) কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবেন?

আপনি কোন বিষয়ে সহজে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন অথবা কোন বিষয়ের উপরে আপনার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা রয়েছে, আপনাকে প্রথমেই সেই বিষয়টি ঠিক করে নিতে হবে। যদি আপনি কোনো বিষয়ে অভিজ্ঞতা না হয়ে থাকেন, তবে কোন বিষয়টির প্রতি আপনার শেখার আগ্রহ আছে অথবা কোন বিষয়টি আপনি শিখবেন, তা আপনাকে নিজে নিজেই ঠিক করে নিতে হবে। আপনি কোন কাজ শিখতে চান বা কাজের বিষয়টি ঠিক করার সময় আপনি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করতে থাকুন, আপনার কোন কাজ করতে বেশি ভালো লাগে বা কোন কাজের প্রতি আগ্রহ পান, তবে নিজে নিজের থেকে সঠিক উত্তর পেয়ে যাবেন।

তবে মনে রাখবেন যেন তেন কাজ নিয়ে কিন্ত ফ্রিল্যান্সিং করলে ক্যারিয়ারে খুব বেশি একটা লাভবান হতে পাবেন না। আপনি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে বিবেচনা করে আপনার কাজের বিষয়টিকে সিলেক্ট করে নিতে পারেন। আপনাকে এমন টপিকের উপরে কাজ করতে হবে যাতে করে সেই বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে অনেক বেশি চাহিদা আছে। কেননা কাজের চাহিদা না থাকলে এমন কোনো টপিক নিয়ে যদি আপনি কাজ করেন, তবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো থেকে কাজ আপনি তেমন কোনো কাজ খুঁজে পাবেন না।

যে কাজে আপনার অভিজ্ঞতা অ দক্ষতা আছে, সে বিষয়টিকে নিয়ে কাজ শুরু করুন। যে বিষয়টিকে নিয়ে আপনি রিসার্চ করতে ভালোবাসেন অথবা যে বিষয়ে আপনি নতুন নতুন কিছু শিখতে পছন্দ করেন, সেই নিশ নিয়ে কাজ করুন। যে বিষয়টিকে নিয়ে কাজ করার সময় আপনার কখনো কোনো বিরক্ত চলে আসে না, সেই বিষয়ের উপরে কাজ করুন।

উপরোক্ত আলোচনা করা ৪টি বিষয় আপনার মাথায় রেখে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য আপনার কাজের বিষয়টিকে (টপিক) নির্ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে নিশ নির্ধারণ করার আগে যে নিশ নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক সেই নিশের চাহিদা সম্পর্কে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস আছে কি-না সেটা যাচাই-বাছাই করে আপনার নিশ নির্ধারণ করবেন। কোন কোন বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং করলে বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন, তা আমি এই আর্টিকেলের শেষের অংশে আলোচনা করবো।

(৩) কোন কোন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কাজ করবেন?

অনলাইনে শত শত ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস আছে যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা বায়ার (ক্লায়েন্ট) তাদের কাজ করানোর জন্যে ফ্রিল্যান্সারদের হায়ার করে থাকে। এই জন্য আপনাকে অবশ্যই সেই ধরনের জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলােতে কাজ করতে হবে। কেননা জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে বেশি ক্লায়েন্ট থাকে যার কারণে অধিক পরিমাণে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

আপনি যেকোনো জনপ্রিয় একটি অথবা দুটি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করতে পারলে খুব স্বল্পদিনের মাঝে সেই মার্কেটপ্লেস গুলােতে নিজের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি বাড়িয়ে নিতে পারবেন। আর যা একবার যদি জনপ্রিয় ফ্রিলান্সিং সাইটগুলোতে নিজেকে দক্ষতার সাথে প্রমাণ করতে পারেন তবে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফলতা পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও বিশ্বস্ততা এবং কাজের কোয়ালিটি মেইনটেন্স করাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা কোনো কাজ ভালোভাবে করে সেই কাজ বিশ্বস্তার সাথে বায়ার বা ক্লায়েন্টকে সাবমিট করলে এবং আপনার কাজটি বায়ার বা ক্লায়েন্টের পছন্দ হলে, ক্লায়েন্টগণ আপনাকে বার বার কাজ করে দেয়ার অফার করবে। ঠিক তখন আপনাকে আর কাজ পাওয়ার বিষয়টিকে নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন হবে না। আপনাকে আর ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে পিছনে ফিরে তাকাতে হবেনা।

জনপ্রিয় ৫ টি ফ্রিল্যান্সিং সাইট

অনলাইনে শত শত ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের মাঝে বর্তমান সময়ে নিম্নোক্ত ৫টি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সবথেকে বেশি জনপ্রিয়। আপনি এই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে একাউন্ট তৈরি করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করতে পারবেন।

(১) আপওয়ার্ক - Upwork.Com

আপওয়ার্ক (Upwork) হচ্ছে সারাবিশ্বের ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোর মাঝে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং সাইট। আপওয়ার্ক প্রথমে ওডেস্ক নামে তাদের কার্যক্রম শুরু করছিলো। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এই সাইটটি ওডেস্ক নাম চেঞ্জ করে আরেকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ইল্যান্স’ আপওয়ার্কের সঙ্গে একীভূত হয়ে Upwork আপওয়ার্ক নামে পরিনত হয়। জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস আপওয়ার্ক Upwork এ আপনি ঘন্টা ভিত্তিক এবং নিদিষ্ট রেটে কাজ করতে পারবেন। আপওয়ার্ক থেকে পেমেন্ট নেয়ার জন্য ব্যাংক ট্র্যান্সফার, পেওনিয়ার, পেপাল পদ্ধতিতে নিতে পারবেন।

(২) ফাইভার - Fiverr.Com

বর্তমান সময়ে সারাবিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং সাইট হলো ফাইভার বা Fiverr.com। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সারগণ এই ফাইভার মার্কেটপ্লেসে কাজ করে। ফাইভারে সবনিম্ন ৫ ডলার থেকে শুরু করে অনেক বেশি প্রাইজের প্রজেক্ট পাওয়া যায়। ফাইভারে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটং, ইথিক্যাল হ্যাকিং, ড্রপশিপিং, প্রোগ্রামিং এন্ড টেক, ওয়ার্ডপ্রেস, বিজনেস, ভয়েস রেকর্ড, লোগো ডিজাইন, লাইফস্টাইল, আর্টিকেল রাইটিং, এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন), ডিজিটাল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ইতাদি সহ আরও বিভিন্ন রকমের কাজ পাওয়া যায়।

(৩) ফ্রিল্যান্সার ডটকম - Freelancer.Com

ফ্রিল্যান্সার ডটকম হ'ল একদম প্রথম তালিকাতে থাকা একটি অনলাইন ভিত্তিক জব মার্কেটপ্লেস, ফ্রিল্যান্সার ডটকমে নিদিষ্ট মূল্য এবং ঘন্টাভিত্তিক রেটে প্রজেক্ট করা যায়। ফ্রিল্যান্সার ডটকমে প্রচুর পরিমাণে অনলাইন চাকরি পাওয়া যায়। ফাইভার এবং আপওয়ার্ক এই দুটো সাইটের তুলনায় এই সাইটে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা কিছুটা কম। ফ্রিল্যান্সার ডটকম থেকে ইনকাম করা টাকা উত্তোলন করার জন্য ব্যাংক ট্র্যান্সফার, পেওনিয়ার, পেপাল, স্ক্রিল এর মাধ্যমে নিতে পারবেন।

(৪) গুরু - Guru.Com

বিশ্বের প্রায় ৩০ লাখেও বেশি মানুষ এই জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কাজ করে থাকে। এই জনপ্রিয় সেরা ফ্রিলান্সিং সাইটে ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়ার্ডপ্রেস, লোগো ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, আর্টিকেল লেখা সহ আরও বিভিন্ন রকমের কাজ পাওয়া যায়। এই সেরা ফ্রিলান্সিং সাইটে নিদিষ্ট মূল্য ও ধন্টাভিত্তিক ভাবে কাজ করা যায়। গুরু ডটকম থেকে ইনকাম করা টাকা উত্তোলন করার জন্য ব্যাংক ট্র্যান্সফার, পেপাল, পেওনিয়ার পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।

(৫) টপটল - Toptal.Com

টপটল হলো আরেকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট। এই ফ্রিলান্সিং ওয়েবসাইটটি সম্প্রতি সময়ে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে নিয়েছে। বর্তমানে সারাবিশ্বের প্রায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষ এই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করছে। এই সাইটে প্রচুর পরিমাণে অনলাইন চাকরি পাওয়া যায়। অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং সাইটের মতো এখানে প্রায় সকল ধরনের ডিমান্ডবেল কাজ পাওয়া যায়। টপটল থেকে টাকা বের করার জন্য পেমেন্ট মেথড হিসেবে পেওনিয়ার, পেপাল এবং ব্যাংক ট্র্যান্সফারের মাধ্যমে উত্তোলন করতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ 2021 সালে সেরা ৭টি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট

ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে কি করতে হবে?

উপরোক্ত যেকোনো ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট কাজ করার জন্যে প্রথমে আপনার একটি প্রোফাইল অর্থাৎ একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে। তারপরে আপনার অ্যাকাউন্টটিকে ভালোভাবে সাজিয়ে নিতে হবে। আপনি কোন কোন বিষয়ে কাজ জানেন, কোন কাজের প্রতি আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা আছে, আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল, আপনার পড়াশুনা কোয়ালিফিকেশন, আপনার ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস, আপনার ব্যক্তিগত পরিচিতি এবং ছবি দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ একাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে।

তাছাড়াও আপনি কিভাবে বায়ার বা ক্লায়েন্টের কাজ করেন, কেউ আপনাকে কাজ দেয়ার পরে সেই কাজ কত দ্রুততার সাথে সম্পাদন করেন আর ইতোপূর্বে কোনো কাজ সম্পূর্ণ করে থাকলে সেই কাজের রেফারেন্স বায়ারকে ছোট করে লিখে দিতে পারেন। বিশেষ করে আপনি আগে কোন প্রতিষ্ঠানে বা কোনো কোম্পানির কোনো ওয়েবসাইট ডিজাইন বানিয়ে থাকলে সেই ওয়েবসাইটের লিংক ক্লায়েন্টের কাছে শেয়ার করে দিলে আপনার জন্য আরও বেশি সুবিধা হবে।

আপনার কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা এবং কাজের ধরনের বিষয়ের সমন্বয়ে যতবেশি ভালোভাবে পোর্টফোলিও বানাতে পারবেন, একজন ক্লায়েন্ট বা বায়ার তত সহজেই আপনাকে কাজ দেয়ার জন্য আগ্রহী হবে। তবে হ্যাঁ মনে রাখবেন, মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়ার আশায় কোনো ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিবেন না। মনে রাখবেন চালাকি করে কখনো আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফলতা অর্জন করতে পারবেন না। একজন ফ্রিল্যান্সারের নিম্নোক্ত ৭টি ধাপের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করে ইনকাম করা টাকা হাতে পেয়ে থাকে-

ধাপ ১ঃ নিজের দক্ষতা যাচাই

আপনি কি জানেন? কোন কাজের প্রতি আপনার বেশি আগ্রহ আছে? কোন কাজে আপনার দক্ষতা ও অভীজ্ঞতা আছে? এই প্রশ্নগুলির মাধ্যমে আপনার নিজেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আপনি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে কোন ধরনের কাজগুলো আপনি করবার পাবেন? অথবা আপনার জন্য কোন ধরনের কাজটি উপযুক্ত? এই সিদ্ধান্তটি আপনাকে নিজে নিজেই গ্রহণ করতে হবে।

ধাপ ২ঃ ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে প্রোফাইল তৈরি করা

উপরোক্ত আমরা যে সকল ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস, বা জনপ্রিয় ফ্রিলান্সিং ওয়েবসাইটের নাম বলেছি এখন আপনাকে সেগুলির যেকোনো একটিতে বা প্রত্যেকটি আপনার ফ্রিল্যান্সিং অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে। 

ধাপ ৩ঃ পোর্টফোলিও তৈরি

পোর্টফোলিওর মাঝে আপনার ব্যক্তিগত সকল তথ্য থেকে শুরু করে আপনার দক্ষতা ও কাজের অভীজ্ঞতাকে, অতীতে কি কি প্রজেক্ট সম্পূর্ণ করেছেন ইত্যাদি তথ্য সঠিক সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখতে হবে। একটি সুন্দর আকর্ষণীয় পোর্টফোলিও আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলো থেকে কাজ পেতে সহয়তা করবে।

ধাপ ৪ঃ প্রজেক্ট খোঁজা এবং বিডিং করা

এখন আপনার তৈরিকৃত ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে থেকে আপনাকে কাজ খুঁজে নিতে হবে। সাধারণ ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে কাজ খুজলে খুব সহজেই আপনি কাজ পেয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে প্রজেক্টের জন্যে আবেদন করার প্রয়োজন হবে এবং আপনার কাজের মূল্য সম্পর্কে জানিয়ে দিতে হবে।

ধাপ ৫ঃ অপেক্ষা করা

ক্লায়েন্টের কাজের জন্য আবেদন করার পরে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। কারণ একটি প্রজেক্ট পাওয়ার জন্য অনেক ফ্রিল্যান্সাররা সেখানে আবেদন করবে। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট বা বায়ার সবকিছু যাচাই-বাছাই করে যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই কাজটি দিয়ে দিবে। আপনি যদি ফ্রিলান্সিংয়ে নতুন হয়ে থাকেন এবং আপনার অভিজ্ঞতা কম হয়ে থাকে তাহলে আপনি কোনো বড় প্রজেক্ট না করে ছোট ছোট প্রজেক্টগুলো শুরুতেই করতে পারেন। তবে আপনি সহজ কাজ পাবেন।

ধাপ ৬ঃ কাজ পূর্ণ করা

আপনি যে কাজটি পাবেন সেই কাজটি খুবই দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করে নেয়ার চেষ্টা করুন। কেননা বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সিং সাইটের ক্লায়েন্টরা তাদের কাজটিকে দ্রুততার সাথে করিয়ে নিতে চায়।

ধাপ ৭ঃ পেমেন্ট রিসিভ করা 

সর্বশেষ আপনি যখন বায়ার বা ক্লায়েন্টের কাজটি সফলভাবে সাবমিট করবেন তখন ক্লায়েন্টের কাছে আপনার কাজটি পছন্দ হলে ক্লায়েন্ট আপনাকে পেমেন্ট দিয়ে দিবে। সেই সঙ্গে আপনার কাজ দেখে সে খুশি হলে আপাকে ৫ স্টার রেটিং দেবে যার কারণে আপনাকে পরবর্তীতে কাজ পাওয়ার জন্য অনেক সহজ করবে। 

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে ইনকাম সাইট | অনলাইনে ইনকাম করার ওয়েবসাইট

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো? ফ্রিল্যান্সিং কোর্স কোথায় করবো?

ফ্রিল্যান্সিং কোর্স এবং ফ্রিল্যান্সিং শেখানো নিয়ে বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে অনেক ধরনেরই ব্যবসা চলছে। ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষের ভুল ধারণা থাকার কারণে কিছু কিছু আইটি সেন্টার ফ্রিল্যান্সিং কোর্স নামমাত্র চালু করে সাধারণ জনগণকে নামমাত্র ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে তাদের থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

আসলে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স নামে কিছুই নেই। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্যে কোনো ধরনের কোর্স করার দরকার হয়না। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্যে কোনো একটি বিষয়ের উওর আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। কোনো একটি বিষয়ের উপরে আপনার দক্ষতা থাকলে আপনি নিজে নিজেই বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে একাউন্ট ওপেন করে নিজে নিজেই ঘরে বসে সহজে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন।

কিভাবে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়, কিভাবে একটি আকর্ষণীয় পোর্টফোলিও তৈরি করতে হয়, কিভাবে বায়ার বা ক্লায়েন্টের সঙ্গে কমিউনিকেশন করতে হবে এবং কিভাবে জব আবেদন সাবমিট করতে হয়, এই সকল বিষয় শেখার জন্যে আপনাকে কোনো ধরনের ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করার দরকার হবেনা। এই সকল বিষয় আপনি অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগ এবং ইউটিউব দেখে শিখে নিতে পারবেন।

মূলকথা হলো ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার জন্যে অথবা ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করার জন্যে আপনার যেকোনো কাজের প্রতি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে যদি আপনার কোনো বিষয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা না থেকে থাকে, তবে আপনি কোনো আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে সেই বিষয়ের উপরে কোর্স করে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

যেমন - ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং কনটেন্ট রাইটিং ইত্যাদি বিষয়ের উপরে আপনার দক্ষতা ও অইজ্ঞতা থাকলে কোনো ধরনের কোর্স করা ব্যতীত নিজে নিজেই ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন সহজেই। তবে হ্যাঁ যদি আপনি এই সকল কাজ বা অন্য কোনো ধরনের কাজ না করতে পারেন, তবে ফ্রিল্যান্সয়ের কাজ করার জন্য যেকোনো একটি কাজ শিখতে হবে।

কাজেই আপনি সহজে বুঝতে পারলেন যে, ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার জন্য ফ্রিল্যান্সিং কোর্স করার কোনো প্রয়োজন নেই। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্যে প্রথমে আপনাকে যেকোনো একটি বিষয়ে কাজ শিখতে হবে।

আরও পড়ুনঃ ডিজিটাল মার্কেটিং কি | ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কি কি শিখবো?

যদি আপনার কোন বিষয়ের উপরে দক্ষতা থাকে, তবে সেই বিষয়ে আপনি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে কোর্স করে আরও বেশি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বৃদ্ধি করে নিতে পারবেন। তবে আপনার কোনো বিষয়ের উপরে কাজের দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা না থাকলে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্যে একটি অথবা দুটি লাভজনক নিশ বাছাই করে সেই বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স করে নিজেকে সেই বিষয়ের উপর এক্সপার্ট করে নিতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো? ফ্রিল্যান্সিং কোর্স কোথায় করবো?

ফাইভার ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে গ্রাফিক্স ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং, বিজনেস ও লাইফস্টাইল সহ আরো বিভিন্ন বিষয়ের ডিমান্ডবেল আছে। তাছাড়া এধরনের প্রত্যেক কাজের জন্য ডিমান্ড সকল ধরনের ফ্রিল্যান্সিং সাইটে আছে।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য নিচের যেকোনো একটি বিষয়ে কোর্স করতে পারেন | ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ

গ্রাফিক্স ডিজাইন

বিভিন্ন ধরনের লোগো ডিজাইন, ব্যানার তৈরি করা বা ব্যানার বানানো সহ আরও বিভিন্ন ধরনের গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রায় কোম্পানি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয়ে থাকে। কাজেই যেকোনো একটি ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন বিষয়ের উপর একটি কোর্স করে নিয়ে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং

ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে ডিজিটাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে অনলাইনে/ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রোডাক্ট বা সেবার বিক্রয় কাজ পরিচালিত করা। আর হ্যাঁ আমরা মার্কেটিং করার জন্যে যত ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকি সেগুলোই হচ্ছে মূলত ডিজিটাল মার্কেটিং। বিভিন্ন রকম ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

আর্টিকেল রাইটিং

যদি আপনার লেখালেখি করতে ভালো লাগে অর্থাৎ আপনার লেখালেখি করার অভ্যাস থেকে থাকে বা ব্লগিং করার পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে থাকে, তবে কন্টেন্ট লেখার বিষয়ে একটি পরিপূর্ণ কোর্স করে আপনার আর্টিকেল রাইটিং করার অভিজ্ঞতাকে আরও বেশি করে নিতে পারবেন। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে সবসময় ভালোমানের কনটেন্ট রাইটারদের খুঁজে থাকে।

ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট

বর্তমানে প্রত্যেকটি কোম্পানি এবং প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইটের দরকার হয়। কাজেই যদি এই বিষয়ে আপনি দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন তবে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আপনার কাজের কোনো প্রকার অভাব হবেনা।

ভিডিও এডিটিং এন্ড এ্যানিমেশন

অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মার্কেটপ্লেসে ভিডিও এডিটিং ও অ্যানিমেশনের অনেক ডিমান্ড আছে। এই কাজটি আপনার জানা থাকলে ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে প্রচুর পরিমাণে টাকা আয় করতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং কি | এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবেন

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য ইংরেজি জানা কি বাধ্যতামূলক?

মূলত ফ্রিল্যান্সিং করে ঘরে বসে টাকা ইনকাম করার জন্য সকল ধরনর ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে ক্লায়েন্ট বা বায়ারের সঙ্গে ইংরেজিতে কমিউনিকেশন করার প্রয়োজন হয়। কেননা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট বা বায়াররা বাংলাদেশের বাহিরের দেশের হয়ে থাকে। কাজেই বায়াররা যেহেতু বাংলা বুঝে না সেহেতু তাদের সঙ্গে কমিউনিকেশন অথবা চ্যাট করার জন্যে ইংরেজি জানা ছাড়া বিকল্প কোনো পদ্ধতি নেই।

তবে হ্যাঁ কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্যে আপনার পরিপূর্ণ ইংরেজি না জানা থাকলেও হবে। শুধুমাত্র আপনার নির্ধারিত বিষয়ে সমূহ নিয়ে মোটামুটি মানের ইংরেজি সম্পর্কে জানা থাকলে আপনি ক্লায়েন্ট বা বায়ারদের সঙ্গে কমিউনিকেশন করে নিতে পারবেন।

যেমন- ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং এন্ড অ্যানিমেশন বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য আপনার ভালোভাবে ইংরেজি জানলেও চলবে। তার জন্য শুধুমাত্র আপনার এই বিষয়ের উপরে মোটামুটি ইংরেজি সম্পর্কে জানা থাকলেই আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। কিন্তু হ্যাঁ ডিজিটাল মার্কেটিং এবং আর্টিকেল রাইটিং নিয়ে যদি আপনি কাজ করতে চান তবে এক্ষেত্রে আপনার পরিপূর্ণ ইংরেজি না জানা থাকলে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ করতে অসুবিধা হবে বা এই ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে আপনি কাজ করতে পারবেন না।

ফ্রিল্যান্সিং FAQs

ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে

উত্তরঃ ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন বায়ার বা ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজের চুক্তি করে সেই কাজকে সফলভাবে শেষ করে অনলাইনের মাধ্যমে বায়ার বা ক্লায়েন্টের নিকট সাবমিট করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করাকে সংক্ষেপে বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং। এছাড়াও আপনি এই ভাবে বলতে পারেন যে, নিজের মেধা এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে খাটিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করে টাকা ইনকাম করাকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কিসের প্রয়োজন

উত্তরঃ অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করার জন্যে সর্বপ্রথম আপনার একটি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। তারপরে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টির দরকার হবে তা হচ্ছে, আপনার কোনো একটি বিষয়ের উপর কাজ করার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। যেমন- গ্রাফিক্স ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন), ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, আর্টিকেল লেখা এবং ভিডিও এডিটিং এন্ড অ্যানিমেশন সহ আরও বিভিন্ন বিষয়ের উপর কাজের দক্ষতা থাকলে ফ্রিল্যান্সিং করে সহজেই ঘরে বসে টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ কি

উত্তরঃ ফ্রিল্যান্সিং হলো একটি জনপ্রিয় ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস। যে মার্কেটপ্লেসে আপনি অন্যজনের অর্থাৎ বায়ার বা ক্লায়েন্টের কাজ করার বিনিময়ে অর্থোউপার্জন করতে পারবেন। অথবা আপনি চাইলেই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে অন্যজনকে দিয়ে কম খরচে নিজের কাজটিকে করে নিতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে মূলত এক ধরনের স্বাধীন পেশা বা মুক্ত পেশা, যেখানে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করা এবং অন্যকে দিয়ে কাজ করানো যায়।

ফ্রিল্যান্সিং কি হালাল

উত্তরঃ অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন যে ফ্রিল্যান্সিং কি হালাল, এখান থেকে টকা ইনকাম করা কি আমার জন্য ভালো হবে। সেক্ষেত্রে উত্তর হবে ফ্রিল্যান্সিং অবশ্যই হালাল। কেননা আপনি এখানে কাজ করার বিনিময়ে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করছেন। আপনি এখানে কারো কােনো চুরি করছেন না। ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে অবৈধ বা হারাম কাজের কোনো সম্পর্ক নেই।

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো

উত্তরঃ প্রকৃতপক্ষে ফ্রিল্যান্সিং কোর্স নামে কোনো কিছু নেই। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্যে কোনো ধরনের কোর্স করার প্রয়োজন হয়না। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্যে কোনো একটি বিষয়ের উপর আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার দরকার হয়। কোনো একটি বিষয়ের উপর আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে আপনি নিজে নিজেই বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে একাউন্ট ওপেন করে নিজে নিজেই ফ্রিল্যান্সিং করে টকা ইনকাম করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা কিভাবে তুলতে হয়

উত্তরঃ ফ্রিল্যান্সিংয়ের টাকা কিভাবে তুলবেন তা আপনার বায়ার বা ক্লায়েন্টের উপরে নির্ভর করবে। তবে বেশিরভাগ বায়ার বা ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজের টাকা PayPal পেপাল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পেমেন্ট করে থাকে। এক্ষেত্রে আপনার নিজের একটি PayPal পেপাল অ্যাকাউন্ট থাকলে টাকা হাতে পাওয়া অনেক বেশি সহজ হবে। এছাড়াও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও ফ্রিল্যান্সিংয়ের টাকা তুলতে পারবেন।

শেষ কথা

ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবো এবং কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়তে হয় এবং ফ্রিল্যান্সিং শিখে কিভাবে ঘরে বসে অনলাইনে আয় করা যায়। আশাকরি এই বিষয়ে আপনি সম্পূর্ণ ধারনা লাভ করেছেন। ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে যদি কেউ ভুলভাব ভাবে ব্যাখ্যা করে তখন আপনি তাকে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি সম্পর্কে এখন থেকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আমাদের এই আর্টিকেলের সঙ্গে আপনার কোনো দ্বিমত থাকলে অথবা কোনো ধরনের প্রশ্ন করার ইচ্ছা থাকলে, আপনি আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে অবগত করতে পারেন। তাছাড়া যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তবে কিন্ত আপনার মন্তব্য জানাতে ভুলবেন না। সেই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো? আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই আপনার ফেসবুকে টাইমলাইনে শেয়ার করবেন।

আরও পড়ুনঃ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া