কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার নিয়ম

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার নিয়ম - নতুন একটি মোটরসাইকেল কেনার আশা সবারই আছে। কিন্তু নতুন মোটরসাইকেল কেনার জন্য যে পরিমাণে টাকার প্রয়োজন তা আমাদের অনেকেরই কাছে নেই। তাই বলে কি আমাদের স্বপ্নের মোটরসাইকেল কেনা যাবে না? আপনার স্বপ্নের বাইক কেনার জন্য যে পরিমাণ টাকা লাগবে তা বর্তমানে ব্যবস্থা করা যাবে কিস্তির মাধ্যেমে।

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার নিয়ম

সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, আজকে আমি আপনাদের সাথে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই আপনি আজকের এই পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তবে চলুন জেনে কিস্তিতে কিভাবে মোটরসাইকেল কেনা যায় সে-সম্পর্কে জেনে নেই।

(toc) #title=(সুচিপত্র)

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার নিয়ম নিয়ে কিছু কথা

বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলো কিস্তিতে মোটরসাইকেল বিক্রি করছে। আমাদের দেশে থেকে আপনি বাজাজ, টিভিএস, রানার, হিরো হোন্ডা কিস্তিতে কিনতে পারবেন। কিন্তু কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য আপনাকে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অফিসের জমা দিতে হবে এবং নির্দেশনা মানতে হবে। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক,কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার নিয়ম, বাজাজ মোটরসাইকেল কিস্তিতে কেনার নিয়ম ২০২৩ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার সুবিধা-অসুবিধা

কিস্তিতে নতুন মোটর সাইকেল কেনার বেশ কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে। যদি আপনি এই মুহূর্তে কিস্তিতে নতুন মোটরসাইকেল কেনার কথা চিন্তা করে থাকেন। তবে অবশ্যই আপনাকে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে। চলুন তবে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার সুবিধা-অসুবিধাগুলো জেনে নেই।

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার সুবিধা

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। যেমনঃ আপনি আপনার পছন্দমত বাইক কেনার সুবিধা রয়েছে। এতে করে এককালীন আপনার বেশী টাকা খরচ হবে না। তাছাড়াও খুবই কম সময়ের মধ্যে অল্প টাকায় অত্যাধুনিক ফিচারের বাইক নিতে পারবেন।

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার অসুবিধা

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে। যদি আপনি এই মুহূর্তে একটি বাইক কিনতে চান তবে আপনাকে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার অসুবিধাগুলো মাথায় রাখতে হবে। কিস্তিতে বাইক কেনার অসুবিধাগুলো হলোঃ নতুন মোটরসাইকেল কিস্তিতে কেনার ক্ষেত্রে বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি ইন্টারেস্টে বাইকের মূল্য দিতে হয়। 

তাছাড়া বাইকের কোনো ধরনের ক্ষতি হলে কিংবা চুরি হয়ে গেলে তার ক্ষতিপূরণ আপনাকেই দিতে হবে। আর ঠিক সময়ে যদি আপনি মোটরসাইকেলের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারেন তবে আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে আপনি কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনতে পারেন।

আরো দেখুনঃ ওয়ালটন আইপিএস এর দাম ২০২৩

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার নিয়ম ২০২৩

যদি আপনি এই মুহূর্তে একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনার চিন্তা করে থাকেন। তবে আপনি চাইলে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনতে পারেন। তবে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার সুবিধা ও অসুবিধাগুলো জেনে মোটরসাইকেল কিনতে হবে। কেননা এসব বিষয় যদি না জেনে আপনি কিস্তিতে মোটরসাইকেল ক্রয় করেন তবে আপনি পরবর্তীতে বিপদে পড়তে পারেন। 

তাই কেনার আগে চিন্তা-ভাবণা করে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনবেন। তো যাইহোক, আজকে যেহেতু আমরা আলোচনা করব কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার নিয়ম সম্পর্কে তবে চলুন এবার জেনে নেই কিস্তিতে কিভাবে মোটরসাইকেল কেনা যায়।

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আপনি যখন কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনতে যাবেন, তখন অবশ্যই আপনার বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে প্রয়োজন হবে। এসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মোটরসাইকেলের শোরুমে আপনাকে জমা দিতে হবে। 

তবে মনে রাখবেন, কিন্তু কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য একেক কোম্পানির নিয়ম একেক রকম হয়ে থাকে। তবে বেশীরভাগ কোম্পানীগুলোর নিয়ম একই ধরনের হয়ে থাকে। যেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আপনি কোনভাবেই কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনতে পারবেন না। তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

১। জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি

২। নাম ও ঠিকানার প্রমাণ-দলিল, যেমন বাসার লাস্ট তিন মাসের ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি

৩। ব্যাংকের ছয় মাসের হিসাবের নমুনা

৪। আবেদনকারী চাকরিজীবী হলে বেতনের সার্টিফিকেট/স্লিপ জমা দিতে হবে

৫। আবেদনকারী ব্যবসায়ী হলেব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে হবে।

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য কি কি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগতে পারে তা জানতে পারলেন। এছাড়াও যদি আরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় তবে আপনি মোটরসাইকেল কোম্পানীর শোরুম ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে পারেন।

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার নিয়ম ভিডিওতে দেখুন

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার নিয়ম

আরো দেখুনঃ রহিম আফরোজ আইপিএস এর দাম

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা-পয়সার লেনদেন পদ্ধতি

আপনি যখন কিস্তিতে নতুন মোটরসাইকেল কিনতে চাইবেন, তখন মোটরসাইকেলের টাকা পরিশোধ করতে হবে। কিভাবে টাকা-পয়সা লেনদেন করবেন তার কিছু পদ্ধতি রয়েছে। MICR চেক বা একটি সিকিউরিটি MICR/ NON MICR চে8wE7lL6tjbo (অনলাইন শাখা) প্রাপ্ত (তারিখ ব্যতীত)। 

নগদ ডিএস/বিকাশ/রকেট দ্বারা মাসিক ইনস্টলমেন্ট সংগ্রহ করা যাবে। আশা করি কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা-পয়সার লেনদেন কিভাবে করা যায় তার পদ্ধতি সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছেন।

কোম্পানির ধরনঃ কিস্তিতে নতুন মোটরসাইকেল কেনার জন্য কোম্পানীর ধরণ রয়েছে লেটার হেড এবং পোস্ট তারিখের চেকের ওপর গ্যারান্টর অ্যাফিডেভিট সরবরাহ করবে সংস্থা।

গ্যারান্টারের বিকল্পঃ নতুন মোটরসাইকেল কিস্তিতে কেনার জন্য গ্যারান্টারের বিকল্প রয়েছে। দুর্বল পক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, গ্যারান্টারকে জিজ্ঞাসা করা, গ্যারান্টারের কাছ থেকে প্রাপ্য গুলো জিজ্ঞাসা করা (গ্যারান্টর ফটো, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, পোস্ট তারিখের চেক সরবরাহ করবে, গ্যারান্টার অ্যাফিডেভিট ২০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে লেখা থাকবে। যদি আপনি এই মুহূর্তে নতুন মোটরসাইকেল কিস্তিতে কেনার চিন্তার করেন তবে গ্যারান্টারের বিকল্প সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানতে পারলেন।

আরো দেখুনঃ ভিশন চার্জার ফ্যান প্রাইস ইন বাংলাদেশ

কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য কোথায় যাব? 

যদি আপনি কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনতে চান তবে আপনি অবশ্যই জানতে চাইবেন কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য আমি কোথায় যাব। আপনি কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনতে চাইলে আপনি যে কোম্পানীর মোটরসাইকেল কিনবেন তার নিকটস্থ শোরুমে যাবেন। আর কিস্তিতে কেনার জন্য আপনি শোরুমের ম্যানেজারের সাথে কথা বলবেন। কয়েককটি জনপ্রিয় মোটরসাইকেল কোম্পানী ব্রান্ড হলো বাজাজ, হিরো হোন্ডা, পালসার, ইয়ামাহ ইত্যাদি।

কোন কোন কোম্পানী কিস্তিতে মোটর সাইকেল বিক্রি করে?

আপনি যদি এই মুহূর্তে নতুন মোটরসাইকেল কিস্তিতে কেনার কথা ভাবেন তবে আপনি নিশ্চয়ই জানতে চাইবেন বাজারে কোন কোন কোম্পানী কিস্তিতে মোটরসাইকেল বিক্রি করে।বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলো কিস্তিতে মোটরসাইকেল বিক্রি করছে। আমাদের দেশে থেকে আপনি বাজাজ,টিভিএস, রানার, পালসার, ইয়ামাহ,হিরো হোন্ডা কিস্তিতে কিনতে পারবেন।

৩৬ মাসের কিস্তিতে বাইক

বর্তমানে ৩৬ মাসের কিস্তিতে বাইক গ্রাহক বাংলাদেশে অনেক বেশী। আপনি চাইলে বর্তমানে সিটি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ৩৬ মাসের কিস্তিতে বাইক কিনতে পারেন। তবে বাইক কেনার জন্য সিটি ব্যাংকের বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। সিটি ব্যাংক থেকে আপনি ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাইক লোন নিতে পারবেন। তাছাড়াও সিটি ব্যাংক বাইক কেনার জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকে।

কিস্তিতে মোটরসাইকেল tvs

কিস্তিয়ে নতুন মোটর সাইকেল কিনতে চাইলে আপনারা টিভিএস এর বাইকগুলো কিনতে পারেন। তারা কিস্তিতে বাইক কেনার জন্য কাস্টমারদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া। তারা মাসিক কিস্তিতে কাস্টমারদের থেকে টাকা লেনদের করে থাকে।

কিস্তিতে হিরো মোটরসাইকেল ক্রয় ২০২৩

বাজারের বহুল পরিচিত ব্রান্ড হলো হিরো মোটরসাইকেল। তাদের নতুন আপডেট হওয়া মোটরসাইকেলের কিস্তি সুবিধাটিতে হিরো মোটরসাইকেলের ৬ মাস থেকে ১৮ মাসের কিস্তি পর্যন্ত বাইক দেওয়া হচ্ছে। আপনারা এই সুযোগে এই মুহূর্তে হিরো হোন্ডা বাইক কিস্তিতে কিনতে পারেন।

শেষ কথাঃ কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার নিয়ম নিয়ে

প্রত্যকে নতুন একটি মোটরসাইকেল কিনতে চায়। তবে টাক-পয়সা সমস্যার কারণে তাদের স্বপ্নের মোটরসাইকেল কিনতে পারে না। তবে আপনি এখন বাংলাদেশের যেকোন শোরুম থেকে কিস্তিতে আপনার স্বপ্নের মোটরসাইকেল কিনতে পারেন। 

সুপ্রিয় পাঠক ভাই, আজকে আমি আপনাদের সাথে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনার নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনি এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে বিস্তারিত বুঝতে পারবেন। যদি এই পোস্টটি আপনার কাছে তথ্যবহুল মনে হয় তবে আপনার পরিচিতদের জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।

পোষ্ট ক্যাটাগরি:

এখানে আপনার মতামত দিন

0মন্তব্যসমূহ

আপনার মন্তব্য লিখুন (0)