সিজারের পর মায়ের খাবার তালিকা

সিজারের পর মায়ের খাবার তালিকা – সিজারের পর মায়ের খাবার তালিকা ঠিক কেমন হওয়া উচিত? একজন নবজাতকের মায়ের করণীয় কাজ কি এবং কিভাবেই বা সেই কষ্টকর সময়টুকু অতিবাহিত করা জরুরী! এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার কারণে নানা সমস্যায় পড়তে হয় নবজাতক সন্তানের মাকে।

সিজারের পর মায়ের খাবার তালিকা

কেননা সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা জন্মদান মানে হচ্ছে অস্ত্রপচার করা, আর এটা কিন্তু একজন মায়ের পক্ষে মোটেও সহজ কাজ নয়। কারণ অস্ত্রপচার করার কারণে স্বাভাবিক ভাবেই একজন মা শারীরিক এবং মানসিক দুই ভাবেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তাই অন্যান্য সময় থেকে এসময়টায় তাদের আলাদা কেয়ার করা অত্যন্ত জরুরী। আর এটা যদি না হয় তাহলে তাদের শরীরে নানা রকম প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। 

মূলত অনেক সিজারকারি মায়েরা জানেন না যে, সিজারের পরবর্তীতে কোন কোন খাবার খাওয়া জরুরী বা সিজারের পর মায়ের খাবার তালিকা কেমন হওয়া উচিত, আবার কোন কোন খাবার পরিহার করা জরুরী। তাই আজকের এই প্রবন্ধে আমরা সিজারের পর মায়ের খাবার তালিকা ঠিক কেমন হওয়া উচিৎ সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করব। 

তো সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আপনি যদি নবজাতকের মায়ের খাবার তালিকা সম্পর্কে সম্পূর্ণ জানতে চান তাহলে আমাদের আজকের এই প্রবন্ধটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন। কেননা আজ আমরা সিজারিয়ান মায়ের খাদ্য তালিকা নিয়ে এ টু জেড আলোচনা করব।

(toc) #title=(সুচিপত্র)

সিজারের পর মায়ের খাবার তালিকা

জটিলতা বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির ফলে প্রচুর সিজারিয়ান প্রসব ঘটে বর্তমান সময়ে। যেটা প্রসবকালীন মায়ের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা এ সময় একজন মা মানসিক এবং শারীরিক উভয় ভাবে বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাই স্বাভাবিকভাবে সেই সিজারিয়ান মহিলাকে দ্রুত সুস্থ করার জন্য শারীরিক ও মানসিক উভয় টেক কেয়ার করা অধিক বেশি জরুরী। 

আর তাই শরীরে পুষ্টি চাহিদা পূরণ করার জন্য এ সময় নারীর খাদ্য তালিকায় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফাইবারের মতো পুষ্টি উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। 

তবে হ্যাঁ, শারীরিক কিছু সমস্যা হতে পারে বিধায় এ সময় একজন মহিলা সকল ধরনের খাবার গ্রহণ করতে পারেন না। এর জন্য সি সেকশন ডেলিভারি হলে মহিলাদের কিছু বিশেষ খাবার খেতে হয় যতদিন না পর্যন্ত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাচ্ছেন। 

আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এ সময় নবজাতক শিশুর মায়ের জন্য একটি ডায়েট প্ল্যান তৈরি করা জরুরী হয়ে যায়। আর তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এ পর্যায়ে তুলে ধরব সিজারিয়ান ডেলিভারির পরে একজন মহিলা দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য কি কি বিষয়ে মাথায় রাখা উচিত এবং কোন কোন খাবার খাওয়া উচিত আর কোন কোন খাবার পরিহার করা উচিত।

আরো পড়ুনঃ মাসিক মিস হওয়ার কত দিন পর প্রেগন্যান্ট বোঝা যায়

সিজারিয়ান মায়ের গ্রহণযোগ্য খাবার - সিজারের পর মায়ের খাবার তালিকা

সিজারের পর মায়ের খাবার তালিকা

যেহেতু একজন সিজারিয়ান মহিলা শারীরিক ও মানসিক উভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন, তাই তাকে সুস্থ করার জন্য খাদ্য ভাষার দিকে নজর দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়। কেননা সুস্থ দেহে সুন্দর মন এমন একটা প্রবাদ বাক্য রয়েছে। যেটা রয়েছে সত্যতা। আর তাই এ পর্যায়ে আমরা সিজারিয়ান মায়ের গ্রহণযোগ্য খাবারগুলো উল্লেখ করবো যেগুলো খাদ্য তালিকায় নিয়মিত রাখাটা খুব বেশি জরুরী। 

সুতরাং এ পর্যায়ে জেনে নিন প্রসব পরবর্তী খাদ্য তালিকা সম্পর্কে অর্থাৎ আপনি সিজার করার পরবর্তীতে কোন কোন খাবার খেয়ে নিজেকে দ্রুত রিকভার করবেন সেই খাবারগুলোর নাম সম্পর্কে বিস্তারিত। 

  • দুধ ও দুগ্ধ জাত খাদ্য
  • তরল জাতীয় খাবার
  • ব্রাউন চাল
  • ওটস
  • গম
  • মসুর ডাল
  • সবুজ কালাই
  • কালোজিরা
  • মেথি
  • হলুদ
  • আদা
  • রসুন
  • জোয়ান বিচ
  • ডিম
  • ডিমের কুসুম
  • ঝিনুক
  • গরুর লিভার
  • বাদাম
  • সবুজ শাক
  • লাল শাক
  • বাঁধাকপি
  • ব্রকলি
  • পালং শাক
  • কলমি শাক
  • ফুলকপি
  • আপেল
  • কমলা
  • পেয়ারা
  • পেঁপে
  • কমলালেবু
  • স্ট্রবেরি
  • আঙ্গুর ফল
  • মাল্টা
  • আলু জাতীয় ফল সহ প্রভৃতি।

মূলত এই সময় একজন সিজারিয়ান মায়ের ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, ডিহাইড্রেশন থেকে মুক্তির জন্য টমেটো স্যুপ, আদা গাজরের সুপ, বিটরুট সুপ, নারকেলের জল বা ভেষজ চা খাওয়াটা অধিক বেশি জরুরী। পাশাপাশি তাজা খাবারের কোন বিকল্প নেই। 

সিজার করার পরবর্তীতে একজন সিজারিয়ান মায়ের অন্তত ৬ মাস বাড়িতে রান্না করা তাজা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। বাইরের খাবার বা চর্বি মসলাযুক্ত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই অবশ্যই খাদ্য তালিকায় উপরোক্ত খাবারগুলো রাখার চেষ্টা করুন এবং গভীর রাতে খিদে পেলে মাখন অথবা ঢেঁকি ভাত খেতে দিতে পারেন। কেননা বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতক সন্তানের মায়ের জন্য এই খাবার অধিক বেশি কার্যকরী ও পুষ্টি সমৃদ্ধ।

আরো পড়ুনঃ সিজারের পর ইনফেকশন হলে করণীয়

সিজারিয়ান মায়ের পরিহার যোগ্য খাবার - সিজারের পর কি কি খাওয়া যাবে না

সিজারের পর কি কি খাওয়া যাবে না

খাদ্য তালিকায় যেমন অবশ্যই কিছু খাবার রাখা জরুরি, ঠিক একইভাবে সিজারিয়ান মায়ের খাদ্য তালিকা থেকে অবশ্যই বাছাইকৃত কিছু খাবার একেবারেই বাদ রাখা জরুরি। তাই এ পর্যায়ে আমরা প্রসব পরবর্তী খাদ্য তালিকায় কোন কোন খাবার বাদ দিতে হবে সে সম্পর্কে জানব। তাহলে আসুন জেনে নেই সিজার করার পরবর্তীতে আপনি কোন কোন খাবার খেতে পারবেন না!

  • টক এবং মশলাদার খাবার- নতুন মায়েদের প্রথম কয়েক মাস টক এবং মশলাদার খাবার খাওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত।
  • ফাস্ট ফুড- জাঙ্ক ফুড যেমন পিৎজা, প্রক্রিয়াজাত খাবার, সোডা এবং ডুবো তেলে ভাজা খাবার নতুন মায়েদের এড়িয়ে চলা উচিত। অর্থাৎ ঝাল তেল ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার গুলো থেকে বিরত থাকা উত্তম।
  • চা কফি
  • ভিটামিন সি জাতীয় খাবার
  • অ্যালকোহল এবং ধূমপান ও নেশা জাতীয় দ্রব্য।

সিজারের কতদিন পর ভারী কাজ করা যায়?

মূলত দ্রুত ব্যথা বা ঘা উপশম না হওয়া পর্যন্ত একজন সিজারিয়ান মায়ের যেকোনো ভারী কাজ করা থেকে বিরত থাকা জরুরী, আর এমনই পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। যে সকল কাজ করলে পেটে টান পড়তে পারে বা যে ধরনের ব্যায়াম করলে শরীরের ওপর বেশি চাপ পড়তে পারে, সে সকল ব্যায়াম বা কাজকর্ম থেকে সিজারিয়ান মহিলার অন্তত ছয় মাস দূরে থাকা জরুরী। 

সিজারের কতদিন পর জার্নি করা যায়?

সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা হওয়ার পর যদি কোন সমস্যা না হয় তাহলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সময়ের পরে আপনি জার্নি করতে পারবেন। তবে ধারণাকৃত সময় হচ্ছে ছয় সপ্তাহ। তবে এটা অবশ্যই শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে আপনাকে ডিসাইড করতে হবে। আর যদি আপনার জন্য জানি তা অত্যন্ত জরুরী হয় তবেও আপনি ছয় সপ্তাহ অর্থাৎ দেড় মাস পরবর্তী সময়ে জার্নি করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় বাচ্চা পেটের কোন পাশে থাকে

সিজারের পর গরুর মাংস খাওয়া যাবে কখন

সিজারের পর গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ নয়। আর আপনি যদি লক্ষ্য করেন তাহলে ইতোমধ্যে আমরা সিজারিয়ান মায়ের খাদ্য তালিকায় এটা উল্লেখ করেছি। তাই আপনি আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী সিজার পরবর্তী সময়ে যেকোনো দিন যে কোন মুহূর্তে গরুর মাংস খেতে পারবেন। এজন্য বাধা ধরা কোন নিয়ম সাজেস্ট করে না চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা।

সিজারের কতদিন পর মিষ্টি খাওয়া যায়?

সিজারের পরপরই যদি আপনি মিষ্টি খান, তাহলে সিজার অপারেশন করার ফলে আপনার যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে সেটা সারতে অনেকটা দেরি হয়। কখনো কখনো ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। তাই হাতেগোনা অন্তত তিন সপ্তাহ পর আপনি মিষ্টি খেতে পারবেন বাচ্চা প্রসবের পরবর্তীতে। তবে এক্ষেত্রে চাইলে আপনি ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। কেননা যাদের ডায়াবেটিকস ইনফেকশন জনিত সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এটা অত্যন্ত বিপদজনক।

সিজারের কতদিন পর গোসল করা যায়?

সিজানের সময় যদি কসমেটিক সেলাই দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে সিজারিয়ান মা দুই থেকে চারদিন পর গোসল করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রেও আপনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন এবং তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ হরমোনের সমস্যা বোঝার উপায়

সিজারের পর ব্যথা কতদিন থাকে?

অস্ত্রপচারের কারণে অর্থাৎ সিজার করার কারণে যে ব্যাথার সৃষ্টি হয় সেটা কমপক্ষে ১৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। আর হ্যাঁ সিজারিয়ান মহিলাদের মাথাব্যথা একটা সাধারণ সমস্যা। আর এই সমস্যাটা প্রথম বা দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু করে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।

সর্বশেষ কথা

একজন সিজারিয়ান মায়ের মূলত যে সমস্যাগুলো দেখা দেয় সেটা থেকে মুক্তির জন্য মানসিকভাবে শক্ত থাকার জরুরি এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য খাবারের তালিকায় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার গুলো রাখা গুরুদায়িত্ব। তাই সিজারের পর মায়ের খাবার তালিকায় যাতে পুষ্টি সমৃদ্ধ সকল খাবার থাকে সেদিকে নজর দিন। 

আশা করা যায় আমাদের আজকের এই সিজারের পর মায়ের খাবার তালিকা আর্টিকেল আপনাদের বেশ কাজে আসবে এবং সিজারিয়ান মায়ের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তো ফ্রেন্ডস আজ এই পর্যন্তই সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

পোষ্ট ক্যাটাগরি: