ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে - ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে ২০২৩

ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে - ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে ২০২৩ - যদি আপনি এই মুহূর্তে ব্রুনাই দেশটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তবে আপনার অবশ্যই ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে, ব্রুনাই যেতে কি কি ডকুমেন্ট লাগে এসব জেনে রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জনগণ জীবিকার উদ্দেশ্যে ব্রুনাই দেশে পারি দিচ্ছে। 

ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে
পোষ্ট সূচিপত্র

তাই আপনিও যদি ব্রুনাই যেতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তবে আজকের এই পোস্টটি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। এই পোস্টটি ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে সহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তবে চলুন ব্রুনাই যেতে একজন বাংলাদেশী লোকের কত টাকা লাগতে পারে এই সম্পর্কে জেনে নেই।

ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে নিয়ে কিছু কথা

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র হলো ব্রুনাই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্য ব্রুনাই দেশটিতে আসে। বাংলাদেশে ব্রুনাই এর হাই কমিশন বা দূতাবাস রয়েছে যার কারণে ব্রুনাই দেশটির ভিসা পাওয়া অনেকটাই সহজ। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক শ্রমিক ব্রুনাই যাচ্ছে। 

আপনি চাইলে সরকারিভাবে আবেদন করে এবং এজেন্সির মাধ্যমেও কাজের ভিসা নিয়ে ব্রুনাই যেতে পারেন খুব সহজে। আজকের পোস্টটিতে ব্রুনাই ভিসার দাম কত, ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে, ব্রুনাই যেতে কি কি কাগজপত্র লাগতে পারে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই আপনি এই পোস্টের নিচের অংশটুকু মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

ব্রুনাই যেতে কত বছর বয়স লাগে? 

বাংলাদেশ থেকে ব্রুনাই দেশটিতে যাওয়ার জন্য বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর হতে হবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। বয়সের লিমিট হল ৫৫ বছর । কাজের ভিসার জন্য এই বয়সের পর আর আবেদন করতে পারবেন না।

আরো পড়ুন: ইউরোপের কোন দেশে যেতে কত টাকা লাগে

ব্রুনাই যেতে কি কি কাগজপত্র লাগবে? 

যদি আপনি এই মুহূর্তে ব্রুনাই দেশটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তবে ব্রুনাই যেতে কি কি কাগজপত্র লাগবে এই ব্যাপারে জেনে রাখা প্রয়োজন। কেননা কাগজপত্রে কোন ধরনের সমস্যা থাকলে আপনি কোনভাবেই ব্রুনাই যেতে পারবেন না। তাই ব্রুনাই যেতে আপনার কি কি কাগজপত্র লাগতে পারে এ ব্যাপারে আগে থেকে জেনে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। নিচে ব্রুনাই যেতে কি কি কাগজপত্র লাগবে তা উল্লেখ করা হলো।

১। জাতীয় পরিচয় পত্র ফটোকপি

২। যেকোন কাজের প্রমাণ পত্র

৩। ৬ মাসের ব্যাংকের স্টেটমেন্ট

৪। পাসপোর্ট (পাসপোর্ট এর মেয়াদ ৬ মাসের বেশী হতে হবে)

৫। পাসপোর্ট সাইজের চার কপি ছবি 

৬। ব্রুনাই ভিসার আবেদন ফরম

৭। ভিসা ফি ১৪০০ টাকা (অফেরতযোগ্য এবং নগদ পেমেন্ট)।

৮। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট

৯। মেডিকেল রিপোর্ট। 

১০। করোনা ভাইরাসের টিকা কার্ড।

উপরোক্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপনার প্রয়োজন হবে। তাই আপনি এসব কাগজপত্র আগে থেকেই সংগ্রহ করে রেখে দিতে পারেন।

ব্রুনাই কোন কাজের চাহিদা বেশি?

আপনারা যারা বাংলাদেশ থেকে ব্রুনাই যেতে আগ্রহী তারা অনেকেই জানতে চায় ব্রুনাই কোন কাজের চাহিদা সব থেকে বেশী। কেননা কাজের চাহিদা বেশী থাকলে সেখান থেকে বেশী পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা যায়। তবে চলুন জেনে নেই কোন কাজের চাহিদা বর্তমানে ব্রুনাই দেশটিতে রয়েছে। নিচে ব্রুনাই কোন কাজের চাহিদা বেশি তা উল্লেখ করা হলো। আপনারা এখান থেকে দেখে নিতে পারেন।

১। ড্রাইভার ২। ফার্মার ৩। ফ্যাক্টারির কাজ ৪। কন্সট্রাকশনের কাজ ৫। কম্পিউটার অপারেটর ৬। টাইলস ৭। রেস্টুরেন্ট ৮। রান্নার সেফ

সাধারণত এসব কাজ ব্রুনাই দেশটিতে অধিক পরিমাণে চাহিদা রয়েছে। তাই যদি আপনি কাজের ভিসা নিয়ে ব্রুনাই দেশটিতে যান তাহলে উপরের তালিকাতে দেওয়া কাজগুলো করতে পারেন। এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে শ্রমিকেরা টাকা আয় করছে। আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন ব্রুনাই কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

আরো পড়ুন: পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে ২০২৩

ব্রুনাই বেতন কত?

যদি আপনি ব্রুনাই দেশটিতে যেতে চান তবে অবশ্যই আপনি কাজের উদ্দেশ্য যাবেন। এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের কাজ পাবেন। মূলত আপনার বেতন নির্ভর করবে আপনার কাজের উপর। আপনি যত বেশী সময় দিয়ে কাজ করবেন তত বেশী আপনার আয় হবে। যদি আপনি নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে এখানে কাজ করতে যান তাহলে বেতন হবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। 

এছাড়াও ড্রাইভার, রেস্টুরেন্ট, টাইলস, রাজমিস্ত্রি, রঙমিস্ত্রি, ফ্যক্টারি, রান্নার সেফ সহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে আপনি প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন, এখানে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শ্রমিকের বেতন একটু বেশি দেওয়া হয়।

ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে ২০২৩ 

ব্রুনাই দেশটিতে যাওয়ার জন্য কত টাকা লাগতে পারে এই সম্পর্কে আমাদের ধারণা রাখা প্রয়োজন। যদি আপনি এই মুহূর্তে ব্রুনাই যেতে চান তাহলে আপনার কত টাকা লাগতে পারে চলুন সেটা জেনে নেই। 

বাংলাদেশ থেকে ব্রুনাই দেশটিতে যেতে চাইলে ২.৫ থেকে ০৩ লক্ষ টাকার মধ্যে যেতে পারবেন। তবে আপনি যদি দালাল বা কোন এজেন্সি এর মাধ্যমে যান তাহলে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা লাগতে পারে। এইটা হল ব্রুনাই এর সমস্ত খরচ। নিচে ব্রুনাই ভিসা ফি কত টাকা তা দেখে নিন।

ব্রুনাই ভিসা ফি কত?

ব্রুনাই ভিসা ফি কত টাকা এই ব্যাপারে অনেকেই জানতে চায়। ব্রুনাই ভিসা বিভিন্ন টাইপের হতে পারে। ব্রুনাই ভিসা ফি কত টাকা তা নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

ব্রুনাই ভিসা টাইপ ভিসা ফি
কাজের ভিসা ১৪০০ টাকা
ভিসিট ভিসা (ডাবল এন্ট্রি) ২০০০ টাকা
ভিসিট ভিসা (সিঙ্গেল এন্ট্রি) ১৪০০ টাকা

এছাড়াও যদি আপনি ব্রুনাই ভিসার দাম কত এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চান তবে আপনি ব্রুনাই ভিসার দাম কত ২০২৩ এই পোস্টটি পড়তে পারেন।

ব্রুনাই ভিসা প্রসেসিং সময় কত দিন 

ব্রুনাই বিজনেস ভিসার জন্য ১০ থেকে ১২ দিন প্রসেসিং লাগতে পারে। ভিসিট ভিসা এর জন্য সময় লাগবে এক সপ্তাহ বা ৭ থেকে ৮ দিন। তবে আপনি যদি ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করেন তবে এই ভিসা প্রসেসিং হতে সময় লাগবে ১৫ দিন অর্থাৎ ২ সপ্তাহের মতো প্রসেসিং সময় লাগতে পারে। 

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে এই বিষয়ে আপনার মনে বেশ কিছু প্রশ্ন উঁকি দিতে পারে। তবে চলুন আর সময় নষ্ট না করে জেনে নেই সেই সমস্ত সকল প্রশ্নের উওর।

ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে?

বাংলাদেশ থেকে ব্রুনাই দেশটিতে যেতে চাইলে আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকার মধ্যে যেতে পারবেন।

ব্রুনাই ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা?

বর্তমানে ১ ব্রুনাই ডলার সমান বাংলাদেশের ৮০.০৬ টাকা। বিভিন্ন সময় ব্রুনাই ডলারের দাম কম বেশী হতে পারে।

ব্রুনাই শ্রমিকের বেতন কত টাকা?

যদি আপনি নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে ব্রুনাই কাজ করতে যান তাহলে বেতন হবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে বেতন হতে পারে। অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের বেশী বেতন দেওয়া হয়।

শেষ কথাঃ ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে - ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে ২০২৩

বাংলাদেশ সহ পৃথীবির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জীবিকার উদ্দেশ্য ব্রুনাই পাড়ি দিচ্ছে অনেক মানুষ। তাই আপনিও যদি ব্রুনাই দেশটিতে যেতে চান তাহলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে রাখা প্রয়োজন। 

সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজকে আমি আপনাদের সাথে ব্রুনাই যেতে কত টাকা লাগে, ব্রুনাই শ্রমিকের বেতন কত এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আপনাদের সাথে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। যদি এই পোস্টটি আপনার কাছে তথ্যবহুল মনে হয় তবে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ। সবাই ভালো ও সুস্থ্য থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Next Post Previous Post