ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম

ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম - চিয়া সিড অনেক উপকারী একটি খাবার। এই খাবার খেলে আমাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। কেননা চিয়া সিডের পুষ্টিগুণ অন্যান্য খাবারের তুলনায় অনেক বেশি। এজন্য চিয়া সিড কে সুপার ফুড বলা হয়ে থাকে। যারা স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন তাদের কাছে চিয়া সিডের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

চিয়া সিড ওজন কমাতে সাহায্য করে। এজন্য অনেকে ডায়েটের জন্য চিয়া সিড ব্যবহার করেন। আজকের পোস্টে আমরা জানব ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম। চলুন দেরি না করে চিয়া সিডের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক এবং ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

(toc) #title=(সুচিপত্র)

ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম

ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম

চিয়া সিড ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেননা চিয়া সিডের শস্যদানা অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। তাই চিয়া সিড খেলে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকে এবং ক্ষুধা লাগে না। তাই ডায়েট প্রিয় মানুষ চিয়া সিড খেয়ে ওজন কমিয়ে থাকে। চলুন ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

শরবত হিসেবে: এক গ্লাস পানিতে এক চামচ চিয়া সিড এবং লেবুর রস মিশিয়ে শরবতের মতো করে সকালে খালি পেটে খেতে হবে। আমরা সকলেই জানি লেবুর রস চর্বি কমাতে সাহায্য করে। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এই নিয়মটি সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।

সারারাত পানিতে ভিজিয়ে: এক গ্লাস পানিতে এক চামচ চিয়া সিড মিশিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখবেন। এবং সকালবেলা দেখতে পাবেন এটি তোকমার দানার মত ফুলে গেছে। সকালে খালি পেটে পানিতে ভেজানো চিয়া সিড ওজন কমাতে খুব দ্রুত সাহায্য করবে।

ফল এবং সবজির সাথে মিশিয়ে: চিয়া সিড খাওয়ার সবচেয়ে ভালো নিয়ম হলো সকালের নাস্তায় ফলের সাথে চিয়া সিড মিশিয়ে খাওয়া। সকালের নাস্তায় ফল এবং সবজির সাথে চিয়া সিড খেলে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকবে এবং সহজেই ক্ষুধা লাগবে না।

চিয়া সিড দিয়ে পুডিং তৈরি করে: চিয়া সিড দিয়ে পুডিং তৈরি করে সকালের নাস্তায় অথবা খাবারের পর ডেজার্ট হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে পুডিং বানানোর সময় কোনভাবেই চিনি মেশানো যাবে না। কেননা আমরা জানি চিনিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট এবং সুগার। তাই চিনির সাথে চিয়া সিড খেলে ওজন কমবে না।

সালাদে টপার হিসেবে: ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পুষ্টিকর সালাদ। এবং আমরা জানি চিয়া সিড ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সালাদে চিয়া সিড টপার হিসেবে ব্যবহার করলে। এটি দ্রুত ওজন কমতে সাহায্য করবে।

সর্বশেষ পোষ্ট টেকনিক্যাল কেয়ার বিডির গুগল নিউজ চ্যানেলে।

এছাড়াও সকালে খালি পেটে দুধ এবং কনফ্লেক্স দিয়ে চিয়া সিড খাওয়া যেতে পারে। এমন কি রাতের খাবার হিসেবে চিয়া সিড খাওয়া ভালো।

আরো পড়ুনঃ ওয়েট গেইন মিল্ক শেক এর উপকারিতা

চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা

চিয়া সিড হজমের সমস্যা সমাধান থেকে শুরু করে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো পর্যন্ত সকল রোগের ঔষধ। চলুন জেনে নেওয়া যাক চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা।

  • হাড়ের জয়েন্ট এর ব্যথা এবং পেশীর ব্যথা দূর করে।
  • গ্যাসের সমস্যা দূর করে।
  • আমাদের ত্বক, চুল ও নখ সুন্দর রাখে।
  • এটি মানবদেহে ক্ষতিকারক পদার্থ সরিয়ে দিয়ে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
  • ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
  • শিশুদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটায়। 
  • আমাদের হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে।
  • আমাদের শরীর থেকে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকরী।
  • আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করে।
  • চিয়া সিড আমাদের শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি দূর করে।
  • চিয়া সিড খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
  • চিয়া সিড উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
  • চিয়া সিড ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।
  • চিয়া সিড আমাদের ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণ করে।

চিয়া সিড খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা

যদিও চিয়া সিড সাধারণত বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ, কিন্তু চিয়া সিডের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। তাই, চিয়া সিড খাওয়ার সময় আপনাকে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

আপনার যদি আগে চিয়া সিড খাওয়ার অভ্যাস না থাকে। তাহলে প্রথমে খুবই অল্প পরিমাণে খাওয়া শুরু করুন। সময়ের সাথে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়াতে পারেন। চিয়া সিড প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে। তাই এটি খেলে আপনি পানি শূন্যতা অনুভব করতে পারেন। তাই চিয়া সিড খেলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। আপনার যদি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ অথবা জটিল কোন রোগ থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিয়া সিড খেতে হবে।

আরো পড়ুনঃ বাচ্চাদের কি খাওয়ালে লম্বা হবে - বাচ্চাদের লম্বা হওয়ার খাবার

বাচ্চাদের চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম

চিয়া সিড শুধুমাত্র বয়স্কদের জন্য নয়। বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত যেকোনো বয়সের মানুষ চিয়া সিড খেতে পারে। এর পুষ্টিগুণের জন্য একে সুপার ফুড বলা হয়ে থাকে। বাচ্চাদের মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটানোর জন্য চিয়া সিড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আধুনিক বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রমাণ করেছে যে চিয়া সিড একটি মাল্টি-ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার যা প্রতিদিন খাওয়া হলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম চিয়া সিডে ৪৮৬ ক্যালোরি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৪২.১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩৪.৪ গ্রাম ফাইবার, ৩০.৭ গ্রাম চর্বি এবং ১৬.৫ গ্রাম প্রোটিন। তাই এটি বাচ্চাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাচ্চারা সকালের নাস্তা হিসেবে এই খাবারটি খেতে পারে। অথবা ফলের সাথে মিশিয়ে যেকোনো সময় চিয়া সিড খেতে পারে।

চিয়া সিড দাম কত

চিয়া সিড মেক্সিকান খাবার তাই এর দাম তুলনামূলক বেশি। চিয়া সিডের স্ট্যান্ডার্ড মূল্য ৫৫০ টাকা। অনেকেই আপনার থেকে ৮০০ টাকা বা এর বেশি চাইতে পারে। কিন্তু আপনি দামাদামি করলে ৫৫০ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন। চিয়া সিড আগে আগে শুধুমাত্র সুপার শপ গুলোতে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন মুদি দোকান এবং ফুটপাতেও চিয়া সিড পাওয়া যায়।

বহুল আলোচিত প্রশ্নের উত্তর

যাদের ওজন কম তারা কি চিয়া সিড খেতে পারবে?

বহুদিন ধরে চিয়া সিড ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু যাদের ওজন কম তাদের চিয়া সিড খাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।

চিয়া সিড সর্বপ্রথম কোন দেশে উৎপাদিত হয়?

চিয়া সিড মূলত মেক্সিকোতে প্রথম উৎপাদিত হয়।

ওজন কমানোর জন্য কয় বেলা চিয়া সিড খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ?

ওজন কমানোর জন্য সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়া সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তবে সকালে এবং রাতে দুই বেলা খেলে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ জেন্ডার কি? জেন্ডার কত প্রকার কি কি

ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম নিয়ে শেষ কথা

অনেকে চিয়া সিডকে তোকমা দানা হিসেবে চিনে থাকে। কিন্তু তাদের ধারণা ভুল, চিয়া সিড এবং তোকমা দানা দুটো একদম আলাদা জিনিস। চিয়া সিড মেক্সিকান খাবার হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিটেন এবং ক্যালিফোর্নিয়াতে খুবই জনপ্রিয় এবং সময়ের সাথে সাথে আমাদের বাংলাদেশেও এটি খুব জনপ্রিয় খাবার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

আমরা সকলেই জানি চিয়া সিড পুষ্টি মানে ভরপুর একটি খাবার। স্বাস্থ্য রক্ষায় এর গুণ সম্পর্কে যত বলা হবে তাও কম হয়ে যাবে। আমরা আমাদের আজকের পোস্টে ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি পোস্টটি আপনাদের জন্য উপকারী হবে।

পোষ্ট ক্যাটাগরি:

এখানে আপনার মতামত দিন

0মন্তব্যসমূহ

আপনার মন্তব্য লিখুন (0)