Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2022/07/jor-komanor-upay.html

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

জ্বর কমানোর উপায় - জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় - দ্রুত জ্বর কমানোর উপায় — জ্বরকে অনেকে একটি রোগ বলে মনে করে, তবে এটি বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে দেখা একটি চিকিৎসা লক্ষণ। পরিবর্তিত আবহাওয়া এবং নানা ধরনের সংক্রমণের কারণে শরীরে এই লক্ষণ দেখা যায়। যদিও কিছু সময়ের পর তা নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়।

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

কিন্তু অনেক সময় এর কারণে শরীরের তাপমাত্রা এত বেড়ে যায় যে মানুষ নার্ভাস হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে কি করণীয় সেই সম্পর্কে সমস্ত কিছু জানতে আমাদের এই জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। এখানে জ্বরের লক্ষণ ও কি কারণে জ্বর হয় তা জানার পাশাপাশি আমরা জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছি।

সূচীপত্রঃ জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

আমাদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেলে দুশ্চিন্তায় আমরা হুটহাট করে ঔষধ খেয়ে ফেলি। অনেকে আছেন যারা আবার ১ ধাপ এগিয়ে ঔষধের দোকান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খেয়ে নেন। 

প্রথম কথা হচ্ছে আমাদের সকলের যেকোনো ধরনের অসুস্থতে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। এবং দ্বিতীয়ত জ্বরের ক্ষেত্রে আমাদেরকে অবলম্বন করতে হবে আরো বেশি সতর্ক। এটার কারণ হচ্ছে, আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পর্যন্ত জ্বর নিজেই প্রতিরোধ করতে পারে।

জ্বর কমিয়ে আপনার বাহিরে বের হওয়া খুবই জরুরি হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট খেতে পারেন। তবে হ্যাঁ অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে কখনোই অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। যদি জ্বর খুব বেশি না হয় এবং জ্বর বেশি হলেও তা দ্রুত কমিয়ে সহনশীল পর্যায়ে আনার জন্য নিচে আলোচনা করা দ্রুত জ্বর কমানোর উপায় গুলো মেনে চলতে পারেন। চলুন তাহলে জেনে নিই জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় কি কি ?

আরো পড়ুনঃ ড্রাগন ফলের উপকারিতা

জ্বর কি

শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হওয়াকে জ্বর বলে। যদিও 98.6 °F বা 37 °C সাধারণত শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হিসাবে বিবেচিত হয়, এই পরিসংখ্যান সর্বজনীনভাবে প্রযোজ্য নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ভিন্ন এবং ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ (এনআইএইচ) অনুসারে, শিশুরা যখন তাদের শরীরের তাপমাত্রা 99.5 ডিগ্রি ফারেনহাইট বা 37.5 ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে তখন তারা জ্বরে ভোগে। এবং প্রাপ্তবয়স্করা জ্বরে ভোগেন যখন তাদের শরীরের তাপমাত্রা 99 থেকে 99.5 ডিগ্রি ফারেনহাইট বা 37.2 থেকে 37.5 ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়। জ্বর মূলত অসুস্থতার লক্ষণ। 

আপনার শরীর যখন রোগ জীবাণুর মতো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে তখন জ্বর হয়। কানের সংক্রমণ, মূত্রনালীর সংক্রমণ, প্রদাহজনিত রোগ, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস, অটোইমিউন ডিজঅর্ডার, ক্যান্সার এবং রক্ত জমাট ইত্যাদির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে শিশুদের জ্বরের অতিরিক্ত কারণগুলি দেখা দেয়। পরিবর্তিত আবহাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও জ্বরের কারণ।

জ্বর একটি সাধারণ সমস্যা এবং শীতকালে এটি হওয়ার প্রবণতা বেশি। জ্বরও করোনা ভাইরাসের একটি সাধারণ লক্ষণ। একজন ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা 97-99 এবং শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা 99.7 থেকে 100.4 ডিগ্রি ফারেনহাইট। শরীরের তাপমাত্রা 104 থেকে 106 ডিগ্রির বেশি হলে তাকে উচ্চ জ্বর বলে ১। শীতকালে জ্বর হওয়ার ঝুঁকি বেশি ২। জ্বর ক-রো-না ভাই-রাসের একটি উপসর্গ ৩। জ্বর শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলে।

জ্বরের হওয়ার কারণ গুলি কি

জ্বরের অনেক কারণ থাকতে পারে। নীচে আমরা জ্বরের কিছু সাধারণ এবং গুরুতর কারণ সম্পর্কে বলছি।

১। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ২। ঠাণ্ডা এবং সর্দি (বর্ষাকালে কোনো ভাবে বৃষ্টিতে ভিজলে বা শীতকালের কনকনে শীতের জন্য অথবা অত্যন্ত গরমের ঘাম থেকে সর্দি, কাশি এবং গলা ব্যথা দেখা দেয়। যার ফলে সেখান থেকে জ্বর শুরু হয়) ৩। হঠাৎ গভীর কোনো মানসিক আঘাত পেলে অথবা ভয় পেলে যার ফলস্বরূপ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে।

৪। আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে জ্বর হয়ে থাকে। বর্তমানে জ্বর হচ্ছে একটি প্রচলিত স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলকেই নাজেহাল করে ফেলে। হঠাৎ করে আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়ার ফলে জ্বর দেখা যেতে পারে।

৫। গলা এবং কানের সংক্রমণ ৬। সাইনাস প্রদাহ (সাইনুসাইটিস হলো এক যন্ত্রণাদায়ক রোগের নাম। আমাদের মুখমন্ডলের হাড়ের ভিতরে কিছু ফাঁপা জায়গা আছে তাকে সাইনাস বলে। কোন কারণে যদি সাইনাসগুলির মধ্যে ঘা বা বা প্রদাহ হয় তখন তাকে সাইনুসাইটিস বলে)।

৭। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে জ্বর হয়। অনেক সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটা মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় জ্বর অর্থাৎ যদি শরীরে কোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হয় তখন শরীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে রক্তে অ্যান্টিভাইরাল উপাদান তৈরি করে সেটিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে।

৮। মনোনিউক্লিওসিস (রক্তে সাদা কোষের অস্বাভাবিকতা) ৯। ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া ১০। মূত্রনালীর সংক্রমণ ১১। ডায়রিয়া ১২। টিকা দেওয়ার পরে ১৩। গাউটের কারণে (গাউট বাত প্রচলিত একটি সমস্যা। সাধারণত দেহে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলে বিভিন্ন অস্থি-সন্ধি বা জয়েন্টে প্রদাহ হয়, এই ব্যথাকে গাউট বলা হয়) 

১৪। অন্ত্রে আলসার এবং প্রদাহ থেকে ১৫। রক্তনালী এবং ধমনীতে প্রদাহ ১৬। জ্বর ক্যান্সারের প্রথম লক্ষণও হতে পারে। জ্বরের অন্যান্য সম্ভাব্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে রক্ত জমাট বাঁধা, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামাইনস (অ্যালার্জির ওষুধ), এবং অ্যান্টি-মৃগীর ওষুধ সেবন। 

১৭। মশার কামড়ঃ মশার কামড় থেকে নানা রকমের মারাত্মক অসুখ যেমন ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুন গুনিয়া ইত্যাদি রোগ হতে পারে। আর এই ধরনের অসুখ গুলির প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। অর্থাৎ কোনো কারণে যদি গা-হাত-পা ব্যাথা, কাঁপুনি, বমিভাব ও শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি হতে দেখেন এবং ৪ দিনের উপরে এই তাপমাত্রা নামতে না দেখা যায়, তবে তৎক্ষণাৎ রক্ত পরীক্ষা করে দেখুন।

১৮। পেটের সমস্যাঃ পেটের কোনো রকম সমস্যা যেমনঃ পেটখারাপ, বদহজম, গ্যাস কিংবা অম্বল যখন অতিরিক্ত পরিমাণে বৃদ্ধি পেলে, তখন তা স্বাভাবিক ভাবেই শরীরে অস্বস্তির সৃষ্টি করে। যার থেকে জ্বরের সূত্রপাত দেখা যায়। জ্বরের কারণ জানার পর চলুন দেখে নেই জ্বরের লক্ষণগুলো ১৯। দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে থাকলে জ্বর আসার সম্ভাবনা থাকে।

আরো পড়ুনঃ পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়

জ্বরের লক্ষণ কি কি

জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও অনেক উপসর্গ দেখা যায়। আমরা নীচে এমন কিছু জ্বরের লক্ষণ সম্পর্কে বলছিঃ জ্বরের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে হঠাৎ করে ১। অত্যধিক ঘাম হতে দেখা যায় ২। মাথাব্যথা ৩। পেশী ব্যথা ৪। ডিহাইড্রেশন ৫। দুর্বলতা বা দুর্বল বোধ করা ৬। চোখে জ্বালা ভাব লক্ষ্য করা যায় ৭। কাঁপুনি বা শরীরের কম্পন এবং ক্ষুধা কম লাগা ৮। সারা শরীরের মাংসপেশিতে ব্যাথা এবং হাটু, হাত কনুই এর মতোন জয়েন্ট অংশ গুলোতে ব্যথা লক্ষ্য করা যায়।

৯। ঠান্ডা লাগা ১০। হঠাৎ কাঁপুনি এবং শীত শীত ভাব অনুভূত হয় ১১। ঘন ঘন তৃষ্ণা লাগা ১২। চাপ ১৩। ক্লান্তি ১৪। শরীরে শক্তির অভাবের অনুভূতি ১৫। বিরক্তি ১৬। শ্বাস নিতে অসুবিধা ১৭। অলসতা ১৮। চোখ মুখ লাল হয়ে যায় ১৯। বাচ্চাদের মধ্যে একটা আনছান ভাব লক্ষ্য করা যায় ইত্যাদি। এছাড়াও শিশুদের মধ্যে গলা ব্যাথা, কাশি, কানে ব্যাথা, বমি এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যা গুলো লক্ষ্য করা যায়।

জ্বর হওয়া একটি ভালো জিনিস কারণ এই সময়ে আপনার শরীর অন্যান্য রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। কিন্তু আপনি যদি জ্বরে বিরক্ত হন, তবে কিছু সহজ এবং সহজ ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে যা আপনি ঠান্ডা করতে এবং ভাল বোধ করতে পারেন। আপনার জ্বর যদি 104 ডিগ্রী ফারেনহাইট বা 40 ডিগ্রী সেলসিয়াস অতিক্রম করে তবে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

জ্বর হলে শুধু শরীরে দুর্বলতাই আসে না, দীর্ঘক্ষণ জ্বরের কারণে ওজন কমে যাওয়া, মাথাব্যথা, অলসতা, দুর্বল বোধ করা, বিরক্ত লাগা সহ আরও অনেক রোগও আপনাকে ঘিরে ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বর হলে কমানোর জন্য ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করুন।

কিছু ঘরোয়া উপায় আপনাকে জ্বর থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করবে। এজন্য আমরা জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বলেছি। মনে রাখবেন জ্বর বেশি হলে তার চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। আমাদের আজকের এই টোটকা দিয়ে জ্বর কিছুটা কমানো যায়। চলুন তাহলে জেনে নিই জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় গুলোঃ

জ্বর কমাতে মাথায় পানিপট্টি দিন

জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত হয়ে যায়। আর শরীরের এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমানোর জন্য অন্যতম কার্যকরী পদ্ধতি হচ্ছে জলপট্টির ব্যবহার। জলপট্টি তৈরি করার জন্য একটি পরিষ্কার রুমাল ভাঁজ করে তা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে নিন। তারপর ভেজা রুমালটি অসুস্থ ব্যক্তির কপালের উপরে দিয়ে রাখুন। 

এভাবে রুমালটি কপালে ২ মিনিট পরে রেখে দেয়ার পরে পুনরায় রুমালটি আবার পরিস্কার পানিতে ভিজিয়ে একইভাবে কপালের উপরে দিয়ে রাখুন। এমন পদ্ধতি কয়েকবার অনুসরণ করলেই শরীরের তাপমাত্রা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভবপর হবে।

জ্বর কমানোর জন্য তুলসি পাতার ব্যবহার

তুলসীর রস পান করার চেষ্টা করুন বা আপনার নিয়মিত চায়ে যোগ করুন। এটি আপনার শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও সাহায্য করবে। তুলসীর ফোঁটা বা তুলসী চা সহ জল হচ্ছে একটি সেরা পানীয় যা আপনি সকালে পান করতে পারেন। তুলসীর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল উপাদান রয়েছে, যা স্বাভাবিক ভাবেই আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় হিসেবে ৮ থেকে ১০টি তুলসি পাতা নিন। তারপর উক্ত পাতাগুলো পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। এবার একটি পাত্রে পানি গরম করুন এবং উক্ত গরম পানির মধ্যে দিয়ে দিন তুলসি পাতা গুলি। এগুলোকে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। ব্যাস হয়ে গেলো আপনার কাজ, এবার এই পানি প্রতিদিন সকালে ১ কাপ করে খান। 

তুলসি পাতাতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা, ব্রংকাইটিস, ম্যালেরিয়ার মতো আরো বিভিন্ন রোগের উপশমে সহায়তা করে। তুলসি পাতা শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।

যেভাবে তৈরি করবেনঃ উপাদান- (১) 10 থেকে 15 টি তুলসী পাতা (২) চা চামচ গ্রেট করা আদা (৩) আধা চা চামচ মধু (৪) এক কাপ জল

ব্যবহারবিধিঃ (১) একটি পাত্রে জল, তুলসী পাতা এবং আদা 8 মিনিট সিদ্ধ করুন (২) পানির রং গাঢ় হয়ে এলে ছেঁকে কাপে রাখুন (৩) এবার এতে আধা চা চামচ মধু মেশান (৪) এটি দিনে দুবার খাওয়া যেতে পারে।

তুলসি পাতা দিয়ে জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়টি কতটা লাভজনকঃ জ্বরে তুলসী পাতা খেলে উপকার পাওয়া যায়। এটিতে অ্যান্টিপাইরেটিক উপাদান রয়েছে, যা জ্বরের সমস্যা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। অ্যান্টিপাইরেটিক এমন একটি পদার্থ যা জ্বর কমায়। এই ঘরোয়া প্রতিকারে উপস্থিত আদার অ্যান্টিভাইরাল প্রভাব রয়েছে, যা ঠান্ডাজনিত জ্বর কমাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঠাণ্ডা লাগার কারণে জ্বরের ঘরোয়া উপায়ে তুলসীকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন

জ্বর শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে শরীরে প্রচুর ঘাম হতে পারে। এতে করে শরীরে পানি শূন্যতা হতে পারে। আর শরীরের এই পানিশূন্যতা প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা করার জন্য, নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন এবং সারাদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে 9-12 গ্লাস পানি পান করুন। শুধু পানি নয়, নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর জুস, নারকেলের পানি, স্যুপ ইত্যাদি খেতে পারেন।

তবে হ্যাঁ খাবারটি যেন অবশ্যই গরম হয়, সেদিক মাথায় রাখবেন। কারণ গরম স্যুপ খাওয়ার ফলে আমাদের গলা অনেক আরাম পাবে। সর্দি-কাশির সমস্যা হলে সেক্ষেত্রে যেমন আরাম পাওয়া যাবে, এছাড়া শরীর ভেতর থেকে তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করবে।

জ্বর হলে অতিরিক্ত শুয়ে থাকবেন না

জ্বর হয়েছে বলে সারাটা দিন চাদর গায়ে মোড়ে দিয়ে শুয়ে থাকলাম এই কাজটি কখনোই করা উচিত নয়। কেননা যতবেশি শুয়ে থাকবেন আপনার শরীরের তাপমাত্রা ততবেশি বৃদ্ধি হতে থাকবে। তাই জ্বর হলে ঘরে স্বল্প পরিসরের মধ্যে হাঁটাচলা করবার চেষ্টা করুন। যদি হাটাচলা না করেন তাহলে বেশি শুয়ে থাকার ফলে আপনার মাথা ভার হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আপনি নিজেকে আরো বেশি দুর্বল মনে করবেন। তাই জ্বর থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য যদি সম্ভবপর হয় তাহলে অল্পবিস্তর হাঁটাচলা করার চেষ্টা করুন এবং কিছুক্ষণ পরে হাটাহাটি করার পড়ে আবার খাটে বসে পড়ুন।

মধু দিয়ে জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

মধু অনেক রোগের চিকিৎসায় ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। লবঙ্গ গুঁড়ো মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে জ্বর কম হয়। ১ চা চামচ মধু, অর্ধেকটা লেবুর রস এবং ১ কাপ গরম পানি নিন। তারপর সবগুলো উপাদান ভালোভাবে একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি দিনে দুইবার করে খান। মধুতে রয়েছে অ্যান্টি- ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা শরীরের মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। যার ফলে ভাইরাস জনিত জ্বর কমানো সহজ হয়। ভাইরাস জনিত রোগের জন্য মধু এবং লেবুর রস গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এগুলো শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করে।

যেভাবে তৈরি করবেনঃ উপাদান- (১) এক চামচ মধু (২) এক গ্লাস গরম পানি (৩) আধা চা চামচ লেবুর রস।

ব্যবহারবিধিঃ (১) এক গ্লাস গরম পানিতে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন (২) এরপর আধা চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।

মধু দিয়ে জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়টি কতটা লাভজনকঃ বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে, মধু খেলে জ্বর অর্থাৎ শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমানো যায়। অন্য একটি গবেষণা অনুসারে, মধুতে ব্যাকটেরিয়ারোধী উপাদান রয়েছে, যা টাইফয়েড জ্বরের জন্যেও উপকারী বলে মনে করা হয়।

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় আদা

আদা শরীর থেকে অতিরিক্ত তাপ দূর করতে সাহায্য করে যা জ্বর কমাতে সহায়ক। এছাড়াও, আদা একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট এবং ইমিউন সিস্টেমে যেকোনো ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। আদার ডায়াফোরটিক উপাদান রয়েছে এটি ঘামকে উৎসাহিত করে, শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ করতে কাজ করে। আদা খাওয়ার ফলে দ্রুত ঘাম হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়, যা জ্বর নিরাময়ে সাহায্য করে। তাই আদা সেবন জ্বর নিরাময়ে উপকারী।

আদা চা হল একটি চমৎকার ইমিউনিটি বৃদ্ধিকারী যা জ্বর মোকাবেলায় সাহায্য করবে এবং আপনার শ্বাসতন্ত্রকে কাশি এবং সর্দি থেকে যেকোনো বাধা থেকে মুক্ত করতে পারে। আদা একটি ইমিউনিটি বৃদ্ধিকারী, যা জ্বর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি একটি আয়ুর্বেদিক ভেষজ, যা সাধারণ সর্দি এবং অন্যান্য অনেক উপসর্গের চিকিৎসায় সাহায্য করে।

আধা চা চামচ আদা বাটা এবং ১ চা চামচ মধু নিন। ১ কাপ গরম পানিরতে আদা বাটা দিয়ে ভালো ভাবে ফুটিয়ে নিন। তারপর তার সাথে মধু মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি দিনে ৩-৪ বার পান করুন। এছাড়াও ১ চা চামচ লেবুর রস, আধা চা চামচ আদার রস এবং ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে সেটিও দিনে ৩ থেকে ৪ বার খেতে পারেন। এটি খাওয়ার কারণে আপনার জ্বর কমতে থাকবে। কেননা আদা হচ্ছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিভাইরাস। এটি শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করে।

যেভাবে তৈরি করবেনঃ উপাদান- (১) আধা চা চামচ আদা পেস্ট (২) আধা চা চামচ মধু (৩) এক কাপ জল

ব্যবহারবিধিঃ (১) একটি পাত্রে এক কাপ পানি রেখে তাতে আদা বাটা দিয়ে ফুটিয়ে নিন (২) প্রায় তিন মিনিট রান্না করুন (৩) পানির রং পরিবর্তন হলে একটি কাপে ফিল্টার করে বের করে নিন (৪) এবার কিছুক্ষণ ঠাণ্ডা হতে দিন (৫) তারপর আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন (৬) আপনি এটি দিনে দুই থেকে তিনবার পান করতে পারেন।

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় আদা কতটা লাভজনকঃ জ্বরের প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে আদা বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আমরা ইতিমধ্যে উপরে উল্লেখ করেছি যে আদার অ্যান্টিভাইরাল উপাদান রয়েছে, যা ঠান্ডার কারণে জ্বর কমাতে সাহায্য করে।

জ্বর কমাতে রসুনের ব্যবহার

রসুনের ডায়াফোরটিক উপাদানে রয়েছে, যার কারণে অতিরিক্ত ঘাম হয়। রসুনের গরম প্রভাব উচ্চ জ্বর কমায়। রসুন শরীর থেকে টক্সিন দূর করতেও সাহায্য করে। রসুনের অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে। যা শরীরকে রোগের সাথে লড়াই করতে সহায়তা করে। তাই জ্বর কমাতে রসুন খাওয়া উপকারী। 

রসুন একটি গরম আয়ুর্বেদিক ভেষজ যা শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আপনাকে যেকোনো ইমিউনিটি পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করবে। কিছু গবেষণা অনুসারে, রসুনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিভাইরাল উপাদান রয়েছে যা জ্বর সহ অনেক রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে কাজ করে।

১ কোয়া রসুন এবং ১ কাপ গরম পানি নিন। রসুন কুচি করে নিয়ে গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। তারপর রসুনের কুচিগুলো ছেঁকে নিয়ে পানিটুকু চায়ের মতো খেয়ে নিন। এভাবে দিনে ২ বার খেতে হবে। এছাড়াও রসুন ছেঁচে নিয়ে তার সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে মিশ্রণটি পায়ের তালুতে ভালো ভাবে লাগিয়ে নিন। এরপর পাতলা কোনো কাপড়ে পা পেঁচিয়ে রাখুন সারারাত। সকালে উঠে দেখবেন জ্বর একেবারে সেরে গেছে। তবে গর্ভবতী বা শিশুর ক্ষেত্রে এটি করা যাবে না।

ব্যবহারবিধিঃ (১) এক কাপ গরম পানিতে এক কোয়া রসুনের ছোট ছোট টুকরো করে মিশিয়ে নিন। এটি 10 মিনিটের জন্য গরম করুন এবং তারপর এটি ফিল্টার করুন এবং পান করুন। এটি দিনে দুবার পান করুন। আপনার যদি জ্বর থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই পরের দিন আরো ভাল বোধ করবেন।

(২) রসুনের দুটি কোয়া পিষে তাতে দুই টেবিল চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে গরম করুন। এই মিশ্রণটি উভয় পায়ের তলায় লাগান। একটি সূক্ষ্ম সিল্কের কাপড় পায়ে জড়িয়ে সারারাত রেখে দিন। অনেক সময় এই ওষুধে এক রাতে জ্বর সেরে যায়। দ্রষ্টব্য: গর্ভবতী মহিলা এবং ছোট শিশুদের জ্বরের জন্য রসুনের প্রতিকার ব্যবহার করা উচিত নয়।

হলুদ দিয়ে জ্বর কমানোর উপায়

হলুদে রয়েছে কারকিউমিন যার অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। তাই হলুদ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়, যা শরীরকে জ্বর সারাতে শক্তি দেয়। তাই জ্বর সারাতে হলুদ একটি উপকারী ভেষজ হিসাবে বিবেচিত হয়। জ্বর কমানোর জন্য আপনি হলুদ ব্যবহার করতে পারেন।

যেভাবে তৈরি করবেনঃ (১) আধা চা চামচ হলুদ (২) এক গ্লাস উষ্ণ দুধ। ব্যবহারবিধিঃ (১) এক গ্লাস উষ্ণ দুধে আধা চা চামচ হলুদ মিশিয়ে নিন (২) ঘুমানোর আগে এটি পান করুন।

জ্বর কমানোর উপায় হিসেবে হলুদ কতটা লাভজনকঃ সুস্থ থাকার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। হলুদ প্রাচীন ওষুধে জ্বরান্তিকা (জ্বর উপশমকারী) নামেও পরিচিত। আসলে, এটিতে অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। এই উপাদান গুলি ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট জ্বর কমাতে সাহায্য করতে পারে।

জ্বর কমানোর উপায় হিসেবে কিসমিস ব্যবহার

কিসমিস শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং জ্বর কমাতে সাহায্য করে। কিসমিস ফেনোলিক ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট দিয়ে গঠিত যার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এর পাশাপাশি জ্বরে কিশমিশ আপনার শরীরের জন্য টনিক হিসেবে কাজ করে।

ব্যবহারবিধিঃ (১) 25টি কিসমিস এক কাপ পানিতে এক ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন বা যতক্ষণ পর্যন্ত না কিসমিস নরম হয়ে যায় (২) এবার পানিতে কিসমিস পিষে পানি ছেঁকে নিন (৩) এবার এতে অর্ধেক লেবুর রস দিন (৪) আপনার জ্বর না যাওয়া পর্যন্ত দিনে দুবার এই প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করুন।

জ্বর কমাতে গোসল করুন

জ্বর হয়েছে বলে গোসল করা যাবে না এই রকম ধারণা বর্তমানে আমাদের অনেকের মাঝেই দেখা যায়। কিন্ত এটা একটি সর্বোপরি ভুল ধারণা। কারণ যখন শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেশী বেড়ে যায়, তখন যদি আমরা ১৫-২০ মিনিট সময় ধরে উষ্ণ গরম পানিতে গোসল করি সেক্ষেত্রে শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমতে সাহায্য করবে। 

আর যদি রোগীর অবস্থা খানিকটা খারাপ থাকে যে রোগী বেড থেকে উঠে বাথরুমে যাওয়ার শক্তিটুকু রাখে না, সেক্ষেত্রে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে গা পন্জ করে দিতে পারেন। এটি করার কারণে শরীর তার উপর থেকে তাপমাত্রা কমতে সাহায্য করবে এবং জ্বরের মাত্রা কমে যাবে। মূলত এই কারণে আপনি জ্বরের সময় অবশ্যই গোসল করবেন। আর যদি আপনি গোসল না করেন তাহলে পরে শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ আরো বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং শরীর পরিস্কার এবং জ্বর থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত গোসল করুন।

দারুচিনি

উপাদানঃ (১) 1/4 চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া (২) এক চামচ মধু (৩) এক কাপ গরম পানি। ব্যবহারবিধিঃ (১) প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধুর সঙ্গে দারুচিনির গুঁড়া খেতে পারেন (২) বিকল্পভাবে, এক কাপ গরম পানিতে এক চামচ মধু এবং দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন।

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় হিসেবে দারুচিনি কতটা লাভজনকঃ স্বাস্থ্যের জন্য দারুচিনির উপকারিতা অনেক হতে পারে। এটিতে অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। এই উভয় উপাদান জ্বর কমানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

জ্বর থাকা অবস্থায় রোদে বাহির হবেন না

শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে অর্থাৎ জ্বরের পরিমাণ যদি খানিকটা বেশি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে রোদে না বাহির হওয়াটাই ভালো। কারণ জ্বর হলে শরীর এমনিতেই অনেক বেশী গরম হয়ে থাকে। তারমধ্যে যদি আবার বাইরের উত্তাপ শরীরে লেগে যায় তবে তা শরীরের ক্ষতি করে এবং শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়া গুলােকে উদ্দীপিত করে তোলে। তাই যথাসম্ভব শরীরে জ্বর থাকা অবস্থায় ঘরে থাকার চেষ্টা করুন।

ভিটামিন

শরীরে যখন বিভিন্ন ধরনের ভিটামিনের অভাব হয় তখন আমাদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। এবং তখন বাইরের রোগজীবাণু খুবই সহজে আমাদের শরীরকে আক্রমণ করে। মূলত এই একই কারনে ফ্লুও হয়ে থাকে। তাই আমাদের ফ্লু থেকে দূরে থাকার জন্য বেশি বেশি ভিটামিন খাওয়া প্রয়োজন। জ্বরের সময় এমন খাবার গ্রহণ করুন যাতে ভিতর থেকে শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে। 

খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন জাতীয় খাদ্য রাখার চেষ্টা করুন। কিছু কিছু খাবারে থাকে যেগুলো প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি ইত্যাদি। তাই আপনি খাবারের একটি ঠিকঠাক তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করুন যাতে শরীরে সকল ধরনের ভিটামিন ঠিকভাবে প্রবেশ করতে পারে।

জ্বর থাকা অবস্থায় ফ্রিজের খাবার খাবেন না

শরীরে জ্বর থাকাকালীন শরীরের তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি সর্দি, কাশি, বুকে কফ, গলা ব্যাথা, নাক বন্ধের সমস্যা গুলো লেগেই থাকে। তাই এই সময়ে আপনি ফ্রিজ থেকে বের করা সরাসরি কোনো খাবার খাবেন না। চেষ্টা করবেন ফ্রিজ থেকে বের করা গরম করা খাবার না খাওয়ার। কারণ ফ্রিজে যখন আমরা খাবারটি রেখে দেই তখন তারমধ্যে ১ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয়।

যে খাবার জ্বর থাকা অবস্থায় খেলে শরীরের আরো বিভিন্ন ক্ষতি করতে পারে। এর কারণ শরীর এই সময়ে অনেক দুর্বল থাকে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই এক্ষেত্রে শরীরে আরো অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমনের সম্ভাবনা থেকেই যায়। সেজন্য জ্বর হওয়ার পরে অথবা জ্বর কমে যাওয়ার ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ফ্রিজে রাখা খাবার না খাওয়াই উত্তম।

জ্বরের জন্য কখন আমার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত?

কোন পরিস্থিতিতে শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জ্বর হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত, আমরা নীচে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করছি।

১। ২ বছর বা তার কমবয়সী শিশুদের 24 থেকে 48 ঘন্টা জ্বর থাকে।

২। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে, 48 থেকে 72 ঘন্টা পরে জ্বর চলতে থাকলে।

৩। জ্বরের পাশাপাশি ত্বকে ফুসকুড়ি ও আঁচড়ের মতো দাগ দেখা গেলে।

৪। এক সপ্তাহ জ্বর থাকলে।

৫। জ্বরের সময় দুর্বলতা বেশি হলে এবং ঠোঁটের নীলচে ভাব দেখা যায়।

৬। বাইরে থেকে বেড়াতে এসে জ্বর হলে। এটি ক-রো-না ভাই-রাস অর্থাৎ কো-ভি-ড-১৯ এর লক্ষণ হতে পারে।

জ্বরের চিকিৎসা কি

জ্বরের চিকিৎসা নির্ভর করে তার কারণের উপর। ডাক্তার জ্বরের চিকিৎসার জন্য এরকম কিছু সুপারিশ করতে পারেন।

১। উচ্চ জ্বরের জন্য ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ। (যেসকল ঔষধ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ব্যতীত কিনতে পারবার কথা, তাদেরকেই বলা হয় ওভার দ্য কাউন্টার)।

২। ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করার জন্য পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ।

৩। যে রোগের কারণে জ্বর এসেছে সে সংক্রান্ত ওষুধ।

জ্বরে কি খাওয়া উচিত আর কি খাওয়া উচিত নয়

জ্বর হলে খাবারের দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। এই সময়ে, কিছু জিনিস পরিহার করে এবং কিছু জিনিস গ্রহণ করে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করা যেতে পারে। সেজন্য জ্বরে কি খাওয়া উচিত আর কি খাওয়া নয় তা আমরা নীচে বলছি।

জ্বরে কি খাওয়া উচিতঃ ১। তাজা ফল খান ২। প্রচুর পানি পান করুন ৩। মধু ৪। গ্রীন টি ৫। দারুচিনি ৬। স্যুপ ৭। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার খান।

জ্বরে কি খাওয়া উচিত নয়ঃ ১। কফি এবং চা ২। ওয়া-ইন ৩। কম পুষ্টিকর খাবার যেমন ফাস্ট ফুড ৪। ভাজা খাবার

জ্বর কমানোর জন্য আরো কিছু টিপস

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় এর পরে আমরা এর সাথে সম্পর্কিত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস বলছি। এই বিষয়গুলির প্রতি যত্নবান হলে জ্বর থেকে মুক্তি এবং প্রতিরোধ উভয় ক্ষেত্রেই সাহায্য করতে পারে।

হাইড্রেটেড থাকুনঃ জ্বরের কারণে শরীরে শক্তি এবং পানিশূন্যতা দেখা দেয়, তাই জ্বরের সময় পানির অভাব মেটাতে সময়ে সময়ে যতটা সম্ভব পানি গ্রহণ করতে থাকুন।

নিজেকে ঠান্ডা রাখুনঃ জ্বরের সময় শরীর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন। শরীর কম্পিত হলে, এটি করবেন না।

তাপমাত্রা পরীক্ষা করুনঃ জ্বরের সময় উল্লিখিত ঘরোয়া প্রতিকারগুলি অনুসরণ করুন এবং প্রতি 15-20 মিনিটে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করতে থাকুন। যদি তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

বিছানায় বিশ্রামঃ জ্বরের সময় শরীরে শক্তির অভাব হয়, তাই শরীরের প্রচুর বিশ্রাম প্রয়োজন।

আমরা আজকের এই লেখায় জ্বর কি, জ্বরের কারণ এবং জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছি। এই টিপসের পাশাপাশি আপনি এই সমস্যা কমাতে প্রয়োজনীয় টিপসও অবলম্বন করতে পারেন। এগুলো শরীরের তাপমাত্রা কমানোর পাশাপাশি আপনাকে ভালো বোধ করতে সাহায্য করবে। আশা করি আর্টিকেলে দেওয়া জ্বর কমানোর উপায় বা জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে সমস্ত তথ্য আপনার জন্য উপকারী হিসেবে প্রমাণিত হবে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এবং বিভিন্ন তথ্যের জন্য টেকনিক্যাল কেয়ার বিডি ওয়েবসাইটি নিয়মিত ভিজিট করুন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় আর্টিকেলটি সাধারণ তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তির স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কোনো সমস্যা থাকে তবে অনুগ্রহ করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং সঠিক চিকিৎসা নিন।

আর্টিকেলের বিষয়ঃ জ্বর কমানোর উপায় , জ্বর কমানোর উপায় কি , জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় , দ্রুত জ্বর কমানোর উপায় , অতিরিক্ত জ্বর কমানোর উপায় , বাচ্চাদের অতিরিক্ত জ্বর কমানোর উপায় , শিশুর জ্বর কমানোর উপায়, জ্বর হলে করণীয় কি, জ্বর কমানোর ঔষধ, জ্বর কমানোর খাবার , জ্বর সর্দি কমানোর ঘরোয়া উপায় , সর্দি জ্বর কমানোর উপায় , ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বর কমানোর উপায়

শেষ কথাঃ জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

আমাদের পোস্ট আশা করি আপনার জন্যে খুব উপকারী হবে। আপনার কি জানা আছে আরো কোনো জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়? জানান আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

জ্বর কতক্ষণ স্থায়ী হয়?

প্রত্যেকের স্বাস্থ্য অনুযায়ী জ্বর বিভিন্ন সময় শরীরে থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার পরও জ্বর ভালো না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

ঘাম মানেই কি জ্বর বেরোচ্ছে?

হ্যাঁ, ঘাম মানে জ্বর বেরোচ্ছে। এছাড়াও, ঘাম হওয়াও কিন্ত জ্বরের লক্ষণ।

আপনি কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে জ্বর কমাবেন?

উপরের টিপসগুলো অবলম্বন করে জ্বর কমানো যায়। অবস্থা গুরুতর হলে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

গোসল কি জ্বর নিরাময়ে সাহায্য করে?

গোসল জ্বর সারাতে সাহায্য করে না। হ্যাঁ, এটি শরীরকে কিছুটা ঠান্ডা করতে পারে।

বিশ্রাম কি জ্বরের জন্য ভালো?

হ্যাঁ, আমরা উপরে বলেছি যে বিশ্রাম জ্বরের জন্য ভাল।

তিলের তেল কি জ্বর কমাতে পারে?

তিলের তেল জ্বর কমায় কিনা তা নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। এ কারণে জ্বরে উপকারী কি না তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

99 ডিগ্রি জ্বর হলে কী করবেন?

কারো যদি 99 ডিগ্রি জ্বর থাকে, তাহলে বিশ্রাম নিন এবং জ্বর কমানো ঘরোয়া উপায় গুলো ব্যবহার করুন।

102 ডিগ্রি জ্বরে কী করবেন?

102 ডিগ্রি জ্বর হলে অবিলম্বে ডাক্তারকে জানান। এরপর চিকিৎসক রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করবেন।

0 Comments

* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.??