ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে জেনে নিন

ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে খুবই কমন একটি প্রশ্ন বলা চলে এটিকে। কেননা দুর্ঘটনাবশত যদি কখনো হাত-পা অথবা শরীরের কোন হাড় ভেঙে যায় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হাড় জোড়া লাগানোর জন্য করনীয় কাজ গুলো করা অতীব জরুরী হয়ে পড়ে।

ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে

তবে হ্যাঁ, প্রাথমিক চিকিৎসা কখনো কখনো গ্রহণের পরবর্তীতেও ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে চায় না। আর তাই এ নিয়ে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে? শরীরের কোন অংশের হাড় ভেঙে গেলে সাধারণত কত দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যেতে পারে?

আজকের এই নিবন্ধনটিতে আমরা ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কি করা উচিত এবং মোটামুটি কত দিনের মধ্যে ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে পারে সে সম্পর্কে এ টু জেড।

(toc) #title=(সূচিপত্র)

ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে?

যদি আপনি জানতে চান যে ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে তবে এই বিষয়ে আমরা আপনাকে বলতে পারি যে ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে প্রায় ১ থেকে ৬ মাস সময় লাগতে পারে। তবে প্রত্যেক রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।

কিছু মানুষ ২-৬ মাসের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে, কিন্তু কিছু মানুষের জন্য আবার সুস্থ হতে ১ বছরও সময় লাগতে পারে। আজকাল এমন ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে, যা দিয়ে ১৪ দিনে আপনার হাড় জোড়া লাগতে পারবে।

ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর সময় মূলত ব্যক্তির অবস্থার উপর নির্ভর করে। আর তাই ভেঙে যাওয়া হাড় জোড়া লাগানোর সময় নির্দিষ্ট করে বলাটা খুব কঠিন।

তবে এ পর্যায়ে আমরা সাধারণত কিছু সময় আপনাদেরকে সাজেস্ট কর, যে সময় সীমার মধ্যে হাড় ভাঙ্গা জোড়া লাগবে। কেননা সচরাচর মানুষের তিনটি পর্যায়ে ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগে এবং সেরে যায়। যথাঃ ১। প্রদাহজনক পর্যায় ২। মেরামত পর্যায় এবং রিমডেলিং পর্যায়।

প্রদাহ জনক পর্যায়ে যদি আপনার ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগে সেক্ষেত্রে ১ থেকে ২ সপ্তাহ সময় লাগবে। অন্যদিকে যদি মেরামত পর্যায়ে এসে আপনার ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগে তাহলে সে ক্ষেত্রে সময় লাগবে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ।

অপরদিকে রি মডেলিং পর্যায়ে যদি জোড়া লাগে সেক্ষেত্রে ৪ সপ্তাহের অধিক বেশি সময় লাগবে এক্ষেত্রে। তবে সাধারণত বেশিরভাগ ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে মোটামুটি ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লেগে থাকে।

অতএব আপনার যদি ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে যাওয়া হাড় জোড়া লেগে যায় তাহলে ভালো আর যদি এর ব্যতিক্রম ঘটে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী।

এবার আসুন আলোচনার এ পর্যায়ে কি খেলে হাড় জোড়া লাগে এবং হাড় জোড়া লাগানোর উপায় সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

যাতে করে ভেঙে যাওয়া হাড়জোড়া লাগাতে উপায় হিসেবে কোন একটা মাধ্যম বেছে নিতে পারেন এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাড়কে আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হোন। ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে সম্পর্কে জানার পর এবার আমরা কি খেলে হাড় জোড়া লাগে সে সম্পর্কে জানবো।

কি খেলে হাড় জোড়া লাগে? কি কি খেলে হাড় জোড়া লাগে

ভেঙে যাওয়া হাড় জোড়া লাগানোর জন্য অবশ্যই পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরী। বিশেষ করে যে সকল খাবারে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং প্রোটিন রয়েছে। কেননা এই খাবারগুলি হাড়ের শক্তি ও ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তাই অবশ্যই খাদ্য তালিকায় এই পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার গুলো রাখার চেষ্টা করবেন। বিষয়টি আরো ক্লিয়ারলি জানতে নিচের পয়েন্ট গুলো পড়ুন। কেননা সাধারণত নিম্ন বর্ণিত খাবার গুলো ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

১। দুধ এবং দুগ্ধ জাতীয় খাবার ২। মাছ ও মাছের তেল ৩। সবুজ শাক, বিশেষ করে পালং শাক ৪। গরুর মাংস ও মাংস জাতীয় অন্যান্য খাবার ৫। ডিম এবং মাছ (সার্ডিন মাছ) ৬। শ্যালমন মাস ৭। সিমের বিচি আঙ্গুর ফল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভিটামিন সি জাতীয় ফল এবং পার্সলে সহ প্রভৃতি খাবার।

এই সকল খাবার ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেননা ইতোমধ্যে চিকিৎসকরা বলেছেন প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ভিটামিন সি, আয়রন পটাশিয়াম জাতীয় খাবার গুলো ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগার কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

তাই সব সময় চেষ্টা করুন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করার পাশাপাশি হাড় ভাঙ্গা রোগীর খাদ্য তালিকায় রাখা খাবারগুলো খাওয়ার চেষ্টা করবার। এতে করে আপনার ভেঙে যাওয়া হার দ্রুত জোড়া লাগবে বলে আশা করা যায়।

হাড় ভেঙে গেলে কি কি খাবার খাওয়া উচিত

ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর জন্য ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম, কোলাজেনের মতো পুষ্টির প্রয়োজন।আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন খাবারে এই পুষ্টি উপাদানগুলো রয়েছে।

কলায় প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা হাড়ের গঠনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি যদি হাড় মজবুত রাখতে চান এবং ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগিয়ে দ্রুত সেরে উঠতে চান, তাহলে নিয়মিত আপনার ডায়েটে কলা রাখুন। ডিম ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ,এবং এই ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম হাড় ভাঙ্গার পরে তা নিরাময় করতে সাহায্য করে।

আপেল ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এই দুটি উপাদানই শরীরে কোলাজেন তৈরি করে ভাঙা হাড় জোড়া লাগাতে সাহায্য করে। আপেল আপনাকে নতুন হাড়ের টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করতে পারে। পালং শাক ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ, যা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগাতে সাহায্য করে।

সয়াবিন প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামের একটি ভাল উৎস, তাই এটি হাড়কে শক্তিশালী করতে পারে। সয়াবিন ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগাতে সাহায্য করে বলে প্রমাণিত। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে সয়া-ভিত্তিক পণ্যগুলি খাওয়া হাড়কে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।

ভাঙ্গা হাড়ের জন্য দুগ্ধজাত খাবার প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামের একটি ভাল উৎস, যা হাড়ের শক্ত এবং মজবুত করতে সাহায্য করে, পনির এবং দুধে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে। এটি হাড়ের পাশাপাশি পেশীকে মজবুত করে।

হাড় ভেঙে গেলে কি কি খাবার খাওয়া উচিত নয়

এখানে এমন খাবারের একটি তালিকা রয়েছে যা আপনার হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে এবং আপনার হাড়ের অবস্থার উপর নির্ভর করে সীমিত বা সম্পূর্ণ এড়ানো উচিত। চলুন তাহলে হাড় ভেঙে গেলে কি কি খাবার খাওয়া উচিত নয় তা জেনে নিইঃ

হাড় ভেঙে গেলে খাদ্য তালিকায় মূলত কোন কোন খাবার রাখা জরুরি সেটা ইতোমধ্যে আমরা সাজেস্ট করেছি। এখন কথা হচ্ছে হাড় ভেঙে গেলে কি কি খাবার খাওয়া উচিত নয় বা হাড় ভেঙে গেলে কি কি খাবার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত? এক্ষেত্রে আমরা মূলত ধূমপান করা (পান, সিগারেট, জর্দা) এবং অ্যালকোহল জাতীয় খাবার গুলো এড়িয়ে চলার জন্য সাজেস্ট করব।

লবণাক্ত খাবারঃ আপনি যত বেশি লবণ খাবেন, শরীর থেকে ততবেশি ক্যালসিয়াম হারাবেন। তাই ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে আপনাকে অবশ্যই অত্যাধিক লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগাতে নোনতা খাবার সীমিত করা এবং কম লবণ যুক্ত খাবার বেছে নেওয়া হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

আয়রন সমৃদ্ধ খাবারঃ যদিও আয়রন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, কিন্ত অত্যধিক পরিমাণে আয়রন আমাদের হাড়ের জন্য ভালো নয়। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের সাথে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া হলে আয়রন ক্যালসিয়াম শোষণে হস্তক্ষেপ করে এবং হাড়ের ক্ষয় ঘটায়। তাই, অতিরিক্ত পরিমাণে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলা উচিত এবং ক্যালসিয়ামের শোষণকে সর্বাধিক করার জন্য ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।

কার্বনেটেড পানীয়ঃ অত্যধিক কার্বনেটেড পানীয় গ্রহণ করা, যেমন সোডা এবং কোমল পানীয়, হাড়ের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি কার্বনেটেড পানীয়তে উপস্থিত ফসফরিক অ্যাসিডের উচ্চমাত্রার কারণে হয়ে থাকে।

কার্বনেটেড পানীয়ের ফসফরিক অ্যাসিড রক্তে অ্যাসিডিটির মাত্রা বাড়ায়। এটি রক্তের অ্যাসিডিটির মাত্রা কমাতে শরীরকে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম অপসারণ করতে পরিচালিত করে। ফলস্বরূপ, হাড়ের খনিজ ঘনত্ব হ্রাস পায় এবং হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

মিষ্টি জাতীয় খাবারঃ বেশি পরিমাণে চিনি খাওয়া অবশ্যই হাড়ের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। তাই হাড়ের স্বাস্থ্যকে সঠিক রাখতে চিনি সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই তবে প্রাকৃতিক চিনি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করতে পারেন।

ক্যাফেইন জাতীয় খাবারঃ কফি, চা এবং কিছু কোমল পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে। অত্যধিক ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় গ্রহণ করা শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণ করার ক্ষমতা হ্রাস করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। যখন ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফিন খাওয়া হয়, তখন প্রায় ৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম নষ্ট হয়ে যায়।

ক্যাফিনের সাথে চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া হাড়ের স্বাস্থ্যের উপর বেশি প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে মেনোপজ পরবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রে। যদি আপনার দৈনিক ক্যাফেইন গ্রহণ ৪০০ মিলিগ্রামের বেশি হয়, তাহলে আপনার হাড় দুর্বল হয়ে যায় এবং আপনি হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকিতে থাকেন।

পাশাপাশি অবশ্যই শরীরের পুষ্টি চাহিদা বিনাশ করে যে সকল অস্বাস্থ্যকর খাবার সে সকল খাবার গুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। কেননা হাড় ভাঙ্গার ঔষধ সেবন করার চাইতেও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দ্রুত ভাঙ্গা হাড়কে জোড়া লাগতে সাহায্য করে থাকে।

হাড় ভেঙে গেলে কি কি খাবার খাওয়া উচিত নয় এই বিষয়ে কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলে তারা আরো এই সম্পর্কে বিস্তারিত আপনাকে বুঝিয়ে বলবে। সুতরাং আপনার উচিত অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা। এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর জন্য এমন কোন দোয়া রয়েছে কিনা!

ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর দোয়া

ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর দোয়া রয়েছে কিনা এ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ইসলাম ধর্মাবলম্বীর মানুষ। কেননা এখনো পর্যন্ত অনেকেই এই সকল দোয়া পড়লাম পাঠ করে বিভিন্ন ঝারা ফু নিয়ে থাকেন। আবার এতে করে অনেকে সেরেও যায় এমনকি এ বিষয়গুলো সে সকল মানুষরা খুবই বেশি বিশ্বাস করেন।

সত্যি বলতে এমন কিছু দোয়ার কথা কোরআন ও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে বটে। আর তাই যদি আপনার হাড় কোন কারনে ভেঙে যায় তাহলে দেরি না করে নিম্নলিখিত দোয়াটি পাঠ করতে পারেন: "اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ، أَذْهِبِ الْبَأْسَ، وَاشْفِ، أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سَقَمًا"

এই দোয়ার অর্থ হল: "হে আমাদের আল্লাহ, আমার রোগকে দূর করুন, চিকিৎসা করুন। আপনি একমাত্র শক্তিশালী। আর কোন চিকিৎসা নেই আপনার চিকিৎসা বাদে। আমার স্বাস্থ্য, যা কোন রোগই অবরোধ করতে পারে না বলে আমি বিশ্বাস করি। আমাকে দ্রুত সুস্থতা দান করুন আমীন।

এছাড়াও হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম বার্ধক্যে উপনীত হলে তার হাড় দুর্বল হতে শুরু করেছিল। তখন তিনি মহান আল্লাহর কাছে এ নিম্ন বর্ণিত দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য চেয়েছিলেন। আর তাহলো- قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا

উচ্চারণ: ‘(ক্বালা) রাব্বি ইন্নি ওয়াহানাল আজমু মিন্নি ওয়াশতাআলার রাসু শাইবাও ওয়া লাম আকুন বিদুআয়িকা রাব্বি শাকিয়্যা।’ (সুরা মারইয়াম : আয়াত ৪)

অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমার অস্থি বাধ্যকের (বয়স ভারে) কারণে দুর্বল হয়ে গেছে। আমার মস্তক শুভ্রোজ্জ্বল হয়েছে। হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনও বিফল হইনি।’

সুতরাং যাদের হাড়ের ক্ষয় রোগ আছে কিংবা ব্যথা আছে, তারা এটি দোয়াটিও নিয়মিত পড়তে পারেন। বিশেষ করে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর এ দোয়া পড়ার জন্য উপযুক্ত।

একনিষ্ঠ নিয়তে নিয়মিত এ দোয়া পড়লে মানুষ হাড়ের ক্ষয়রোগসহ ব্যথা বেদনায় স্বস্তি লাভ করবে এবং ভেঙে যাওয়া হাড় জোড়া লাগবে ইনশাআল্লাহ। এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর জন্য কি কি হাড় ভাঙ্গার ঔষধ রয়েছেঃ

হাড় ভাঙ্গার ঔষধ | পায়ের পাতার হাড় ভাঙ্গার চিকিৎসা

হাড় ভাঙ্গার ঔষধ মূলত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরবর্তীতে সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিছু বিষয় মাথায় রেখে খুব সহজেই ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানো যায়। এমনকি ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর জন্য বেশ ঔষধি গাছ রয়েছে যেগুলো অনেকেই ব্যবহার করে।

তবে হ্যাঁ ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে আপনি কেবলমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া উপর ভিত্তি করে সঠিক ঔষধ ও ডোজ গ্রহণ করবেন। কারণ হাড় ভাঙ্গা জোড়া সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন সন্ধিতে আক্রমণ, অস্থি সংক্রমণ, অস্থি সংক্রমণের ফলে হাড়ের ভাঙ্গা বা ভেঙ্গে যাওয়া ইত্যাদি।

সে জন্য উচিত ঔষধ সেবন করার আগে অবশ্যই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। এছাড়াও, কিছু সাধারণ প্রকারের ঔষধ হতে পারে যেগুলো হাড় ভাঙ্গা জোড়া লাগানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। এই ধরনের ঔষধগুলো প্রধানত ব্যবহার হয় প্রতিষ্ঠানিক চিকিৎসার জন্য এবং সাধারণত চিকিৎসা বা শস্যাগত ব্যবসায়ে সক্রিয় লোকদের জন্য সুলভভাবে তা পাওয়া যায় না।

তবে আপনি যদি কোনভাবে ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর ওষুধ সংগ্রহ করেও ফেলেন তবুও অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক ঔষধ নির্বাচন করবেন অতঃপর ঔষধ খাবেন। নইলে হিতে বিপরীত হতে পারবে বিষয়টা অবশ্যই মাথায় রাখবেন।

পায়ের হাড় ফেটে গেলে করণীয়

ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে সম্পর্কে জানার পর আমরা আর্টিকেল এই অংশে পায়ের হাড় ফেটে গেলে করণীয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। যদি পায়ে হাড় ফেটে যায় অথবা হাড় ভেঙ্গে যায় এমতাবস্থায় সকল প্রকার নড়াচড়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অর্থাৎ একেবারেই প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়া করা যাবে না। 

প্রয়োজনে উক্ত স্থানটিতে লাঠি কিংবা তক্তা দিয়ে বেধে রাখতে হবে। এই কাজটি করার ফলে ভেঙ্গে যাওয়া জায়গাটি পুনরায় নতুন কোনো আঘাত থেকে রক্ষা পাবে। তবে হ্যাঁ অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন রক্তসঞ্চালন কোনোভাবেই বন্ধ হয়ে না যায়। 

পায়ের হাড় ফেটে যাওয়া রোগীকে অবশ্যই যথেষ্ট আরামদায়ক অবস্থাতে রাখতে হবে। প্রয়োজনে আপনি ভাঙ্গা জায়গায় বরফ লাগাতে পারেন। বরফ লাগানোর ফলে ব্যাথা খানিকটা কমে যাবে।

পায়ের হাড় ফেটে যাওয়ার ফলে প্রচন্ড ব্যাথার ফলে রোগী বমি করতে পারে। যদি এমন হয় তবে রোগীকে অতিরিক্ত নড়াচড়া না করে যথটা সম্ভব বাম কাত করে নিয়ে বমি করান। যাতে করে এসকল বাহির হয়ে আসা খাবারগুলি ফুসফুসে ঢুকতে না পারে। যদি খাবার গুলি রোগীর ফুস্ফুসে প্রবেশ করে তবে রোগীর অবস্থা আরো বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠবে। 

আবার যদি রোগী অচেতন বা রোগী অজ্ঞান হলে বারবার রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করতে থাকুন এবং প্রয়োজনে রোগীর বুকে চাপ দিয়ে সিপিআর অথবা কৃত্রিম ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস দিতে থাকুন। 

রোগী যদি চেতন থাকেন তাহলে প্রচন্ড ব্যাথায় কাতরাতে থাকবেন। এমন অবস্থাতে রোগীকে মানসিক আশ্বাস দিন এবং তাকে মানসিক ভাবে শক্ত রাখুন এবং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন।

পায়ের হাড় ফেটে বা ভেঙ্গে যাওয়া রোগী একটু সুস্থ হয়ে গেলে তাকে কয়েকমাস সরাসরি হাটাহাটি করা থেকে বিরত রাখুন। প্রয়োজনে ক্রাচ কিংবা হুইল চেয়ারের সাহায্য দিন।

কিভাবে বুঝব হাড় জোড়া লাগছে

যদি আপনি জানতে চান যে কিভাবে বুঝব হাড় জোড়া লাগছে তবে আমি আপনাকে এই প্রশ্নের উত্তরে বলবো সর্বপ্রথম আপনি নিকটস্থ কোনো চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র গিয়ে যে অংশটি ভেঙ্গে গিয়েছে আপনার সেই অংশের একটি ডিজিটাল এক্স-রে করিয়ে নিন।

ভাঙ্গা অংশটির এক্সরে রিপোর্ট দেখে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার হাড় জোড় লাগছে কিনা। আমার মনে হয়না এর থেকে সহজ উপায় আছে হাড় জোড়া লাগছে কিনা তা জানার জন্য।

পায়ের পাতার হাড় ভাঙ্গার চিকিৎসা

পায়ের পাতার হাড় ভাঙ্গার চিকিৎসার জন্য প্রথমে গোড়ালি থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত লম্বা একটি কাঠের তক্তা নিয়ে নিন। তারপরে ব্যান্ডেজের সাহায্যে তক্তাটিকে পায়ের সঙ্গে ভালো ভাবে বেঁধে নিন। এরপর আরেকটি ব্যান্ডেজ এর সাহায্যে পায়ের গোড়ালি সহ পায়ের পাতাকে পেঁচিয়ে নিন।

অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে, পা যেন সব সময় একটু উঁচুতে থাকে। যেভাবে রোগী আরামবোধ করে সেভাবে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর ঔষধ - ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর হোমিও ঔষধ

আপনি যদি ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর জন্য হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খেতে চান, তবে এর জন্য Symphytum Officinale Mother Tincture নামে একটি ওষুধ খুবই কার্যকর। এই ওষুধটি আপনার হাড়কে দ্রুত জোড়া লাগাতে সাহায্য করবে কারণ এটি হাড়ের মধ্যে মজ্জা তৈরি করতে কাজ করে। এ ছাড়া এই ওষুধটি ব্যথা কমানোর পাশাপাশি প্রদাহ কমায়।

এই ওষুধ থেকে উপকার পেতে হলে আপনাকে দিনে ৩ বার আধা গ্লাস পানিতে 20 ফোঁটা ওষুধ খেতে হবে। এছাড়াও AT Tabs SBL, Hypericum Perforatum, Ledum Palustre, Rhus Toxicodendron ইত্যাদি হোমিওপ্যাথিক ওষুধও ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর জন্য বেশ উপকারী।

পায়ের হাড় ভাঙ্গা অপারেশন খরচ

আমাদের দেশে হাড় ভাঙ্গা অপারেশন খরচ গড়ে ৫০০০ টাকা থেকে ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি মূলত রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে। তাই আপনি যদি পায়ের হাড় ভাঙ্গা অপারেশন খরচ সম্পর্কে জানতে চান তবে আপনি আনুমানিক ৫০০০ হাজার টাকা থেকে ৫০,০০০ টাকা হিসাবে রাখতে পারেন। এখানে উল্লেখ করা পায়ের হাড় ভাঙ্গা অপারেশন খরচ কমবেশি হতে পারে।

হাড় ভাঙ্গা রোগীর খাবার

হাড় ভাঙ্গার পরে, এটি জোড়া লাগতে অনেক সময় লাগে। এমন পরিস্থিতিতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সমৃদ্ধ এবং হাড়কে মজবুত করে এমন খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই পুষ্টিগুলি আমিষ খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে থাকে, কিন্তু যখন নিরামিষ খাবারের কথা আসে, তখন লোকেরা কী খাবে তা নিয়ে চিন্তায় থাকে।

ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে আর্টিকেলের এই অংশে আমরা আপনাকে সেই খাবারগুলি সম্পর্কে বলতে যাচ্ছি যেগুলি হাড় ভাঙ্গার পরে খাওয়া যেতে পারে। আসুন জেনে নিই এই খাবারগুলো সম্পর্কেঃ

কলা ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস। ম্যাগনেসিয়াম হাড় এবং দাঁতের গঠন গঠনের জন্য একটি অপরিহার্য ভিটামিন। হাড় মজবুত করতে প্রতিদিন কলা খেতে হবে। প্রতিদিন একটি কলা দুর্বল হাড়ের সমস্যা সমাধানে কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত।

আনারসঃ খাওয়ার ফলে ব্যথা ও ফোলা সমস্যায়ও দ্রুত উপশম পাওয়া যায়। আসলে আনারসে একটি বিশেষ উপাদান আছে যাকে বলা হয় ব্রোমেলাইন। এই উপাদানটি প্রদাহকে মেরে ফেলে। এ ছাড়া আনারসে ভিটামিন সি-এর পরিমাণও ভালো। তবে এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল আপনার তাজা আনারস খাওয়া উচিত, প্যাকেটজাত বা কাটা আনারস নয়।

দুগ্ধজাত পণ্যঃ দুধ, দই এবং পনিরের মতো পণ্যগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। যা হাড়ের মজবুত ও গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন। এক কাপ দুধ এবং এক কাপ দই ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস যা আপনি প্রতিদিন খেতে পারেন।

পালং শাকঃ ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ সবুজ শাক হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করতে পারে। এক কাপ রান্না করা পালং শাক শরীরের প্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের প্রায় ২৫% যোগান দিতে পারে। এছাড়াও ফাইবার সমৃদ্ধ পাতায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ভিটামিন এ রয়েছে।

কমলালেবুঃ আপনি কি জানেন যে তাজা কমলার রস শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সরবরাহ করে, যা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত কমলালেবুর রস খেলে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকিও কিছুটা কমানো যায় বলেও বলা হয়।

বাদামঃ বাদামকে বলা হয় পুষ্টির ভাণ্ডার। ক্যালসিয়াম ছাড়াও, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস। ম্যাগনেসিয়াম শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে এবং হাড়কে মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

চর্বিযুক্ত মাছঃ ফ্যাটি মাছ অর্থাৎ তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টি-অক্সিডেটিভ, অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এছাড়াও, চর্বিযুক্ত মাছ ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের উত্স হিসাবে বিবেচিত হয়। এর ব্যবহারে হাড় মজবুত হয়।

স্ট্রবেরিঃ স্ট্রবেরিতে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে বলে জানা যায়। এগুলি ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাসিয়াম, ভিটামিন-কে এবং ভিটামিন সি এর মতো পুষ্টিতে সমৃদ্ধ, যা হাড়ের গঠন গঠনে সহায়তা করে।

সয়াবিনঃ বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিনে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এর ব্যবহারে হাড় মজবুত হয়। এই জন্য, আপনার খাদ্যতালিকায় অবশ্যই সয়াবিন অন্তর্ভুক্ত করুন।

হাড় ভেঙ্গে গেলে ভুল করেও এই ভুলগুলো করবেন না

হাড় ভাঙ্গার পর মানুষ এমন অনেক ভুল করে, যার কারণে হিতে-বিপরীত হতে পারে। সেই ভুলগুলো কী, যা হাড় ভাঙ্গা পর কখনোই করা উচিত নয়, আসুন জেনে নিন।

প্রথম ভুলঃ হাড় ভাঙ্গার পর কেউ কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন না। আশেপাশের কবিরাজের কাছে থেকে পরামর্শ নেয়। এমন অবস্থায় এক বা দুই মাস পর যখন স্ট্র্যাপটি অপসারণ করা হয়, তখন হাড়টি জোড়া থাকতে পারে, তবে এটি সঠিক অবস্থানে বসে না। হাড় ভাঙ্গার আগে আপনার হাত বা পা যে ক্ষমতা দিয়ে কাজ করত তা আর পরে আর একই কাজ করে না। এমতাবস্থায় দেখা যায় কখনো কখনো হাড় সারাজীবন বিকৃত থাকে।

দ্বিতীয় ভুলঃ ডাক্তারের পরামর্শ পুরোপুরি না মেনে চলা। চিকিৎসকরা দুটি উপায়ে ভাঙ্গা হাড়ের চিকিৎসা করেন। হয় প্লাস্টার প্রয়োগ করে অথবা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। উভয় ক্ষেত্রেই ১ থেকে দেড় মাস যত্ন নিতে বলা হয়। অস্ত্রোপচারের পর ওষুধ ও ব্যায়াম করতে বলা হয়।

যেখানে অপারেশন করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়। সঠিকভাবে যত্ন না নেওয়ার কারণে আপনার সংক্রমণ হতে পারে। পার্শ্ববর্তী জয়েন্টগুলি শক্ত হতে পারে। প্লাস্টারের ক্ষেত্রে সঠিক যত্ন না নিলে হাড় তার জায়গা থেকে সরে যেতে পারে এবং ঠিকমতো যুক্ত হতে পারে না।

তৃতীয় ভুলঃ খাবারে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি এর পরিমাণ কম থাকে। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সাপ্লিমেন্ট হাড় ভাঙ্গার পর দেওয়া হলেও অনেক সময় এদের উৎস যেমন দুধ, সবুজ শাকসবজি, ডিম খাবারে কম থাকে।

চতুর্থ ভুলঃ দীর্ঘ সময় মদ, সিগারেট, তামাক সেবন। হাড় ভাঙ্গা পর তা কমিয়ে আনতে হবে। এই জিনিসগুলি হাড় যোগ করার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এ কারণে হাড় না যুক্ত হওয়া বা সময়মতো জোড়া না লাগার মতো সমস্যা হয়।

পঞ্চম ভুলঃ হাড় ভাঙ্গার পর কয়েকদিন পর পর ডাক্তাররা চেকআপের জন্য ডাকলেও রোগী যায় না। হাড় ভাঙ্গার পর, রুটিন আগের মতো হতে ৪ থেকে ৬ মাস সময় লাগতে পারে। সেই সময়ে আপনাকে রুটিন বিরতিতে হাসপাতালে যেতে হবে।

যাতে হাড়ের জোড়া লাগানোর প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যায়। এর মধ্যে যদি কোনো ওষুধ পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তাহলে চিকিৎসক জানান। যাতে হাড়ের সাথে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। নিয়মিত চেকআপের জন্য যেতে হবে।

আপনি কি জানেন কোন ভুলগুলো আপনাকে এড়াতে হবে। কিন্তু ফিজিওথেরাপিস্টরা কী কী টিপস দেন যা হাড় ভাঙ্গার পর মানুষকে দেন, যাতে ঠিকমতো ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে পারে। চলুন জেনে নিই ফিজিওথেরাপিস্ট ডাঃ নিশান্তের কাছ থেকে।

যখন প্লাস্টার বাঁধা হয়, তখন চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন বাদাম, সবুজ শাকসবজি, দুধ, পনির ইত্যাদি। হাড়ে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে হাড় দ্রুত জোড়া লাগে।

রোগীর কখনই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া লাগানো প্লাস্টার, ব্যান্ডেজ বা ব্রেস অপসারণ করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ওই স্থানে কোনো পদার্থ দিয়ে ঘষে মালিশ করা উচিত নয়, টেনে সোজা করা উচিত নয়।

যদি সেই জয়েন্টে কোন নড়াচড়া না হয়, তবে আপনি নিজে থেকে এটি বাঁকানোর চেষ্টা করবেন না। সূর্যস্নান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাড়ের ভিটামিন-ডি বজায় রাখতে সূর্যের আলো প্রয়োজন। এ থেকে পাওয়া যায় ভিটামিন ডি-৩। আরো পড়ুনঃ কোন জায়গায় গেলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়

পরিশেষেঃ ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে

তো সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে এবং ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগার বিষয়বস্তু সম্পর্কিত আলোচনার ইতি টানছি এখানেই। ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে কতদিন সময় লাগে আর্টিকেলটি পড়ার পর আপনার যদি কোন ধরনের প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচে দেওয়া কমেন্ট সেকশনে আমাদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন পরবর্তীতে আবার নতুন টপিকের নতুন কোন আলোচনায় আপনাদের সাথে কথা হবে। সবাইকে আল্লাহ হাফেজ। প্রিয় পাঠক উপরোক্ত বিষয় সমুহ পড়ার পর আপনি সরাসরি হাড় ভাঙ্গা অপারেশন ভিডিও দেখতে চান তবে ইউটিউবে গিয়ে অনেক ভিডিও দেখতে পারবেন এবং সেখান থেকে দেখুন।

পোষ্ট ক্যাটাগরি: