ভিটামিন ই ক্যাপসুল কোনটা ভালো

ভিটামিন ই এর চাহিদা পূরণের জন্য চিকিৎসকরা সচরাচর কোন ক্যাপসুল ওষুধটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন? অনেকেই জানতে চান এই সকল প্রশ্নের সমাধান। তাই আজকের এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা আপনাদের সাথে কথা বলবো ভিটামিন ই ক্যাপসুল কোনটা ভালো সম্পর্কে বিস্তারিত।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল কোনটা ভালো

মূলত ভিটামিন ই ক্যাপসুল কোনটা ভালো সেটা আপনারা জেনে যাবেন আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি পড়লে। ধারাবাহিকভাবে আমরা ভিটামিন এ ক্যাপসুল এর নাম এবং সেগুলো মার্কেট থেকে কিনতে হলে মোটামুটি কত টাকা খরচ পড়তে পারে সেগুলো সম্পর্কে এ টু জেড জানাবো আজকের এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে। তাহলে আসুন শুরু করি।

(toc) #title=(এক নজরে সম্পূর্ণ লেখা পড়ুন)

ভিটামিন ই ক্যাপসুল কোনটা ভালো

ভিটামিন ই ক্যাপসুল মূলত অসংখ্য রকমের হয়ে থাকে। তবে আপনার জন্য কোন ক্যাপসুলটি সব থেকে বেশি ভালো হবে সেটা যদি নির্ণয় করতে যান তাহলে আপনার জানতে হবে আপনার শরীরে ভিটামিন ই এর কতটুকু ঘাটতি রয়েছে এবং কি কি সমস্যা থাকলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেতে হয় সে সম্পর্কে।

আমরা মূলত আর্টিকেলের শেষ মুহূর্তে ভিটামিন ই এর অভাবে কি কি সমস্যা হয় এবং কখন ঘাটতি পূরণের জন্য ভিটামিন ই খেতে হয় তা নিয়ে খুব সংক্ষেপে আলোচনা করব। তবে আলোচনার এ পর্যায়ে মূলত আমরা আপনাদেরকে জানাবো জনপ্রিয় কয়েকটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল এর নাম।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল ঔষধ এর নাম

অনেক কোম্পানি ভিটামিন ই ক্যাপসুল তৈরি করে থাকে। আর তাই ভিটামিন ই ক্যাপসুল কোনটা ভালো এটা জানার জন্য আপনাকে সবার আগে জানতে হবে ভিটামিন ই যে ক্যাপসুলটি আপনি কিনতে চাচ্ছেন সেটা কোন কোম্পানির তৈরি করেছে। কেননা এমন অসংখ্য কোম্পানি রয়েছে যারা বহু বছর ধরে ভালো মানের ঔষধ তৈরি করে আসছে আবার কিছু কোম্পানি রয়েছে যাদের মধ্যে আছে ভেজাল।

তাই এ পর্যায়ে আমরা আপনাদেরকে কয়েকটি ফার্মাসিটিক্যালস কোম্পানির নাম সাজেস্ট করব। আপনি যে ঔষধটি কিনবেন সেটা যদি আমাদের উল্লেখিত ঔষধ কোম্পানি তৈরি করে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে এটা বিশ্বাস করতে পারেন যে ওই ঔষধটি সকল প্রকার নিয়ম কানুন মেনে তৈরি করা হয়েছে। কেননা এই কোম্পানিগুলো তাদের কাজের জন্য শীর্ষ স্থানে সর্বদা অবস্থান করে। যথা:

  • স্কাই ফার্মা লিমিটেড (Sky Pharma Limited)
  • এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড (SK+F Pharmaceuticals Limited)
  • স্ক্যান ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (Scan Pharmaceuticals Limited)
  • বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (Beximco Pharmaceuticals Limited)
  • ডেসকো ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড (Desco Laboratories Limited) 
  • ফারমা এক্সপোর্টস লিমিটেড (Pharma Exports Limited)
  • নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (Navana Pharmaceuticals Limited)
  • এস্কাইফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (Eskayef Pharmaceuticals Limited)
  • বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (Bengal Pharmaceuticals Limited)
  • মেডিমার্ক লিমিটেড (Medimark Pharmaceuticals Limited)
  • স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (Square Pharmaceuticals Ltd)

ভিটামিন ই ক্যাপসুল এর নাম

এবার আসুন জেনে নেই কয়েকটি পরিচিত ই ক্যাপ অর্থাৎ ভিটামিন ই ক্যাপসুল এর নাম। যথা:-

  • E-Cap 200 IU 
  • E-Cap 400 IU 
  • E-Cap 600 IU 
  • E-fill 200 mg 
  • E-fill 400 mg 
  • E-Gel 200 IU 
  • E-Gel DS 400 IU 
  • E-Gold 200 IU 
  • E-Gold 400 IU 
  • E-Soft 200 IU 
  • E-Soft 400 IU 
  • Ecovit-S 200 mg 
  • Ecovit 400 mg 
  • Evit 200 mg 
  • Evit 400 mg 
  • Inovit E 200 mg
  • Inovit E 400 mg
  • Lifil-E 200 mg
  • Lifil-E 400 mg
  • Liqu-E 200 mg
  • Nature-E 200 IU
  • Nature-E 400 IU
  • Ovit-E 400 IU
  • Ovit-E 200 IU
  • Vegecap-E 400 IU
  • Vegecap-E 200 IU

আরো পড়ুনঃ আলকুশি পাউডার খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

সবচেয়ে ভালো ভিটামিন ই এর ঔষধের নাম - ভিটামিন ই ক্যাপসুল কোনটা ভালো

ভিটামিন ই হচ্ছে একটি ফ্যাট সলিউবল, যা বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্য থেকে আমরা পেয়ে থাকি। ভিটামিন ই এর চাহিদা পূরণের জন্য মানুষ অনেক সময় ঔষধ খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ ট্যাবলেট সেবন করে কেউ ক্যাপসুল সেবন করে আবার কেউ কেউ সিরাপও সেবন করে থাকে।

ইতোমধ্যে আমরা ভিটামিন ই ক্যাপসুলের অনেকগুলো নাম সাজেস্ট করেছি। এবার সবচেয়ে কার্যকরী ও পরিচিত ১০টি ভিটামিন ই ঔষধের নাম বলবো। যেগুলো আপনি চাইলে খেতে পারেন আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। যথা:-

  • Solgar Vitamin E Softgels 
  • Now Foods E-400 Softgels 
  • Jarrow Formulas Vitamin E Softgels 
  • Nature's Bounty E-400 IU Pure dl-Alpha Softgels 
  • Pure Encapsulations - Vitamin E (with Mixed Tocopherols) 
  • Sundown Vitamin E Softgels 
  • Carlson Labs E-Gems Elite Softgels 
  • Garden of Life Vitamin Code Raw Vitamin E Capsules 
  • Swanson Vitamin E Softgels 
  • Thorne Research - Vitamin E with Mixed Tocopherols

আরো পড়ুনঃ নাকের হাড় বাঁকা অপারেশন করতে কত টাকা লাগে

ভিটামিন ই ক্যাপসুল ওষুধের নাম ও দাম - ভিটামিন ই ক্যাপসুল দাম কত

  1. E-Cap 200 IU ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস-৪.৫০ টাকা 
  2. E-Cap 400 IU ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস-৬.৫০ টাকা 
  3. E-Cap 600 IU ক্যাপসুল এর ইউনিট প্রাইস-৮.০০ টাকা 
  4. E-fill 200 mg ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৪.০৪ টাকা 
  5. E-fill 400 mg ইউনিট প্রাইস ৬.০৪ টাকা
  6. E-Gel 200 IU ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৪.০১ টাকা
  7. E-Gel DS 400 IU ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৬.০২ টাকা
  8. E-Gold 200 IU ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৪.০২ টাকা 
  9. E-Gold 400 IU ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৬.০০ টাকা
  10. E-Soft 200 IU ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৪.০০ টাকা
  11. E-Soft 400 IU ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৬.০০০ টাকা
  12. Ecovit-S 200 mg ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৩. ৫১ টাকা
  13. Ecovit 400 mg ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৬.০০০ টাকা
  14. Evit 200 mg ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৪.০০ টাকা
  15. Evit 400 mg ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৬.০০ টাকা
  16. Inovit E 200 mg ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৪.০০ টাকা 
  17. Inovit E 400 mg ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৬.০০ টাকা 
  18. Lifil-E 200 mg ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৪.০০ টাকা
  19. Lifil-E 400 mg ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইজ ৬.০ টাকা
  20. Liqu-E 200 mg ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৪.০০ টাকা
  21. Nature-E 200 IU ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৫.০০ টাকা
  22. Nature-E 400 IU ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৭.০০ টাকা
  23. Ovit-E 400 IU ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৪.০০ টাকা
  24. Ovit-E 200 IU ক্যাপসুলের ইউনিট প্রাইস ৬.০০ টাকা
  25. Vegecap-E 400 IU ইউনিট প্রাইস ৭.০২ টাকা
  26. Vegecap-E 200 IU ইউনিট প্রাইস ৫.০২ টাকা

আপনি মূলত আপনার আশেপাশের যেকোন ফার্মাসিটিক্যালস দোকানে থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে হ্যাঁ আমরা যে সম্ভাব্য মূল্যটি উল্লেখ করেছি তার থেকে কিছু কমবেশি হতে পারে। এটা মূলত প্যাকেজের গায়ে লেখা থাকে। এবার চলুন জেনে নেই ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়ার সঠিক সময় কখন।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়ার সঠিক সময় - ভিটামিন ই ক্যাপসুল কখন খেতে হয়

ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার সঠিক সময় হল খাবারের ৪০ মিনিট পরবর্তী সময়। তবে হ্যাঁ আপনি দিনের যেকোনো সময় খেতে পারেন তবে এই ওষুধের কার্যকারিতা দ্রুত পেতে প্রতিদিন রাতের বেলায় খাবার খাওয়ার ৪০ মিনিট পর সেবন করা সবচেয়ে আদর্শ সময়।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল এর কাজ কি

মানুষ তাদের মুখকে সুন্দর ও সতেজ করতে কি করে না। যেমন- ক্লিনআপ, ফেসিয়াল, ম্যাসাজ। যাতে তাদের মুখে উজ্জ্বল ত্বক থাকে। এছাড়া আরও একটি জিনিস মুখে লাগিয়ে থাকেন তা হল ভিটামিন ই। এটি লাগালে মুখ অনেক উপকার পায়।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল লাগালে মুখের দাগ ভালো হয়। এছাড়াও, মুখ থেকে ব্রণ চলে যায়। এটি প্রয়োগ করলে হাইপারপিগমেন্টেশনও কমে যায়। রোজ রাতে এটি লাগিয়ে ঘুমালে মুখের অভূতপূর্ব উপকার পাওয়া যাবে।

ভিটামিন-ই ক্যাপসুল ত্বক ও চুলের জন্য ব্যবহৃত হয়। ভিটামিন ই ক্যাপসুল অনেক ফেসপ্যাকে ব্যবহার করা হয়। ত্বকে প্রাকৃতিক আভা আনার পাশাপাশি ভিটামিন-ই চুলকে মজবুত করে। ভিটামিন-ই ক্যাপসুল দাগ, ডার্ক সার্কেলের চিকিৎসার জন্যও ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া ভিটামিন ই ফ্রি অক্সিজেন র‍্যাডিকেল কমায়।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল প্রয়োগ করলে আপনার ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকবে। যাদের ত্বক শুষ্ক তাদের অবশ্যই এটি প্রয়োগ করতে পারেন। ভিটামিন ই ক্যাপসুল লাগালে মুখের দাগ উঠে যায়। মুখে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। এখন থেকে এটি প্রয়োগ করা শুরু করুন। 

মুখে দাগের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল লাগালে তা কমতে শুরু করে। মুখে ফোলাভাব, লালভাব এবং জ্বালা থাকলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল অবশ্যই লাগান।

অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে মিশিয়ে লাগালে মুখে উজ্জ্বলতা বজায় থাকবে। এই দুটির সংমিশ্রণ মুখের সৌন্দর্য যোগ করবে। ভিটামিন ই ক্যাপসুল প্রয়োগ করতে, একটি ছোট বাটি নিন, ভিটামিন ই ক্যাপসুলের তেল বের করুন এবং অ্যালোভেরা জেলের সাথে ভালভাবে মিশিয়ে নিন, তারপর 10-15 মিনিটের জন্য এটি লাগানোর পরে আপনার মুখ ধুয়ে ফেলুন।

যাদের প্রচুর ব্রণ আছে, তারা অবশ্যই ভিটামিন ই ব্যবহার করবেন, তবে আপনার কিছু বিষয়ের যত্ন নেওয়া উচিত, তা না হলে এটি ব্যবহার করে আপনার ব্রণের সমস্যা হতে পারে।

সরাসরি মুখে লাগাবেন না: কোন তেল সরাসরি মুখে লাগাবেন না।ভিটামিন-ই ক্যাপসুলও মুখে মাখা উচিত নয়।বিশেষ করে আপনার ত্বক তৈলাক্ত হলে সরাসরি মুখে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল লাগাবেন না। 

বেশিক্ষণ রাখবেন না: অ্যালোভেরা জেলে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল যোগ করে ব্যবহার করলে বেশিক্ষণ মুখে রাখবেন না।এটি পিম্পলস ট্রিগার করতে পারে। 

ফেসপ্যাকে খুব বেশি লাগাবেন না: একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল ওয়ান টাইম ফেস প্যাকের জন্য যথেষ্ট। বেশি উপকারের জন্য আপনি কখনই বেশি ক্যাপসুল ব্যবহার করবেন না।আপনি যদি চুলের জন্য হেয়ার মাস্ক তৈরি করেন তবে আপনি এতে দুটি ক্যাপসুল রাখতে পারেন। 

গরম করবেন না: যদি আপনি হালকা গরম তেল প্রয়োগ করছেন, তবে হালকা গরম করার পরে এটিতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল যোগ করতে ভুলবেন না।গরম করলে ভিটামিন-ই এর পুষ্টি নষ্ট হয়ে যায়।

আরো পড়ুন: জ্বরের এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম

ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেলে কি হয়

আমরা খাবারে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি গ্রহণ করি। একসাথে তারা আমাদের শরীরের অগণিত উপকার দেয়। কিন্তু জানেন কি এর মধ্যে কিছু পুষ্টিগুণ এমনও আছে যেগুলো শুধু খেয়েই নয়, প্রয়োগ করেও বেশি উপকার পাওয়া যায়? ভিটামিন ই এমন একটি পুষ্টি উপাদান যার উপকারিতা ত্বক ও চুলের জন্য বেশি।

ভিটামিন ই কেবল একটি ভিটামিন নয়, এটি একটি চর্বি-দ্রবণীয় ভিটামিন যা আপনার স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আপনার ত্বক এবং চুলের জন্য অনেক উপকার দিতে পারে। ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়ার সুবিধার পাশাপাশি এটি আপনার ত্বক ও চুলের উন্নতিতেও সাহায্য করে।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়া বা আপনার মুখে প্রয়োগ করা ত্বকের রুক্ষ গঠনকে মসৃণ করতে পারে, শুষ্ক এবং বার্ধক্যের ত্বককে হাইড্রেট করতে পারে এবং ত্বককে মোটা, দাগহীন এবং উজ্জ্বল দেখাতে পারে।

আপনি আপনার ত্বক এবং চুলের জন্য ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করতে পারেন। ভিটামিন ই দিয়ে কী হয় তা জানতে নিচে পড়ুন।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল এর উপকারিতা ও অপকারিতা

চুল ও মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে ভিটামিন ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র চুল এবং ত্বককে সুন্দর করে না বরং শরীরের অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধাও প্রদান করে। এটিকে বলা হয় ভিটামিন ই যা শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল এর উপকারিতা

এখানে ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। এটি পড়ে আপনিও এর সুফল পেতে সক্ষম হবেন। জেনে নিন ভিটামিন ই দিয়ে কি হয়।

  1. ভিটামিন ই চুলের সৌন্দর্যে উপকারী। ভিটামিন ই ক্যাপসুল আপনার চুল লম্বা, ঘন, মজবুত এবং চকচকে করে। ক্যাস্টর অয়েলের সাথে ১ টেবিল চামচ ভিটামিন ই ক্যাপসুল যোগ করুন। এটি চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগান, এটি আপনার শুষ্ক চুলে প্রাণ যোগাবে এবং পাতলা এবং বিভক্ত প্রান্ত থেকে মুক্তি পাবে।
  2. ভিটামিন ই চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে। এটি অনেক হেয়ার মাস্ক এবং চুলের তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ভিটামিন ই এর কিছু অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মাথার ত্বকের চাপ কমাতে সাহায্য করে, তাই চুল পড়া রোধ করে।
  3. ভিটামিন ই রক্তের প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে, যা মাথার ত্বকের সঞ্চালন উন্নত করে এবং নতুন চুলের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে। এটি চুলের ফলিকল বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
  4. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণে সমৃদ্ধ ভিটামিন ই মাথার ত্বকের উন্নতিতে সাহায্য করে। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে এবং প্রতিরক্ষামূলক লিপিড স্তর সংরক্ষণ করে।
  5. ভিটামিন ই চুল বাড়াতে ও লম্বা করতে সাহায্য করে। ক্যাপসুল থেকে শুধু তেল ছেঁকে নিন এবং আপনার নিয়মিত চুলের তেলের সাথে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি আপনার চুলে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন এবং ২-৩ ঘন্টা রেখে দিন। শ্যাম্পু এবং গরম জল দিয়ে এটি ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করতে পারেন। আপনি মাত্র 2-3টি ধোয়ার মধ্যে ফলাফল লক্ষ্য করতে শুরু করবেন। শ্যাম্পু এবং গরম জল দিয়ে সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করতে পারেন। আপনি মাত্র 2-3টি ধোয়ার মধ্যে ফলাফল লক্ষ্য করতে শুরু করবেন।
  6. নিস্তেজ এবং ক্ষতিগ্রস্থ চুলে উজ্জ্বলতা যোগ করার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। আর্দ্রতার অভাব হলে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেলে চুল ঝরঝরে ও শুষ্ক দেখায়। আমাদের চুলের বাইরের দিকে একটি প্রতিরক্ষামূলক চর্বি স্তর রয়েছে, যা চুলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং চকচকে যোগ করে। ভিটামিন ই সেই প্রতিরক্ষামূলক স্তরটি প্রতিস্থাপন করতে পরিচিত, যা চুলের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।
  7. ভিটামিন ই ক্যাপসুল সোরিয়াসিসের চিকিৎসা করে: সোরিয়াসিস এবং একজিমার মতো চর্মরোগেরও ভিটামিন ই ক্যাপসুল দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এর জন্য আপনাকে আক্রান্ত স্থানে ভিটামিন ই তেল লাগাতে হবে। এমনকি রাতে এই তেল লাগিয়ে ঘুমাতে পারেন।
  8. ফাটা ঠোঁট নরম করতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল: ভিটামিন ই শুষ্ক এবং ফাটা ঠোঁটকে নরম করে। আধা চা চামচ লেবুর রস নিন এবং এতে 2-3 ফোঁটা ভিটামিন ই তেল দিন। রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে লাগান। এছাড়া পেট্রোলিয়াম জেলিতে ভিটামিন ই তেল লাগিয়ে শুকনো ও ফাটা ঠোঁটে লাগাতে পারেন।
  9. নখ বৃদ্ধিতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল: প্রতিদিনের কাজে নখের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে যেমন: কাপড় ধোয়া বা রান্না করা, বাসনপত্র ধোয়া। নখ সব থেকে খারাপ। নখ ভেঙে যায়, খোসা ছাড়ে এবং হলুদ হয়ে যায়। ভিটামিন ই তেল দিয়ে নখের কিউটিকল এবং নখের চারপাশের ত্বকে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন।
  10. ভিটামিন ই তেল ভঙ্গুর নখকে শক্তিশালী করতে পারে। এছাড়াও, এটি অ্যাসিটোন-ভিত্তিক নেইলপলিশ রিমুভারের অত্যধিক ব্যবহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এবং শুকনো নখ মেরামত করে নখের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।
  11. ভিটামিন ই ক্যাপসুল রোদে পোড়া থেকে রক্ষা করে: ভিটামিন ই হল এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে। ক্ষত এবং দাগ সারাতে ভিটামিন ই যুক্ত ক্রিমও প্রয়োগ করা হয়। বেশিরভাগ বিউটি ক্রিমে ভিটামিন ই থাকে। রোদে পোড়া হলে মুখে ভিটামিন ই তেল লাগান। গবেষকদের মতে, ভিটামিন ই প্রদাহ কমাতে এবং রোদে পোড়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। আপনি আপনার ত্বক এবং মুখে ভিটামিন ই তেল ব্যবহার করতে পারেন, যা শুষ্ক এবং ফ্ল্যাকি ত্বককে প্রশমিত করতে সাহায্য করে, যার ফলে জ্বালা উপশম হয়।
  12. রাতারাতি ক্রিম হিসাবে ভিটামিন ই ক্যাপসুল: এতে ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি রাতে লাগালে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। ভিটামিন ই ক্যাপসুল রাতারাতি ক্রিমের মতো লাগাতে পারেন। আপনি প্রতিদিন যে নাইট ক্রিমে লাগান তাতে 3-4 ফোঁটা ভিটামিন ই তেল যোগ করুন। প্রথমে মুখ ধুয়ে তারপর এটি প্রয়োগ করুন এটি আপনার মুখের আর্দ্রতা প্রদান করে।
  13. ত্বকের জন্য ভিটামিন ই আমাদের তরুণ দেখাতে সাহায্য করে এবং আমাদের ত্বককে টানটান করে। ভিটামিন ই তেল প্রয়োগ করা বা ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট ত্বককে শুষ্কতা, চুলকানি এবং ত্বকের ক্ষয় রোধ করতে ময়শ্চারাইজ করে।
  14. অ্যান্টি রিঙ্কেল ক্রিম হল ভিটামিন ই ক্যাপসুল: আপনি যদি আপনার মুখের বলিরেখা এবং সূক্ষ্ম রেখা লুকাতে চান, তাহলে ভিটামিন ই তেল ব্যবহার করুন। এটি অ্যান্টি-এজিং ক্রিম হিসেবে কাজ করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হওয়ায় এটি রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়ায়। ত্বকে ভিটামিন ই তেল ম্যাসাজ করুন।
  15. কালো কনুই পরিষ্কার করতে ভিটামিন ই ক্যাপসুলঃ অনেকের কনুই কালো হয়ে যায় যা হাতের রঙের থেকে আলাদা দেখায়। এ জন্য এক টুকরো লেবু কনুইতে ঘষে নিন। এর পরে, ভিটামিন ই তেল, লোবান তেল, লেবুর রস, শিয়া মাখন থেকে তৈরি একটি মাস্ক লাগান। এটি কনুইয়ের রং উন্নত করে। ভিটামিন ই এর সাথে নারকেল তেল এবং অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে লাগালে দাগ সেরে যায়। এছাড়াও আপনার সুন্দর ত্বক তৈরি করতে সাহায্য করে।
  16. ভিটামিন ই ক্যাপসুল ডার্ক সার্কেল কমায়: এটি চোখের নিচের কালো দাগ কমায়। এই প্রতিকারের জন্য আধা চা চামচ বাদাম তেল নিন। এতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল চেপে নিন। এই মিশ্রণটি ডার্ক সার্কেলে লাগান। সেরা ফলাফলের জন্য এই পেস্টটি সারারাত রেখে দিন। এটি মুখের কালো দাগও দূর করে।
  17. ফ্রেকলস দূর করতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল: স্কিন টোনে অমসৃণতা মানে freckles। সমস্যাটি সমাধান করতে ভিটামিন ই তেল এটির জন্য সাহায্য করতে পারে। এর জন্য 2-3 ক্যাপসুল ক্যাস্টর অয়েল, ভিটামিন ই মিশিয়ে যেখানে ফ্রেকল হচ্ছে সেখানে লাগান। আপনি এটি রাতারাতি রেখেও দিতে পারেন। একমাস ব্যবহার করলে ইতিবাচক ফল দেখতে পাবেন।
  18. ভিটামিন ই ক্যাপসুল ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক: একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ভিটামিন ই যুক্ত সম্পূরক গ্রহণ করলে ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
  19. ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুলকানি দূর করে: ভিটামিন ই এটোপিক ডার্মাটাইটিসের সাথে যুক্ত শুষ্কতা, চুলকানি এবং একজিমা কমাতে পারে। মৌখিক ভিটামিন ই সম্পূরকগুলি একজিমার লক্ষণগুলিকে উন্নত করে বলে মনে হয়।
  20. ভিটামিন ই ক্যাপসুল ক্ষত নিরাময়ে কার্যকর: ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট ক্ষত নিরাময়। ক্ষত হলে তাতে ভিটামিন ই তেল লাগান। এটি ক্ষত দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করবে।
  21. ভিটামিন ই পরিপূরক গ্রহণ ক্ষত নিরাময় প্রচার করে। এছাড়াও ঘাগুলিতে ভিটামিন ই তেল মালিশ করতে পারেন। এটি ফ্রি র‌্যাডিক্যাল এবং কোলাজেনের ক্ষতিকে নিরপেক্ষ করে।
  22. ভিটামিন ই ক্যাপসুল বার্ধক্যের গতি কমিয়ে দেয়: ভিটামিন ই মুখের বলিরেখা কমায়। যার কারণে বয়সের প্রভাব কমে যায়। শরীর এবং ত্বকের বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এটি প্রোটিন কোলাজেনের মৌলিক উৎপাদন বাড়ায় যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। এটি নতুন এবং ভিন্ন কিছু, এমনকি আমি জানতাম না যে ভিটামিন ই সূক্ষ্ম রেখা এবং বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। শুষ্ক ত্বকের মানুষদের ফাইন লাইন এবং বলি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  23. ভিটামিন ই ক্যাপসুল স্ট্রেচ মার্ক কমাতে সাহায্য করে: স্ট্রেচ মার্কের দাগগুলো দেখতে খুব অদ্ভুত লাগে যেটা কেউ পছন্দ করে না। এটি ত্বকের অত্যধিক প্রসারিত হওয়ার কারণে প্রদর্শিত হয়। এটি গর্ভাবস্থা এবং অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির কারণে ঘটে। স্ট্রেচ মার্কের দাগে ভিটামিন ই তেল লাগাতে হবে। এটি প্রসারিত চিহ্নের চিহ্নগুলিকে হালকা করে।
  24. ভিটামিন ই ক্যাপসুল একটি ক্লিনজিং এজেন্ট: এটি ত্বকের ময়লা এবং অমেধ্য গভীরভাবে পরিষ্কার করে। এটি তেলের ভারসাম্যও বজায় রাখে। একটি পরিষ্কার তুলা নিন, তাতে কয়েক ফোঁটা ভিটামিন ই তেল দিন এবং ধীরে ধীরে মুখে ঘষুন।
  25. ফাটা গোড়ালি সারাতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল: গোড়ালি ফাটা সমস্যা দূর করতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল খুবই সহায়ক। ভ্যাসলিনের মধ্যে ভিটামিন ই ক্যাপসুল চেপে নিন। ফাটা গোড়ালিতে লাগান। আপনার হিল খুব নরম হয়ে যাবে।
  26. ভিটামিন ই ক্যাপসুল ঠান্ডা ঘা প্রশমিত করতে: অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের কারণে ঠান্ডা ঘা হয়। যাতে এটি একটি বেদনাদায়ক রূপ নেয়, সরাসরি ক্ষতস্থানে ভিটামিন ই ক্যাপসুল লাগান। এটি আপনাকে স্বস্তি দেবে, এটি ঠান্ডা ঘা প্রতিরোধ করবে।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল এর অপকারিতা

ভিটামিন ই এর কিছু অপকারিতাও হতে পারে। আপনি যদি অ্যালার্জির এই লক্ষণগুলির মধ্যে কোনটি লক্ষ্য করেন তবে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে দেখা করুন।

  • ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা
  • ক্ষত বা রক্তপাত
  • ক্লান্তি
  • অস্বাভাবিক দুর্বলতা
  • মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা
  • হালকা ফুসকুড়ি
  • দৃষ্টি পরিবর্তন
  • বমি বমি ভাব

ভিটামিন ই ক্যাপসুল সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করলে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। যাইহোক, আপনার যদি তৈলাক্ত ত্বক থাকে তবে আপনার সেগুলি ব্যবহার করা উচিত নয় কারণ এটি ব্রণ এবং ব্রণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যেহেতু ভিটামিন ই ক্যাপসুল আপনার ত্বকে চর্বির স্তর তৈরি করতে পারে, তাই এটি আপনার ছিদ্র আটকাতে পারে এবং এইভাবে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। আপনার যদি ব্রণ-প্রবণ ত্বক থাকে তবে আপনার ত্বকে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করবেন না। অন্যদিকে, ভিটামিন ই ক্যাপসুল থেকেও আপনার অ্যালার্জি হতে পারে। এই ক্ষেত্রে, ব্যবহার বন্ধ করুন।

এছাড়াও ভিটামিন ই-এর এমন কিছু অপকারিতাও দেখা যায় যাতে আপনাকে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, ক্ষত বা রক্তপাত, ক্লান্তি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, হালকা ফুসকুড়ি, দৃষ্টি পরিবর্তন, বমি বমি ভাব ইত্যাদি।

এটি প্রয়োগের জন্য উপকারী হবে যে আপনি প্রথমে একটু চেষ্টা করুন। আপনার যদি অ্যালার্জি থাকে তবে ব্যবহার বন্ধ করুন।

কেন ভিটামিন ই ক্যাপসুল এড়ানো উচিত?

  • আপনার একজিমা বা সোরিয়াসিস থাকলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল প্রয়োগ করা এড়িয়ে চলুন।
  • আপনার যদি র ক্তপাতের সমস্যা থাকে তবে ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা এড়িয়ে চলুন।
  • ভিটামিন ই ক্যাপসুল এড়িয়ে চলুন যদি আপনার এলার্জি থাকে।

আপনার চুল ও মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে ভিটামিন ই ক্যাপসুলও ব্যবহার করতে পারেন। আপনি ইতিমধ্যে জানেন কিভাবে মুখে ভিটামিন ই ক্যাপসুল লাগাতে হয়। এই ভিটামিন শরীরের সৌন্দর্য এবং শরীরের স্বাস্থ্য উভয়ের জন্যই খুবই উপকারী।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুলে ব্যবহারের নিয়ম

ভিটামিন ই শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আমাদের ত্বক এবং চুলকে সুস্থ রাখতে। যদিও এটি শরীরে অন্যান্য অনেক কাজ করে, এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং মস্তিষ্ককে ক্ষতির হাত থেকেও রক্ষা করে। এটি ত্বক এবং চুলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, তাই একে বিউটি ভিটামিনও বলা হয়।

সাধারণত খাবার থেকে আমরা সর্বোচ্চ ভিটামিন ই পেতে চেষ্টা করি। কিন্তু খাবার থেকে ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়, তাই সাপ্লিমেন্টের পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বাজারে ভিটামিন ই ক্যাপসুলও পাওয়া যায়, যা এই ভিটামিনের ঘাটতি মেটাতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে খেতে পারেন।

কিন্তু জানেন কি এই ভিটামিন ই ক্যাপসুলগুলো শুধু খাওয়াই নয়, ত্বক ও চুলে লাগালেও খুব উপকার পাওয়া যায়। যাদের চুল ঠিকমতো গজায় না বা খুব ধীরগতিতে হয়, তারা যদি চুলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়ার সাথে সাথে লাগান তাহলে তাদের চুল দ্রুত গজাতে পারে।

আপনাকে যা করতে হবে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা। এখন প্রশ্ন জাগে কিভাবে ভিটামিন ই ক্যাপসুল দিয়ে চুল গজাবেন বা চুলে ভিটামিন ই ব্যবহার করে কিভাবে দ্রুত চুল গজাবেন? এই প্রবন্ধে, আমরা আপনাকে ভিটামিন ই দিয়ে কীভাবে চুল গজাবেন তা বলছি।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুলের বৃদ্ধির জন্য উপকারী

আসলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি চমৎকার উৎস, এটি চুলের ফলিকল কোষকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে এবং তাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আপনি যখন এটি গ্রহণ করেন বা খাবার থেকে পান তখন এটি আপনার শরীরকে অভ্যন্তরীণভাবে পুষ্ট করে, তবে সরাসরি প্রয়োগ করা হলে এটি মাথার ত্বক, চুলের গোড়া এবং ফলিকলকেও পুষ্টি দেয়।

এছাড়াও ভিটামিন ই ক্যাপসুলগুলিতে আলফা-টোকোফেরল রাসায়নিক রয়েছে, যা মাথার ত্বককে উদ্দীপিত করতে এবং রক্ত ​​​​সঞ্চালন প্রচারে সহায়তা করে। যখন মাথার ত্বকে রক্ত ​​সঞ্চালন ভালো হয়, তখন প্রয়োজনীয় পুষ্টি আপনার চুলের ফলিকলে পৌঁছায়। এটি মাথার ত্বকে সিবাম অর্থাৎ প্রাকৃতিক তেলের উৎপাদন বাড়ায়, যার কারণে মাথার ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকে। এটি চুল পাতলা হওয়া হ্রাস করে এবং ভাল এবং দ্রুত চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আরো পড়ুন: ইনতেফা কীটনাশক তালিকা

চুলের বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করার উপায়

১। তেল দিয়ে মেশান

যদিও আপনি ভিটামিন ই ক্যাপসুল প্রয়োগ করে সরাসরি মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করতে পারেন, তবে তেলের সাথে মেশানো হলে এটি আরও কার্যকরভাবে কাজ করে। নারকেল তেল, সরিষার তেল, ক্যাস্টর অয়েল বা জোজোবা অয়েলে প্রয়োজন অনুযায়ী ২টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। কুসুম গরম বা গরম তেল মিশিয়ে লাগালে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। রাতে ঘুমানোর আগে চুলে রেখে সকালে ধুয়ে ফেলুন।

২। ডিমে মেশান এবং প্রয়োগ করুন

এছাড়াও ডিমে প্রোটিন এবং চুলের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। একটি পাত্রে ডিমের সাদা অংশ নিন, তারপরে 2টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল এবং 1-2 চা চামচ নারকেল বা অলিভ অয়েল যোগ করুন এবং ভালভাবে মেশান। এই মিশ্রণটি হেয়ার প্যাক এবং মাস্কের মতো চুলে লাগান। মাথার ত্বকে কয়েক মিনিট ম্যাসাজ করুন এবং কমপক্ষে 3-4 ঘন্টা চুলে রেখে দিন, তারপর ধুয়ে ফেলুন।

৩। ঘৃতকুমারী সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করুন

অ্যালোভেরা জেলও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এবং চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আপনি 2 চামচ অ্যালোভেরা জেলের মধ্যে নারকেল তেল এবং 2টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল, ভালভাবে মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। এটি 3-4 ঘন্টা চুলে লাগানোর চেষ্টা করুন এবং কয়েক মিনিটের জন্য এটি দিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন।

এইভাবে চুলের জন্য ভিটামিন কে ক্যালসুল ব্যবহার করা আপনাকে শুধুমাত্র চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে না, বরং চুল পড়া, খুশকি, শুষ্ক এবং ঝরঝরে চুলের মতো অনেক সাধারণ চুলের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং ঘন, শক্তিশালী, চকচকে চুল পেতে সাহায্য করবে।

আরো পড়ুন: জন্মদিনের কেক বানানোর রেসিপি

ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুলে দেওয়ার নিয়ম

ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুলের জন্য নানাভাবে উপকারী। ভিটামিন ই-তে 8 ধরনের চর্বি থাকে। এগুলি দ্রবণীয় ভিটামিনের একটি গ্রুপ যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এই ভিটামিন শরীরের ফ্রি র্যাডিকেল নিরপেক্ষ করে এবং আমাদের সেলুলার গঠন উন্নত করে। এটি চুলের রঙ উন্নত করে এবং চুল পড়া রোধ করে। কিন্তু প্রশ্ন হল চুলের জন্য কীভাবে ব্যবহার করবেন। আসুন, ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুলে ব্যবহারের নিয়ম বলি।

১। নারকেল তেলের সাথে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলে লাগান

আপনার চুল পাতলা হলে প্রতিদিন ভিটামিন ই ক্যাপসুল খান। ভিটামিন ই-এ আলফা-টোকোফেরল নামক একটি রাসায়নিক রয়েছে যা মাথার ত্বকে রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে এবং পিএইচ স্তর, সিবাম উত্পাদনকে ভারসাম্য বজায় রাখে এবং চুলের ফলিকলগুলিকে পুষ্ট করে এইভাবে আপনার মাথার ত্বককে সুস্থ রাখে।

২। অলিভ অয়েলের সাথে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলে লাগান

ঘন এবং স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য স্বাস্থ্যকর স্ক্যাল্প থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য অলিভ অয়েলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলে লাগান। এটি চুলের পুষ্টি জোগায় এবং চুলকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।

৩। ডিমের সাথে চুলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলে লাগান

খুশকি প্রায়ই আমাদের চুলের ক্ষতি করে। খুশকির কারণে মাথার ত্বকে খুশকি ও চুলকায়। ভিটামিন ই ক্যাপসুলে ডিম যোগ করার মাধ্যমে, এটি শুধুমাত্র খুশকি নিয়ন্ত্রণ করে না বরং মাথার ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে। এছাড়াও, এটি তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এবং এইভাবে খুশকি হওয়া থেকে রক্ষা করে।

৪। চা গাছের তেলের সাথে ভিটামিন ই মিশিয়ে চুলে প্রয়োগ করুন

খুশকির চিকিৎসায় সপ্তাহে দুবার টি ট্রি অয়েল এবং ভিটামিন ই হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য এক চা চামচ নারকেল তেল, ২ টেবিল চামচ ভিটামিন ই তেল এবং ১ চা চামচ টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি আপনার চুলে লাগান, প্রায় 2-3 ঘন্টা রেখে দিন এবং তারপর আপনার চুল ধুয়ে ফেলুন। স্থায়ীভাবে খুশকি থেকে মুক্তি পেতে সপ্তাহে দুবার এটি করুন।

৫। অ্যালোভেরা জেলের সাথে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলে লাগান

নিস্তেজ চুলে উজ্জ্বলতা আনতে ভিটামিন ই মিশিয়ে অ্যালোভেরা জেল লাগাতে পারেন। এটি আপনার চুলকে প্রথমে আর্দ্র করে এবং নিয়মিত ভিটামিন ই তেলের ম্যাসাজ আপনার চুলকে পুষ্টি জোগায় এবং নিস্তেজ ও প্রাণহীন চুলে আর্দ্রতা যোগায়। এটি আপনার চুলকে নতুন জীবন ও উজ্জ্বলতা দেয়।

Disclaimer: এই নিবন্ধে উল্লিখিত পদ্ধতি এবং দাবিগুলিকে শুধুমাত্র পরামর্শ হিসাবে গ্রহণ করুন, টেকনিক্যাল কেয়ার বিডি সেগুলি নিশ্চিত করে না। এই ধরনের কোনো চিকিৎসা/ঔষধ/খাদ্য এবং পরামর্শ প্রয়োগ করার আগে, অনুগ্রহ করে একজন ডাক্তার বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন।(alert-error)

ভিটামিন ই ক্যাপসুল দিয়ে চুল লম্বা করার উপায়

ভিটামিন ই ক্যাপসুল নিয়ে অনেকেরই ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাস রয়েছে। কেউ মুখের জন্য ব্যবহার করেন, কেউ হাত পায়ের ত্বকে লাগান, কেউ এটি চুলের উজ্জ্বলতার জন্য এবং কেউ চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োগ করে।

যেহেতু আমার চুল খুব রুক্ষ এবং প্রচুর চুল পড়ে গেছে, তাই আমি আমার চুলের জন্য ভিটামিন ই চেষ্টা করার কথা ভাবলাম। আমি সেই ব্যক্তিদের মধ্যে একজন যারা চুল নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। 

চুল কালার করা থেকে শুরু করে স্টাইল করা পর্যন্ত অনেক কিছু এবং সেজন্য আমাকে একটু বেশিই চুলের যত্ন নিতে হয়। এজন্য আমার চুল কিছুটা রুক্ষ এবং একই সাথে এতে কম চকচকে দেখা যায়। এমনকি যখন চুল বড় হয়, তখন এমনভাবে বৃদ্ধি পায় যে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চুলের ব্যাপারে আমি মনে করি ভিটামিন ই খুবই উপকারী প্রমাণিত হতে পারে। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহারের উপায় যা আমি ব্যবহার করেছি।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহারের আগে মনে রাখবেন-

ভিটামিন ই ক্যাপসুল আপনি সহজেই যেকোনো মেডিকেল স্টোরে পেয়ে যাবেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি চিন্তা না করেই এটি ব্যবহার শুরু করুন। আপনাকে এটি ব্যবহার করার জন্য, আপনার অ্যালার্জি করছে কিনা তা দেখতে আপনাকে প্রথমে একটি প্যাচ পরীক্ষা করতে হবে। 

OMEGA 3 ক্যাপসুলও বাজারে সহজে পাওয়া যায় , কিন্তু সেগুলোও অনেকের কাছে মানায় না। সেজন্য আপনার হাতের ত্বকে প্রথমে এই ক্যাপসুলটি ব্যবহার করে দেখুন। যদি 24 ঘন্টা পরে কোন প্রতিক্রিয়া না হয়, তাহলে আপনি এটি সম্পূর্ণরূপে ব্যবহার করতে পারেন।

তেলের সাথে মিশিয়ে ভিটামিন ই ক্যাপসুল

আমি আমার চুলে যা চেষ্টা করেছি তা ছিল বাদাম তেল, ক্যাস্টর অয়েল এবং ভিটামিন ই ক্যাপসুলের মিশ্রণ। আমি শীতকালে এই পদ্ধতিটি শুরু করেছি, তাই ক্যাস্টর অয়েল এবং বাদাম তেল ব্যবহার করেছি। ক্যাস্টর অয়েল চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। 

আপনি যদি গ্রীষ্মে এটি প্রয়োগ করেন এবং কিছু বাদাম তেল বা ক্যাস্টর অয়েল মানানসই না হয় তবে আপনি নারকেল তেলের সাথে ভিটামিন ই মিশিয়েও লাগাতে পারেন। ক্যাস্টর অয়েলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল লাগানোর আগে ক্যাস্টর অয়েল সামান্য গরম করুন।

সরাসরি আগুনে না রেখে একটি পাত্রে নিয়ে গরম পানির পাত্রে রাখুন। কারণ তিনটি ক্যাস্টর অয়েল, বাদাম তেল এবং ভিটামিন ক্যাপসুলই খুব ঘন এবং এমন অবস্থায় চুল থেকে সহজে বের হবে না।

ক্যাস্টর অয়েল গরম করুন এবং এতে বাদাম তেল দিন। যদি আধা চা চামচ ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করা হয়, তাহলে দেড় চা চামচ বাদাম তেল এবং দুটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল যোগ করুন। এটি চুলে লাগান এবং 1 থেকে 3 ঘন্টার মধ্যে ধুয়ে ফেলুন। আপনার উপযোগী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।

আরো পড়ুন: নোরিক্স পিল খাওয়ার কতদিন পর মাসিক হয়

লেখকের শেষকথা

ভিটামিন ই ক্যাপসুল পাবেন যেকোনো মেডিকেল স্টোরে। এটি একটি সস্তা সি ক্যাপসুল যা আপনাকে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে না। মুখে ভিটামিন ই ক্যাপসুল কীভাবে প্রয়োগ করবেন তার জন্য আপনি আপনার ডাক্তারের সাহায্য নিতে পারেন। আর এটি প্রয়োগ করতে হলে এটাও মাথায় রাখতে হবে আপনি কী ওজন নিয়ে ব্যবহার করছেন। চুলে লাগাতে চাইলে যেকোনো তেলে মিশিয়ে লাগাতে পারেন।

তো সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আজ এ পর্যন্তই। আশা করি ভিটামিন ই ক্যাপসুল কোনটা ভালো সেটা আজকের এই আলোচনার মাধ্যমে আপনারা জানতে পেরেছেন। পরবর্তীতে আবারো নতুন কোন আলোচনায় আপনাদের সাথে দেখা হবে কথা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

পোষ্ট ক্যাটাগরি:

এখানে আপনার মতামত দিন

0মন্তব্যসমূহ

আপনার মন্তব্য লিখুন (0)