ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম – সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা যদি আপনি খুজে থাকেন তাহলে ঠিকাদারি ব্যবসা বর্তমানে একটি লাভজনক ব্যবসা। কিন্তু ঠিকাদারি ব্যবসা করার জন্য লাইসেন্স থাকা থাকা প্রয়োজন। লাইসেন্স ছাড়া কোনো ভাবেই আপনি ঠিকাদারি ব্যবসা করতে পারবেন না।

আমাদের আজকের আর্টিকেলে আমরা জানাবো ঠিকাদারি ব্যবসার লাইসেন্স কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে। অনেকেই আছেন যারা ঠিকাদারি করতে চাচ্ছেন কিন্তু লাইসেন্স কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে জানেন না। তারা আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার চেষ্টা করুন।

(toc) #title=(সুচিপত্র)

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম

ঠিকাদারি কি

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম সম্পর্কে জানার পুর্বে আমাদের ঠিকাদারি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। সরকারি অর্থায়নে যে সকল প্রকল্প নেয়া হয় তার মধ্যে বেশিরভাগ প্রকল্পের কাজ সরকারি কর্মচারিদের মাধ্যমে না করিয়ে বাহিরের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যাক্তির মাধ্যমে করানো হয়। এখানে, বাহিরের কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যাক্তিকে মুলত ঠিকাদার বলা হয়।

কিন্তু আপনি চাইলেই ঠিকাদার হতে পারবেন না। ঠিকাদার হওয়ার জন্য সরকারি ভাবে লাইসেন্স করতে হবে। এক্ষেত্রে পাব্লিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এর ৪৯ নং বিধিতে ইচ্ছুক ব্যাক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজের পেশাগত সক্ষমতা ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স অথবা নিবন্ধন থাকতে হবে।

আরো পড়ুনঃ ইসলামী ব্যাংক হোম লোন পদ্ধতি

ঠিকাদারি লাইসেন্স করতে কি কি লাগে

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাগজ পত্রের প্রয়োজন হবে। যেগুলো হলো:

  • ঠিকাদারি সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে আবেদন ফর্ম।
  • বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
  • টিআইএন সার্টিফিকেট অথবা ট্যাক্সের রশিদ নাম্বার।
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স।
  • ভ্যালু এডেড ট্যাক্স বা ভ্যাট রেজিষ্ট্রসন।
  • যে প্রকল্পের জন্য ঠিকাদারি করবেন সেটার জন্য পেশাগত সক্ষমতার প্রমান।
  • ঠিকাদারি আবেদন কারীর সদ্য তোলা ০৩ কপি ছবি।
  • জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি।
  • আবেদন ফি পরিশোধের ট্রেজারি চালানের নাম্বার।
  • সচল মোবাইল নাম্বার।

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম

আর্টিকেলের এ অংশে আমরা জানবো ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম সম্পর্কে। নিচে আমরা দিয়ে দিলাম কিভাবে আপনারা ঠিকাদারি লাইসেন্স করবেন –

  • সবার প্রথমে আপনাদের সরকারি ইলেক্ট্রনিক ট্রেন্ডার এর অফিসিয়াল ওয়েবাসাইটে যেতে হবে। ওয়েবসাইটের লিংক eprocure.gov.bd
  • নিউ ইউজার” রেজিষ্টেশন অপশনে যান।
  • এখানে রেজিষ্ট্রেশন ফর্ম পুরণ করে “সাইন আপ” করুন।
  • এবার আপনার একাউন্ট এর ইমেইল এড্রেস ভেরিফাই করে নিন।
  • এবার আপনার প্রতিষ্ঠানের সকল তথ্য দিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে পেমেন্ট করে দিতে হবে।
  • এবার ঠিকাদারি আবেদন এর ফি ৫০০০ হাজার টাকা দিয়ে দিন, সাথে সকল ডকুমেন্টস আপলোড করে দিতে হবে।

এবার আপনার আবেদনের কাজ শেষ। যদি আপনার তথ্য সব ঠিক থাকে আর আপনি যদি ঠিকাদারি লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হয়ে থাকেন তাহলে আবেদনটি গ্রহন করা হবে। আবেদন গ্রহনের পরে ভাইভা পরিক্ষার মাধ্যমে সরকারি শর্ত পূরণ হয়ে গেলে আপনাকে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান করবে।

আরো পড়ুনঃ সহজে ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় | ব্যাংক লোন পাওয়ার সহজ উপায়

অনলাইনে ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম - ঠিকাদারি লাইসেন্স অনলাইন আবেদনের নিয়ম

অনেকেই আছেন যারা উপরের দেয়া প্রসেস অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু যারা নতুন আবেদন করবেন তাদের জন্য সুবিধার জন্য আমরা নিচে স্ক্রিনশট আকারে আবেদনের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে দেখিয়ে দিলামঃ

১ম ধাপ – একাউন্ট ডিটেইলস প্রদান

ঠিকাদারি লাইসেন্স এর আবেদনের জন্য আপনাকে অবশ্যই এই ওয়েবসাইটে ঢুকতে হবে। ওয়েবসাইটের লিংক - eprocure.gov.bd সাইটে ঢোকার পর নিচের মত একটি পেজ দেখতে পাবেন।

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম

এখান থেকে আপনারা “নিউ ইউজার রেজিষ্ট্রেশন” অপশনে ক্লিক করে দিবেন। এরপরে নিচের মতো একটি পেজ আসবে।

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম

এখান থেকে আপনারা ইমেইল এড্রেস, পাসওয়ার্ড, জাতীয়তা, রেজিষ্ট্রেশনের ধরণ, ব্যবসার দেশ ও শেষে ক্যাপচা পুরণ করে “সাবমিট” বাটনে ক্লিক করে দিবেন। সাবমিট করার পরে আপনার দেয়া ইমেইল এড্রেসে একটি কোড চলে যাবে সেটা দিয়ে ভেরিফাই সম্পন্ন করে নিবেন ও ইউজার লগইন করে নিবেন।

২য় ধাপ – ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য প্রদান

আমরা পূর্বেই বলেছি ঠিকাদারি এর জন্য আবেদন করতে হলে আপনার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে। এখানে কোম্পানি ডিটেইলস এর ফর্মে আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সকল তথ্য দিতে হবে। কোম্পানির নাম, ফিল্ডস নাম, কোম্পানির বৈধতা, কত সালে গঠন করা হয়েছে ইত্যাদি দেয়ার পরে সেভ করে নিবেন।

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম

৩য় ধাপ – ব্যাক্তিগত তথ্য প্রদান

এই ফর্মে ঠিকাদারির জন্য যিনি আবেদন করবেন তার সকল ব্যাক্তিগত তথ্য দিতে হবে। নিজের সম্পূর্ণ নাম, লিঙ্গ, পদবি, ঠিকানা, দেশের নাম, জেলার নাম, থানা, পোষ্ট কোড, ফোন নাম্বার ইত্যাদি দিয়ে আপডেট অপশনে ক্লিক করে দিন।

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম

৪র্থ ধাপ – ফি পেমেন্ট প্রদান

ঠিকাদারির আবেদনের জন্য আপনাকে ৫০০০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে অনলাইনের মাধ্যমে। এখানে সবার উপরে একটি অপশন পাবেন অনলাইন পেমেন্ট নামে সেখানে ক্লিক করে দিন। এবার আপনাকে পেমেন্ট এর ধরণ সিলেক্ট করে টাকার পরিমান দিয়ে “পে অনলাইন” অপশনে ক্লিক করে দিতে হবে।

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম

পেমেন্ট দেয়া হয়ে গেলে অনলাইন আবেদনের কাজ শেষ। এবার আবেদন কপিটি ডাইনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে হবে।

৫ম ধাপ – ডকুমেন্টস আপলোড করা

এবার উপরে অপশন গুলো থেকে “সাপোর্টিং ডকুমেন্টস” অপশনে ক্লিক করে দিন। এবার আপনার যাবতীয় প্রমান পত্র গুলো আপলোড করুন যেমনঃ কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্স, রেজিষ্ট্রেশন, আপনার ছবি, ভ্যাটের রশিদ ইত্যাদি।

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম

ডকুমেন্টস সব দেয়া হয়ে গেলে আবেদনটি ফাইনাল ভাবে সাবমিট করতে হবে। সাবমিট করার পুর্বে ভালো ভাবে চেক করে নিবেন কোথাও কোনো ভুল থাকলে সংশোধন করে নিবেন, এবং আবেদনটি সাবমিট করে দিবেন।

আরো পড়ুনঃ সহজ কিস্তিতে লোন নেওয়ার নিয়ম | সহজ কিস্তিতে লোন

ঠিকাদারি লাইসেন্স এর ফি

ঠিকাদারি লাইসেন্স এর একটি ফি রয়েছে। আবেদনের সাথে ফি ও প্রদান করতে হবে। বর্তমানে ঠিকাদারি লাইসেন্স এর ফি হলো ৫০০০ টাকা।

ঠিকাদারি লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম

ঠিকাদারি লাইসেন্স এর মেয়াদ থাকে ১ বছর। ১ বছর পরে যদি আপনি লাইসেন্সটি ব্যবহার করতে চান তাহলে সেটা নবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হবে, আর যদি আপনি অনলাইনে করতে চান তাহলে আবেদন করার মতো একই প্রসেস ফলো করতে হবে।

ঠিকাদারী লাইসেন্স কিভাবে করতে হয় ভিডিওতে দেখুন

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম

আরো পড়ুনঃ কারেন্সি সোয়াপ কি? কারেন্সি সোয়াপ কাকে বলে

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম নিয়ে শেষ কথা

ঠিকাদারি লাইসেন্স করার নিয়ম আর্টিকেলে আমরা আপনারা কিভাবে সহজেই ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করবেন সেগুলো বিস্তারিত দেখালাম। এ সম্পর্কিত আরো কিছু জানার থাকলে মন্তব্য করে আমাদের জানাতে পারেন, ধন্যবাদ।

পোষ্ট ক্যাটাগরি:

এখানে আপনার মতামত দিন

0মন্তব্যসমূহ

আপনার মন্তব্য লিখুন (0)