ঈদের দিনের সুন্নত কাজগুলো কী কী

ঈদ সমগ্র মুসলিম জাহানের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের দিন। মুসলমানদের জন্য বছরে দুইটি আনন্দের দিন হলোঃ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। শুধুমাত্র আনন্দ করার জন্য ঈদ নয়, ঈদের দিন ও হলো একটি ইবাদতের দিন। ঈদের দিনে যে সকল সুন্নত কাজগুলো রয়েছে সেগুলো সকল মুসলিম উম্মাহের পালন করা প্রয়োজন।

ঈদের দিনের সুন্নত

আমাদের সারাবছরের সকল আগ্রহ থাকে ঈদকে কেন্দ্র করে। কিন্তু ঈদের দিনের ইবাদত সম্পর্কে কতটুকু আমরা জানি? ঈদের দিনের সুন্নত কাজগুলো কী কী, ঈদের দিনের ফজিলত কি, ঈদের দিনে বিয়ে করা যাবে কি না ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আর্টিকেলটি পড়ে নিন।

(toc) #title=(সুচিপত্র)

ঈদের দিনের সুন্নত কাজগুলো কী কী

ঈদের দিনের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যে কাজগুলো করতেন ও আমাদের যে কাজগুলো করার জন্য বলেছেন সেগুলো আমল করা সুন্নত। আমরা অনেকেই জানিনা ঈদের দিনের সুন্নত কাজগুলো সম্পর্কে। ঈদের দিনের যে সুন্নত গুলো পালন করা দরকার – 

১। অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় ঈদের দিন তাড়াতাড়ি জাগ্রত হওয়া। নিজ এলাকার মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করা।

২। ঈদের দিনে মিশওয়াক করা সুন্নত।

৩। ঈদের নামাজ পরতে যাওয়ার পূর্বে ভালভাবে গোসল করে নেয়া।

৪। হালাল সাজসজ্জা করা, উত্তম পোষাক পরিধান করা যদি ভালো পোষাক ক্রয় করার সাধ্য থাকে।

৫। সুগন্ধি ব্যবহার করা (পারফিউম বা আতর)

৬। যদি সাদকাতুল ফিতর আপনার উপর ওয়াজিব হয়ে থাকে তবে তা নামাজের পূর্বেই সম্পন্ন করে নেয়া।

৭। ঈদের নামাজে যাওয়ার পূর্বে মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া।

৮। পায়ে হেটে ঈদ্গাহের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া।

৯। ঈদের নামাজের পর অন্য রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরা।

১০। ঈদের নামাজ ঈদ্গাহে আদায় করে নেয়া।

১১। ধীরে সুস্থে ইদ্গাহের উদ্দেশ্যে হাটা।

১২। ঈদ্গাহে যাওয়ার পথে মনে মনে তাকবীর পড়া। তাকবীর টি হলো – اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

১৩। কুরবানির ঈদে নামাজের আগে না খেয়ে নামাজের পর নিজের দেয়া কুরবানির গোশত খাওয়া সুন্নত।

উপরিউক্ত কাজগুলো ঈদের দিনে করা সুন্নত। ঈদের দিন যেহেতু একটি আনন্দ ও ইবাদতের দিন সবার উচিত সুন্নত গুলো সঠিক ভাবে পালন করা।

আরো পড়ুনঃ আতরের নামের তালিকা

ঈদের দিন কবে

ঈদের দিন কবে হবে এটা নির্ধারণ করা হয় চাঁদ দেখার মাধ্যমে। তবে ধারণা করা হচ্ছে ২০২৩ সালে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে এপ্রিল মাসের ২২ তারিখে। অন্যদিকে ২০২৩ সালে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে ২৮ জুন।

ঈদের দিনের ফজিলত

ঈদ শব্দের অর্থ হলো – খুশি, আনন্দ ইত্যাদি। ঈদের দিনের ফজিলত কখনো বলে শেষ করা যাবে না। বছরের দুটো ঈদ মুসলমানদের জন্য যেমন আনন্দের ঠিক তেমনি ভাবে ত্যাগ ও রমজানের মাধ্যমে মানুষের মাঝে তাকওয়া সৃষ্টি হয়। 

ঈদের দিনে ধনী ও গরিবের মাঝে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। সমগ্র বিশ্ব জুড়ে ঈদের আনন্দে এক সাথে সকলে মেতে উঠে আনন্দে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার রয়েছে ব্যাপক ফজিলত যা আমরা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরলাম –

ঈদুল ফিতর এর ফজিলত

রমজান মাসের ৩০ টি রোযা পালনের পর আমাদের জন্য আসে ঈদুল ফিতরের দিন। সাওম পালনের পর স্বাভাবিক দিন এর শুরু করা হয় ঈদের দিনের মাধ্যমে। গরীব-মিসকিন ও অভাবী মানুষের মাঝে শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত অর্থ বন্টন করা যা “সদাকাতুল ফিতর” বলা হয়। 

সদাকাতুল ফিতরের মাধ্যমে সামর্থ্যবান ব্যাক্তিগণ অর্থ বন্টন করেন এর ফলে ঈদের দিনে অভাব গ্রস্থ লোক জনকে অনাহারে কাটাতে হয় না। ঈদুল ফিতরের দিনে সুন্নত পালনের মাধ্যে অনেক সাওয়াব অর্জন করা যায়। ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের দিনে ঈদ্গাহে নামাজ পরে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তায়ালা দোয়া কবুল করে নেন। 

ঈদুল আজহা এর ফজিলত

মুসলামানদের জন্য আরেকটি আনন্দের ও ফজিলতপূর্ণ দিন হলো ঈদুল আজহার দিন। শুধুমাত্র পশু জবেহ করা ও মাংশ খাওয়া এ দিনের উদেশ্য নয়। যাদের উপরে কুরবানি ওয়াজিব হয়েছে তাদের দিতে হবে। কুরবানি দেয়ার মাধ্যমে আমাদের দাসত্য কে দেখানো হয়। আল্লাহ বলেন – “কোরবানির গোশত, রক্ত আল্লাহর কাছে পৌছায় না বরং এর মাধ্যমে তাকওয়া আল্লহর জন্য পেশ করা হয় তা আল্লাহর কাছে পৌছে যায়“।

আরো পড়ুনঃ শবে কদরের নামাজের নিয়ম ও দোয়া

ঈদের দিন বিয়ে করা কি জায়েজ

ইসলামি শরিয়তের বিধানে কোনো দিনকে বিয়ে করা না জায়েজ বলা হয়নি। বছরের যে কোনো দিন বিয়ে করা যায়েজ। ঈদের দিন বিয়ে করা জায়েজ। কোনো দিন বা মাসকে উদ্দেশ্য করে যদি বিয়ে করা কে অশুভ বা না জায়েজ মনে করা হয় তবে এটা শিরক এর সমতুল্য হয়।

ঈদের দিনে রোজা রাখা হারাম

ঈদের দিনে রোজা রাখা হারাম। রমজানের ৩০ টি রোজা রাখার পরে ঈদ আসে যদি এ দিনে ও কেউ রোযা রাখে তাহলে রমজান মাসের সাথে মিলে যাবে। শরিয়তের মতে, শাওয়াল মাসের প্রথম দিন (ঈদের দিন) রোযা রাখা হারাম। 

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) দুই ঈদে রোজা রাখতেন না। এ সম্পর্কে আবু সাইদ খুদরি (রা) বলেন – “নবী (সা) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন” (সহিহ বুখারি – হাদিস নং– ১৯৯২)

ঈদের দিন মারা গেলে কি হয়

মানুষের জীবনে মৃ- ত্যু এক অনিবার্য সত্য। যে কোনো সময়ে যে কোনো দিন মানুষের মৃ- ত্যু হতে পারে। ঈদের দিন অনেক ফজিলত পূর্ণ দিন। ঈদের দিন মারা গেলে কি হয় এ নিয়ে কোনো হাদিস পাওয়া যায়নি। তার কৃতকার্য অনুযাই শাস্তি ও শান্তি লাভ করবেন। 

আল্লাহ চাইলে মাফ করে দিতে পারেন তবে মাফ করবেন এমন কোনো দলিল পাওয়া যায়নি। তবে জুম্মার দিন ও রাতে যদি কেউ মারা যায় তবে আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা থেকে বাচান এ সম্পর্কে একটি হাদিস পাওয়া যায়।

ঈদের দিন সহবাস করা কি জায়েজ

অনেকেই জানতে চান যে ঈদের দিন স্ত্রী সহবাস করা জায়েজ কি-না। ঈদের দিনে বা রাতে স্ত্রী সহবাস জায়েজ আছে। শুধুমাত্র দিনের রমজান মাসে দিনের বেলায় স্ত্রী সহবাস করা জায়েজ নয় হারাম। হজ্জ ও উমরাহ এর ইহরাম বাধা অবস্থায় ও হারাম, এছাড়াও স্ত্রী লোকের হায়েজ ও নেফাস (পিরিয়ড) অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা হারাম। তাছাড়া ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন ও রাতে স্ত্রী সহবাস করা জায়েজ আছে।

আরো পড়ুনঃ আল আকসা মসজিদ কোথায় অবস্থিত

ঈদের দিন যে কাজ গুলো পরিহার করা উচিত

বর্তমান মুসলমানদের মধ্যে ধর্মিয় মূল্যবোধের চরম পর্যায়ের অবক্ষয় চলছে। ঈদের দিনে অনেকেই না জেনে পাপ কাজে লিপ্ত হচ্ছে। ঈদের দিনে যে সকল কাজ গুলো থেকে বিরত থাকবেন তা হলো –

শালিন পোষাক পরিধান – ঈদ একটি ধর্মীয় ইবাদত। তাই এদিনে বিধর্মী পোষাক ও নারীগন পর্দাহীন ভাবে চলাফেরা করা বর্জন করা প্রয়োজন।

নেশা জাতীয় দ্রব্য পরিহার – ঈদকে উদ্দেশ্য করে যারা এ সকল কাজে লিপ্ত হচ্ছেন তাদের পাপের বোঝা বৃদ্ধি ছাড়া কিছুই লাভ হবে না। এদিনে অবশ্যই নেশা জাতীয় দ্রব্য পরিহার করা উচিত।

নারী-পুরুষ অবাধ মেলা-মেশা না করা – ঈদ যে ইবাদতের একটি দিন তা আমরা ভুলে যাই। নারী-পুরুষ এর পর্দার বিধান মানা ঈদের দিন নয় সব দিনের মতই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা

ঈদের দিনের সুন্নত কাজগুলো কী কী আর্টিকেলে তুলে ধরলাম ঈদ সম্পর্কে বিস্তারিত সব প্রশ্নের উত্তর গুলো। ঈদ আনন্দ ও ইবাদতের দিন। ধর্মীয় সকল নিয়ম মেনে আমরা যেন ঈদের দিনগুলো পালন করতে পারি আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন, আমীন।

পোষ্ট ক্যাটাগরি: