Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2022/02/top-10-hospital-in-bangladesh.html

বাংলাদেশের সেরা হাসপাতাল

বাংলাদেশের সেরা হাসপাতাল — সুস্থ্যতা যে একটা কত বড় নেয়ামাত তা যারা অসুস্থ্য থাকে তারাই একমাত্র বলতে পারে। সুস্থ সবাই থাকতে চায়, কিন্তু নানান রকম জলবায়ূ কারণে, বংশগত কারণে, শরীরের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কারণে, এক্সিডেন্ট সহ যেকোনো কারণে আহত হলে এছাড়াও আরো বিভিন্ন কারণে মানুষকে অসুস্থ্য হতেই হয়। এবং তারপর তাকে হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। 

বাংলাদেশের সেরা হাসপাতাল

শুধু ভালো চিকিৎসকের চিকিৎসা হলেই হয়না পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য অর্থাৎ রোগ নির্ণয়ের জন্য যন্ত্রপাতিও দরকার হয় যা বড় বড় হাসপাতাল গুলোতে থাকে। তাই ভালোমানের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করালে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। আজ আমরা বাংলাদেশের কিছু প্রথম সারির ভালোমানের হাসপাতাল নিয়ে আলোচনা করবো। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক বাংলাদেশের সেরা হাসপাতাল সম্পর্কেঃ

১. ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। এটি আমাদের দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মেডিকেল কলেজ, সেইসাথে দেশের বৃহত্তম হাসপাতাল। এখানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা করা হয়। সব ধরণের আধুনিক যন্ত্রপাতি এখানে রয়েছে। সেই সাথে দেশ সেরা ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করা হয় এখানে। এর কৃতিত্বের মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন ইউনিট দ্বারা দেশের প্রথম অটোলগাস অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন।

এটিতে কার্ডিওলজি বিভাগ, এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগ, মনোরোগ বিভাগ, ইউরোলজি বিভাগ, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ এবং স্ত্রীরোগ বিভাগ সহ অসংখ্য বিভাগ রেয়েছে। ২৩০০ শয্যা বিশিষ্ট এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম তৃতীয় স্তরের হাসপাতাল। একই সময়ে প্রায় ৩৫০০ রোগী এখানে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে। যোগাযোগের ঠিকানা: ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ এবং ফোন: ০২৫৫১৬৫০৮৮।

আরো পড়ুনঃ ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড

২. বারডেম জেনারেল হাসপাতাল

১৯৮০ সালে জিহাদ লস্কর দ্বারা বাংলাদেশের ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের এই ৬০০ শয্যা বিশিষ্ট মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতাল কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। হাসপাতালটিতে দৈনিক ভিত্তিতে ৩০০০ বহিরাগত রোগী চিকিৎসা নিতে পারে যা বাংলাদেশে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এছাড়াও ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য বিশ্বের বৃহত্তম হাসপাতাল হিসাবে পরিচিত। 

এটি ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন এবং সেইসাথে মেটাবলিক ডিসঅর্ডারগুলির উপর ওয়ার্ল্ড হেলদ অরগানাইজেশনের একটি সহযোগিতা কেন্দ্র হিসাবেও কাজ করে। এর কৃতিত্বগুলির মধ্যে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, ইবনে সিনা পুরস্কার এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স ইন্ডাস্ট্রি অ্যাওয়ার্ড সহ একাধিক পুরস্কার রয়েছে। যোগাযোগের ঠিকানা: অবস্থান: শাহবাগ স্কয়ার, ১২২ কাজী নজরুল ইসলাম এভি, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮০ ২-৯৬৬৪৫৫১।

৩. ইবনে সিনা হাসপাতাল

৩০ শে জুন ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি ইবনে সিনা ট্রাস্টের একটি অংশ, যা সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন পরীক্ষাগার, পরামর্শ কেন্দ্র, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ওষুধ শিল্প নিয়ে গঠিত। হাসপাতালটি ইউরোপ, উত্তর আমেরিকার চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিষ্কারের সাথে পরিচিত। এই হাসপাতালে কার্ডিওলজি, কার্ডিয়াক সার্জারি, অনকোলজি, ডেন্টাল এবং ভাস্কুলার সার্জারি সহ বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে এবং অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা এখানে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। যোগাযোগের ঠিকানা: বাড়ি #৬৮, রোড #১৫/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯। ফোন: ০১৮২৪৬৬৬৫৩৬।

আরো পড়ুনঃ ২০২২ সালের রোজার ঈদ কত তারিখে

৪. শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

বাংলাদেশের সেরা একটি মেডিকেল কলেজ। এটি বাংলাদেশের ১৪ তম সরকারী মেডিকেল কলেজ। ১৯৬৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর শয্যা সংখ্যা ৮৭৫ টি ও ২০১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। যোগাযোগঃ শেরে বাংলা নগরে জাতীয় হার্ট ইন্সটিটিউটের পাশে অবস্থিত। ফোনঃ ৯১৩০৬০০১৯।

৫. ল্যাবএইড কর্ডিয়াক হাসপাতাল

এই হাসপাতালটি দেশের শীর্ষস্থানীয় সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালগুলির মধ্যে একটি। এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল। এটি শুধুমাত্র কার্ডিওভাসকুলার রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠিত। এটি আধুনিক, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি দিয়ে সজ্জিত এবং দেশের হৃদরোগীদের সর্বোত্তম কার্ডিয়াক সেবা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

অত্যন্ত দক্ষ ডাক্তার এবং বিশেষজ্ঞদের একটি দল নিয়ে হাসপাতালটি তার রোগীদেরকে প্রথম প্রায়োরিটি দেয়, যার ফলশ্রুতিতে সর্বোত্তম ক্লিনিকাল ফলাফল পাওয়া যায়, রোগীর সুবিধা বেশি হয় এবং চিকিৎসার খরচও কম হয়। অত্যন্ত দক্ষ কার্ডিওলজিস্ট এবং কার্ডিয়াক সার্জনদের দল নিয়ে, হাসপাতালটি তার শুরু থেকে বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার মানুষকে সেবা দিয়েছে বলে জানা যায়। যোগাযোগের ঠিকানা: বাড়ি-০১ ও ০৩, ধানমন্ডি, ঢাকা ১২০৫, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮০ ৯৬৬৬-৭১০৬০৬।

আরো পড়ুনঃ ভিসা চেক করার নিয়ম

৬. স্কয়ার হাসপাতাল

এটি ঢাকার মাঝখানে অবস্থিত। এই হাসপাতালটি অনেক বিদেশী ইনস্টিটিউটের রোগীদের সেবা করে যারা দক্ষতার সাথে কাজ করে। এটি প্রায় ৩২০ শয্যা সহ ১৮ তলা জুড়ে বিস্তৃত। এই হাসপাতালটি তার আধুনিক কিন্তু সাশ্রয়ী সুবিধার জন্য পরিচিত। অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় এখানে এবং সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় যাতে রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা সহজতর হয় এবং সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা হয়।

৭. অ্যাপোলো হাসপাতাল

এই হাসপাতালটি ঢাকায় অবস্থিত এবং বিশ্বমানের JCI দ্বারা স্বীকৃত। এটির ৪৫০ শয্যা ক্ষমতা রয়েছে এবং এটি উন্নত মানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। এই সমস্ত সুপরিচিত তথ্যের ফলস্বরূপ, পার্শ্ববর্তী শহর, গ্রামের লোকেরা এই হাসপাতাল ক্যাম্পাসে সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে উচ্চমানের চিকিৎসা নিতে যাতায়াত করে। দূরবর্তী ভ্রমণকারী এমনকি বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশীরা সহ অনেক মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন যার দ্বারা এর দক্ষতারও প্রমাণ পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ গ্রামে লাভজনক ব্যবসা - গ্রামে বিজনেস আইডিয়া - গ্রামে ব্যবসার আইডিয়া

৮. রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল 

১৯৬৫ সালের এপ্রিল মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এর তিনতলা বিশিষ্ট ৫৩০ শয্যার ভবনটি চালু হয়। তারপর আবার ২০১২ সালে চালুকৃত মূল ভবনের মাঝখানের যে ফাঁকা জায়গা ছিলো সেখানে আরও একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে আরও ৩৫২ টি বেড ও ৬ টি অপারেশন থিয়েটার যুক্ত করা হয়, ফলে হাসপাতালের মোট বেড সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬২ টি। 

২০১২ সালে হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার এর উত্তর পাশে আরও একটি ভবন নির্মাণ করে তাতে ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ চালু করা হয় এবং ঐ ভবনেই ২০১৪ সাল থেকে বার্ন ইউনিট চালু করা হয়। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এর মোট শয্যা সংখ্যা ১২০০ টি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এ ১৯৮৪ সালে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় করোনারি কেয়ার ইউনিট স্থাপিত হয়েছিলো। ১৯৯০ সালে এই কেয়ার ইউনিট কার্ডিওলজি বিভাগ হিসাবে পূর্ণতা পায়। ২০১৪ সালে এই বিভাগকে আরও বর্ধিতভাবে হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনে স্থানান্তর করা হয়। এখানে ২০০৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাম ও পেসমেকার প্রতিস্থাপন এর চিকিৎসা করা হচ্ছে। এখানে ১৯৯১ সালে কিডনি রোগ বিভাগ ও নিউরোসার্জারি বিভাগ খোলা হয়। ১৯৯৩ সালে শিশু সার্জারি ও ১৯৯৪ সালে নিউরোমেডিসিন চালু করা হয়। ১৯৯৬ সালে ক্যান্সার এর অত্যাধুনিক চিকিৎসার জন্য কোবাল্ট-৬০ মেশিন চালু করা হয়।

১৯৬৯ সালে রাজশাহীতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য এই ক্যাম্পাসে পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্র চালু হয়। ২০০২ সালে নির্যাতিতা মেয়েদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা দেবার জন্য ওসিসি সেন্টার চালু করা হয়। ২০০৫ সালে হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে সিটি স্ক্যান ও এম আর আই চালু করা হয়। 

২০০৭ সালে এন্ডোস্কপি ও কলোনস্কপি চালু হয়। এসব চালুকৃত বিভাগ গুলো যথেষ্ট দক্ষ চিকিৎসক দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যথাযথ যত্নের মাধ্যমে ভালো এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও আরো অনেক ভালো ভালো হাসপাতাল বা ক্লিনিক রয়েছে যেখানে খুবই ভালোমানের চিকিৎসা দেয়া হয়। এর পরের লিখায় আমরা সেগুলোর সম্পর্কে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য। 

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?