হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায়

হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায় কি – অবশ্যই এ সম্পর্কে প্রত্যেকেরই প্রাথমিক ধারণা থাকা জরুরী। কেননা বর্তমানে অধিক বেশি মানুষ হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক এর কারণে মৃ- ত্যুবরণ করছে, যে কারণে প্রত্যেকেরই হার্ট ভালো রাখার প্রচেষ্টা করা উচিত।

হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায়

আজ আমরা আমাদের এই আর্টিকেলে আপনাদেরকে হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায় এবং হার্ট সুস্থ রাখার উপায় এবং আপনার হার্ট দুর্বল নাকি শক্তিশালী সে সম্পর্কে ধারণা প্রদান করব। আপনি কিভাবে বুঝবেন আপনার হার্ট ভালো আছে কিনা! আপনার হার্ট যে ভালো আছে সেটা নির্ধারণ করবেন কিভাবে! এ ব্যাপারে জানতে অবশ্যই আজকের আর্টিকেলটি পড়ে ফেলুন। 

কেননা হার্টবিট নরমাল কত, হার্ট বিট কমানোর উপায়, হার্ট ভালো রাখার উপায়, হার্ট বিট সমস্যার উপসর্গ ও হার্টের সমস্যা সমাধানের উপায়, পাশাপাশি হার্টের ব্যথা কোথায় হয় এবং হার্টবিট অতিরিক্ত কমে গেলে করণীয় কি এ ব্যাপারে আজকের এই আলোচনার মধ্য দিয়ে ধারণা প্রদান করব আপনাদেরকে। তাহলে আসুন শুরু করা যাক।

(toc) #title=(সুচিপত্র)

হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায় - হার্ট ভালো আছে বোঝার উপায় কি?

আপনি নিশ্চয়ই জানেন হৃদপিন্ডের পাম্পকে মানুষের হৃদস্পন্দন বলা হয়। যেটাকে আমরা হার্টবিট বলে থাকি। একটা সুস্থ স্বাভাবিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাধারণত হৃদস্পন্দন প্রত্যেক মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার হয়ে থাকে, আর এই হার্টবিটকেই আপনি নরমাল হার্টবিট ধরতে পারেন। কেননা এমনটাই চিকিৎসকরা বলে থাকেন।

কিন্তু আপনার হার্ট বেট যদি এর অতিরিক্ত কম বা অতিরিক্ত বেশি হয়ে থাকে তাহলে সমস্যা। আর এটা প্রত্যেকেরই জানা উচ্চ রক্তচাপ এর কারণে মানুষের নানা রকমের সমস্যা দেখা দেয়। সচরাচর হঠাৎ করেই মানুষ হার্ট অ্যাটাক করে। যে কারণে হৃদযন্ত্র ঠিকমতো কাজ করে না এবং শরীরে নানা রকমের সমস্যার আবির্ভাব ঘটে।

একটা মানুষের হার্ট ভালো আছে কিনা সেটা বোঝার অন্যতম উপায় হচ্ছে সে কতটুকু সুস্থ বোধ করছে এবং তার মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের কোন লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে কিনা। কেননা যদি আপনার হার্টে কোনরকম সমস্যা না দেখা দেয় এবং আপনি সবসময় ভাল ও সুস্থ অনুভব করেন তাহলে নিঃসন্দেহে এটা বলাই যায় আপনার হার্ট সুস্থ আছে।

তবে হ্যাঁ, হার্ট ভালো আছে বোঝার উপায় নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন চিকিৎসকরা বিভিন্ন রকম মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। কেননা সচরাচর এমন প্রশ্ন চিকিৎসকদের ছুড়ে মারা হয় যে কিভাবে রোগী বুঝবেন তার হার্ট ভালো আছে নাকি খারাপ আছে। আর তাই ইতোমধ্যে এই প্রশ্নের জবাবে ডক্টর শরিফা শারমিন বলেন–

কার্ডিয়াক হেলথ বলতে কার্ডিয়াক হেলথটাকেই বোঝায় এমন না, কেননা আমাদের শরীরের সমন্বিত একটা প্রক্রিয়া। সেটার সাথে যুক্ত আছে আমাদের রক্তনালীগুলো। কার্ডিয়াক হেলথ বলতে বোঝায় বা নরমাল ফিজিওলজি বলতে যেটা বোঝায় সেটা হচ্ছে–  আমাদের হার্টে ব্লাড আছে এবং ব্লাডটা পাম্প আউট হবে আমাদের বডিতে এবং বডিতে পাম্প আউট হওয়ার পরে এটা আমাদের বডিতে যে টিস্যু আছে সেগুলোকে ব্লাড সার্কুলেশনে হেল্প করবে।

কিন্তু যদি কারো উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে এবং বুকে ব্যথা সহ ফুসফুসের কোন সমস্যা অনুভব হয় তাহলে এটা নিয়ে খুব ভালোভাবে চিকিৎসা করা জরুরী। এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক–হার্ট যদি অসুস্থ থাকে তাহলে কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে আপনার মাঝে। 

কেননা আপনি যদি হার্ট এর সমস্যাগুলো জানতে পারেন তাহলে এটা নির্বাচন করতে পারবেন হার্ট ভালো আছে বোঝার উপায় কি এবং আপনার হার্ট বর্তমানে কোন অবস্থানে রয়েছে মানে আপনি দুর্বল হার্টের অধিকারী নাকি আপনার হার্ট স্ট্রং।

আরো পড়ুনঃ টিউমার ভালো করার উপায় - টিউমার ভালো করার ঘরোয়া উপায়

হার্টের সাধারণ সমস্যা | হার্টের সমস্যার লক্ষণ সমূহ

হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছেন বুঝবেন কিভাবে? কখনো কি এমন প্রশ্ন জেগেছে আপনার মনে? যদি আপনি স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে থাকেন তবে নিশ্চয়ই এই প্রশ্নটি আপনার মনে আসবেই আসবে। তবে যাই হোক এখন কথা হচ্ছে হার্টের মূলত সাধারণ কি সমস্যা গুলো দেখা দেয়! আর আপনি হার্টের সমস্যায় রয়েছেন কিনা সেটা বুঝবেন কিভাবে?

ঠিক এই কারণেই হার্ট ভালো আছে বোঝার উপায় আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে এবং হার্টের সমস্যা হলে কি কি উপসর্গ দেখা দেয় সেগুলো সম্পর্কেও অবগত হতে হবে। তাহলে আসুন জেনে নেই, হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের সমস্যার সাধারণ কিছু উপসর্গসমূহ। যেগুলো আপনার মাঝে দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।

১। বুকে ব্যথা ২। বুকের মাঝে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি ৩। বাহু পেট ঘাঁড় চোয়াল অথবা পাকস্থলীতে অস্বস্তি অনুভব ৪। শ্বাসকষ্ট ৫। শরীর প্রচন্ড ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ৬। বমি বমি ভাব ৪। হালকা মাথাব্যথা ৮। পিঠে বাঁচলে ব্যথা অনুভব সহ প্রভৃতি।

আর হ্যাঁ মনে রাখবেন, হার্টের সমস্যা সাধারণত একটা মানুষের লাইফ স্টাইল এর কারনে হয়ে থাকে। আপনি যদি অস্বাস্থ্যকর অনিয়মিত লাইফ স্টাইল ফলো করে চলেন তাহলে হার্টের সমস্যায় ভুগতে হবে এটা নিশ্চিত। 

ঠিক একই ভাবে আপনি যদি ব্যালেন্স লাইফ স্টাইল মেইনটেইন করেন তাহলে অবশ্যই হার্ট ভালো থাকবে এবং আপনি আপনার অসুস্থ হার্ট কেও সুস্থ করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। এবার আসুন আলোচনার এ পর্যায়ে জেনে নেই সুস্থ রাখার জন্য হার্টের কিভাবে যত্ন নিতে হবে আপনাকে!

আরো পড়ুনঃ কোন পিল সবচেয়ে ভালো? ইমারজেন্সি পিল কোনটা ভালো

হার্ট সুস্থ রাখার উপায় - হার্ট ভালো রাখার উপায়

আপনি যদি আপনার হার্টকে সুস্থ রাখতে চান তাহলে উপায় হিসেবে অবশ্যই কয়েকটি বিষয় মেনে চলতেই হবে। আর ইতোমধ্যে আমরা আপনাদেরকে লাইফস্টাইলের কথা মেনশন করেছি। কেননা এটা ৯৯% সত্যি আপনি যদি আপনার লাইফ স্টাইল ব্যালেন্স রেখে চালাতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনার হার্ট সুস্থ থাকবে এবং আপনি দীর্ঘদিন যাবত সুস্থ ও সুন্দর শরীরে বেঁচে থাকতে পারবেন।

তবে যদি হার্টের কোন সাধারণ সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী।  পাশাপাশি ঘরোয়া উপায় হিসেবে হার্ট ভালো রাখার জন্য যে বিষয়গুলো মেনে চলতে পারেন সেগুলো হচ্ছেঃ

১। প্রচুর পরিমাণে পানি পান ২। খাবার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি ৩। শর্করা এবং চর্বি জাতীয় খাবার খাদ্য তালিকা থেকে কমিয়ে ফেলা ৪। হার্টের যদি সাধারণ সমস্যা থেকে থাকে তাহলে লিফটে চলাচল করার অভ্যাস পরিত্যাগ করা ৫। খাবারে আমিশের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া

৬। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও অন্তত সপ্তাহে পাঁচ দিন আধা ঘন্টা করে হাটা  ৭। ধূমপান পরিত্যাগ করা ৮। দীর্ঘ সময় বসে না থেকে কোন কাজকর্মের মধ্যে থাকা এবং ওজন রক্তচাপ ও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা।

আর এই সবকিছুর মূলে মূলত আপনার ব্যালেন্স লাইফ স্টাইল ই ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি হৃদরোগের সুস্থতার জন্য আপনি তৈলাক্ত খাবার অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন এবং খাবারে শাক-সবজি ও ফল অধিক পরিমাণে রাখার চেষ্টা করবেন। 

সেই সাথে শরীরের সুগার ঠিক রাখার জন্য নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করারও চেষ্টা করতে হবে আপনাকে। আশা করা যায় আমাদের এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে যদি আপনি আপনার অভ্যাস তৈরি করে ফেলেন তাহলে অবশ্যই হৃদরোগের সমস্যা দূর হবে এবং আপনার হার্ট সুস্থ থাকবে।

 আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস কি ও কেন হয়

পরিশেষে: হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায় নিয়ে কিছু কথা

হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায় সম্পর্কে আমাদের আলোচনার আজ এখানেই ইতি টানছি। তো সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আপনি যদি হার্টের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই এটাকে অবহেলা করবেন না আমরা সেটাই সাজেস্ট করব। 

সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য নিজেদেরকে একটি ব্যালেন্স লাইফ স্টাইল এর মধ্যেই রাখার চেষ্টা করবেন পাশাপাশি কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। সবাইকে আল্লাহ হাফেজ।

এই লেখায় আপনার মতামত দিন

0Comments

Post a Comment (0)