গর্ভাবস্থায় জলপাই খাওয়া যাবে কি? গর্ভাবস্থায় জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় জলপাই খাওয়া যাবে কি তা অনেকেই প্রশ্ন করেন। তাদের প্রশ্নের উত্তরে বলতে চাই হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় জলপাই খাওয়া যাবে। যেহেতু গর্ভাবস্থায় জলপাই খাওয়ার উপকারিতা অনেক, তাই গর্ভবতীরা জলপাইকে তাদের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারে। এতে থাকা পুষ্টিগুণ গর্ভবতী নারী এবং তার শিশুকে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি সরবরাহ করে।

আপনি যদি গর্ভবতী হয়ে থাকেন তবে জলপাই আপনার এবং আপনার সন্তানের কি কি উপকারে আসবে তা জানতে এই আর্টিকেলটি পড়ুন। পাশাপাশি আরো পরতে পারেন আলকুশি বীজের উপকারিতা ও অপকারিতা এবং আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট বোঝার উপায়

(toc) #title=(আর্টিকেল সূচিপত্র)

গর্ভাবস্থায় জলপাই খাওয়া যাবে কি

গর্ভাবস্থায় জলপাই খাওয়ার উপকারিতা

জলপাইয়ে খুব বেশী পরিমাণে ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ রয়েছে যা গর্ভবতী মায়েদের জন্য খুবই প্রয়োজন। যা তার নিজের ত্বক ও নবজাতকের ত্বক এবং চুলের জন্য এই ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ অনেক উপকারী।

গর্ভাবস্থায় দেহের রক্ত চলাচল ঠিক রাখতে জলপাই খুব ভাল কাজ করে। জলপাই খেলে ক্ষতিকর লাইপোপ্রোটিনের পরিমাণ কমে যায় এবং হৃৎপিন্ড ভালোভাবে কাজ করে।

জলপাইয়ের খোসায় প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ রয়েছে, যা পাকস্থলীর বিভিন্ন অংশ যেমন বৃহদন্ত, ক্ষুদ্রান্ত, কোলনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং এই আঁশ খাবার সঠিকভাবে হজম করে।

বলা হয় কালো জলপাই এ প্রচুর পরিমানে আয়রন থাকে। আমরা একথা সবাই কমবেশি জানি যে আয়রন গর্ভকালীন সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরীরে আয়রনের অভাব হলে শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয় ফলে শরীর হয়ে পরে দূর্বল। আয়রনের ঘাটতির কারণে রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন বহন করে না এটি মা এবং ভ্রূণ, উভয়কেই প্রভাবিত করে। আয়রনের অভাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিমাণে রক্ত শূন্যতা দেখা দিলে, গর্ভের শিশু অক্সিজেনের অভাবে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ না পেয়ে ভ্রূণটি নষ্ট হয়ে যেতে পারেন।

জলপাইয়ে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে প্রচুর পরিমাণে, যা রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে বাড়ায় দ্বিগুণ পরিমাণে।

জলপাই গর্ভের শিশুর ত্বক, হাড় ও রক্তনালী সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

জলপাই একটি টক জাতীয় ফল। এতে ভিটামিন সি থাকে। আর ভিটামিন সি গর্ভের শিশুর অনেক উপকারি। তাই গর্ভাবস্থা্য় টক জাতীয় ফল খাওয়া উচিত যেগুলোতে ভিটামিন সি রয়েছে। যেমন- জলপাই, আমড়া, জাম, লেবু, জাম্বুরা, কমলা, মাল্টা, আমলকি ইত্যাদি।

অনেকে ভাবে গর্ভাবস্থায় টক ফল খাওয়া যেহেতু উপকারী তাই বেশি বেশি টক ফল খেতে হবে। এটা একটা বোকামি। বেশি পরিমাণে টক ফল খেলে এসিডিটি সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

সুতরাং গর্ভাবস্থায় জলপাই খাওয়ার উপকারিতা জেনে কেউ আবার বেশি বেশি করে জলপাই খেতে যাবেন না, পরিমিত পরিমাণে খাবেন।

জলপাইয়ের পুষ্টিগুণ - জলপাইয়ের উপকারিতা

জলপাই নামক ফলটি অনেক পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে খনিজ, ভিটামিন এবং বিশেষ কিছু অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। প্রতি ১০০ গ্রাম জলপাই থেকে আপনি সহজে ভিটামিন সি, শর্করা, ফাইবার এবং ক্যালসিয়াম পাবেন। আমরা কাঁচা জলপাই এর চেয়ে আচার হিসেবে জলপাইকে বেশি খেয়ে থাকি।তাছাড়া রান্না করেও জলপাই খাওয়া যায়।

জলপাইয়ের খোসায় রয়েছে আঁশ বা ফাইবার। আর আমরা জানি যে আঁশ জাতীয় খাবার আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, খাবারকে হজমে সহায়তা করে।

জলপাই দেহের রক্ত সঞ্চালন সঠিক রাখতে ভূমিকা রাখে। তাই দেহের ক্ষতিকর লাইপোপ্রোটিন এর পরিমাণ অনেক হ্রাস পায় এবং হৃদপিণ্ড সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।

জলপাই রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন ‘এ’ যা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং আমাদের ত্বক, দাঁত, হাড় ও চুলকে মজবুত করতে ভূমিকা রাখে।

আপনি যদি নিয়মিত জলপাই খান তাহলে বাতের ব্যথা, পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

এছাড়াও জলপাই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা দেহের অভ্যন্তরে থাকা ক্যান্সারের জীবাণুকে ধ্বংস করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।

চোখে বিভিন্ন সমস্যা যেমন- রাত রাতকানা, চোখ ওঠা এবং চোখে পাতায় কোন ধরনের সংক্রমণের সমস্যা দূরে রাখতে জলপাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জলপাইয়ে থাকা অ্যান্টি মাইক্রো ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট এর ফলে আমাদের দেহের ক্ষতিকারক জীবাণুগুলো ও মারা যায়। তাছাড়া জলপাই এর আরেকটি উপকারিতা হচ্ছে জলপাই আমাদের ত্বককে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে।

সুস্বাস্থ্য রক্ষায় জলপাইয়ের উপকারিতা

  • হার্টের সুরক্ষা
  • ক্যান্সার প্রতিরোধক
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর
  • চোখের যত্নে
  • ত্বক ও চুলের যত্নে

হার্টের সুরক্ষা: রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল পরিমাণ বেড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হয়। জলপাই এ থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট আমাদের রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল মাত্রাকে কমিয়ে দেয়। যার ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধক: জলপাই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘ই’ আছে যা আমাদের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বা পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর: নিয়মিত জলপাই খেলে হজম প্রক্রিয়া ভালো থাকে গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যা হয় না এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বরই পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

চোখের যত্নে: আমরা জানি ভিটামিন ‘এ’ র অভাবে রাতকানা রোগ হয়। তাই রাতকানা রোগ এড়াতে আপনারা জলপাই খেতে পারেন। কেননা জলপাই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ।

ত্বক ও চুলের যত্নে: ত্বক ও চুলের যত্নে জলপাইয়ের পুষ্টিগুণ অনেক কার্যকর। কেননা জলপায়ে বিদ্যমান ফ্যাটি এসিড ও এন্টি অক্সিডেন্ট ত্বক ও চুলকে পুষ্টি যোগায়। যেমন জলপাইয়ের তেল চুলে লাগালে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং চুল পড়া অনেক অনেকাংশ কমে যায়।

জলপাই এর অপকারিতা

  • জলপাইয়ের তেমন কোনো ক্ষতিকর দিক নেই কিন্তু একটি বিষয় সচেতন হতে হবে সেটি হলো অনেক সময় জলপাই গাছের পরাগরেনু অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।
  • গর্ভবতীদের জলপাইয়ের তেল ব্যবহার না করাই ভালো।

গর্ভাবস্থায় যেসব খাবার খাবেন না

অতিরিক্ত ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার অর্থাৎ ডুবো তেলে ভাজা কোন খাবার স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকায় পড়ে না। সুতরাং এসব খাদ্য এড়িয়ে চলাই ভালো। কেননা এতে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব থাকে তা নয় বরং এতে ক্ষতিকর কিছু ফ্যাট থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। ওজন বেড়ে যায় ফলে মা এবং গর্ভের শিশুর অনেক সমস্যা হতে পারে। 

সাধারণত হোটেল রেস্টুরেন্ট এর খাবার গুলো ফাস্টফুট জাতীয় হয়ে থাকে অর্থাৎ অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা চিনি যুক্ত হয়ে থাকে। গর্ভবতীদের এসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। যে সকল ভাজাপোড়া ও চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত তা নিচে উল্লেখ করা হলো:

কোমল পানীয়। যেমন: কোলা, সেভেন আপ বা বাজারজাত করা কোনো ধরনের জুস। যেমন- ম্যাংগো জুস। কেননা এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি এবং ফ্লেভার দেওয়া থাকে এবং ফলের পরিমাণ অনেক কম থাকে। তাই যদি ফলের জুস খেতে হয় তাহলে বাড়িতে বানিয়ে খাওয়া উচিত।

আইসক্রিমে প্রচুর পরিমাণ চিনি থাকে এবং ক্রিম থাকে। এই চিনি এবং ক্রিম স্বাস্থ্যকর খাবার নয়। গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় অর্থাৎ চা ও কফি খাওয়া উচিত হবে না। তাছাড়া আরো কিছু খাবার খাওয়া উচিত নয় যেমন- চকলেট, কেক, চিপস ইত্যাদি। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে।

কলিজা: অতিরিক্ত পরিমাণে কলিজা খাওয়া যাবে না। কলিজাতে বিদ্যমান অতিরিক্ত ভিটামিন ‘এ’ গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর। তাই সীমিত পরিমানে কলিজা খেতে হবে। 

গোশত, মাছ, ডিম এই পুষ্টিকর খাবার গুলো খাওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে তা যেন কোনো ভাবেই আধা সেদ্ধ না হয়। পুরোপুরি সিদ্ধ গোশত, মাছ, ডিম খেতে হবে।

কড মাছ: কড মাছ, কড মাছের তেল বা কড লিভার অয়েল কখনো গর্ভাবস্থায় খাবেন না। কেননা কড মাছে প্রচুর ভিটামিন এ থাকে। যা গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে।

গর্ভাবস্থায় যেসব খাবার খাবেন

গর্ভাবস্থায় প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সুষম খাদ্য রাখার চেষ্টা করতে হবে অর্থাৎ খাদ্য তালিকায় খাদ্যের সবগুলো উপাদান রাখার চেষ্টা করতে হবে। সুষম খাদ্য বলতে বোঝায়–

  • শর্করা: ভাত, রুটি, আলু, মধু, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি।
  • আমিষ: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, শিমের বিচি, চিনা বাদাম ইত্যাদি।
  • ভিটামিন: বিভিন্ন ধরনের ফল শাকসবজি।
  • স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্য: ডিমের কুসুম, চর্বি, ঘি, ডালডা এবং বিভিন্ন ধরনের ভোজ্য তেল।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাবার তুলনামূলক অনেক কম পরিমাণে খেতে হবে। খাদ্য তালিকায় সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে স্নেহ জাতীয় খাদ্য অর্থাৎ তেল চর্বি জাতীয় খাদ্য রাখতে হবে। তবে তা সীমিত পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকর তেল যুক্ত খাবার তৈরি করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ টিপস

শর্করা জাতীয় খাদ্য ভাত, রুটি খাওয়ার সময় লক্ষ্য রাখবেন যে চাল থেকে ভাত হচ্ছে সেই চাল লাল হলে ভালো হয়। অন্যদিকে যে আটা দিয়ে রুটি তৈরি হচ্ছে সে আটা যেন লাল আটা হয়। কেননা লাল চাল এবং লালা আটাতে খাদ্যের পুষ্টির গুন এবং আঁশের পরিমাণ সঠিক থাকে। আর এক দিকে যেমন পুষ্টিগুণ পাবেন অন্যদিকে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হবে না।

গর্ভাবস্থায় জলপাই খাওয়া নিয়ে শেষ কথা

আশা করি এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় জলপাই খাওয়া যাবে কি? এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন এবং এ সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে বুঝতে পেরেছেন। অন্যদিকে গর্ভাবস্থায় জলপাই খাওয়ার উপকারিতা কি এ সম্পর্কে ও সার্বিক ধারণা পেয়েছেন। গর্ভাবস্থার পূর্বে আরো জানতে পারেন জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের নাম : জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল কোনটা ভালো

পোষ্ট ক্যাটাগরি:

এখানে আপনার মতামত দিন

0মন্তব্যসমূহ

আপনার মন্তব্য লিখুন (0)