Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2021/09/How-to-Earn-Money-Online.html

অনলাইনে আয় করার সহজ উপায় ২০২১ | অনলাইনে আয় করার সহজ ৪টি উপায়

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার সহজ ৪টি উপায় — আপনি কি জানেন যে, আপনিও অনলাইন থেকে খুবই সহজেই টাকা ইনকাম করতে পারবেন? আজকের এই পোস্টে আমি আপনাকে সেরা কয়েকটি অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম উপায় সম্পর্কে বলছি যে মাধ্যম গুলো ব্যাবহার করে আপনি অনলাইনে টাকা আয় করতে পারবেন। যদি আপনি অনলাইন থেকে টাকা আয় করার সঠিক উপায় খুঁজে খুঁজে হয়রান বা ক্লান্ত? তবে আজকের এই নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার উপায় আর্টিকেলটি শুধুমাত্র আপনারই জন্যেই!

কিভাবে আপনি অনলাইনে নিজের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে অনলাইন থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। এছাড়াও অনলাইনে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় সেই বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা পাবেন আজকের এই আর্টিকেলটি থেকে। তো চলুন তাহলে নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সেরা ৪টি উপায়

অনলাইনে আয় করার সহজ উপায় ২০২১

ব্লগিং করে টাকা ইনকাম

যদি আপনি রাইটিং এ ভালো হয়ে থাকেন এবং আপনার লেখালেখি করার দক্ষতা থাকে? তাহলে আপনি একজন ব্লগার হয়ে উঠতে পারবেন এবং অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা শুরু করতে পারবেন। হ্যাঁ! আপনি যদি ভালো লেখালেখি করতে জানেন তাহলে ব্লগ সাইটে লেখালাখি করে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আপনি ব্লগস্পট ডটকম দিয়ে সহজেই একটি বিনামূল্য ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন এবং ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনার নিজস্ব ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারবেন এবং সেখানে আপনি বিভিন্ন বিষয়ের উপরে লেখালেখি শুরু করে দিতে পারেন।

যদি আপনি একবার আপনার ব্লগ সাইটে হাই-কোয়ালিটির ব্লগ পোস্ট লিখতে পারেন তারপর আপনি গুগল এডসেন্স কিংবা অন্যান্য অ্যাড নেটওয়ার্ক আপনার ওয়েবসাইটে অ্যাপরুভ করাতে পারেন এবং আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু করতে পারেন তাহলে আপনি এখান থেকে বিজ্ঞাপন দেখানোর বিনিময়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

একটি ওয়েবসাইটে লেখালেখি করে টাকা ইনকাম করা যায় এটা খুবই সহজ শোনা যায়, কি ঠিক বলছি না? ব্লগ সাইট থেকে টাকা ইনকাম করার বর্তমান সোর্স কেবলমাত্র গুগল অ্যাডসেন্স না আরো অনেকগুলো পদ্ধতিও কিন্ত রয়েছে। যে মাধ্যম গুলো ব্যাবহার করে আপনি আপনার ব্লগ সাইট থেকে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আপনাকে নিজের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন টপিকের উপরে লিখতে হবে। টপিক হতে পারে, প্রযুক্তিম লাইফস্টাইল, নিউজ, ফ্যাশান, বিনোদন ইত্যাদি বিষয়ের উপরে। এই সকল বিষয়ে লেখা হয়ে গেলে আপনাকে সেটা পাবলিশ করতে হবে। 

আপনার ওয়েবসাইটে একবার ৫০-৬০ এর বেশি ব্লগপোস্ট হয়ে গেলে এবং কিছুটা ভিজিটর পেলে তারপরে আপনি গুগল অ্যাডসেন্স কিংবা অন্যান্য অ্যাড নেটওয়ার্কের জন্যে আবেদন করতে পারেন। যদি আপনার ওয়েবসাইটে একবার অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ হয়ে যায় তাহলে আপনার ব্লগসাইট থেকে টাকা ইনকাম করা শুরু করতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ ব্লগার থেকে টাকা আয় করার উপায় | ব্লগ দিয়ে ইনকাম করার উপায়

ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম

যদি আপনি আপনার সময় ও প্রচেষ্টা ব্যতীত আর কোনো কিছুই বিনিয়োগ করতে না চান? তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম শুরু করে দিতে পারেন। আমার দেখা অনেক ফ্রিল্যান্সার আছে যারা প্রতেকমাসে ৫০০০-১০০০০ হাজার ডলার বা এর চেয়েও বেশি পরিমাণে আয় করছে এবং এটা হচ্ছে শীর্ষস্থানীয় ফ্রিল্যান্সারদের একটা গড় অনুপাত। আপনার যদি এমন কোনো একটি কাজের প্রতি দক্ষতা থাকে যেটা করার মাধ্যমে আপনি অনলাইনে কাজ করে দিতে পারবেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং আপনার জন্য।

ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে একটি মুক্তপেশা বা সহজ সরল পাশাপাশি বেশ কঠিন কাজ। যা আপনি অনলাইনে টাকা ইনকাম করার জন্যে করতে পারবেন। এখন, আপনি হয়তোবা বেশির ভাগ মানুষের মতোই ভাবছেন যে, ফ্রিল্যান্সিং কাজটি সহজতম পাশাপাশি বেশ কঠিন হয় কীভাবে? ফ্রিল্যান্সিং কাজটি সহজ কেননা আপনি কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে দিতে পারেন! হ্যাঁ, আপনি শুধুমাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে দিতে পারেন! 

এর জন্য আপনাকে যা করার প্রয়োজন হবে তা হচ্ছে ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সারের ডটকমের মতো ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোতে আপনাকে একটি ফ্রিল্যান্সিং অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এইতো হয়ে গেলো এখন আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার এবং এটি সবচেয়ে কঠিন কারণ কারন মার্কেটপ্লেসগুলোতে প্রচুর পরিমাণে প্রতিযোগিতা আছে এবং যদি আপনি সফল হতে চান তাহলে আপনাকে অন্যরকম কিছু উপস্থাপন করার প্রয়োজন হবে আর আপনার দক্ষতার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন হবে।

তবে বর্তমানে এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে প্রতিযোগিতার পরিমাণ কম। যদি আপনি সেই বিভাগগুলো গ্রহণ করেন তাহলে আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক গুণ বেশি থাকবে। ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার সর্বোত্তম অংশটি হচ্ছে এই কাজটি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে করার স্বাধীনতা রয়েছে এবং যেকোনো সময় আপনি কাজ করতে পারবেন। তাছাড়াও ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করার জন্যে আপনাকে কোনো প্রকার অর্থ খরচ করার প্রয়োজন হবেনা।

আরও পড়ুনঃ ফ্রিল্যান্সিং কি | ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো | ফ্রিল্যান্সিং করে কত টাকা আয় করা যায়

অনলাইনে বিক্রি করে টাকা ইনকাম

অনলাইন বিক্রয় কি? অনলাইনে বিক্রয় হচ্ছে মূলত অনলাইনে প্রোডাক্ট বিক্রয় করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করা। টাকার বিনিময়ে আমরা অনলাইনে প্রোডাক্ট বিক্রয় করে থাকি এমন যেকোনো ধরনের প্রোডাক্ট বা পরিষেবা হচ্ছে অনলাইন বিক্রয় হিসেবে পরিচিত। অনলাইনের মাধ্যমে প্রোডাক্ট/পরিষেবা বিক্রি করার জন্য অনেকগুলো পদ্ধতি আছে।

অনলাইন প্রোডাক্ট বিক্রয়ের জন্যে সর্বাধিক সাধারণ য় ব্যাবহারিক পদ্ধতি হচ্ছে ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস। একটি ই-কমার্স মার্কেটপ্লেসে প্রোডাক্ট বিক্রয়ের মানে হচ্ছে আপনি আপনার প্রোডাক্ট ইভালি, অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট এর মতো কোনো অনলাইন ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলোতে বিক্রি করবেন যা ৩য় পক্ষের বিক্রেতাদের গ্রহণ করবে। আপনি শুধুমাত্র কয়েকটি পদক্ষেপে দ্রুততার সাথে বাংলাদেশে আপনার ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। যদি আপনি আপনার ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে চান তাহলে মূলত ২ ধরনের ই-কমার্স বিজনেস আছে।

প্রথমটি হচ্ছে আপনি নিজের ই-কমার্স বিজনেস শুরু করবেন! আপনার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট, গুদাম, শিপিং সলিউশন, মার্কেটার টিম, গ্রাহক ও আরো অনেক কিছুই প্রয়োজন আছে। এই ই-কমার্স বিজনেস কিছুটা জটিল ও শুরু করা তেমন সহজ নয় এবং এই ব্যবসাতে প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন হয়। 

যাহোক, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে খুবই সহজ এবং যেকেউ যদি তার ইন্টারনেট সম্বন্ধে কিছুটা জ্ঞান রাখে এবং কিভাবে ইন্টারনেটে কাজ করে সেই সম্বন্ধে ধারণা রাখে তাহলেই ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে পারবে! এটি হচ্ছে অ্যামাজন, আলিবাবা এবং ফ্লিপকার্টের মতো কোনো বড় বড় মার্কেটপ্লেস ই-কমার্স সাইটগুলোতে বিক্রয় সম্পর্কে!

আপনি হয়তোবা জানেন না যে, আপনি আসলে অ্যামাজন ই-কমার্স ওয়েবসাইটে প্রোডাক্ট বিক্রি শুরু করতে পারবেন এবং গ্রাহকরা বাংলাদেশ অথবা সারাবিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে থেকে আপনার প্রোডাক্টগুলো ক্রয় করতে পারবে। তাছাড়াও ই-কমার্স এবং ই-কমার্স বিজনেস কিভাবে শুরু করা যায় সেই সম্পর্কে আরও অনেক পদ্ধতি রয়েছে। 

সুতরাং, যদি আপনি কোনো ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যাবহার করে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে পারেন। বর্তমান সময়ে এফ-কমার্স অর্থাৎ ফেসবুকের মাধ্যমে যে বিজনেস করা হয়, আই-কমার্স এগুলো অনেক জনপ্রিয়।

আরও পড়ুনঃ বিজ্ঞাপন দেখে টাকা ইনকাম | টাকা ইনকাম করার ওয়েবসাইট | অ্যাড দেখে টাকা আয়

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

বর্তমানে অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সহজতম ও সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং। যদি আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং কীভাবে কাজ করে সে সম্বন্ধে কিছু না জানেন তবে চিন্তা করবেন না, আমি এখানে আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে এক ধরণের মার্কেটিং কৌশল যা বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের প্রোডাক্ট বা পরিষেবাদি প্রচার ও বিক্রয় করার জন্য ব্যবহার করে। তারা এই প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য একটি অনুমোদিত প্রোগ্রাম চালায় এবং যেকেউ বিনামূল্যে এই প্রোগ্রামগুলোতে যুক্ত হতে পারেন। একবার আপনি তাদের অধিভুক্ত প্রোগ্রামগুলোতে সাইনআপ করে তাদের অনুমোদিত অংশীদার হয়ে উঠলেই তারপর আপনি তাদের প্রোডাক্ট/পরিষেবাদি মার্কেটিং করতে পারবেন।

আপনাকে তাদের প্রোডাক্টগুলো প্রচার করতে হবে এবং যদি কেউ আপনার রেফারেল থেকে তাদের প্রোডাক্ট গুলো ক্রয় করে থাকে তাহলে আপনি সেখান থেকে কমিশন হিসেবে আপনার রেফারেলের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টের দামের কিছু পারসেন্ট পাবেন। কি টাকা ইনকাম করা কত সহজ তাই না? আপনাকে টাকা ইনকাম করার জন্য যা করার প্রয়োজন হবে তা হচ্ছে তাদের প্রোডাক্ট/পরিষেবা প্রচার করা। 

বর্তমানে আপনি কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন? সর্বাধিক জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম হচ্ছে অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটস। আপনি অ্যামাজন অ্যাসোসিয়েটসে যুক্ত হতে পারেন এবং তাদের প্রোডাক্টগুলো প্রচার করে টাকা ইনকাম করা শুরু করে দিতে পারেন। এছাড়াও আরো অনেক সংস্থার তাদের অনুমোদিত প্রোগ্রাম আছে। আপনি এগুলো টাকা ইনকাম করার জন্য ব্যাবহার করে দেখতে পারেন। 

এছাড়াও, আপনি যদি অনুমোদিত মার্কেটিং সহ ব্লগিং কিংবা ইউটিউবিং করেন আপনার রেফারেলের মাধ্যমে প্রোডাক্ট বিক্রি বৃদ্ধি করা আরো অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়। সুতরাং, আপনি এইভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার মাধ্যমে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

আরও পড়ুনঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং কি | এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবেন

শেষ কথা

উপরোক্ত বিষয়গুলো সর্বোপরি সেরা ৪টি উপায় যার মাধ্যমে আপনি অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আমি আশা করি আপনি এখন থেকে অনলাইনে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় সেটা জানেন। আমি অনলাইনে টাকা ইনকাম করার জন্য সেরা ৪টি উপায় সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি। 

যদি আপনার আরো কিছু ভাল ধারণা থেকে থাকে তাহলে সেটা কমেন্টে জানিয়ে দিন এবং অন্যান্যদের সহজ জীবনযাপন করতে সাহায্য করুন। শেষ পর্যন্ত আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং শুভকামনা রইলো! দোয়া করি ইনশাআল্লাহ আপনিও অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ 2021 সালে সেরা ৭টি ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট | অনলাইনে আয় করার ওয়েবসাইট

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া