Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2021/10/The-best-pharmaceutical-company-in-Bangladesh.html

বাংলাদেশের সেরা ১০ ঔষধ কোম্পানি ২০২১ | বাংলাদেশের সেরা ওষুধ কোম্পানি

বাংলাদেশের সেরা ১০টি ঔষধ কোম্পানি | বাংলাদেশের সেরা ১০ ঔষধ কোম্পানি ২০২১ | বাংলাদেশের সেরা ওষুধ কোম্পানি — বর্তমানে বিশ্বের স্বল্প সময়ের মধ্যে যত সকল কোম্পানি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন ও প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে তার মধ্যে ঔষধ কোম্পানিগুলোর স্থান রয়েছে প্রথম সারিতে। সারা বিশ্বের ন্যায় জনসংখ্যার তুলনায় আয়তনের দিকে ছোট জনবহুল আামাদের এই বাংলাদেশের মধ্যেও বেশ কিছু সারা জাগানো ঔষধ কোম্পানি আছে।

যাদের কোম্পানির ঔষধ একজন ছোট শিশু বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ মূমুর্ষ ব্যাক্তি পর্যন্ত প্রতিদিন সেবন করছে এবং আলহামদুলিল্লাহ এর দ্বারা উপকৃতও হচ্ছে। এই পৃথিবীতে এমন মানুষ খোজা কষ্টকর যে কি-না সারা জীবন পরিপূর্ণ সুস্থ জীবন পার করেছে। শুধু যে মানুষ তা নয় বরং অন্যান্য প্রাণীও (যেমন- গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি প্রভূতি) জীবনের কোনো না কোনো সময় অসুস্থ হয়।

আধুনিক এই বিজ্ঞানের কল্যাণের ফলে মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশুর বিভিন্ন রোগ অনুযায়ী বিভিন্ন ঔষধ আবিষ্কার হচ্ছে। বাংলাদেশে বসবাস করে বাংলাদেশের তৈরি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রোগভেদে ঔষধ খেতে পারাটা আমাদের গর্বের বিষয়। হ্যা, প্রিয় পাঠক কথা আর বাড়াবো না আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আমাদের বাংলাদেশের সেরা ওষুধ কোম্পানি অথবা বাংলাদেশের সেরা ২০ টি ঔষধ কোম্পানি নিয়ে জানবো। 

বাংলাদেশের সেরা ওষুধ কোম্পানি

১। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস

১৯৫৮ সাল‌ে স‌্যামসন এইচ চ‌ৌধুরী এবং তার বন্ধু মিলে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক‌্যালস প্রত‌িষ্ঠিত কর‌নে।তাদ‌ের আপ্রাণ চেষ্টায় এই প্রত‌িষ্ঠানট‌ি ১৯৯১ সাল থ‌েকে‌ সাধারন মানুষ‌ের কাছ‌ে পর‌চি‌তি হওয়া শুরু কর‌ে। সেই সাধারণ পর‌চি‌তি থেকেই আজ শুধু যে কেবল বাংলাদেশেই এর বিস্তার তা নয় বরং সারা বিশ্বেই এর বিস্তার রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪২ টি দেশে ঔষধ রপ্তানি করছে এই ওষুধ কোম্পানি।

এদের মধ্যে রয়েছে এশিয়ার ১৯ টি দেশ, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ৬টি, আফ্রিকার ১৩টি, ওশেনিয়া অঞ্চলে ৩টি এমনকি যুক্তরাজ্যের বাজারেও স্কয়ার কোম্পানির ঔষধ রপ্তানি করা হচ্ছে। এটি যে শুধু স্কয়ার গ্রুপের গৌরব তা নয় বরং এটি বাংলাদেশের ও একটি অনন্য গৌরব যে বাংলাদেশের ঔষধ কোম্পানি হিসেবে স্কয়ার গ্রুপ বর্তমান বিশ্বের বাজারে মুখ দেখাতে সক্ষম হয়েছে। স্কয়ার গ্রুপ যে শুধু ঔষধ তৈরি করছে তা নয় বরং ওষুধের পাশাপাশি এর প্রায় ২০ টি নিজস্ব প্রতিষ্ঠান রয়েছে। 

২। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস

বাংলাদেশের অন্যতম এক বৃহত্তর অনন্য ঔষধ কোম্পানি নাম হলো বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।এটি ১৯৭০ সালে এ.এস.এফ রহমান ও সালমান এফ রহমান প্রতিষ্ঠিত করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু আমাদের নিজ দেশের ঔষধের চাহিদাই শুধু মেটাচ্ছে না বরং এর পাশাপাশি বর্তমানে প্রায় ১০৩ টি দেশে এর তৈরি পন্য রপ্তানি করে দেশের অর্থনৈতিক চাকাকেই ঘুরাচ্ছে। এছাড়াও বহুল জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম বিডিনিউজ 24 ডটকম তৈরি করেন। 

৩। ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস

এটি ঔষধ কোম্পানি 1999 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে পাঁচটি বিভাগে প্রায় সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ এই প্রতিষ্ঠানের সাথে কর্মরত আছে। ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস এর উদ্যোগে এক অনন্য প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে রয়েছে অত্যাধুনিক হিউম্যান ভ্যাকসিন উৎপাদন সুবিধা। ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বাজারে ২০১১ সালের জুন মাসে মানুষের টিকা চালু করেছে। হিউম্যান ভ্যাকসিন তৈরির প্রযুক্তি অর্জনকারী প্রথম বাংলাদেশী কম্পানি হিসেবে ইনসেপ্টা সকলের কাছেই জনপ্রিয় হয়েছে। 

৪। রেনাটা লিমিটেড

১৯৭২ এই কোম্পানিটি ফাইজার লিমিটেডের সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করে। পরবর্তী দুই দশক ধরে এটি ফাইজার কর্পোরেশনের অত্যন্ত সফল সহায়ক হিসেবে অব্যহত থাকে। পরবর্তীতে ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিকে ফাইজারের ফোকাস ফর্মুলেশন থেকে গবেষনায় স্থানান্তর হয়েছিল। এই রুপান্তর অনুসারে ফাইজার বাংলাদেশসহ অনেক দেশে তার স্বার্থ বিচ্ছিন্ন করেছে। ১৯৯৩ সালে ফাইজার তার বাংলাদেশের কার্যক্রমের মালিকানায় স্থানীয় শেয়ার হোল্ডারদের কাছে স্থানান্তর করে এবং কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে রেনাটা লিমিটেড করা হয়। 

৫। এসি আই লিমিটেড

বাংলাদেশে যত সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম এক প্রতিষ্ঠানের নাম হলো এসি আই লিমিটেড। এর পূর্ব নাম ছিল আইসিআই। ১৯২৫ সালে আইসিআই কোম্পানি যাত্রা শুরু করে। শুরুতে কোম্পানিটি ব্যাপক লোকসানের পর যখন এর চেয়্যারম্যান হিসেবে এম.আনিসুদুল্লাহ কে নিযুক্ত দেওয়া তখন থেকেই কোম্পানিটি লাভের মুখ দেখতে পায়। তার এই উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার ফলে এক সময় আইসিআই বোর্ড এম.আনিসুদ্দুল্লাহর কাছে কোম্পানিটির মালিকানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৮২ সালে আইসিআই কোম্পানির মালিকানা হস্তান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে এর নতুন নাম দেওয়া হয় এ.সি.আই.(এডভান্স কেমিক্যাল লিমিটেড) কোম্পানি। শুরুতে এটি ঔষধ ও কৃষি শিল্পের রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি করলেও পরবর্তী থেকে বর্তমান পর্যন্ত এর বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের উদ্ভব ঘটান। 

৬। অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড

এই কোম্পানিটি ১৯৫৬ সালে দক্ষিনাঞ্চলের ছোট শহর বরিশালে আবদুল খালেক খান প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার সন্তানেরা বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। এটি প্রথম স্থানীয়ভাবে সাপোজিটরি ফরমুলেশন এবং তৃতীয় জেনারেশন অ্যান্টিবায়োটিক সেফট্রিয়াক্সোন যথাক্রমে ১৯৮৭ এবং ১৯৯৪ সালে তৈরি করে। এই কোম্পানিটি প্রায় ৭৫০ এরও বেশী ঔষধ তৈরি করে থাকেন। এটি ঔষধ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষনার কাজে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবন করেন। 

৭। এরিস্টো ফার্মা লিমিটেড

এরিস্টো ফার্মা লিমিটেড এই ঔষধ কম্পানিটি ১৯৮৬ সালে এম.এ.হাসান প্রতিষ্ঠিত করেন। দেশ বাসিকে সল্পমূল্যে মান সম্মত ঔষধ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এটি যাত্র্রা শুরু করে। এটি ২০০২ সালে জীবানুমুক্ত চক্ষু পণ্য উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে চক্ষু পণ্য বাজারে ১ম স্থান অধিকার হিসেবে সুপরিচিত অর্জন করেছে। ২০১০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির শিল্পের কাচামালের বিভিন্ন পদের বিস্তার ঘটিয়ে আধুনিক চিকিৎসার সব ঔষধ পত্র তৈরি করেছেন। সম্প্রীতি এই প্রতিষ্ঠানটি তার নতুন ইউকে এমএইসআরএ স্ট্যান্ডার্ড প্লান্টট‌ি গাজপুরে খুলেছে। নতুন এই ক্যাম্পাসটি ডেডিকেটেড চক্ষু ও অনকোলজি উদ্ভিদের রোপন কাজও চলছে। 

৮। রেডিয়ান্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

রেডিয়্যান্ট ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও উন্নত ঔষধ ও সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এটি ২০০৮ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঔষধ প্রস্তুত শুরু করেন। তাদের এই কোম্পানিটি ঔষধ উৎপাদন শুরু করার কয়েক বছরের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠে। রেডিয়্যান্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড স্থানীয় ও বিদেশী উভয় মার্কেটের জন্য ঔষধ উৎপাদন ও বিপননে নিয়োজিত। রেডিয়্যান্ট কনসোর্টিয়াম কোম্পানিগুলো বিভিন্ন শিল্পে প্রায় ১১টিরও বেশী কোম্পানি নিয়ে গঠিত যা ঔষধ উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি এবং বিতরণকে অগ্রাধিকার দেয়। 

৯। হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

১৯৮৮ সালে রোচে (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সহযোগিতায় হেলথকেয়ার ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হেলথ কেয়ার তার কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি হেলথ কেয়ার ফার্মেসিউটিক্যালস লিমিটেড নামেই নিজস্ব ফার্মাসিটিক্যালস প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০১ সাল পর্যন্ত রোচের পণ্য স্থানীয় বাজারে আমদানি ও বিপননের জন্য হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস অসামান্য অবদান রাখে। রোচে, সুইজারল্যান্ড এবং অন্যান্য স্থানীয় জেনেরিক থেকে অধিবাসী বাজারের জন্য আমদানি করা পণ্য উৎপাদন করে। বর্তমানে এর প্রায় ৪৬৩ এরও বেশি পণ্য তৈরি করছে। মানসম্মত ও যুগোযুপযোগী ঔষধ পণ্য তৈরির মাধ্যমে স্বল্প সময়েই কোম্পানি সকলের কাছে সুপরিচিত হয়ে উঠেছে। 

১০। ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড

ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ১৯৭৪ সালে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্টারের অধীনে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি ১৯৮৩ সালে প্রণয়ন এবং উৎপাদন শুরু করে। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভালো উৎপাদন অনুশীলন (Who cGMP) নির্দেশিকা গুলির মতো প্রধান বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দ্বারা প্রদত্ত নির্দেশনা গুলো পূরণ করা। এর কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরি দ্বারা ঔষধের পর্যবেক্ষণ করা হয়। 

১১। একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড

১৯৫৪ সালে নারায়নগঞ্জে একটি স্বত্বাধিকারী সংস্থা হিসেবে হামিদুর রহমান সিনহা একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত করেন। সেই সময় পাকিস্তানি উদ্যোক্তা কর্তৃক যেকোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত পরিবেশ ছিল অনেক কঠিন। কিন্তু জনাব হামিদুর রহমান সিনহার অদম্য উদ্যোগ, সাহস এবং উৎসাহের কারণে তার প্রবল ইচ্ছা এবং বাস্তব নেতৃত্বে তিনি তার প্রতিষ্ঠানকে থামতে দেননি। তার সেই সাহসী নেতৃত্বের দরুন আজ এই কোম্পানিটি এত দূর পর্যন্ত পৌছাতে পেরেছে। 

১২। পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

বাংলাদেশের সকল ফার্মাসিউটিক্যালসফার্ম এর মধ্যে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান যা সল্প সময়েই খুব পরিচিতি লাভ কর‌ে নিজ অবস্থানকে শীর্ষে রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সালের ৮ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এটি শীর্ষস্থ সংহত জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যালস প্রণয়ন পণ্য প্রস্তুতকারকক, বিপণনকারী প্রবর্তক এবং পরিবেশক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য। কোম্পানিটি তার মান ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার জন্য ISO 9001:2015 ও সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে আপডেট করছে। এর প্রায় ৪২৭ ধরনের বেশী বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে। অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার দ্বারা এর তৈরি মান সম্মত ঔষধ খুবই কার্যকর হয়ে উঠেছে। 

১৩। এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ঔষধ তৈরীর অনন্য এক কোম্পানির নাম হচ্ছে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। এটি ১৯৯০ সালে লতিফুর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকার গুলশানে প্রতিষ্ঠানটির হেডকোয়াটার এর পাশাপাশি সারা দেশে এর আরো ৫টি স্থানে রয়েছে বিশাল প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে যে শুধু ভালোমানের ঔষধ তৈরি করা হয় তা নয় বরং কোম্পানিতে নিযুক্ত সকল কর্মকর্তাদেরও বিশ্ব মানের আধুনিক সব প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় যাতে তাদের যুগোপযোগী করে তুলতে সক্ষম হয়। বর্তমানে এই কোম্পানিটির প্রচার ও বিস্তার সারা দেশব্যাপী। 

১৪। জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

এট‌ি ১৯৮৭ সাল‌ে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেক‌ে আজ পর্যন্ত প্রায় দুই যুগ‌রেও বেশি সময় নিয়ে সফলভাব‌ে কাজ কর‌ে যাচ্ছ‌ে। এট‌ি ব‌িশ্বমান‌ের ঔষধ তৈরির লক্ষ‌ে‌‌ সারা ব‌িশ্ব‌ে সাস্থ‌্য সংস্থা এম এইচ.আর.এ,জ‌ি.এম.প‌ি, ইউর‌োপিয়ান প্রভূত‌ি সংস্থা নির্দ‌েশনা অনুযায়ী কাজ কর‌ে যাচ্ছ‌ে। বাংলাদ‌শের সর্ববৃহৎ প্রডাকশন ফেস‌িলিটিস সম্ব‌লিত কোম্পান‌িটিরি ফ‌্যাক্টর‌িত‌ে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইনজ‌েশন‌ের গাইডলাইন অনুযায়‌ী বাংলাদ‌শে এই প্রথম স্ট‌েরাইডাল এবং নস্টেরাইডাল অপথ‌লেমিক প্রিপ‌ারেশনের জন‌্য তৈরি করা হয়‌েছে সম্পূর্ণ ডেড‌িকেটেড প্রেডাকশন এর‌িয়া। স্ট‌েট অব দ‌্যা আর্ট ট‌েকন‌োলোজ‌ি সমৃদ্ধ বিশ্বমান‌ের এই ফ‌্যাক্টরিতে সর্ব‌োচ্চ‌ মান সম্পন্ন ঔষধ নিশ্চিত করার লক্ষ‌ে কোম্পান‌িতে রয়‌েছে কোয়াল‌িট‌ি এনসিউর‌েন্স ডি‌পার্টম‌েন্ট। 

১৫। নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

১৯৯২ সালে আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করার মাধ্যমে চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম স্বাস্থ্যসেবা শিল্পের অসামান্য অবদান রাখেন। এর ঔষধের মান নিশ্চিত করতে ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন ও সিজিএমপি এর নির্দেশনা মেনে চলে। SO 9000:2008 অনুযায়ী কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এই নীতির উপর ভিত্তি করে এর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি বর্তমানে উন্নত পরিষেবা ও গুণগত মানের জন্য ক্রমাগত উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করছে।

১৬। ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

ওয়িয়ন ফার্মা লিমিটেড বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ঔষধ কোম্পানি। এটি মানসম্মত ব্রান্ডেড জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যালস সরবরাহ করে দেশের মানুষের সাস্ব্যসেবা উন্নত করতে অবদান রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটি তার মূল্যবান গ্রাহকদের উৎকৃষ্ট মানের পণ্য পরিবেশন করার জন্য ISO-9001:2000 সার্টিফিকেট প্রদান করেন।

১৬। বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড

বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি। এটি ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে। খুব সল্প সময়ের মধ্যেই মান সম্পন্ন ঔষধ উৎপাদন করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ইউএস, এফডিএ, টিজিয়ে অস্ট্রেলিয়া এবং হু, জিএমপির মতো বিশ্বমানের মান মেনে চলার জন্য ইউরোপীয় পরামর্শদাতাদের দ্বারা উন্নত মানের অবকাঠামো এবং সুযোগ সুবিধার আধুনিক কারখানা রয়েছে। সংস্থাটি ২০০ টিরও বেশি বিশ্বমানের জেনেরিক ঔষধ তৈরি করে এবং এমনকি বর্তমানে সফলভাবে একটি নাম্বার বৈশ্বিক প্রথম জেনেরিক ঔষধও চালু করেছে।

১৭। জিসকা ফার্মাসিউটিক্যালসলিমিটেড

এই কোম্পানিটি প্রায় ২৮ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের চিকিৎসা শাস্ত্রে এক অনন্য ভূমিকা পালন করছে। এই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম এক লক্ষ্য হলো অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করা রোগীদের সাহস, আশা ও আকাঙ্ক্ষায় অংশ নেয়া। এটি যে শুধু আমাদের দেশেই চিকিৎসা চাহিদা মেটাচ্ছে তা নয় বরং এর তৈরি পণ্য সামগ্রী দেশের বাইরেও রপ্তানি করছে। এটি শুধু আমাদের দেশেই নয় বরং আগামী কয়েক বছর পর এটি সারাবিশ্বেই পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হবে এটি আশাবাদী।

১৮। ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

১৯৮৩ সালে ইবনে সিনা ট্রাস্ট কর্তৃক কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্য সব কোম্পানির মতো এটিও বর্তমানে সফলভাবে মানসম্মত ঔষধ উৎপাদন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষকে সঠিক ও মানসম্মত ঔষধ তাদের হাতে পৌছানোই মূলত এর প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে এই ঔষধ কোম্পানিটি প্রায় ৪০০ টির বেশি পণ্য এবং ২০০ টির বেশি জেনেরিকস তৈরি করতে সক্ষম হয়। কোম্পানিটির ঔষধের মান যাচাইয়ের জন্য উন্নত মানের সব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর অগ্রগতিতে এপিসি (অস্ট্রেলিয়া ফার্মাসিটিক্যালস কাউন্সিল) এর পরামর্শক্রমে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে। এর দ্বারা কোম্পানিটি খুব শীঘ্রই এই সংস্থাটি থেকে সার্টিফিকেট আশাবাদী।

১৯। ইউনিমেড অ্যান্ড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

১৯৯৭ সালে ইউনিমেড অ্যান্ড ইউনিহেলথ বায়োটেস্ট, অ্যাবট, জ্যানসেন ভাইফোরের মতো বিশ্বমানের ঔষধ উৎপাদনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এম মুসাদ্দেক হোসেন। তার সফল নেতৃত্বের মাধ্যমে কোম্পানিটি বর্তমান পর্যন্ত পৌছাতে পেরেছে। ২০০০ সালে কোম্পানিটির উৎপাদন ক্ষমতার বিকাশের ফলে বেশ কয়েকটি বিশেষ থেরাপিউটিক এলাকায় বিপুল সংখ্যক ব্রান্ডেড জেনেরিক প্রবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়। কোম্পানিটি তার মানসম্মত উৎপাদনের কারণে বর্তমানে সকলের নিকটই আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এর পাশাপাশি কম্পানিটি সামনে শীর্ষ স্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি হিসেবে গৌরব অর্জন করবে এটি আশাবাদী।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া