কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল

কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল - রাজধানী ঢাকা বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। ঢাকা একটি মেগাসিটিতে পরিণত হয়েছে। নানা কারণে রাজধানী ঢাকায় গেলে আমরা কোথায় থাকবো এই নিয়ে প্রায়ই সমস্যায় পড়ি। থাকার জন্য ভালো মানের হোটেল পাই না।

আমরা যারা ঢাকায় নতুন তারা জানি না কোথায় ভালো মানের হোটেল আছে। আমরা বিভিন্ন দরকারে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করি। বিভিন্ন কাজের জন্য হোক, পরীক্ষার জন্য হোক, ডাক্তার দেখানোর জন্য হোক, অথবা দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার জন্য হোক।

রাজধানী ঢাকায় থাকার ব্যবস্থার যথেষ্ট পরিমাণ অভাব রয়েছে। এই অভাব দূর করতে রাজধানী ঢাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল। এই আবাসিক হোটেলগুলিতে থাকার পাশাপাশি আরাম করার জায়গা রয়েছে।

আপনি যদি প্রথমবারের মতো রাজধানী ঢাকার কোনো হোটেলে রাত কাটাতে চান, তাহলে আমাদের এই আর্টিকেলটি আপনার কাজে লাগবে। কেননা আমরা এখানে আপনাদের জানাতে চলেছি কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল কোনগুলো। আমাদের এই লেখাটি পড়লে আপনি রাজধানী ঢাকার বেশ কিছু হোটেলের তালিকা পাবেন। এবং আমরা হোটেলের ঠিকানা সহ উল্লেখ করার চেষ্টা করব। চলুন জেনে নেওয়া যাক কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল কোনগুলো।

(toc) #title=(সুচিপত্র)

কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল

কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল

আমরা ঢাকায় বিভিন্ন দরকারের জন্য আসি। তখন আমাদের সকলেরই সাশ্রয়ের প্রয়োজন হয়ে থাকে। তার জন্য আমরা সকলেই চিন্তা করি। কম খরচে কিভাবে হোটেল পাওয়া যায়। ঢাকার ভিতরে কম খরচে হোটেল পাওয়াটা খুবই কষ্টসাধ্য হলেও আমরা আপনাদের জানাবো কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল কিভাবে পেতে পারেন। 

ঢাকার আবাসিক হোটেলের ভাড়া প্রতি রাতের জন্য সাধারণত ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা হয়ে থাকে। তবে আবাসিক হোটেলের মান অনুযায়ী এই ভাড়া কম-বেশি হতে পারে। আপনি যদি ঢাকায় একটি সস্তা আবাসিক হোটেল ভাড়া নিতে চান তবে প্রধান সড়কের পাশে বড় বড় হোটেলগুলি এড়িয়ে চলুন। 

ভিতরের দিক থেকে হোটেল ভাড়া করার চেষ্টা করুন। এতে ভাড়া কিছুটা কমবে। সাধারনত ভিতরের দিক থেকে হোটেল ভাড়া নিলে ৫০০ টাকার মধ্যে ডাবল রুম পেয়ে যাবেন। হোটেল ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই রুম আগে দেখে আসবেন। তা নাহলে আপনাকে একটি রুম দেখিয়ে অন্য রুমে থাকতে বাধ্য করবে। এবং হোটেলের রুমের ভাড়া বেশি মনে হলে অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন। কেননা হোটেল মালিকরা যদি বুঝে যায় আপনি প্রথমবার ভাড়া নিতে এসেছেন। তাহলে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভাড়া বেশি রাখার চেষ্টা করবে।

আরো পড়ুনঃ আবাসিক হোটেলে থাকতে কি কি লাগে

ঢাকায় স্বনামধন্য পাঁচটি আবাসিক হোটেল

১। উত্তরা আবাসিক হোটেল

আপনারা অনেকেই ঢাকায় আসেন যেকোনো কাজে। কিন্তু যেহেতু দু-এক দিনের জন্য বাসা ভাড়া করা সম্ভব নয়, তাই আপনি ভালো হোটেলের খোঁজ করেন। আপনি যদি ঢাকা উত্তরায় একটি আবাসিক হোটেল খুঁজে থাকেন, তবে আমি আপনাকে উত্তরায় একটি সুপরিচিত এবং ভাল হোটেল খুঁজতে বলব, উত্তরায় সুপরিচিত হোটেলটি হল হোটেল সিটি হোমস

হোটেল সিটি হোমস: এই হোটেলে মোট ২৬ টি কক্ষ রয়েছে। হোটেলটি মূলত ৪ তলা বিশিষ্ট। নিচতলায় একটি পার্কিং লট , অভ্যর্থনা কেন্দ্র রয়েছে এবং লিফট আছে। দুই থেকে ছয় তলায় বিভিন্ন শ্রেণির কক্ষ এবং ষষ্ঠ তলায় একটি সম্মেলন কক্ষ রয়েছে। এখানে আপনি প্রতি রাতে প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা খরচ করলে ভালো মানের রুম পাবেন। হোটেলের ঠিকানা: সিটি হোমস, বারিণী রোড, সেক্টর-৬, উত্তরা ঢাকা।

আরো পড়ুনঃ ময়মনসিংহ আবাসিক হোটেল ভাড়া কত

২। কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল - হক ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেল

ঢাকার শ্যামলী কল্যাণপুরে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসে। অনেকে ব্যবসায়িক কাজে আসে আবার অনেকে বিভিন্ন দরকারে আসে। এই দু-এক দিন সময়ের জন্য যারা ঢাকায় আসেন তারা কল্যাণপুরের আন্তর্জাতিক আবাসিক হোটেলে থাকতে পারেন।

আন্তর্জাতিক আবাসিক হোটেল হক ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেল শামলীর খুব কাছে এবং ইবনে সিনা হাসপাতালের পাশে। এখানে আপনি প্রতি রাতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ করলে ভালো মানের রুম পাবেন। হোটেলের ঠিকানা: হক ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেল, শ্যামলী, কল্যাণপুর ঢাকা।

৩। কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল - গ্র্যান্ড প্রিন্স হোটেল মিরপুর

মিরপুরের আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে গ্র্যান্ড প্রিন্স হোটেল খুবই ভালো মানের হোটেল। এই হোটেলে প্রতি রাতে ৫০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ করলে ভালো মানের রুম পাবেন। হোটেলের ঠিকানা: গ্র্যান্ড প্রিন্স হোটেল, প্লট নং 06 8 11 ব্লক মেইন রোড 01, মিরপুর বাসস্ট্যান্ড, ঢাকা-১২১৬।

আরো পড়ুনঃ রাজশাহী আবাসিক হোটেল ভাড়া কত

৪। কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল - হোটেল ওয়াশিংটন

গুলশানের আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে হোটেল ওয়াশিংটন অন্যতম। যেখানে প্রতি রাতে রুম ভাড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। হোটেলের ঠিকানা: হোটেল ওয়াশিংটন-৫৬ গুলশান সাউথ এভিনিউ/এ, ঢাকা।

৫। রাজমণি দাস ইন্টারন্যাশনাল হোটেল

কাকরাইলের আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে ‘রাজমণি দাস ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অন্যতম। এই হোটেলে রুম ভাড়া প্রতি রাতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। হোটেলের ঠিকানা: রাজমিন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল হোটেল ৮৯/৩, ভিআইপি রোড, কাকরাইল, ঢাকা।

কাপলদের জন্য আবাসিক হোটেল

কাপলদের ক্ষেত্রে যারা বিবাহিত কাপল। তারা যেকোনো হোটেলে রুম ভাড়া নিতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি হোটেল মালিককে বলেন আপনি অবিবাহিত তাহলে তারা কিছুতেই আপনাদের রুম ভাড়া দিবে না।কেননা অবিবাহিত কাপলদের রুম ভাড়া দেয়া আইননত বৈধ নয়।

সেক্ষেত্রে আপনাদের হোটেল মালিককে স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রুম ভাড়া নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে যদি পুলিশ রেট করে তাহলে সে ক্ষেত্রে হোটেল মালিকদের কোন দোষ থাকবে না। কেননা তারা বিবাহিত ভেবেই আপনাদের রুম ভাড়া দিয়েছিল। তাই অবিবাহিত কাপল হলেও রুম ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদেরকে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়েই রুম ভাড়া নিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ আবাসিক হোটেল ভাড়ার নিয়ম

গুলিস্তান আবাসিক হোটেল ভাড়া

ঢাকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নাম হল গুলিস্তান। গুলিস্তান, ঢাকার প্রাণকেন্দ্র। এখানে অবস্থিত প্রতিটি হোটেল মানুষের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা কাজের জন্য বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি মানুষকে সেখানে যেতে হতে পারে। লোকজন বিভিন্ন দাপ্তরিক ও বেসরকারী কাজে গুলিস্তানে যায় এবং অনেককে সেখানে দীর্ঘ সময় থাকতে হয়।

গুলিস্তানে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। যেখানে আপনি মানসম্মত সেবা উপভোগ করতে পারবেন। এসব আবাসিক হোটেল আধুনিক পরিবেশে তৈরি করা হয়েছে। যেখানে গ্রাহকদের সুবিধার সুযোগ দেয়। তাই সেখানে কয়েকটি আবাসিক হোটেলের নাম নীচে দেওয়া হল।

ফরিদপুর মুসলিম হোটেল: এই হোটেলটি বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বনিম্ন ভাড়ায় চলে। এই হোটেলে গেলে ৩০০ টাকায় এক রাত কাটাতে পারবেন। এমন সুযোগ বাংলাদেশের আর কোথাও পাবেন না। এই হোটেলটি সাধারণ মানুষের জন্য একটি খুব ভাল সুবিধা প্রদান করেছে।

লেকশোর হোটেল: এই লেকশোর হোটেলটি ঢাকার একটি পুরনো হোটেল। আপনি যদি এই হোটেল পরিদর্শনকরতে চান, তবে খুব কম ভাড়ায় থাকতে পারবেন। এই হোটেলে এক রাত কাটানোর জন্য আপনাকে ২০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে। যা অন্যান্য হোটেলের তুলনায় অনেক কম। কোনো সমস্যা ছাড়াই হোটেলে থাকতে পারবেন। তারা আপনার সুবিধার জন্য সব রকমের ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত। আপনি এই হোটেল থেকে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারবেন। তাই গুলিস্তানে এলে আবাসন নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

আরো পড়ুনঃ ঢাকার আশেপাশে ঘোরার জায়গা

ঢাকা এয়ারপোর্ট আবাসিক হোটেল

বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকেই ঢাকা বিমানবন্দরে আসেন। এমতাবস্থায় গভীর রাতে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে এসে অনেকেই ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সাধারণত, বিমানবন্দর এলাকায় হোটেল ভাড়া অন্যান্য এলাকার তুলনায় সামান্য বেশি, তবে আমরা আপনার সুবিধার জন্য দুটি হোটেল সম্বন্ধে বলব। এই দুই হোটেলে আপনি মোটামুটি কম খরচে ভালো সার্ভিস পাবেন।

তাজ গার্ডেন হাউস: তাজ গার্ডেন হাউস হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের খুব কাছে এবং কম দামে ভাল পরিষেবা দেওয়ার জন্য সুপরিচিত। এই হোটেলের বিশেষত্ব হল এর পরিষেবার মান খরচের তুলনায় খুবই ভালো। এই হোটেলে এক রাত থাকার খরচ পড়বে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। কক্ষের বেশ কয়েকটি প্রকার রয়েছে, তাই ঘরের মানের উপর নির্ভর করে দাম বেশি বা কম হতে পারে। ১০০০ টাকায় আপনি একটি ডাবল বেডের বড় রুম, চমৎকার বাথরুম, ব্যালকনি, ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন। 

হোটেল লাব্বাইক: হোটেল লাব্বাইক বিমানবন্দর এলাকায় আরেকটি জনপ্রিয় আবাসিক হোটেল। এই আবাসিক হোটেলে এক রাতের জন্য আপনার খরচ হবে প্রায় 1000 টাকা। এটি বিমানবন্দরের খুব কাছে। বিমানবন্দর থেকে উবার ভাড়া পড়বে মাত্র ১০০ টাকা। ১০০০ টাকায় আপনি একটি ডাবল বেড রুম, ব্যালকনি, বাথরুম এবং এসি রুম সহ একটি ভাল আবাসিক হোটেলের সমস্ত সুবিধা পাবেন। এছাড়া হোটেলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ডিসকাউন্ট ও অফার পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে আপনি কম দামে রুম ভাড়া পাওয়ার আশা করতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ সায়েদাবাদ আবাসিক হোটেল ভাড়া

সায়দাবাদ আবাসিক হোটেল ভাড়া

সায়দাবাদে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল আছে যেগুলো অন্য অঞ্চলের আবাসিক হোটেল থেকে একটু আলাদা বলা যেতে পারে। অন্যান্য হোটেলের তুলনায় সায়দাবাদের আবাসিক হোটেলগুলো বেশ উন্নত। কারণ এটি ঢাকার একটি অংশ যার কারণে এসব আবাসিক হোটেল পরিবেশগত দিক থেকে বেশ উন্নত। তাই এসব হোটেল সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

হোটেলের নাম: হোটেল সানমুন রেসিডেন্স

ভাড়া: ১৬০০ টাকা থেকে ৬৩০০ টাকা

হোটেলের নাম: হোটেল ইন্টারকম

ভাড়া: ১২০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা

হোটেলের নাম: হোটেল মেহরান

ভাড়া: ১৫০০ টাকা থেকে ১৫০০ ৪৮০০ টাকা

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর

আবাসিক হোটেলে ভাড়া নিতে হলে কমপক্ষে কত বছর বয়স হতে হবে?

আবাসিক হোটেলে ভাড়া নিতে হলে কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হতে হবে?

আবাসিক হোটেলে ভাড়া নিতে গেলে এনআইডি কার্ড প্রয়োজন হয়?

আবাসিক হোটেলে ভাড়া নিতে গেলে সাধারণত এনআইডি কার্ড প্রয়োজন পড়ে না। তবে কিছু কিছু ভালো মানের আবাসিক হোটেলে ভাড়া নিতে গেলে এনআইডি কার্ড প্রয়োজন পড়ে।

আবাসিক হোটেলে কি অবিবাহিত কাপল ভাড়া নেওয়া যায়?

অবিবাহিত যুগল ভাড়া দেওয়া আইনত অবৈধ। তবে আপনি চাইলে স্বামী স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে আবাসিক হোটেলে ভাড়া নিতে পারেন। এক্ষেত্রে যদিও সামান্য রিস্ক রয়েছে।

কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল নিয়ে শেষ কথা

আজকের ব্লগে অনেকগুলো কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল এর ঠিকানা সহ সম্ভাব্য খরচ এর তালিকা দেয়া হয়েছে। যেহেতু ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। তাই সব এলাকার লোকজনেরই দু একবার নানা কাজে ঢাকা শহরে আসতে হয়। কিন্তু কোথায় থাকবে সেই চিন্তা করে অনেকেই ভয় পায়। তাই আমি চেষ্টা করেছি কম খরচে ঢাকার আবাসিক হোটেল সম্পর্কে আপনাদের জানাতে। আশা করি উপরোক্ত তথ্যগুলো আপনাদের জন্য প্রয়োজনীয় হবে।

পোষ্ট ক্যাটাগরি: