সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় - জীবনের প্রয়োজনে অনেক সময়ই আমরা নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে অবস্থান করে থাকে। বাংলাদেশের এমন অনেক নাগরিক রয়েছে যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য চাকরির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। আর বিদেশ ভ্রমণের জন্য সবথেকে উপযুক্ত উপায় হল সরকারিভাবে সেখানে যাওয়া।

কিন্তু আপনি কি সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন? আপনি যদি সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়  না জেনে থাকেন তাহলে আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য।

সূচিপত্রঃ সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

সুপ্রিয় দর্শক বৃন্দ, আজ আমরা সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় সে সম্পর্কে এ টু জেড আলোচনা করব। তাই অবশ্যই সম্পূর্ণ আর্টিকেল মনোযোগ সহকারে পড়ুন সঠিকভাবে বোঝার সুবিধার্থে। তাহলে আসুন জেনে নিই সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ দালাল ছাড়া বিদেশ যাওয়ার উপায়

সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়?

সরকারিভাবে যদি আপনি দেশের বাইরে যেতে চান তাহলে হাতেগোনা ৩৩ টি দেশে যেতে পারবেন। আর সেই দেশগুলোর নাম হলো:

১। জাপান

২। থাইল্যান্ড

৩। অস্ট্রেলিয়া।

৪। শ্রীলংকা

৫। চীন।

৬। কম্বোডিয়া

৭। ফিনল্যান্ড

৮। জ্যামাইক

৯। ডেনমার্ক

১০। নিউজিল্যান্ড

১১। ভারত

১২। লন্ডন

১৩। সুইজারল্যান্ড

১৪। মালদ্বীপ

১৫। সৌদি আরব

১৬। সংযুক্ত আরব আমিরাত

১৭। মালয়েশিয়া

১৮। ওমান

১৯। কুয়েত

২০। কাতার

২১। বাহরাইন

২২। ইতালি

২৩। জর্ডান

২৪। সিঙ্গাপুর

২৫। লিবিয়া

২৬। যুক্তরাষ্ট্র

২৭। কানাডা

২৮। রোমানিয়া

২৯। যুক্তরাজ্য

৩০। ইরাক

৩১। মরিশাস

৩২। ব্রুনাই দারুস সালাম

৩৩। ফ্রান্স

দালাল ছাড়া বিদেশ যাওয়ার উপায় - সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায়

আপনি যদি দালাল ছাড়া বিদেশ যেতে চান তাহলে আপনাকে সরকারি উপায় গ্রহণ করতে হবে। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ভাবে বাইরের দেশে যাওয়া সম্ভব হয়। ব্যক্তিভিত্তি মূলত বিভিন্ন কাজে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ ভোগ করা যায়। তবে বিদেশ যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে অন্যতম খাত হিসেবে তিনটি উপায় রয়েছে সেগুলো হলো:

১। শিক্ষার্থী হিসেবে

২। চাকরিপ্রার্থী হিসেবে এবং

৩। শ্রমিক হিসেবে

আপনি খুব সহজেই সরকারিভাবে বিদেশ যেতে পারবেন যদি এই তিনটি পদ্ধতির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে পারেন। 

সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় ২০২৩

ইতিমধ্যে আমরা আপনাদেরকে জানিয়েছি সরকারিভাবে মূলত কোন কোন দেশে যেতে পারবেন। তবে ধীরে ধীরে দেশের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। কেননা সময়ের সাথে সাথে আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশ তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে।

কয়েক বছরের ব্যবধানে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছুর। তাই এক্ষেত্রেও পরিবর্তন ঘটতেই পারে তা স্বাভাবিক। তবে আপনি যদি এই মুহূর্তে কোন দেশে যেতে চান তাহলে সরকারিভাবে এই ৩৩ টি দেশে যেতে পারবেন। যা আমরা উপরে উল্লেখ করেছি।

আরো পড়ুনঃ বিদেশ যাওয়ার জন্য কোন ব্যাংক লোন দেয়

সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য কিভাবে এপ্লাই করতে হবে

সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য কখনো কখনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। যেমন খুব সম্প্রতি সরকারিভাবে বিদেশ যেতে একটি নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিবছর প্রত্যেকটি জেলা থেকে ১০০০ কর্মী বিদেশ পাঠানো হবে। আর তাই দেশের ৬১ জেলায় আগ্রহী দক্ষ, স্বল্প দক্ষ অদক্ষ ও পেশাজীবী নারী পুরুষ উভয়কেই নিবন্ধন করার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে।

এখন কথা হল- সরকারিভাবে যদি বিদেশ যেতে চান তাহলে আপনি তাতে কিভাবে এপ্লাই করবেন? এর জন্য মূলত আপনাকে সেই বিজ্ঞপ্তিটির সংগ্রহ করতে হবে এবং সেখানে দেওয়া ইন্সট্রাকশন ফলো করে আবেদন করতে হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আগ্রহীরা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ২০০ টাকা পাঠিয়ে এনিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। যা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গিয়েছে। 

সরকারিভাবে বিদেশে যাওয়ার নিবন্ধন

আপনি যদি সরকারিভাবে বিদেশ যেতে চান তাহলে আপনাকে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে এবং ধাপে ধাপে সে কাজগুলো করতে হবে। 

যা এ পর্যায়ে আমরা আপনাদেরকে জানাবো। তাহলে আসুন জেনে নেই সরকারীভাবে বিদেশে যাওয়ার নিবন্ধন করার উপায়।

প্রথমত: আমি প্রবাসী নামক একটি অ্যাপস ইনস্টল করতে হবে আপনার ফোনে। 

দ্বিতীয়ত: ইনস্টল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অ্যাপটি ওপেন করতে হবে। 

তৃতীয়ত: সেখানে উল্লেখ্য প্রত্যেকটি ইনফর্মেশন সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার পাসপোর্ট জাতীয় পরিচয় পত্র এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাবমিট করতে হতে পারে।

চতুর্থত: আপনাকে নির্বাচন করতে হবে একটি সঠিক দেশ যেখানে আপনি যেতে আগ্রহী। সেই সাথে উল্লেখ করতে হবে আপনার ওই দেশটিতে যাবার উদ্দেশ্য।

কেননা আমরা আপনাদেরকেই ইতোমধ্যে জানিয়েছি একজন ব্যক্তি মূলত নিজ দেশ ছেড়ে বাইরের দেশে তিনটি মাধ্যমে যেতে পারবে । সে চাকরি করবে সেই উদ্দেশ্যে, পড়াশোনা করবে সেই উদ্দেশ্যে অথবা শ্রমিক হিসেবে।

আর হ্যাঁ আপনি যদি নিজেকে উপযুক্ত মনে করেন তাহলে এই অ্যাপসটির মাধ্যমে আপনি সরাসরি বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন পর্যন্ত করতে পারবেন। তাহলে দেরি না করে এখনই Ami probasi অ্যাপটি আপনার ফোনে ইন্সটল করুন এবং সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে আপনার কার্যসম্পন্ন করুন। 

বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়

আপনি যদি সরকারিভাবে যেতে চান তাহলে বাংলাদেশ থেকে আমাদের উল্লেখিত ৩৩ টি দেশেই যেতে পারবেন। অনেকেই জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন কম খরচে কোন দেশে যাওয়া সম্ভব হয়। তাহলে বলবো, কম খরচে আপনি হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি দেশে যেতে পারবেন। সেই দেশগুলো হলো:

১। ভারত

২। পোল্যান্ড

৩। ডেনমার্ক

৪। সুইজারল্যান্ড

৫। থাইল্যান্ড

৬। মালয়েশিয়া

৭। ওমান

৮। সংযুক্ত আরব আমিরাত।

আপনি মূলত বিদেশে যেতে চাইলে অবশ্যই টাকা খরচ করতে হবে। তবে সরকারিভাবে গেলে আপনার টাকার কিছুটা হলেও কম খরচ হবে। আর যদি দালালের মাধ্যমে যেতে চান তাহলে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হতে পারে আপনাকে। তাই সবসময় চেষ্টা করুন অবৈধভাবে অন্য কোন দেশে না গিয়ে সরকারিভাবে সঠিক নিয়ম মেনে গিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অবস্থান করার। 

কি ভাবে সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়া যায়?

সরকারিভাবে নিবন্ধন করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমরা ইতিমধ্যে আপনাদেরকে জানিয়েছি। তাই সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে হলে আপনাকে সেই নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। কখনো কখনো সরকারি ওয়েবসাইটে এ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আপনি চাইলে সেগুলোর খোঁজখবর রাখতে পারেন। কেননা সঠিক সময়ে আবেদন করার মাধ্যমেও আপনি সরকারিভাবে বিদেশে যেতে পারবেন। আর সেটা না হলে আমি প্রবাসী এই অ্যাপস তো রয়েইছে। 

কত বছর বয়সে বিদেশ যাওয়া যায়?

একজন ব্যক্তি যদি নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যেতে চান তাহলে অবশ্যই তার বয়স ১৮ প্লাস হতে হবে। তবে হ্যাঁ, মধ্যপ্রাচ্যে নারীকর্মীদের বয়সসীমা ২৫ থেকে ৪৫ পর্যন্ত করা হয়েছে। তাই সর্বনিম্ন ২৫ বছর হতে হবে যদি আপনি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করতে চান। তাছাড়া বাইরের বাকি দেশগুলোতে আপনি ১৮ বছরের পরবর্তী সময়কাল থেকেই যাবার সুযোগ পাবেন।

আরো পড়ুনঃ বিদেশ যাওয়ার এজেন্সি ২০২৩

বিদেশ যাওয়ার পূর্বে কি কি জানা দরকার

আপনি যদি বিদেশে যান তাহলে বিদেশ যাবার পূর্বে, প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে আপনাকে। যা আলোচনার শেষ মুহূর্তে আমরা আপনাদেরকে সাজেস্ট করব। তাহলে আসুন জেনে নেই বিদেশ যাওয়ার পূর্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সমূহ সম্পর্কে। 

১। অবশ্যই অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার হতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন

২। বৈধভাবে ও নিরাপদে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

৩। প্রথমত লাভ ও ক্ষতির হিসাব করে পরবর্তীতে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন

৪। গন্তব্য দেশের ভাষা জেনে এবং সংশ্লিষ্ট কাজের সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে পূর্বে কিছু ধারণা ও দক্ষতা অর্জন করবেন।

৫। সংশ্লিষ্ট ডিইএমও তে ডাটাবেজ নাম নিবন্ধন করবেন

৬। বিদেশ যাওয়ার পূর্বে দুটি ব্যাংক হিসাব খুলবেন

৭। ভালোভাবে সকল রুলস মেনে যাত্রা শুরু করার চেষ্টা করবেন

৮। বি এম ই টির স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করবেন

৯। বিদেশে যাওয়ার পূর্বে প্রত্যেকটি কাগজপত্র তিন-চারটা করে ফটোকপি নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করবেন।

১০। বিদেশ যাওয়ার পূর্বে তিনদিনের প্রাক বহির্গমন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করবেন।

১১। অবশ্যই সব সময় ভাল মতন পড়ে ও বুঝে তারপর চুক্তিপত্রের স্বাক্ষর করবেন।

১২। নিজের পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখবেন ভিসা সংগ্রহ করবেন সাবধানে।

১৩। সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্ট এর মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণ করবেন।

পরিশেষে : তো সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুরা, সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় এ সম্পর্কিত আর্টিকেলটি এখানে শেষ করছি। আশা করি আপনারা সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন। সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যাওয়া যায় জেনে খুব উপকৃত হলেন তো সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

পোষ্ট ক্যাটাগরি: