দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব

দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব প্রিয় পাঠক আজকের এই পোস্টে আমরা দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করব। আশা করি আপনি আমাদের সাথে শেষ পর্যন্ত থাকবেন তাহলেই দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারবেন। পানি আমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বস্তু। আমরা ছোটবেলা থেকেই জানি যে পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না।

দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব

সূচিপত্রঃ দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব

আপনি যদি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সম্পূর্ণ পড়ে আমাদের সঙ্গে থাকুন। তাহলে চলুন দেরী না করে দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব সম্পর্কে জেনে নেই

পানির সংকেত

দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব - পানির সংকেতঃ H2O 

পানির বর্ণনাঃ পানি যার অন্যান্য নাম হলোঃ (বারি, নীর,অম্বু )। পানির রাসায়নিক নামের বিস্তারিত হলো,

H2O= হাইড্রোজেন  মনোক্সাইড 

H2 O2 = হাইড্রোজেন পার অক্সাইড

পানি নিয়ে কিছু তথ্য

মানুষ বা অনন্য প্রাণী পানি ছাড়া বাঁচতে পারে না। এটি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন এবং বলা যায় প্রায় বর্ণহীন রাসায়নিক পদার্থ, যা বারিমন্ডল, জীব কোষ ও উদ্ভিদ কোষের প্রধান উপাদান। যদিও পানি কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদের শক্তি যোগায় না। তবুও আমরা যত টুকু জানি পানি ছাড়া যাদের প্রাণ আছে তাদের বেঁচে থাকা সম্ভব না। দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব।

তাই বিজ্ঞানিরা বহির বিশ্বে প্রাণের অস্বিত্ব খোজার আগে পানির অস্বিত্ব খোজে। এখনো মুটামুটিভাবে মনে হয় পানি না থাকলে প্রাণের অস্বিত্ব সম্ভব নয়। IUPAC নিয়ম অনুযায়ী পানির রাসায়নিক নাম হাইড্রোজেন মনোক্সাইড। পানির অনুগুলো ১টি অক্সিজেন ও ২টি হাইড্রোজেন অনু দ্বারা গঠিত।

ভূপৃষ্ঠে প্রায় ৭০.৯% অংশ জুড়ে পানি রয়েছে। সকল প্রাণীর জীবনধারণের জন্য পানি খুব প্রোয়জনীয়। পৃথিবীর প্রাপ্ত পানির প্রায় ৯৬.৫% পাওয়া যায় মহাসাগরে, ১.৭% পাওয়া যায় ভূগর্ভে, ১.৭% পাওয়া যায় তুষারে,  কম সংখ্যাক পাওয়া যায় অন্যান্য জলাশয়ে ও ০.০০১% বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত মেঘে। পৃথিবীর প্রায় ২.৫ ভাগ বিশুদ্ধ পানি বাকি ৯৮.৮ ভাগ ভূপৃষ্ঠের বরফ।

এই H20 এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- অপেক্ষকৃত অল্প তাপমাত্রার পরিসারের মাঝে ৩টি অবস্থা, কঠিন, তরল,বায়বীয়। হাইড্রোজেনে পরমানু ১০৪.৪৫ ডিগ্রী  কোণে অক্সিজেন পরমানু সাথে যুক্ত থাকে।  পৃথিবীতে পানিতে বাষ্পীভবন,ঘনীভবন ইত্যাদি চক্রাকারে ঘুরে। তবুও প্রায় ১০০ কোটি মানুষ নিরাপদ পানি ও প্রায় ২৫০কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার থেকে বঞ্চিত।

মানব জাতি সহ অন্যান্য প্রাণীর জীবন ধারনের জন্য সুপেয় পানি অপরিহার্য। গত ১০ বছরে সুপেয় পানির পরিমান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের ব্যবহিত ৭০% পানি কৃষিকাজে লাগে। তাই পানির অপর নাম মানুষ জীবন বলে। 

সব কিছুরি ভালো খারাপ দিক থাকে। পানিরও তেমনি আছে উপকারিতা ও অপকারিতা।

পানির উপকারিতা

শরীরে তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে পানির গুরুত্ব অপরিহার্য। সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করলে শরীরে ইমিউন সিস্টেমের অনেক উন্নতি হয়।  এতে করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সকালে খালি পেটে পানি খেলে বিপাকীয় হারকে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে। সকালে খালি পেটে পানি খেলে ৭টি উপকার আছে। দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব।

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে : সকালে খালি পেটে পানি খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ  ক্ষমতা বাড়ে। শরীরে তরল ভারসাম্য বজায় রাখে।

২. বিপাক ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে : বিপাকিয় হার ২৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেলে খাবার হজমে ও দীর্ঘমেয়াদী ওজন কমাতে সহায়তা করে।

আরো পড়ুনঃ ঘরে বসে মেকআপ করার নিয়ম   

৩. শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সহায়তা করে : সকালে খালি পেটে পানি খেলে টক্সিন বের হয়ে যায়। কারন প্রস্রাবের মাধ্যমে এক ধরনের বিষাক্ত তরল বের হয়।  আর সকালে খালি পেটে পানি খেলে তা আরও ভালোভাবে বের হয়।

৪.অন্এ পরিষ্কারে সহায়তা করে : সকালে খালি পেটে পানি খেলে পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কারে সহায়তা করে। এর জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে আমরা মলত্যাগের তাগিদ অনুভব করি। এর ফলে সকালে খালি পেটে পানি পান করলে অন্ত পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। 

৫.উজন কমাতে সহায়তা করে : বেশি পানি পান করলে উজন কমে কারন পানিতে কোনে কেলরি নাই। বেশি পানি পান করলে পেট ভরাও থাকে।

৬.কোলন পরিষ্কারে সহায়তা করে :  সকালে খালি পেটে পানি পান করলে জমে থাকা স্লাজ আরও ভালো ভাবে পরিষ্কার হয়। এতে স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

 ৭.মাইগ্রেনের সমস্যা প্রতিরোধ করে : মাইগ্রেন বা মাথা বেথার মূল কারন হলো ড্রিহাইডেশন।  আর সকালে খালি পেটে পানি পান করলে প্রকৃত ভাবে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

পানির গুরুত্ব

উদ্ভিদ ও অন্যান্য জীবের ক্ষেএেও পানির গুরুত্ব অনেক। পশুপাখি পানি ছাড়া বাচঁতে পারে না। তাদের জীবন ধারনের জন্য পানি দরকার। উদ্ভিদও তেমনি পানি ছাড়া বাচতে পারে না। কৃষি ক্ষএে পানির গুরুত্ব অনেক। পানি ছাড়া চাষ করা সম্ভব  নয়।  তাই বলা যায় উদ্ভিদের জীবনেও পানির দরকার। মানব জীবনে, পশু-পাখির জীবনে ও উদ্ভিদের জীবনে পানির গুরুত্ব অপরিসীম।

পানির অপকারিতা

পানির অপর নাম যেমন জীবন তেমনি অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরে নানান সমস্যার দেখা দেয়।  পানির সব সুফল পেতে তা পান করতে হবে নিয়ম মেনে। প্রাচীন চিকিৎসা বিদ্বদের মতে সঠিক নিয়মে পানি পান না করলে হজম শক্তি কমে যায়। শরীর দূর্বল হতে থাকে। দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব।

১. কোনো ভারি খাবার খাওয়ার সময় পানি পান করা যাবে না। 

২. খেতে বসার আগে ও ঠিক খাবার শেষে পানি পান করলে হজমে সমস্যা হয়। 

কারন খাবার সময় পানি খেলে গেস্টিকের সমস্যা হতে পারে। এতে করে কাজের ক্ষমতা কমে গিয়ে হজমে সমস্যা হতে পারে। প্রতিদিন ২ লিটার পানি পান করাই উওম। এর বেশি পানি পান করলে নানান সমস্যা হতে পারে এর মাঝে গেস্টিক অন্যতম।

তবে খুব তেষ্টা পেলে ১ ডুক পানি পান করা যেতে পারে। কিম্তু মূল নিয়ম খাবারের ৩০ মিনিট পর পানি পান করা। বেশি বেশি পানি খেলে বমি বমি ভাব, মাথা ঘুরানো ইত্যাদি হতে পারে। হার্টের মাঝে অতিরিক্ত চাপ পরে। হার্ট এটাক হতে পারে। অতিরিক্ত পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ক্ষতিকর।  কিডনির ছাকনিতে সমস্যা হতে পারে।

শরীরের কোষ ফুলে যেতে পারে, মাথার কোষ ও ফুলে যেতে পারে এতে স্টোক হতে পারে। লিভারে সমস্যা হতে পারে, এক কথায় মৃ- ত্যু হতে পারে। পানির অপর নাম জীবন তাই বলে অতিরিক্ত পানি পান করা যাবে না। কারন প্বেশি পানি পান করা ঠিক নয়। ভারী পরিশ্রম ও বেয়ামের পরে সবারই একটু পানি পান করা উচিত।

শেষ কথাঃ দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব

আপনারা যারা দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন তাদের জন্য উপরে এ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তার জন্য আপনাকে সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। তাহলে আপনি দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারবেন।

 "যতটুকু প্রয়জন ততটুকু পানি পান করা উচিত, অতিরিক্ত পানি পান করা কারো জন্য কাম্য নয় "... বেশি হলে পানির অপর নাম  কেবল জীবনই নয় তা হবে মরন। 

পোষ্ট ক্যাটাগরি: