Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2021/11/tahajjud-namaz-porar-niom.html

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম | তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম | তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল | তাহাজ্জুদ নামাজের ফযীলত — তাহাজ্জুদ শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আসছে। তাহাজ্জুদ নামাজের আমল সম্পর্কে পবিত্র কোরআন মাজিদে উলেখ্য রয়েছে। তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ঘুমে যাওয়া আবার জাগ্রত হওয়া অর্থে বুঝানো হয়। শরিয়তের পরিভাষায় রাত্রীকালীন নামাজকে বলা হয় তাহাজ্জুদ নামাজ। সাধারণত তাহাজ্জুদ নামাজের অর্থ এভাবে নেওয়া হয় যে, রাতে কিছুক্ষণ নিদ্রা যাওয়ার পর যে নামাজ পড়া হয়ে থাকে তাই তাহাজ্জুদের নামাজ।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, "আফজালুস সালাতি বাদাল মাফরুদাতি সালাতুল লাইলি অর্থাৎ ফরজ নামাজের পর সব নফল নামাজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তাহাজ্জুদ নামাজ তথা রাতের নামাজ। আল্লাহ তায়ালা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লামকে বিশেষভাবে রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘হে চাদর আবৃত, রাতের সালাতে দাঁড়াও কিছু অংশ ছাড়া।

তাহাজ্জুদের নামাজ অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং ফযিলতপূর্ণ ইবাদত। যারা বিনা হিসাবে জান্নাত লাভ করতে পারবেন, তাদের মধ্যে একশ্রেণীর মানুষ হলেন তারা, যারা যত্নের সাথে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে। তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা একটি নফল ইবাদত তবে হ্যাঁ নফল ইবাদতের মধ্যে এটি অন্যতম একটি ইবাদত। তাহাজ্জুদের নফল নামাজকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছেন। কুরআন মাজিদের বিভিন্ন সুরাতে তাহাজ্জুদ নামাজের প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) নিয়মিত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন এবং সাহাবীদের এটা পালনে উৎসাহিত করতেন।

তাই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি, তাবে-তাবেয়িসহ সব যুগের ওলি ও বিদ্বানরা তাহাজ্জুদ নামাজে রাত কাটিয়ে দিয়েছেন। প্রিয় পাঠক আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের আলোচ্য বিষয় তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম, তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল, তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত, তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও ফজিলত, তাহাজ্জুদ নামাজের সময়, তাহাজ্জুদ নামাজের রাকাত জানার পূর্বে জেনে নেই তাহাজ্জুদ নামাজ কিঃ

তাহাজ্জুদ নামাজ‌ কি

তাহাজ্জুদ অর্থ ঘুম থেকে জাগা। আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের আশায় গভীর রজনীতে যে বিশেষ নামাজ আদায় করা হয় সেটাই তাহাজ্জুদ নামাজ। এটি নফল নামাজের অন্তর্ভুক্ত আবার এটি সুন্নতও। তাহাজ্জুদ নামাজ‌ বা রাতের নামাজ হচ্ছে একটি নফল ইবাদত, ফরজ নামাজের পর অন্যান্য সুন্নাত ও নফল সব নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ফজিলত সবচেয়ে বেশী। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর ওপর তাহাজ্জুদ নামাজ বাধ্যতামূলক ছিল। তাই তিনি জীবনে কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকেন নি। 

তবে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া আবশ্যক নয় না পড়লে কোনো গুনাহ হবে না। কিন্তু এটি পড়লে অনেক সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পাড়া যায়। ফরজ ও ওয়াজীব ব্যতীত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব কাজ করেছেন সগুলো সুন্নতের মধ্যে পড়ে। যেহেতু এই নামাজ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়েছেন সেই হিসেবে তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত। দুই ধরনের সুন্নত আছে- সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা।

আরও পড়ুনঃ ইসলামের ইতিহাস | ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

তাহাজ্জুদ নামাজের সময় | তাহাজ্জুদ নামাজ কখন পড়তে হয়

ইশার নামাজ আদায়ের পর থেকে সুবহে সাদেকের আগ পর্যন্ত সালাতুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যায়। অর্ধ রাতের পরে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের মূল সময় মূলত রাত ২টা থেকে শুরু হয়ে ফজরের আযানের আগ পর্যন্ত থাকে। তবে তাহাজ্জুদ নামাজ গভীর রজনীতেই পড়া উত্তম অর্থাৎ রাত ২ প্রহরের পর পড়লে ভালো হয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গভীর রজনীতে আদায় করতেন এই নামাজ। তাই রাত ২ প্রহরের পরেই আদায় করা উত্তম।

রাত ২ প্রহরের পর থেকে সুবেহ সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত এই নামাজ আদায় করা যাবে। তবে ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকলে ইশা সালাতের পর দু রাকআত সুন্নত ও বিতরের আগে তা পড়ে নেয়া জায়েজ আছে। তবে পরিপূর্ণ তাহাজ্জুতের মর্যাদা পেতে হলে, রাত ২টা বা ৩টার দিকে উঠে নামায আদায় করতে হবে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নামাজ লম্বা কিরাআত করে আদায় করতেন। নফল নামাজ গুলোতে সূরা - কিরাআত ও রুকু সিজদাহ দীর্ঘায়িত করা মুস্তাহাব। তাই যথাসাধ্য চেষ্টা করা লম্বা কিরাআত এবং রুকু সিজদাহ দীর্ঘ করে এই নামাজ আদায় করা।

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত | তাহাজ্জুদ নামাজ কয় রাকাত

তাহাজ্জুদ নামাজ ২ থেকে ১২ রাকাত পর্যন্ত পড়া বর্ণনা পাওযা যায়। এই নামাজ মোট ১২ রাকাত। সর্বনিম্ন ২ রাকাত আর সর্বোচ্চ ১২ রাকাত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন। তাই ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়াই ভালো। যেহেতু হাদীস শরীফে আছে - মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মাঝে ৪ রাকাত, ৮ রাকাত আবার ১২ রাকাতও পড়তেন। 

তাই ১২ রাকাত অথবা ৮ রাকাত পড়াই উত্তম। সর্বনিম্ন দু রাকত আর সর্বোচ্চ ৮ রাকআত পড়া উত্তম। তবে এটা পড়া আবশ্যক নয়। সম্ভব হলে ১২ রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করা। তবে ৮ রাকাত আদায় করা উত্তম। সম্ভব না হলে ৪ রাকাত আদায় করা। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে ২ রাকাত হলেও তাহাজ্জুদ আদায় করা ভালো। তবে তাহাজ্জুদ নামাজের কোনো কাজা নেই।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন যাচাই

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত | তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ رَكَعَتِى التَّهَجُّدِ - اَللهُ اَكْبَر | উচ্চারণ» নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া ল্লিাহি তা'আলা রাকয়াতাই ছালাতিত তাহাজ্জুদি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার। অর্থঃ দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নিয়ত করছি। অতঃপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বেঁধে নামাজ পড়া।

এ নামাজ বাকি নামাজ গুলোর মতই আদায় করতে হয়। তাহাজ্জুদ নামাজের মোট 12 রাকাত নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে পড়তে হয়। "আল্লাহু আকবার" বলে তাকবীরে তাহরীমা বেঁধে "ছানা" পড়ে "সূরা ফাতিহা" শেষ করে অন্য একটি সূরা মিলিয়ে পড়তে হবে। তারপর বাকি নামাজ অন্যান্য নামাজের মতো রুকু সিজদা করে, শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু অর্থাৎ তাশাহুদ, দরুদ শরীফ এবং দোয়া মাছুরা পাঠ করে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে তকাবীরে তাহরীমা বেঁধে অনুরূপভাবে আদায় করতে হবে।

তাহাজ্জুদ নামাজ‌ পড়ার নিয়ম

তাহাজ্জুদ একটি নফল ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাহাজ্জুদ নামাজ দুই রাকাত, দুই রাকাত করে আদায় করতেন। তিনি কখনো ৪ রাকাত, কখনো ৮ রাকাত এবং কখনো ১২ রাকাত পড়েছিলেন। কিন্তু কেউ যদি এ নামাজ ২ রাকাত আদায় করেন, তাহলেও তার তাহাজ্জুদ আদায় হবে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি এশার পর দুই বা ততোধিক রাকাত নামাজ পড়ে নেয়, সে হবে তাহাজ্জুদের ফজিলতের অধিকারী।"

যেকোনো সুরা দিয়েই এ নামাজ পড়া যায়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যথাসম্ভব লম্বা কেরাত, লম্বা রুকু ও সেজদা সহকারে একান্ত নিবিষ্ট মনে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। তাই লম্বা কেরাতে তাহাজ্জুদ আদায় করা উত্তম। কেরাত উঁচু বা নিচু উভয় আওয়াজে পড়া জায়েজ আছে। তবে কারও কষ্টের কারণ হলে চুপিচুপি পড়া কর্তব্য।

তাহাজ্জুদ নামাজ‌ নিয়মঃ ১। তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বাঁধা ২। অতঃপর ছানা পড়া ৩। সুরা ফাতেহা পড়া ৪। সুরা মিলানো তথা কেরাত পড়া ৫। অতঃপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় রুকু, সেজদা আদায় করা।

এভাবেই দ্বিতীয় রাকাত আদায় করে তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া মাছুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা। এভাবে দুই দুই রাকাত করে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা উত্তম। (বিঃদ্রঃ– যদি এশার নামায পরে বিতরের নামায পড়ে থাকেন, তবে তাহাজ্জুত নামায পড়ার পড়ে বিতর নামায পড়ার দরকার নেই। তখন ২ রাকাত থেকে শুরু করে ৮রাকাত তাহাজ্জুত নামায পরলেই হবে)।

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

তিরমিযি শরীফে হজরত আবু উমামা বর্ণিত এক হাদিসে রাসূল (স.) এরশাদ করেছেন, নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়। কেননা এটি তোমাদের পূর্ববর্তী সব নেক বান্দাহর অভ্যাস ছিল। এটা তোমাদেরকে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্যদানকারী, মন্দ কাজের কাফফারা এবং গুনাহ থেকে নিবৃত্তকারী। প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তি কামনা করেন, আল্লাহ যেন তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেন, তার এবাদত-বন্দেগি কবুল করেন এবং তার ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেন। এসব চাওয়া-পাওয়ার প্রধান অবলম্বন হলো তাহাজ্জুদ নামাজ।

সহিহ হাদিসের সবকটি কিতাবেই এই হাদিসটি বর্ণিত আছে যে, হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণিত রাসূল (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলা প্রতি রাতের শেষাংশে দুনিয়ার আকাশে বিরাজমান হন এবং ঘোষণা দেন যে, কোনো প্রার্থনাকারী আছ কি? যার প্রার্থনা আমি কবুল করব। প্রয়োজন প্রার্থনার কোনো লোক আছ কি? যার প্রয়োজন আমি পূর্ণ করে দেব। এবং কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছ কি? যাকে আমি ক্ষমা করে দেব।’ তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ও ফযিলত সম্পর্কে আরো অনেক সুস্পষ্ট আয়াতে কারিমা ও হাদিস শরীফ রয়েছে যা সীমিত পরিসরে আলোচনা করে শেষ করা যাবে না।

উক্ত আয়াত ও হাদিস শরীফসমূহ থেকে এটি পরিষ্কার হয় যে, তাহাজ্জুদ নামাজ আল্লাহর সাথে বান্দার কথোপকথনের এক মহান অবলম্বন। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে সেতুবন্ধন রচনা করে। তাহাজ্জুদের বদৌলতে মানুষ মহান মর্যাদার অধিকারী হয়।

আরও পড়ুনঃ মাহে রমজান ২০২২ | রমজান মাসের ক্যালেন্ডার ২০২২ | ২০২২ সালের রমজান কত তারিখ

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘হে চাদর আবৃত, রাতের সালাতে দাঁড়াও কিছু অংশ ছাড়া।’ প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে এ নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেন। প্রিয়নবির প্রতি কিছু সময় নামাজ পড়ার নির্দেশ ছিল না বরং রাতের কিছু অংশ ছাড়া সারারাত জেগে তাহাজ্জুদ আদায়ের নির্দেশ ছিল। 

যারা বিনা হিসেবে জান্নাতে যেতে পারবেন, তাদের মধ্যে একশ্রেণির মানুষ হলেন তারা, যারা যত্নের সঙ্গে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। কুরআনের বিভিন্ন সুরায় এ নামাজের প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে। তাই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি, তাবে-তাবেয়িসহ সব যুগের ওলি ও বিদ্বানরা তাহাজ্জুদ নামাজে রাত কাটিয়ে দিয়েছেন।

তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

পবিত্র কুরআনে তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য বিশেষভাবে তাগিদ করা হয়েছে। "তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করে এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।" আল কুরআনের সূরা আল মুজাম্মিল এ উল্লেখ করা হয়েছে "অবশ্য রাতে ঘুম থেকে উঠা মনকে দমিত করার জন্য খুব বেশি কার্যকর এবং সে সময়ের কুরআন পাঠ বা জিকর একেবারে যথার্থ।" 

সূরা আল ফুরকান-এর ৬৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে "আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা, যারা তাদের রবের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়।" "তারা ছিল কঠিন পরীক্ষায় পরম ধৈর্যশীল, অটল-অবিচল, সত্যের অনুসারী, পরম অনুগত। আল্লাহর পথে ধন-সম্পদ উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে ভুলত্রুটির ক্ষমাপ্রার্থী"। ফরয নামাজের পর অন্যান্য সুন্নাত ও নফল সব নামাযের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ফযীলত সবচেয়ে বেশী।

মুসলিম ও মিশকাত হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত আছে- রাসুল (সাঃ) বলেন, আমাদের প্রভু পরওয়ারদিগার তাবারাকা ওয়া তা’আলা প্রত্যেক রাত্রে দুনিয়ার আসমানে (যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়) নেমে আসেন যখন রাত্রের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকে। অতঃপর তিনি বলেন, তোমাদের কে আমাকে ডাকবে! আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে কিছু চাইবে আমি তাকে তা দেব, কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।

এজন্য উচিৎ একান্ত নির্জনে উক্ত সময়ে মনের নেক আশা পূরণ করার লক্ষ্যে, আল্লাহর কাছ থেকে গুমাহ মাফের লক্ষ্যে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার মাধ্যমে প্রার্থনা করা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতেই তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন। তিনি কখনও তাহাজ্জুদের নামাজ ছাড়তেন না। 

কেউ যদি সাংসারিক কর্ম ব্যস্ততার পাশাপাশি আল্লাহর মহান হুকুম ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করে প্রতি রাতে নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে পারে তাহলে সে অনেক ভাগ্যবান এবং অশেষ সওয়াবের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা তার সমস্ত নেক আশা পূরণ করে দেবে ইনশাআল্লাহ।

রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদের নামায পড়ে এবং সে তার স্ত্রীকেও ঘুম থেকে জাগিয়ে নামায পড়ায় এমনকি সে যদি জেগে না উঠে, তবে তার মুখে খানিকটা পানি ছিটিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতি আল্লাহ রহমত বর্ষণ করে থাকেন। অনুরুপ কোনো মহিলা যদি রাত্রিকালে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে এবং সে তার স্বামীকে নামাযের জন্য জাগায় এমনকি স্বামী না জাগলে স্ত্রী তার মুখে পানি ছিটিয়ে তার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতিও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে থাকে। রাসুল (সাঃ) বলেন, আল্লাহর নিকট অতি প্রিয় নামায দাউদ (আঃ) এর নামায। তিনি অর্ধেক রাত ঘুমাতেন এবং রাতেন তৃতীয় ভাগে নামাযে দাঁড়াতেন আর ৬ষ্ঠ ভাগে আবার ঘুমাতেন।

কেয়ামতের ভয়াবহ বিপর্যয় এবং কঠিন হিসাব-নিকাশের দিবসে কোনো ব্যক্তি যদি সহজ হিসাব কামনা করে, তাহলে তার উচিত হবে নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া। শ্রেষ্ঠতম মুফাসিসরে কোরআন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (র.) বলেন, যে ব্যক্তি হাশরের ময়দানে সহজ হিসাব কামনা করে, তার উচিত হবে আল্লাহ যেন তাকে রাত্রির অন্ধকারে সেজদারত ও দাঁড়ানো অবস্থায় পান। তার মাঝে পরকালের চিন্তা এবং রহমতের প্রত্যাশাও থাকা দরকার। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথভাবে রাতের শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার তওফিক দান করুন। আমিন।

তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল

তাহাজ্জুদ সালাত সুন্নত এই অর্থে যে রাসুল (সা.) পড়েছেন। রাসুল (সা.)-এর যেকোনো আমল আল্লাহ তায়ালার বান্দাগণ অনুসরণ করলে সেটা সুন্নাহ। আর ফরজ ছাড়া যত ইবাদত আছে, সবই নফল ইবাদতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তাই আল্লাহ ৫ ওয়াক্ত সালাতকে ফরজ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া যত সালাত রয়েছে, সব নফল কিংবা অতিরিক্ত। সুতরাং নফল সালাত হুকুমের মধ্যে আসেনি। সুন্নাহকে ওলামায়ে কেরামগণ হুকুমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। হুকুম হচ্ছে বিধান।

রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ২ প্রকার। একটা হচ্ছে, সেই সুন্নাহ যার উপর গুরুত্ব বেশি দেয়া হয়েছে। আরেকটা হচ্ছে, অতিরিক্ত সুন্নাহ হিসাবে যে সুন্নাহ প্রমাণিত হয়েছে। তাহাজ্জুদ এই পর্যায়ের সালাত। তাহাজ্জুদ সালাত নফল এই দিক থেকে যেহেতু এটা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। আর যেহেতু রাসুল (সা.) আদায় করেছেন, সেহেতু এটি হচ্ছে সুন্নাহ।

আরও পড়ুনঃ মধু খাওয়ার উপকারিতা | মধু খাওয়ার উপকারিতা কি

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া