Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2021/04/mobile-banking-in-bangladesh-2021.html

মোবাইল ব্যাংকিং কি | মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা | মোবাইল ব্যাংকিং বাংলাদেশ

মোবাইল ব্যাংকিং কি — ইন্টারনেট আবির্ভাবের ফলে বিভিন্ন সেক্টরে যোগাযোগ এবং লেনদেন আরো বেশি সহজ থেকে সহজতর হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং এই ব্যাংকিং সেক্টরের মধ্যে অনেক রূপান্তর ঘটিয়েছে। যেখানে একজন রেজিস্টারকৃত ব্যবহারকারী তার নিজের স্মার্টফোনের মাধ্যমে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সমস্ত সার্ভিস সহ সুবিধা গুলো নিজের মোবাইলফোন থেকেই অ্যাক্সেস করার সুযোগ পাবেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা মোবাইল ব্যাংকিং কি, মোবাইল ব্যাংকিং কয়টি, মোবাইল ব্যাংকিং বাংলাদেশ, মোবাইল ব্যাংকিং রচনা, ই ব্যাংকিং কি, মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

মোবাইল ব্যাংকিং কি | মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা | মোবাইল ব্যাংকিং বাংলাদেশ

ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং হচ্ছে একটি ডিজিটাল ব্যাংকিং সার্ভিস। যা কোন ব্যাংক অথবা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের বা অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের প্রদান করে থাকে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা ই ব্যাংকিং হচ্ছে এমন একটি সার্ভিস যা রিমোটলি স্মার্টফোন অথবা ট্যাবলেট থেকে মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে ব্যাংকিং এর সার্ভিস গুলো অ্যাক্সেস করার সুযোগ পারবেন।

ইন্টারনেট মোবাইল ব্যাংকিং কি

মোবাইল ব্যাংকিং বা ই-ব্যাংকিং বর্তমান সময়ে এমন একটি সার্ভিসে পরিণত হয়েছে যা দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ধারনা করা হচ্ছে ফিউচারে এই সেক্টরটি আরো বেশি প্রসারিত হবে সেটা এই প্রযুক্তির অগ্রগতি থেকেই বোঝা যায়। বর্তমান সময়ে লাখ লাখ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সাথে সংযুক্ত হচ্ছে।

আপনি যদি কোন ব্যাংকিং গ্রাহক হয়ে থাকেন তাহলে মোবাইল ব্যাংকিং সম্পর্কে ধারণা রাখা আপনার জন্য একান্ত প্রয়োজন। কেননা এই প্রযুক্তির মধ্যে এমন কিছু ফিচার বা সুবিধা আছে যেগুলো আপনার দরকারি সময়ে কাজে আসবে। আর তাছাড়া একবার দেখে নিলেই আপনি খুব সহজেই মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস গুলোর ব্যবহার অনায়েছে করতে পারবেন। মোবাইল ব্যাংকিং হচ্ছে এমন এক ধরনের সার্ভিস যেখানে ব্যাংকিং সম্পর্কিত যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন নিজের স্মার্টফোন অথবা ট্যাবলেটের সাহায্য করতে পারবেন।

ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের সার্ভিস গুলো অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের দেয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে। আর সেই অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা ২৪ ঘন্টা ৭ দিন সেই সার্ভিস গুলো রিমোটলি স্মার্টফোন অথবা ট্যাবলেট দ্বারা অ্যাক্সেস করতে পারে। আন্ড্রয়েড অ্যাপের আবির্ভাব হওয়ার কারনে মোবাইল ব্যাংকিং খুবই পরিচিত হয়েছে। বর্তমানে দেশের বহু মানুষ এই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করছেন।

আরও পড়ুনঃ বিকাশ অফার ২০২১ | নতুন বিকাশ একাউন্ট অফার 2021

মোবাইল ইন্টারনেট ব্যাংকিং ইতিহাস | বাংলাদেশে সর্বপ্রথম মোবাইল ব্যাংকিং চালু করে কোন ব্যাংক

আগে মোবাইল ব্যাংকিং সাধারণত এসএমএস sms এর মাধ্যমে করা হতো, পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে স্মার্টফোনের আবির্ভাবের পর ইউরোপীয় ব্যাংক গুলো তাদের অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের বা ব্যাংক গ্রাহকদের প্রথম মোবাইল ব্যাংকের সুবিধা প্রদান করে। মোবাইল ব্যাংকিং বা ই ব্যাংকিং সাধরণত ২০১০ সালের আগে এসএমএস SMS এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই পরিচত ছিলো। কিন্তু জনগনের মধ্যে আন্ড্রয়েড স্মার্টফোন এবং আইফোন ফোনের প্রবর্তন বৃদ্ধি পেলে এই সকল ফোনে অ্যাপের চাহিদা সৃষ্টি হয়। 

তারপর পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং সংস্থাগুলো জনগনের চাহিদার কথা মাথাই রেখে তারা মোবাইল অ্যাপের উপর ভিত্তি করে ব্যাংকের সার্ভিস প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২০১১ সালে Royal Bank of Scotland প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণরূপে কার্যকর Functional Banking App লঞ্চ করে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম মোবাইল ব্যাংকিং চালু করে কোন ব্যাংক ২০১০ সালে ডাচ বাংলা ব্যাংক সর্বপ্রথম Internet Payments Gateway System সার্ভিস গ্রাহকদের জন্য চালু করে।

মোবাইল ব্যাংকিং বাংলাদেশ | মোবাইল ব্যাংকিং কয়টি

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে অনেক কয়েকটি ব্যাংকিং সংস্থা তাদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সার্ভিস প্রদান করে থাকে। নিম্নে আমরা কয়েকটি বাংলাদেশের সকল মোবাইল ব্যাংকিং পরিচিত ব্যাংকিং সংস্থার নাম জানবো। হয়তোবা এই সকল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান গুলোর নাম আপনাদের অনেক এই জানেন। তাই আপনাদের যে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করা আছে সেই সংস্থা মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা প্রদান করে থাকে কিনা জেনে নিন।

  • রকেট Rocket- বাংলাদেশে ডাচ বাংলা ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং এর সেবা ২০১১ সালে মে মাসে শুরু করে। এই ব্যাংকের আন্ড্রয়েড অ্যাপ Android App আপনি গুগল প্লে স্টোরে পেয়ে যাবেন।
  • বিকাশ bKash- ব্রাক ব্যাংক লিঃ এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ২০১১ সালের জুলাই মাসে বিকাশ এর যাত্রা শুরু হয়। বিকাশ অফার ২০২১ সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন
  • নগদ Nagad- বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন করার জন্য ডাক বিভাগ থেকে পরিচালিত নগদ খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। 
  • শিউর ক্যাশ Sure Cash - বাংলাদেশে সরকারি ব্যাংক গুলোর মধ্যে রুপালি ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষ থেকে সিউর ক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ২০১৮ সালে চালু করে।
  • ইউ ক্যাশ ucash- ইউসিবি ব্যাংক নভেম্বর ২০১৩ সালে ইউ ক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে।
  • My Cash- মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাই ক্যাশও জনসাধারণের কাছে পরিচিতি লাভ করছে। Mycash মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে ফেবুয়ারী মাস ২০১২ সালে।
  • ওকে Ok One Bank- ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষ থেকে ওকে এর সেবা চালু করে ২০১৩ সালে অক্টোবর মাসে।
  • টি ক্যাশ t-cash- ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এর পক্ষ থেকে ২০১৮ সালে টি ক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে।
  • এম ক্যাশ m cash app- ইসলামিক ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৯ সালে এম ক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে।

আরও পড়ুনঃ Cellfin অ্যাপ কি | কিভাবে Cellfin একাউন্ট করবেন

বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের নিজস্ব সেবা প্রদানের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ বের করেছে। আপনারা সেই অ্যাপ গুলো গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে নিজের স্মার্টফোনে ইনস্টল করে নিয়ে তাদের সার্ভিস গুলের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

উপরোক্ত যে কয়েকটি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ সম্পর্কে আলোচনা করলাম,তাদের মধ্যে বিকাশ, রকেট বর্তমান সময়ে বহু প্রচলিত। বর্তমান সময়ে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড এর পক্ষ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ এবং ডাচ-বাংলা লিমিটেড এর পক্ষ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রকেট এই ২টি ব্যাংকের প্রচার প্রচারণা আপনি বাংলাদেশের সর্বস্তরে দেখতে পাবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেক্টরে বিকাশ ও রকেট এই ২টি মোবাইল ব্যাংকের রাজত্ব চলছে। তবে ধীরে ধীরে নগদ, শিওর ক্যাশ, এম ক্যাশ, টি ক্যাশ, মাই ক্যাশ এদের সেবা গুলো খুবই বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। বাংলাদেশের জনসাধারণ মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে কতটা আগ্রহী তা এই অ্যাপ্লিকেশান গুলো ব্যবহার করা থেকে বোঝা যায়। সেইদিন আর বেশি দূরে নেই যখন মানুষ ব্যাংকে যাওয়া ছেড়ে দেবে। তখন ঘরে বসে স্মার্টফোনের মাধ্যমে ব্যাংকের সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ করবে। 

চলুন জেনে নেই মোবাইল ব্যাংকিং এর কি কি সুবিধা রয়েছে-

মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা

একজন ব্যবহারকারী মোবাইল ব্যাংকিং এর সাহায্যে কি কি সুবিধা গ্রহণ করতে পারে, তা সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

  • মোবাইল ব্যাংকিং বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর সাহায্যে গ্রাহক প্রথমেই যে সুবিধা পাবেন সেটি হচ্ছে যেকোন জায়গায়, যেকোন সময় স্মার্টফোনের মাধ্যমে ব্যাংকিং এর যেকোন সেবা বা লেনদেন বিনাবাধায় ৩৬৫ দিন ২৪ ঘন্টায় করতে পারবেন। আপনি দেশের যেখানেই অবস্থান করুন না কেন অথবা যে অবস্থায় থাকুন না কেন দেশের মধ্যে অথবা দেশের বাইরে, ব্যাংকিং এর সুবিধা আপনি সারাক্ষন পেয়ে পাবেন।
  • আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খাতাতে কত টাকা আছে কয় তারিখ কত টাকা লেনদেন করেছেন এবং আপনার অ্যাকাউন্টে কত টাকা ঢুকেছে, কত টাকা বাহির করছেন এই সকল স্টেটমেন্ট গুলো বা হিসাব-নিকাশ এখন নিজের স্মার্টফোন/ট্যাবলেটে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ এর মাধ্যমে নিমিষেই দেখে নিতে পারবেন।
  • একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য আরেকটি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো এখন আপনার কাছে খুবই সহজ হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ এই ফিচারটি শুধুমাত্র বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে একই ধরনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যে।
  • আপনার যদি ব্যাংকে একাধিক একাউন্ট থাকে তাহলে এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে খুব সহজেই টাকা ট্রান্সফার করে নিতে পারবেন।
  • মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস ব্যবহার করে আপনি যেকোনো ইউটিলিটি বিল যেমন; পানি, গ্যাস, ইলেকট্রিক, ইন্টারনেট এছাড়াও মোবাইল রিচার্জ, ট্রেনের টিকিট, ফ্লাইট টিকিট আরও অন্যান্য টিকিট ক্রয় ও বিল পে করতে পারবেন নিমিষেই।
  • আপনার নিজের অ্যাকাউন্টের চেক বইয়ের জন্য অ্যাপ্লাই এবং বাতিল করতে পারবেন।
  • বিকাশ এবং রকেট অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন শপিং করতে পারবেন।
  • যেকোনো দোকানে যারা বিকাশ অথবা রকেট অ্যাপ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করে থাকে সেখানে আপনি পে করতে পারবেন।

মোবাইল ব্যাংকিং এর অসুবিধা

মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ গুলোর একটি খারাপ দিক হলো পাসওয়ার্ড চুরি করে হ্যাকাররা গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তলোন করছে। এই রকম বহু কেস দেখা যাচ্ছে যেখানে বিকাশ, রকেট, নগদ এর অ্যাপের গ্রাহকদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড অথবা লগইন তথ্য অন্য কেউ জেনে নিলে অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও দেশের শুল্ক কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে থাকে। মোবাইল ব্যাংকিং এর দুই একটি অসুবিধে থাকলেও বর্তমান সময়ে আধুনিক সমাজের সুবিধা গুলো দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন থাকছে।

শেষ কথা

ফিউচারে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্মার্টফোনে বা আমাদের হাতের মুঠোয় চলে আসবে। আপনাকে আর ব্যাংকের মধ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না এবং হাতে হাতে টাকা গুনতে প্রয়োজন হবে না সম্পূর্ণ ট্রানজেকশন হবে ক্যাশলেস। আমরা এমন এক প্রযুক্তির জামানায় ধাবিত হচ্ছি যেখানে কাগজের টাকা কি জিনিস বা ক্যাশ সেটা মানুষ জানবেই না।

তো আশাকরি, মোবাইল ব্যাংকিং কি সেই সম্পর্কে আপনাদের একটু ধারনা হয়েছে। আপনি যদি এই সকল ব্যাংকিং সার্ভিস গুলোর সেবা বা সুবিধা গ্রহণ করতে চান তাহলে গুগল প্লে স্টোর থেকে নিজের ব্যাংকের মোবাইলের অ্যাপটি ডাউনলোড করে ফোন ইন্সটল করে নিন এবং রেজিস্টার হয়ে এর সুবিধা গুলো উপভোগ করুন।

আরও পড়ুনঃ ৩০ পয়সা মিনিটে কথা বলার নতুন অ্যাপ Alaap App

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া