Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2022/07/what-to-do-if-your-card-gets-stuck-in-the-atm.html

এটিএম বুথে কার্ড আটকে গেলে করনীয়

এটিএম বুথে কার্ড আটকে গেলে করনীয় — বর্তমান সময়ে সবচেয়ে নিরাপদ এবং ঝামেলাবিহীন আর্থিক লেনদেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ক্রেডিট অথবা ডেবিট কার্ড। তবে এটিএম বুথে কার্ড ব্যবহার করতে গিয়ে গ্রাহকদের প্রায়ই বিভিন্ন ধরণের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ এবং কমন সমস্যাটি হলো এটিএম বুথে কার্ড আটকে যাওয়া।

এটিএম বুথে কার্ড আটকে গেলে করনীয়

কোন জরুরি সময়ে কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের সময় প্রায়ই দেখা যায় গ্রাহকদের কার্ড আটকে যায়। আবার শুক্রবার, শনিবারে ব্যাংক ছুটি থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি যেন আরও বেশি বেড়ে যায়। তাই এটিএম বুথ থেকে যদি আপনি কার্ডের মাধ্যমে টাকা ওঠাতে চান তাহলে আরো কিছু বিষয় মাথায় রেখে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আজকে আমরা এখানে আলোচনা করবো এটিএম বুথে কার্ড আটকে গেলে করনীয় ? 

সূচীপত্রঃ এটিএম বুথে কার্ড আটকে গেলে করনীয়

কেন এটিএম বুথে কার্ড আটকে যায়?

বিভিন্ন কারণে এটিএম মেশিনে কার্ড আটকে যেতে পারে। তারমধ্যে অন্যতম কয়েকটি বিষয় হচ্ছে বারবার ভুল পিনকোড টাইপ করা, এটিএম কার্ড বেরিয়ে আসার পরেও সংগ্রহ না করা, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে এটিএম বুথে কার্ড আটকে যেতে পারে, এছাড়াও মেশিনের যান্ত্রিক সমস্যার ফলে কার্ড আটকে যেতে পারে এবং ইন্টারনেট কানেকশন চলে যাওয়ায় এটিএম বুথে কার্ড আটকে যায়।

পরপর তিনবার ভুল পিন নাম্বার প্রবেশ করালে এটিএম বুথে কার্ড আটকে যায়। অনেক সময় দ্রুত টাকা তুলতে গিয়ে গ্রাহকরা তাড়াহুড়ো বা বেখেয়ালে অনেক সময় কার্ডের পিন নাম্বার ভুলে যান, আবার অসাবধানতায় ভুল বাটনে চাপ দিয়ে ভুল পিন নাম্বার ইনপুট করিয়ে ফেলেন। যেকোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে যদি পরপর তিনবার ভুল পিন নাম্বার বা পাসওয়ার্ড দিলে সিস্টেম সাময়িকভাবে ব্লক করে দেওয়া হয়। আর এটিএম মেশিনের ক্ষেত্রে উক্ত কার্ডটি আটকে যায়।

আরো পড়ুনঃ মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

বিদ্যুৎ অথবা নেটওয়ার্ক জনিত জটিলতায়

কার্ড ব্যবহারের সময় যদি এটিএম মেশিনে কোন প্রকার বিদ্যুৎ সংযোগে ব্যাঘাত ঘটে তাহলে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর সেই সময়ে গ্রাহকের দেয়া তথ্যগুলো ঠিকমত কাজ নাও করতে পারে যার ফলে কার্ডটি এটিএম মেশিনের ভেতরে থেকে যায়।

মেয়াদত্তীর্ণ কার্ড ব্যবহারের ফলে

ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ডগুলো খুব সাধারণত দুই অথবা তিন বছর মেয়াদী থাকে। যদি মেয়াদোত্তীর্ণ কার্ড এটিএম মেশিনে বারবার প্রবেশ করান তাহলে কার্ডটি আটকে যায়। কিছু মাস্টার কার্ড রয়েছে যেগুলো ব্যবহারের জন্য কাস্টমার কেয়ার থেকে স্বল্পমেয়াদ নেয়া হয়। যেমনঃ বিভিন্ন ধরনের গিফট কার্ডের ক্ষেত্রে অনেকজন ভুলে যান যে তার কার্ডের স্বল্পমেয়াদটি কখন অতিক্রম হয়ে গেছে। এ ধরনের কার্ডগুলোর ক্ষেত্রে প্রায়ই কার্ড মেশিন থেকে বের করা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

এটিএম সার্ভারের সমস্যা

অনেক সময়ে কার্ডের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের সময়ে গ্রাহকরা এটিএম সার্ভার সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে। এমনকি যদি সরাসরি ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে যায় তাহলেও এ জটিলতায় ভুগতে হয়। সার্ভারের গতি যদি স্বাভাবিকের থেকে কম থাকে তাহলে অনেক সময় কার্ডটি এটিএম মেশিনে আটকে যেতে পারে।

বাহ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কার্ড ব্যবহার করলে

এটিএম কার্ডটি মূলত একটি আয়তাকার এবং পাতলা প্লাস্টিকের বা ধাতব টুকরো। সব সময় সথে থাকার কারণে কার্ডটিতে হাল্কা ফাটল বা কোন এক প্রান্তের দিকে হালকা ভেঙে যেতে পারে। এমন অবস্থা যদি হয় তাহলে ব্যবহারের সময় কার্ডটি এটিএম বুথে আটকে যেতে পারে।

আরো পড়ুনঃ মোবাইল টাওয়ারের ক্ষতিকর দিক

অসমর্থিত এমন কার্ড ব্যবহার

অধিকাংশ এটিএম মেশিন মাস্টার এবং ভিসা কার্ড সমর্থিত হয়ে থাকেন। এগুলো ব্যতীত অন্য কোন ব্যাংকের অন্য কোন কার্ড এটিএম মেশিন অসমর্থিত হতে পারে। এ ধরনের কার্ড ব্যবহারে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এটিএম বুথে কার্ড আটকে গেলে করনীয়

কার্ড আটকে গেলে ভয় পাবেন না এবং অস্থির হবেন না। বরং মাথা ঠান্ডা রেখে নিচের কাজগুলো করুন। এ ধরনের সমস্যায় কী করতে হবে। চলুন দেখে নেই। কার্ড আটকে গেলে ভয় পাবেন না এবং অস্থির হবেন না। অর্থাৎ এটিএম বুথে কার্ড আটকে যাওয়ার পরে আতঙ্কিত হবেন না। বরং মাথা ঠান্ডা রেখে নিচের কাজগুলো করুন।

লেনদেন বাতিলের চেষ্টা করা এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করাঃ প্রথমে ক্যানসেল বাটন প্রেস করে তারপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। অর্থাৎ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পুরো কার্যকলাপ সম্পন্ন হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে। কিছু সময় দেখা যায় সার্ভার ডাউন থাকলে ছোট ছোট লেনদেনও ধীরগতির হয়ে যায়। এমন সময় সাথে সাথে বুথ থেকে বের হয়ে না এসে কিছু সময় অপেক্ষা করা উচিত। কেননা হতেও পারে যে, সময় বেশি নিলেও টাকা ঠিকই বেরিয়ে আসছে।

আর যদি লেনদেন বাতিল হয়ে যায়, তাহলে সেই অতিরিক্ত সময় পর কার্ডটি বেরিয়েও আসতে পারে। তাই বুথ থেকে বের হওয়ার আগে আর্থিক লেনদেনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়েছে কিনা তা অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি।

খুঁটিনাটির ঘটনার রেকর্ড নেওয়া

এটিএম মেশিনে কার্ড আটকে গেলে অস্থির না হয়ে ঠান্ডা মাথায় সমস্যার সব খুটিনাটি বিষয় লিখে নিতে হবে। কোন ব্যাংকের কার্ড, কার্ড নম্বর, কার্ডের মেয়াদ, যদি কোনো অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তার সঠিক নম্বর, ঘটনার সঠিক সময় ও তারিখ এবং কার্ড আটকে যাওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত কিভাবে কার্ডটি ব্যবহার করা হয়েছিল ইত্যাদি মনে করে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

আপনার সমস্যার কথা বুথ কর্মকর্তা অথবা কাস্টমার কেয়ারে জানানো। সব লিপিবদ্ধ করা হয়ে গেলে এবার ধীরস্থির ভাবে প্রথমে বুথের যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছে তাকে সব জানাতে হবে। প্রায় ক্ষেত্রেই কর্মকর্তা সঠিক নির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করে। সমস্যার সমাধান যদি না হয় তিনি রেজিস্ট্রি খাতায় তা লিপিবদ্ধ করিয়ে নেবেন। যদি কর্মকর্তা না থাকে নিরাপত্তারক্ষীকে জানিয়ে রাখতে হবে।

পরিশেষে ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে হবে এবং পুরো ঘটনা জানাতে হবে। বিশেষ করে কার্ডের যাবতীয় সকল লেনদেন বন্ধ করতে বলতে হবে। সমস্যাটি চূড়ান্ত ভাবে সমাধান করার জন্য কাস্টমার কেয়ার থেকে সব রকম নির্দেশনা দেওয়া হবে। এটিএম বুথে কার্ড আটকে গেলে করনীয় কি আশা করি আপনি জানতে পেরেছেন। এটিএম বুথে কার্ড আটকে গেলে করনীয় লেখাটি আপনার ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন।

0 Comments

* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.??