কিডনির পাথর অপারেশন খরচ কত | কিডনি পাথর অপারেশন খরচ

কিডনির পাথর অপারেশন খরচ কত টাকা এই সম্পর্কে অনেকেই জানতে চান। মূলত মানুষের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস ও জীবনের অনিয়ন্ত্রিত, অসচেতনতার পরিণতি হিসেবেই কিডনিতে পাথর দেখা দেয়।

কিডনির পাথর অপারেশন খরচ কত

(toc) #title=(সূচিপত্র)

কিডনিতে পাথর জনিত সমস্যার জন্য চিকিৎসা না করা হলে তা অসম্ভব ব্যথা ও মারাত্মক শারীরিক জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পোস্টের মাধ্যমে আপনি কিডনি সম্পর্কিত এবং কিডনির অপারেশন খরচ সম্পর্কিত সকল তথ্য জানতে পারবেন।

আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কিডনির পাথর অপারেশন খরচ কত, মূত্রনালীর পাথর অপারেশন খরচ, কিডনি অপারেশন কিভাবে হয়, বিনা অপারেশনে গলবে কিডনি পাথর, পিত্তথলির পাথর অপারেশন খরচ কত?

তার সাথে থাকছে কিডনি বিষয়ে জানা অজানা নানা তথ্য। কিডনি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মনোযোগ সহকারে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন। তো চলুন দেরি না করে প্রথমেই জেনে আসি, কিডনির পাথর অপারেশন খরচ কত ?

কিডনির পাথর অপারেশন খরচ কত

আমাদের আজকের এই পোস্টের মূল বিষয় হচ্ছে কিডনির পাথর অপারেশন খরচ কত? এই মূল বিষয় সম্পর্কে তো অবশ্যই জানবো, তার সাথে জানবো কিডনির সম্পর্কে প্রয়োজনীয় আরো নানান তথ্য।

কিডনি পাথরের অপারেশনের খরচ বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে। যেমন আপনার রোগের ধরন, কোন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, সেই হাসপাতাল বা ক্লিনিক, আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবস্থা, এসব কিছুর উপর নির্ভর করে অপারেশনের খরচ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের আসতে পারে।

কিডনি পাথর অপসারণের জন্য ২ ধরনের সার্জারি ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন:

  • এক্সট্রাকর্পোরিয়াল শক ওয়েভ লিথোট্রিপসি
  • ইউরেটেরোস্কোপি ও লেজার লিথোট্রিপসি

১. এক্সট্রাকর্পোরিয়াল শক ওয়েভ লিথোট্রিপসিঃ এই পদ্ধতির মাধ্যমে শক ওয়েব ব্যবহার করে ভিতরে পাথরকে ছোট ছোট টুকরো করে ভেঙ্গে দেয়, যা সহজেই প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে আসতে পারে। এই পদ্ধতির জন্য বাংলাদেশে এর খরচ পড়বে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত।

২. ইউরেটেরোস্কোপি ও লেজার লিথোট্রিপসিঃ এই পদ্ধতিতে কিডনির পাথর সরানোর জন্য মূত্রাশয় এবং তাদের মূত্রনালীতে ইউরেটেরাস্কোপ নামে একটি পাতলা নমনীয় স্কোপ অতিক্রম করা হয়, তারপর লেজার শক্তি ব্যবহার করে পাথর ভেঙ্গে সরিয়ে ফেলা হয়। বাংলাদেশে এই ইউরেটেরোস্কোপি ও লেজার লিথোট্রিপসির খরচ পড়বে প্রায় ৭০,০০০ থেকে ১৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত।

কিডনির পাথর অপারেশনের খরচের মধ্যে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয়, হাসপাতালে থাকা, অপারেটিভ পরীক্ষা, বিভিন্ন ধরনের টেস্ট, অ্যানেস্হেশিয়া ও অপারেশনের পরবর্তী সময়ের যত্ন অন্তর্ভুক্ত এইসব গুলোর জন্যই অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয়।

অন্যথায়, শুধুমাত্র অপারেশনের খরচ খুব একটা বেশি আসে না। অপারেশনের আগে, পড়ে, থাকা, বিভিন্ন ধরনের টেস্ট, ঔষধ এগুলোর জন্যই খরচের পরিমাণ মোটা অংক আসে।

তাছাড়া যেকোন হাসপাতালে ভর্তি হবার আগে সে হাসপাতাল সম্বন্ধে বা সেই হাসপাতালের ডক্টর বা অপারেশনের খরচ সম্বন্ধে ভালোভাবে জেনে শুনে ভর্তি হবেন। এতে করে অপারেশনে পরবর্তী সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আর্থিক লেনদেন নিয়ে কোনোরূপ ঝামেলা হবে না।

আরো পড়ুনঃ কিডনির ক্রিয়েটিনিন কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়

মূত্রনালীর পাথর অপারেশন খরচ

বিভিন্ন ধরনের মূত্রনালীর পাথরের জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োজন হয়, যা সামগ্রিক খরচকে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়াও অত্যন্ত দক্ষ, অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ইউরোলজিস্টদের তাদের দক্ষতা ও সাফল্যের কারনে উচ্চ ফি নির্ধারিত থাকে।

এবং উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক অবকাঠামো, সাবলীলভাবে রোগীর যত্ন, পরিষেবায় সজ্জিত প্রিমিয়াম হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোর সুবিধা, প্রায় সময়ই সরকারি হাসপাতালের তুলনায় ফি অনেকাংশ বেশি থাকে।

  • বাংলাদেশের ঢাকায় মূত্রনালীর পাথর অপারেশন এর খরচ প্রায়, ৪০,০০০ থেকে ৮০,০০০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। তারপরও আপনার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উপর ভিত্তি করে এবং আপনার নির্দিষ্ট অবস্থা ও বিস্তারিত সবকিছু বিবেচনা করে, একটি সঠিক অনুমান পেতে অবশ্যই একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ইউরোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ কিডনি ড্যামেজের লক্ষণ

কিডনি অপারেশন কিভাবে হয়

কিডনি অপারেশন হচ্ছে, PCNL বা পারকুটেনিয়াস নেফ্রোলিথোটমি এটি একটি অপারেশন যার মাধ্যমে কিডনিতে তৈরি হওয়া পাথর অপারেশন করা হয়। তলপেটে থাকা আকারে যা ২ সেন্টিমিটারের বড় পাথর বের করার জন্য এই অপারেশন বেশি কার্যকরী।

কিডনির কোথায় স্টোন আছে তা আগে জানা হয়, পরে তলপেটে একটি ছোট ফুটো করে PCN নিডল কিডনির পেলভিসে প্রবেশ করানো হয়। ফ্লুরোস্কোপির সাহায্যে ভিতরে নিডলের অবস্থান দেখা যায়, এবং এই নিডলের সাথে একটি গাইড ওয়্যার লাগানো থাকে।

তারপর নিডলটি বের করে, গাইড ওয়্যারের সাহায্যে ডাইলেটর পেলভিস নালীতে পাঠিয়ে শিট বসানো হয়। তারপর নেফ্রোস্কোপের সাহায্যে কিডনি থেকে স্টোন বের করে দেওয়া হয়।

এছাড়াও স্টোন যদি বেশি বড় হয়, তবে আল্ট্রাসাউন্ড এর মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে ভেতরের স্টোনগুলোকে ভেঙ্গে দেওয়া হয়, পরে সেগুলোকে বের করে আনা হয়।

কিডনি পাথর অপসারনের জন্য ৪টি পদ্ধতি

কিডনির পাথর অপসারণ এর জন্য কয়েকটি পদ্ধতি হচ্ছে,

  • প্রতিদিন ১.৮-৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এটি আপনার কিডনিতে পাথরের গঠন বোধ করতে সাহায্য করতে পারে এবং প্রস্রাবকে পাতলা করে।
  • সার্জারি পারকিউটেনিয়াস নেফ্রোলিথোটমি একটি অস্ত্রপচার পদ্ধতি, এটি দ্বারা একটি কিডনি পাথর অপসারণ জড়িত।
  • ২৫০ এমএল গরম পানিতে হাফ চা চামচ শুকনো কালিজিরা বীজ দিবেন, দিনে দুইবার পান করবেন। এতে কিডনি পাথর অনেকটা অপসারণ এর সম্ভাবনা রয়েছে, তবে অবশ্যই তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
  • আপেল সিডার ভিনেগারের সাথে ২ টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে পান করুন, তবে অবশ্যই একদিনে ১৫ চা চামচের বেশি পান করবেন না। আপেল সিডার ভিনেগারে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড কিডনিতে পাথর দূর করতে ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

বিনা অপারেশনে গলবে কিডনির পাথর

বিনা অপারেশনে গলতে পারে কিডনির পাথর যেমন, লেবুর রস হতে পারে অনেকটা উপকারী, লেবুর রসে রয়েছে হাইড্রক্সিসিট্রেট, এটি আমাদের শরীরের ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল গলিয়ে দিতে সাহায্য করে।

এবং এই ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টালের জন্যই কিডনিতে পাথর হয়। তাছাড়াও বংশগত কারণে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। প্রতিদিনই একটু না একটু লেবুর রস খাওয়া খুবই উপকারী।

আরো পড়ুনঃ কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়

পিত্তথলির পাথর অপারেশন খরচ কত

পিত্তথলির পাথরের সমস্যা এখন সাধারণ একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনো ছোট ছোট, শক্ত পাথর যা গলব্লাডারে তৈরি হয়, তা লিভারের কাছে অবস্থিত ছোট্ট একটি অঙ্গ। পিত্তথলির পাথরগুলো ব্যথা এবং অস্বস্তির সৃষ্টি করে, এই সমস্যাগুলো অপসারনের জন্য অস্ত্রপচারের প্রয়োজন পড়ে।

বাংলাদেশের ঢাকায় পিত্তথলির পাথর অপারেশনের খরচ প্রায় ২৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত, তবে তা বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে থাকে।

এই খরচের মধ্যে সার্জনের ফি, ক্লিনিক বা হাসপাতালের খরচ, অ্যানস্হেশিয়া ও অন্যান্য চিকিৎসা সরবরাহের অতিরিক্ত চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলো অনেকাংশ ব্যয়বহুল কারন তা অতিরিক্ত পরিষেবা ও সুবিধা প্রদান করে থাকে।

লেখকের শেষকথা

কিডনির পাথর আকার এবং বিকাশের উপর নির্ভর করে, হালকা সমস্যা থেকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা করালে ভবিষ্যতে অনেক ব্যাথা এবং গুরুতর জটিলতা এড়ানো যায়। আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য এবং রোগমুক্ত থাকার জন্য প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। এবং খাবারে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করা উচিত।

আমাদের আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন, কিডনির পাথর অপারেশন এর খরচ কত, পিত্তথলি পাথরের অপারেশনের খরচ কত, মূত্রনালির পাথর অপারেশনের খরচ কত, কিডনি পাথর অপসারণ এর জন্য কয়েকটি পদ্ধতি সহ কিডনি নিয়ে আরো নানান তথ্য।

কিডনি সম্পর্কিত পুরো এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। কিডনি সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন, আমরা অবশ্যই উত্তর দিতে প্রস্তুত। সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন। শুভকামনা রইল। আল্লাহ হাফেজ।

পোষ্ট ক্যাটাগরি:

এখানে আপনার মতামত দিন

0মন্তব্যসমূহ

আপনার মন্তব্য লিখুন (0)