Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2022/01/what-is-tin-certificate.html

টিন সার্টিফিকেট কি - টিন সার্টিফিকেট কিভাবে করবো

টিন সার্টিফিকেট কি? টিন সার্টিফিকেট কিভাবে করব এবং টিন সার্টিফিকেট কি কাজে লাগে — আয় করেন ও নিয়মিত কর প্রদান করেন এমন প্রত্যেক নাগরিকেরই টিন বা টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট থাকে। রাজস্ব বোর্ড থেকে এটিকে করদাতার পরিচয়পত্র হিসেবে ধরা হয়। কোনো ব্যক্তির আয়কর বিবরণী জানার জন্য এই সার্টিফিকেট প্রয়োজন যা জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে জানা যায়না।

টিন সার্টিফিকেট কি

আয়কর দেয়া ছাড়াও আরো অনেক ধরণের কাজে এই টিন সার্টিফিকেট দরকার হয়। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা, চাকরি ও অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে এই টিন সার্টিফিকেট খুবই দরকারী এছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রয়োজন হয় এটির। তাছাড়া এই সার্টিফিকেট যার কাছে আছে সে তার নিজস্ব কর সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় সম্পর্কে সহজেই জানতে পারবে। টিন সার্টিফিকেট হচ্ছে কর পরিষদের অন্যতম পূর্বশর্ত। চলুন তাহলে জেনে নেই টিন সার্টিফিকেট কি, টিন সার্টিফিকেট কিভাবে করবেন।

টিন সার্টিফিকেট কি

করদাতাকে সমাপ্ত করার জন্য এই বিশেষ নম্বরটি ব্যবহার করা হয়। ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (Tax Identification Number) এর সংক্ষিপ্ত আকার হলো টিন বা টিআইএন (TIN)। একজন করদাতার পরিচয় বহন করে এই টিন বা টিআইএন (TIN) নাম্বার। সাধারণত ১২ ডিজিটের ইউনিক বা বিশেষ সংখ্যা হয়ে থাকে বাংলাদেশের এই টিন বা টিআইএন (TIN) নাম্বারটি। করদাতার অঞ্চল চিহ্নিত করে প্রথম তিন সংখ্যা, করদাতার পদমর্যাদা চিহ্নিত করে মাঝখানের তিন সংখ্যা ও করদাতার পরিচিতি চিহ্নিত করে বাকি শেষের চার সংখ্যা। 

যারা আয়কর প্রদান করেন তাদের জন্য অবশ্যই জরুরি এই টিন বা টি আই এন (TIN) নাম্বার কারণ এই নাম্বার ছাড়া আয়কর দেয়া যায়না। যেসব পুরুষের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকা বা তার বেশি তাদের আয়কর প্রদান করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া যেসব মহিলারাও ৬৫ বছরের উর্ধ্বে কোন ব্যক্তির বার্ষিক আয় তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশি তাদের আয়কর প্রদান করা ও বাধ্যতামূলক।

আরো পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়ম

টিন সার্টিফিকেট করার নিয়ম

টিন সার্টিফিকেট যেহেতু জাতীয় পর্যায়ের একটি জরুরি বিষয় তাই আবেদনকারীর কিছু তথ্য এতে যুক্ত করতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা ১৭ ডিজিট সম্বলিত নাম্বারের। আবেদনকারীর নাম যা জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া আছে। এছাড়া আরও প্রয়োজন হয় আবেদনকারীর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা। আবেদনকারী বাবা ও মায়ের নাম দিতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয় তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। 

তবে আবেদনকারীকে চেষ্টা করতে হবে তার সকল তথ্যাবলী যেন তার জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী হয়। পুরনো টিন সার্টিফিকেট গুলো এখন আধুনিক ভাবে পরিণত করার জন্য এর তথ্যগুলো অনলাইনে জমা করা হচ্ছে। তাই এখন টিন সার্টিফিকেট অনলাইনের মাধ্যমে তৈরি করা যায়। এটি তৈরি করা খুব সহজ নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা অনুসরণ করে আবেদন করলে টিন সার্টিফিকেট পাওয়া সম্ভব।

প্রথম ধাপ

বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ওয়েবসাইট রয়েছে যা টিন সার্টিফিকেট এর জন্য প্রথম ধাপে অনুসরণ করতে হবে। টিন সার্টিফিকেটের আবেদন করার জন্য রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটিতে আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। টিন সার্টিফিকেট রেজিস্ট্রেশন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন। এরপর এরকম একটা পেজ আসবে এই পেজের রেজিস্টার অপশন টিতে ক্লিক করতে হবে। 

টিন সার্টিফিকেট কি

আরো পড়ুনঃ পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে পাসপোর্ট চেক

দ্বিতীয় ধাপ

টিন সার্টিফিকেট কি

এখানে আবেদনকারীকে ওয়েবসাইট রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে হবে। শুরুতেই ইউজার আইডেন্টিফিকেশনের জন্য নাম দিতে হবে। এই ফরমের সকল তথ্য ইংরেজিতে লিখতে হবে। প্রথমে আবেদনকারীর নাম দিতে হবে যা নিম্নে আট অক্ষরের হতে হবে। এর পরের ধাপে পাসওয়ার্ড দিতে হবে যা নিম্নে চার অক্ষরের হতে হবে। 

এরপর পরবর্তী ধাপের বক্সে দিতে হবে রিটাইপ পাসওয়ার্ডে পূর্বে যে পাসওয়ার্ডটি দেয়া হয়েছে ঠিক একইভাবে এখানে সেটা লিখতে হবে। এর পরের ধাপ একটি নিরাপত্তা মূলক প্রশ্ন দিতে হবে যা আবেদনকারী ছাড়া আর কেউ জানে না এমন। সেখানে অনেক ধরনের প্রশ্ন থেকে আবেদনকারী বাছাই করতে পারবে বা নিজের পছন্দ মত কোন প্রশ্ন তৈরি করে লিখতে পারবে। 

তারপরের বক্সে নিরাপত্তা মূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তারপর ধাপে দেশের নাম দিতে হবে, এরপর ভেরিফাইড সিমের মোবাইল নাম্বার দিতে হবে যা বর্তমানে সচল অবস্থায় আছে, তারপরে খালি বক্সে একটি ইমেইল এড্রেস যোগ করতে হবে, এর নিচের বক্সটিতে কিছু অক্ষর দেয়া থাকবে যা হুবহু ভেরিফিকেশন লেটার বক্সে লিখে দিয়ে রেজিস্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ পাসপোর্ট ভুল সংশোধন করার নিয়ম ২০২২

তৃতীয় ধাপ

টিন সার্টিফিকেট কি

দ্বিতীয় ধাপ শেষ করার পরে পেজে এক্টিভেশন কোড দিতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় যে মোবাইল নাম্বারটি দেয়া হয়েছিল সে মোবাইলে ভেরিফিকেশনের জন্য কোড সম্বলিত মেসেজ আসবে, সেই কোডটি এই পেজের খালি বক্সে দিতে হবে। তারপর এক্টিভেট লেখাতে ক্লিক করতে হবে, এতে ওয়েব সাইট রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে।

চতুর্থ ধাপ

টিন সার্টিফিকেট কি

এখন টিন বা টিআইএন (TIN) এর জন্য লগইন করতে হবে। লগইন করার জন্য রেজিস্ট্রেশনের সময় যে ইউজার আইডি নাম দেওয়া হয়েছিল তা উপরে এবং যে পাসওয়ার্ডটি দেয়া হয়েছিল তা নিচের বক্সে দিয়ে লগইন করতে হবে।

পঞ্চম ধাপ

তারপরের পেজে বাম দিকে সবার উপরে থাকা টিন অ্যাপ্লিকেশন লেখাটিতে ক্লিক করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ রাজশাহী ট্রেনের সময়সূচী

ষষ্ঠ ধাপ

টিন সার্টিফিকেট কি

এই পেজে টিন সার্টিফিকেট এর জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রথম বক্সটিতে করদাতার ধরন দিতে হবে প্রতিষ্ঠান হলে কোম্পানির, এছাড়া পার্টনারশিপ ফার্ম বা অন্য কিছু হলে সেই ধরন অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া ব্যক্তিগত হলে ইন্ডিভিজুয়াল দিতে হবে। তারপরের ঘরে জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্য কোনো আইডি ব্যবহার করে টিন সার্টিফিকেট তৈরি হবে তা দিতে হবে।‌ তারপরে ধাপের রেজিস্ট্রেশনের ধরন বাছাই করতে হবে যেহেতু নতুন রেজিস্ট্রেশন তাই নিউ রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে, তারপর কিছু তথ্য দিতে হবে আয়ের উৎস সম্পর্কে। অতঃপর নেক্সট লেখাটিতে ক্লিক করতে হবে।

সপ্তম ধাপ

টিন সার্টিফিকেট কি

টিন সার্টিফিকেট এর জন্য আবেদনকারীর নাম (জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে), লিঙ্গ, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, জন্মতারিখ (জাতীয় পরিচয় পত্র অনুসারে) বাবার নাম, মায়ের নাম, স্পাউস বা স্বামী/স্ত্রীর নাম, মোবাইল নাম্বার, ফ্যাক্স ও ইমেইল (যদি থাকে) ঠিকানা বর্তমান ও স্থায়ী এবং কাজের জায়গার ঠিকানা দিয়ে GO to Next লেখাতে ক্লিক করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ ২০২২ সালের সরকারি ছুটির তালিকা

অষ্টম ধাপ

টিন সার্টিফিকেট কি

এই পেজে সকল তথ্যগুলো যাচাই করা হবে। সপ্তম ধাপে দেয়া তথ্যগুলো সঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা হবে। এই অংশে যদি সব কিছু ঠিক থাকে তাহলে ছোট বক্সটিতে ক্লিক করে সাইন মার্ক করা হবে এতে সম্মতি জানানো হবে যে উপরে উল্লেখিত সকল তথ্য সঠিক এবং আবেদনকারীর অন্য কোনো টিন বা টিআইএন (TIN) আইডি নেই। এরপর সাবমিট অ্যাপ্লিকেশনে ক্লিক করে অ্যাপ্লিকেশনটি জমা দিতে হবে এতে আবেদনটি সম্পন্ন হবে।

নবম ধাপ

টিন সার্টিফিকেট কি

এই পেজটিতে দেয়া হবে আবেদনকারীর ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্য যেকোনো আইডি থেকে নেয়া তথ্য সমূহের পূর্ণ তথ্য যা আবেদনের সময় দেয়া হয়েছে। নিউ সার্টিফিকেটে ক্লিক করলে আবেদনকারীর টিন সার্টিফিকেট স্ক্রিনে দেয়া হবে। প্রিন্ট ডিটেইলসের মাধ্যমে তথ্য প্রিন্ট করে রাখা যাবে। সার্টিফিকেট প্রিন্ট করে রাখলে প্রয়োজনমতো যেখানে দরকার সেখানে ব্যবহার করা সম্ভব।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের সেরা ১০ টি আলিয়া মাদ্রাসা

টিন সার্টিফিকেট কি কাজে লাগে - টিন সার্টিফিকেট যে সব কাজে প্রয়োজন

দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে টিন সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন অপরিসীম নিচের কিছু উল্লেখযোগ্য প্রয়োজন তুলে ধরা হলো-

(১) ব্যবসার জন্য (২) ট্রেড লাইসেন্স করতে (৩) ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে (৪) কোম্পানির নিবন্ধন করতে (৫) বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে (৬) জমি ভবন ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করতে যা সিটি কর্পোরেশন এর আওতাভুক্ত (৭) ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিতে (৮) ব্যবসা শুরু করতে (৯) ব্যাবসায়িক কোন সংগঠনের সদস্য হতে (১০) নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে

১১। গাড়ি রাইড শেয়ারিং কোম্পানিতে দিতে হলে ১২। সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার দরপত্রে অংশ নিতে ১৩। ফ্রিল্যান্সিং করার ক্ষেত্রে ১৪। কোন কোম্পানির শেয়ার কিনতে ১৫। আইএসডি টেলিফোন সংযোগ করতে ১৬। ড্রাগ লাইসেন্স পেতে ১৭। ঋণ অনুমোদন পেতে ১৮। বাণিজ্যের দরপত্র করতে ১৯। গাড়ির মালিকানা পেতে ও টিন বা টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট দরকার।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, টিন সার্টিফিকেট অনেক প্রয়োজনীয় একটি বিষয় আমাদের জাতীয় ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য। তাই নিজেদের প্রয়োজনের জন্য হলেও এই সার্টিফিকেটটি তৈরি করে নিতে হবে। যেন যেকোনো সময় যেকোনো প্রয়োজনে কর দিতে, ঋণ নিতে, বা ব্যবসা বাণিজ্যের যেকোনো কাজে টিন সার্টিফিকেট না হওয়ার কারণে কোনো অসুবিধা না হয়।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া