তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন মহিলাদের

আপনি কি মহিলাদের তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম, তারাবির নামাজ কত রাকাত অথবা তারাবির নামাজ কিভাবে পড়তে হয়? তা জানতে চান তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র আপনার জন্য। আর্টিকেলটিতে তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন মহিলাদের, নামাজ পড়ার সঠিক পদ্ধতি এবং অন্যান্য নামাজ কিভাবে পড়তে হয় তা নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন মহিলাদের

(toc) #title=(এক নজরে সম্পূর্ণ লেখা পড়ুন)

তারাবির নামাজ কি

পবিত্র রমজান মাসে প্রথম রাতে এশার নামাজের পরে এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে ৪ অথবা ১০ বার সালামে যে ৮ অথবা ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়, এই নামাজকে 'তারাবির নামাজ' বলা হয়।

তারাবির নামাজ কত রাকাত

তারাবীহর নামাজের রাকাত নির্দিষ্ট করা হয়নি। হানাফি, শাফিয়ি ও হাম্বলি ফিকহের অনুসারীগণ ২০ রাকাত, মালিকি ফিকহের অনুসারীগণ ৩৬ রাকাত এবং আহলে হাদীসরা ৮ রাকাত তারাবীহ পড়েন। তারাবির নামাজ পড়া সুন্নাত। প্রথমে এশারের ৬ রাকাত নামাজ অর্থাৎ ৪ রাকাত ফরজ ও ২ রাকাত সুন্নতের পড়তে হয়। তারপর ২০, ৩৬, অথবা ৮ রাকাত তারাবি এবং শেষে ৩ রাকাত বিতর নামাজ পড়তে হয়। তারাবির নামাজ পড়া সুন্নাত

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমাযানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় তারাবীহর সালাতে দাঁড়াবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।

তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম

আগেই জেনেছি তারাবির নামাজ ২০ অথবা ৮ রাকাত। তারাবির নামাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এই নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে পড়তে হয়। অর্থাৎ ২০ রাকাত ১০ বারে, আট রাকাত নামাজ চার বারে এবং ৩৬ রাকাত নামাজ ১৮ বারে পড়তে হবে।

প্রথমে দুই রাকাত নামাজ শেষ করতে হবে। তারপর আরো দুই রাকাত নামাজ শেষ করতে হবে। এখন দুই রাকাত দুই রাকাত চার রাকাত হলো, এই চার রাকাতের পর আবার নামাজ না শুরু করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বিভিন্ন দোয়া ইস্তেগফার করতে হবে।

এই যে নামাজ শুরু না করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে দোয়া ইস্তেগফার করা এটাই তারাবির নামাজের মূল বৈশিষ্ট্য। এরপর দোয়া করা শেষ হলে একইভাবে আবারো দুই রাকাত দুই রাকাত করে এমন ভাবে বাকি রাকাত সালাত সম্পন্ন করলে তারাবির ২০ অথবা ৮ রাকাত নামাজ পড়া শেষ হবে।

তারাবির নামাজ না পড়লে কি রোজা হবে

তারাবির নামাজ না পড়লেও রোজা হবে। কেননা তারাবির নামাজ হলো একটি সুন্নত নামাজ। তারাবির নামাজ কোনো কারনে না পড়া হলেও ক্ষতি নেই। এই নামাজের আসল উদ্দেশ্য হলো বেশি বেশি নেকি অর্জন করা। 

রমজান মাসে আমরা তারাবির নামাজ পড়ে থাকি। আমাদের মহানবী (সাঃ) রমজান মাসে বেশি বেশি সওয়াব লাভের আশায় যে নামাজ পড়তো সেটাকে আমরা তারাবি নামে জানি।

তবে অনেকের মধ্যে একটি ধারণা আছে যে তারাবি নামাজ আগে না পড়লে নাকি রোজা হবে না। তাই অনেকে তারাবি পড়েনি বলে রোজা রাখেনা। এটা একটা বড় ভুল ধারণা।

কেননা রোজা করা হলো ফরজ। ফরজ কাজ অবশ্যই করতে হবে। না করলে গুনাহ হবে। তাই কোন কারনে তারাবির নামাজ না পড়তে পারলে সমস্যা নেই কিন্তু রোজা অবশ্যই রাখতে হবে।

আরো পড়ুনঃ স্বপ্নে নামাজ পড়তে দেখলে কি হয়

মহিলারা কোথায় তারাবির নামাজ পড়বে

বিভিন্ন হাদিসে মহিলাদের ঘরে এবং জামাতে তারাবির নামাজ আদায়ের কথা উঠে এসেছে। তবে জামাতের সাথে মসজিদে তারাবি আদায় করতে কিছু নিয়ম কানুন মেনে যেতে হবে। যেহেতু মেয়েদের পর্দার আড়ালে থেকেই মসজিদে যেতে হবে তাই এ নিয়মগুলো না মেনে নামাজ পড়তে যাওয়া যাবে না।

আমাদের আশেপাশের গ্রামে অথবা বাড়িতে জামাত করে অনেক মহিলারা রমজান মাসে নামাজ পড়েন। এক্ষেত্রে মহিলারাই ইমামতি করে থাকে। তবে এই ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে,

মহিলারা ইমামতি করলে তারা সামনে গিয়ে ইমামতি করতে পারবেন না। তাদেরকে কাতারের মধ্যে অবস্থান করতে হবে। অর্থাৎ যে মহিলা ইমামতি করবে তাকে কাতারের মধ্যে অবস্থান করতে হবে এবং তার কণ্ঠস্বরটা কিছুটা উঁচু হবে জামাতের সকল মহিলারা শুনতে পায়।

তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন মহিলাদের

আসলে মহিলাদের তারাবির নামাজ পুরুষদের তারাবির নামাজ থেকে ভিন্ন নয়। পুরুষরা যেভাবে তারাবির সালাত আদায় করে মহিলাদেরকেও সেভাবে তারাবির সালাত আদায় করতে হবে।

তারাবির নামাজ না পড়লে কি হয়

তারাবির নামাজ না পড়লে আপনি অনেক নেকি থেকে বঞ্চিত হবেন। যেখানে আপনি জানেন যে রমজান মাসে প্রতিটি ইবাদতের জন্য ৭০ গুন করে নেকি পাওয়া যায়। সেখানে আপনি যদি ৮ রাকাত তারাবির নামাজ পড়েন তাহলে ৮ সাথে ৭০ গুন করে কত রাকাত হয় অথবা ২০ রাকাত সলাতের সাথে ৭০ গুণ দিয়ে কত হয় তা নিজেই হিসাব করুন। আপনার হিসাবকৃত সংখ্যাটির সমান রাকাত আপনি নামাজ পড়ার সওয়াব পাবেন।

দুই রাকাত বিশিষ্ট নামাজ পড়ার নিয়ম

(১) তাকবীরে তাহরীমা: প্রথমে ওজু করতে হবে। তারপর জায়নামাজে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সংকল্প করে কেবলা মুখী হয়ে দাঁড়িয়ে আল্লাহু আকবার বলে দুই হাত কাঁধ বরাবর তুলতে হবে। আল্লাহু আকবার বলে দুই হাত কাধ বরাবর তোলাকে তাকবীরে তাহরীমা বলে।

তারাবির নামাজের নিয়ম

২। বুকে হাত বাঁধাঃ তাকবীরে তাহরীমার পর বুকে হাত বাঁধতে হয়। হাত বাঁধার নিয়ম হলো বাম হাতের উপরে ডান হাত কনুই বরাবর রাখতে হয় অথবা বাম কব্জির উপরে ডান কব্জি রেখে বুকের উপরে হাত বাঁধতে হয়। চোখের দৃষ্টি সবসময় সিজদার স্থানে রাখতে হবে।

দুই রাকাত বিশিষ্ট নামাজ পড়ার নিয়ম

৩। ক্বেরাতঃ পর্যায় ক্রমে

  • সানা
  • সুরা ফাতিহা এবং
  • যেকোন একটি সূরা পড়তে হবে।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে প্রথম রাকাতের ক্ষেত্রে 'ছানা' পড়ার পর আ'উযুবিল্লাহ হিমিনাস শয়তানির রজীমবিসমিল্লাহ সহ সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করতে হয়। ক্বেরাত শেষ করার পর রুকুতে যেতে হবে। রুকুতে যাওয়ার জন্য আল্লাহু আকবার বলে দুই হাত কান বরাবর তুলতে হবে যেতে হবে।

নামাজের নিয়ম কানুন

৪। রুকু: রুকুতে ৩ বার একটি দোয়া পড়তে হয় দোয়াটি হলো সুবহা-না রব্বিয়াল আজিম

নামাজের নিয়ম কানুন

৫। রুকু থেকে ওঠার নিয়ম: রুকু শেষ করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে এবং দুই হাত আবারও কান বরাবর তুলে সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ পড়তে হবে। এরপর হাত নামিয়ে দাঁড়ানো অবস্থাতেই রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু, হামদান কাছীরান ত্বায়্যিবান মুবা-রাকান ফীহি এই দোয়া পড়তে হবে।

রুকু থেকে ওঠার নিয়ম

৬। সিজদা: তারপর সিজদাতে যেতে হবে। সিজদাতে যাওয়ার জন্য প্রথমে দুই হাত তারপর দুই হাটু মাটিতে রেখে সিজদা করতে হবে। তবে লক্ষ রাখতে হবে যে, এ সময় দুই হাত যেন ক্বিবলামুখী থাকে এবং হাত যেন মাথার দুই পাশের কানও কাঁধ বরাবর মাটিতে রাখা হয়।

তবে কুনই ও বগলের মাঝখানে কিছুটা ফাঁকা থাকবে এবং হাটুতে বা মাটিতে কোন প্রকার ঠেস দেওয়া যাবে না। সিজদা এমন হবে যে পিঠ সোজা থাকবে এবং সিজদা লম্বা হবে। যেন বগলের ফাঁক দিয়ে একটা ছোট বকরির বাচ্চা যাওয়ার মত ফাঁকা থাকে।

প্রতিরাকাতে দুইবার সিজদা করতে হয়। দুই সিজদার মধ্যে একটি দোয়া বলতে হয়। প্রতিটি সিজদা করার সময় তিনবার করে একটি দোয়া পড়তে হয় দোয়াটি হলো সুবহা-না রব্বিয়াল আ’লা

একবার সিজদা করার পর উঠে বসতে হবে এবং একটি দোয়া করতে হবে দোয়াটি হলো আল্লা-হুম্মাগ্ফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াজ্বুরনী ওয়াহদিনী ওয়া ‘আ-ফেনী ওয়ারঝুক্বনী। তারপর আরেকটি সিজদা করতে হবে আগের নিয়মেই।

সিজদা

মনে রাখা প্রয়োজন যে, নামাজের সময় আমাদের গুনাহ গুলোকে আমাদের কাঁধের উপর রাখা হয়। তাই আমরা যত ভালোভাবে রুকু ও সেজদা করব ততো ভালোভাবে গুনাহ গুলো আমাদের থেকে ঝরে পড়তে থাকবে।

দুইটি সিজদা শেষ হওয়ার মাধ্যমে প্রথম রাকাতে শেষ হলো। এখন কয়েক সেকেন্ড একটু বসার পর আবার উঠে দাঁড়াতে হবে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য।

দ্বিতীয় রাকাত

দ্বিতীয় রাকাত নামাজ প্রথম রাকাতের নামাজের মত করেই পড়তে হবে। তবে একটু ভিন্নতা রয়েছে। সেটা হলো প্রথম রাকাত নামাজের আমরা তাকবীরে তাহরিমা দিয়ে শুরু করি অর্থাৎ দুই হাত কাঁধ বরাবর তুলে আল্লাহু আকবার বলি এবং তারপর সানা পড়ি। তো এই দুইটি কাজ করা যাবে না। দ্বিতীয় রাকাতে তাকবীরে তাহরীমা এবং সানা পড়া যাবে না। শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা এবং অন্য সূরা পড়ে নামাজ শুরু করতে হবে।

পরবর্তী নিয়মগুলো প্রথম রাকাতের মতোই তবে প্রথম রাকাতটির বৈঠক ছিল না। তবে দ্বিতীয় রাকাতে বৈঠক আছে। বৈঠকের মানে হলো সিজদার পর বসে দোয়া করা। 

দ্বিতীয় রাকাতে সিজদা শেষ করার পর বৈঠকে বসে তিনটি দোয়া পড়তে হয়। প্রথমে তাশাহুদ তারপর দরুদ শরীফ এবং দোয়া মাসূরা পড়তে হবে। তিনটি দোয়ার পর অন্যান্য কোনো দোয়া যদি আপনি পারেন তাহলে পড়বেন না পারলে দরকার নেই। তারপর ডানে এবং বামে সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করতে হবে।

নামাজ
নামাজের নিয়ম কানুন

এই নিয়ম অনুসরণ করে আপনারা দুই রাকাত বিশিষ্ট যেকোনো ফরজ সুন্নত বা নফল নামাজ পড়তে পারবেন। এই নিয়ম অনুসরণ করে দুই রাকাত দুই রাকাত করে চারবারে আট রাকাত অথবা দশবারে মোট ২০ রাকাত তারাবির নামাজ সম্পন্ন করুন।

আরো পড়ুনঃ আত্তাহিয়াতু সূরা বাংলা উচ্চারণ

দুই রাকাত বিশিষ্ট সালাতের সংক্ষিপ্ত নিয়ম

তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন মহিলাদের

৪ রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজের সংক্ষিপ্ত নিয়ম

এ নিয়ম অনুসরণ করে আপনি জোহর, আসর ও এশারের ৪ রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজগুলো আদায় করতে পারবেন।

তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন মহিলাদের

প্রথমে এশারের চার রাকাত ফরজ নামাজ পড়ে নিবেন তারপর দুই রাকাত সুন্নত এবং তারপর আট রাকাত তারাবি এবং সর্বশেষে তিন রাকাত বিতর তারপর রমজান মাসে রাতের ইবাদত সম্পন্ন হবে।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের সেরা মসজিদ - বাংলাদেশের সেরা ১০টি মসজিদ

বিতর নামাজ কি

বিতর নামাজ হল বিজোড় রাকাতের নামাজ। এই নামাজ এক রাকাত, তিন রাকাত, অথবা ৫ রাকাত পড়া যায় এই নামাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এ নামাজে দোয়া কুনুত পড়তে হয়।

তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল

তারাবির নামাজ হলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা। রমজান জান্নাতে যাওয়ার উৎকৃষ্টতম উপায় এবং রাইয়ান নামক বিশেষ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ। গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম হলো রমজান। অর্থাৎ আমরা জানলাম তারাবির নামাজ সুন্নত নামাজ।

কোনো কারণে তারাবির নামাজ না পড়লে কি হবে

তারাবি একটি সুন্নত নামাজ। তারাবির নামাজ নিয়মিত পড়লে অনেক নেকি অর্জন করা সম্ভব হয়। কিন্তু কোন কারনে এক দুই তিনটা বাদ পড়ে গেলে সমস্যা নাই। এতে কোন গুনাহ হবে না। কেননা এটা ফরজ নামাজ নয়।

আরো পড়ুনঃ রমজান মাসের ফজিলত ও আমল

পরিশেষে

আশা করি, আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনারা তারাবির নামাজের নিয়মতারাবির নামাজের নিয়ম কানুন মহিলাদের, মহিলাদের তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম, তারাবির নামাজ নামাজ কয় রাকাত, তারাবির নামাজ কিভাবে পড়তে হয় এ সকল কিছু সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।

পোষ্ট ক্যাটাগরি:

এখানে আপনার মতামত দিন

0মন্তব্যসমূহ

আপনার মন্তব্য লিখুন (0)