Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2022/01/Ways-to-Control-Thyroid.html

থাইরয়েড কমানোর উপায়

থাইরয়েড কমানোর উপায় — থাইরয়েডের সমস্যা আজকাল অনেকেরই দেখা যাচ্ছে। আপনার যদি থাইরয়েডের সমস্যা থাকে, তবে আপনার শরীরে আয়োডিনের অভাবও হতে পারে, তাই আপনার স্বাস্থ্যের বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত যাতে আপনি এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন এবং আপনাকে আর কোনো গুরুতর রোগের মুখোমুখি হতে না হয়।

থাইরয়েড কমানোর উপায়

থাইরয়েড দুই ধরনের, হাইপারথাইরয়েডিজম এবং হাইপোথাইরয়েড, থাইরয়েডের লক্ষণ দেখা মাত্রই ডাক্তার দেখাতে হবে। থাইরয়েডের সমস্যা, গ্যাসের সমস্যা, ঘাম কমে যাওয়া এবং হার্টবিট বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে ক্লান্ত বোধ করা। 

থাইরয়েডের সমস্যা বেশি দেখা যায় মহিলাদের মধ্যে। থাইরয়েডের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু থাইরয়েড কমানোর উপায় রয়েছে। এগুলো গ্রহণ করলে থাইরয়েডের সমস্যা কমানো যায়। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ঘরোয়া উপায় যার সাহায্যে আপনি থাইরয়েড থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

থাইরয়েড রোগের কারণ কি

থাইরয়েড রোগের অন্যতম কারণ হচ্ছে মানসিক চাপ। যখন দৈনন্দিন বিভিন্ন সমস্যা নিয়মিত মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেটার প্রথম প্রভাব পড়ে থাইরয়েড গ্রন্থিতে। আর এই গ্রন্থি হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। আবার কখনো কখনো কিছু ওষুধের বিরূপ প্রভাবের কারণেও কিন্ত থাইরয়েড রোগ হয়ে থাকে। খাবারে আয়োডিনে অভাব কিংবা লবণের অত্যাধিক ব্যাবহারও কিন্ত থাইরয়েড রোগের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়াও যদি পরিবারের কোনো সদস্যের থাইরয়েড রোগ হয়ে থাকে, তাহলে পরিবারে অন্য সদস্যদের এই রোগ পাওয়ার ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। থাইরয়েড রোগের একটি বড় কারণ হচ্ছে গ্রেভস ডিজিজ। এতে থাইরয়েড গ্রন্থি হতে থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণ অনেক বৃদ্ধি পায়। থাইরয়েড রোগটি মূলত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী মহিলাদেরকে প্রভাবিত করে। ক্রমাগত ঘুমানো, পড়া ও উচ্চ বালিশ দিয়ে টিভি দেখার কারণেও কিন্ত থাইরয়েডের মতো সমস্যা হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

থাইরয়েড কমানোর উপায় - থাইরয়েড কমানোর উপায় ও সমাধান কি কি জেনে নিন

১। থাইরয়েড কমানো জন্য ফুলকপি, বাঁধাকপি কিংবা ব্রকলি খাবেন না ২। জাঙ্ক ফুড ও ফাস্ট ফুডের ব্যাবহার কমিয়ে দিন ৩। সয়াবিন, সয়া দুধ কিংবা এটি থেকে তৈরি খাবারের ব্যাবহারও আপনাকে কমিয়ে দিতে হবে ৪। থাইরয়েড রোগীদের জন্যে ধূমপান অনেক ক্ষতিকর। সিগারেটের ধোঁয়ায় পাওয়ার কারণে থিওসায়ানেট থাইরয়েড গ্রন্থির অনেক ক্ষতি করে।

আয়ুর্বেদে সফল চিকিৎসা

আয়ুর্বেদে থাইরয়েডের সফল চিকিৎসা পাওয়া যায়। অশ্বগন্ধা, লিকারিস, গম গ্রাস, আদা, ফ্লেক্সসিড, ইচিনেসিয়া, বেকোপা, লেবু বালাম, কালো আখরোট, প্রভৃতি ভেষজ থাইরয়েড রোগের চিকিৎসায় বেশ উপকারী। থাইরয়েড রোগ ভালো করার জন্য একজন ভালো আয়ুর্বেদাচার্যের সঙ্গে একবার পরামর্শ করা দরকার।

যোগ ও একটি সুষম লাইফস্টাইল অপরিহার্য

আকুপাংচার থাইরয়েড রোগ নিরাময়ে খুবি সহায়ক। এছাড়াও থাইরয়েড রোগীদেরও জন্য নিয়মিত যোগব্যায়াম এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করা উচিত। এই কারণে থাইরয়েড গ্রন্থি মসৃণভাবে কাজ শুরু করে। হাইপোথাইরয়েড ও হাইপারথাইরয়েড উভয় অবস্থাতেই এটির প্রভাব ইতিবাচক।

ডায়েটিশিয়ানদের মতে, থাইরয়েড রোগটি সুষম খাদ্য ও ব্যায়ামের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটি ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি ও হতাশার মতো পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করে। যোগাসনে মধ্যে শাবশান সেরা। শুয়ে থাকার সময়ে টিভি দেখা এবং পড়াশুনা করা এড়িয়ে চলুন এবং বালিশ ব্যবহার করবেন না। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করুন।

আরো পড়ুনঃ কিভাবে বুঝব দোয়া কবুল হয়েছে

থাইরয়েড কমানোর জন্য কি খাওয়া উচিত

থাইরয়েড রোগীদের জন্যে আয়োডিন গ্রহণ খুবই সহায়ক। আয়োডিন থাইরয়েড ফাংশন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। লবণ ছাড়াও, আয়োডিন সাধারণত সামুদ্রিক উদ্ভিদ, সামুদ্রিক শৈবাল, মাছ এবং সামুদ্রিক জীবনে পাওয়া যায়। সবুজ শাক এবং তাজা শাকসবজি বেশি বেশি করে খান। যদিওবা ফুলকপি, বাঁধাকপি কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সবুজ মরিচ, টমেটো, পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়াও এই রোগের জন্য উপকারী। ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমনঃ মাছ, ডিম, গাজর, দুধ এবং মাশরুম খান। এই সকল খাবার থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে কাজ করে থাকে। থাইরয়েড গ্রন্থির মসৃণ কার্যকারিতার জন্য সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ বাদাম এবং সাধারণ বাদাম খাওয়া উপকারী হবে। কাজু এবং সূর্যমুখী বীজ খাওয়াও উত্তম হবে। থাইয়েড কমানোর জন্য নারকেল তেল খাওয়াও উপকারী সাথে গরুর দুধ, দই ও পনির বেশি বেশি খান।

থাইরয়েড কমানোর উপায়

১. অশ্বগন্ধা

অশ্বগন্ধা আয়ুর্বেদে একটি ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়, আপনি অশ্বগন্ধা থাইরয়েড রোগ এড়াতে এটি ব্যবহার করতে পারেন। আপনি যদি অশ্বগন্ধা খান, তাহলে তা আপনার থাইরয়েডের সমস্যা কমাতে পারে।

আরো পড়ুনঃ কিভাবে লম্বা হওয়া যায়

২. ফ্ল্যাক্সসিড

ফ্ল্যাক্সসিড ব্যবহার করাও থাইরয়েডের জন্য খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। আসলে, আপনি যদি রসের সাথে তেঁতুলের গুঁড়ো মিশিয়ে পান করেন তবে এটি থাইরয়েড রোগে উপশম দেয়, এমন পরিস্থিতিতে অবশ্যই এটি খান।

৩. নারকেল তেল

নারকেল তেল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়, যদি আপনি নারকেল তেল থেকে তৈরি খাবার ব্যবহার করেন, তাহলে তা থাইরয়েডের সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। গরম পানিতে মিশিয়েও খেতে পারেন।

৪. আদা

আদার প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য আছে। যা অনেক রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ওষুধ হিসেবে আদা ব্যবহার করা হয়। সর্দি-কাশি ও ভাইরাসজনিত রোগে এটি উপকারী বলে মনে করা হয়। আদা সেবন থাইরয়েডের সমস্যা কমাতে কাজ করে।

আরো পড়ুনঃ শীতে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপায়

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

অর্ডিনারি আইটি কী?