নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ২০২৩

নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ২০২৩ - স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে নিবন্ধন করার জন্য জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন। জন্ম নিবন্ধন হচ্ছে একজন মানুষের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তাই আমাদের সকল অভিভাবকের উচিত শিশু জন্মের পর পরই জন্ম নিবন্ধন করা। এজন্য কিভাবে জন্ম নিবন্ধন করতে তা জানা উচিত।

সুচিপত্রঃ নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ২০২৩

আজকের এই আর্টিকেলে  নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ২০২৩ - সহজ পদ্ধতিতে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম নিয়ে সাজানো হয়েছে। আপনাদের সকলের কাছে অনুরোধ রইল আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ার। তাহলে চলুন জেনে নেই নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ২০২৩।

জন্ম নিবন্ধন কি? (what is birth certificate) 

জন্ম নিবন্ধন হচ্ছে, একজন মানুষের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ২০০৪ সনের ২৯ নং আইন এর আওয়াতায় একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ ও স্থান, বাবা ও মায়ের নাম,  জাতীয়তা এবং স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত একটি কাগজে লিপিবদ্ধ করা থাকে। এটাই হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন।

আরো পড়ুনঃ নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম

জন্ম নিবন্ধন কেন প্রয়োজন

বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন। বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন ছাড়া কোন ধরনের কাজ করা সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশের প্রত্যক মানুষের একটি জন্ম নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক। কি কি কাজে জন্ম নিবন্ধন লাগে চলুন সেটা জেনে নেই।

১। স্কুলে ভর্তি হতে

২। জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরিতে

৩। পাসপোর্ট তৈরি

৪। বিয়ের নিবন্ধন করতে

৫। ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে

৬। জমি রেজিষ্ট্রেশন করতে

৭। ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করতে

৮। ট্রেড লাইসেন্স তৈরিতে 

৯। বয়স প্রমাণের জন্য

১০। নিজের পরিচয় দিতে 

১১। নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ২০২৩

নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ২০২৩ নিয়েই এখন আপনাদের সাথে আলোচনা করব। মূলত আপনি অনলাইনে কিংবা অফলাইনে নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য প্রয়োজন হবে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার জন্য বয়স ভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রয়োজন হবে। বয়দ ভেদে জন্ম নিবন্ধন করার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগবে তা নিম্নরুপঃ

১। বয়স ০ থেকে ৪৫ দিন হলে জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি কাগজপত্র লাগবে? 

২। হাসপাতাল কতৃক সার্টিফিকেট বা ছাড়পত্র। 

৩। পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অথবা জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (বাংলা ও ইংরেজি)।

৪। আবেদনকারীর (শিশু) এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

৫। হোল্ডিং/বাড়ির  ট্যাক্স পরিশোধের রশিদের ফটোকপি ।

৬। বয়স ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত হলে জন্ম নিবন্ধন  করতে কি কি কাগজপত্র লাগবে? 

৭। টিকা কার্ড এর সত্যায়িত ফটোকপি।

৮। হোল্ডিং ট্যাক্স অথবা বাড়ির  ট্যাক্স পরিশোধের রশিদের ফটোকপি ।  

৯। পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি (সত্যায়িত)। 

১০। আবেদনকারীর (শিশু) এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

বয়স ৫ বছরের বেশি হলে জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি কি কি কাগজপত্র লাগবে?

বয়স প্রমানের জন্য এমবিবিএস ডাক্তার কতৃক প্রত্যায়ন পত্র অথবা যে কোন  শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র অর্থাৎ পি.এস.সি/জে.এস.সি/এস.এস.সি  পরীক্ষার সার্টিফিকেটের ফটোকপি (সত্যায়িত)।

১। হোল্ডিং ট্যাক্স অথবা বাড়ির ট্যাক্স পরিশোধের রশিদের ফটোকপি নিবন্ধন। 

২। পিতা-মাতার জতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি (সত্যায়িত) । 

৩। আবেদনকারীর ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি। 

জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ২০২৩

নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করতে পারবনে দুইটি পদ্ধতিতে, একটি হচ্ছে অফলাইন অর্থাৎ সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে অথবা সিটি কর্পোরেশন স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আর অন্যটি হচ্ছে অনলাইনে। আপনার কাছে যে পদ্ধতি ভালো মনে হয় আপনি সেটি করতে পারেন। তবে আজকে অনলাইনে কিভাবে জন্ম নিবন্ধন করবেন সে সম্পর্কে আলোচনা করব।

আরো পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন যাচাই

অনলাইনে নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ২০২৩

নতুন নিয়মে জন্ম গ্রহণ করতে চাইলে আপনি এখন ঘরে বসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কিভাবে অনলাইনে নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন তা ধাপে ধাপে অনুসরণ করতে হবে। তাহলে চলুন দেখে নেই অনলাইনে নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ২০২৩।

ধাপ ১: নতুন নিয়মে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করতে হলে আপনার মোবাইল অথবা কম্পিউটারের যেকোন একটি ব্রাউজার ওপেন করুন অথবা সরাসরি এই লিংকে ক্লিক করুন।

ধাপ ২:  ওই লিংকে ক্লিক করার পর আপনার সামনে ঠিক উপরের পেজের মত আসবে এরপর আপনি নিম্নলিখিত কোন ঠিকানায় জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে চান, সেটা সিলেক্ট করুন। এক্ষেত্রে আপনি আপনার জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা অথবা বর্তমান ঠিকানা সিলেক্ট করতে পারবেন। 

আর আপনি যদি দেশের বাইরে থেকে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন তবে নিচের খালি বক্স “ আপনি যদি বাংলাদেশ দূতাবাসে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে চান, তবে এটি নির্বাচন করুন” এটিতে টিক মার্ক দিন। এরপর পরবর্তী পেজে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩:  এরপর আপনার সঠিক তথ্য দিয়ে এই ফরমটি পূরণ করতে হবে। ফরমে আবেদনকারীর প্রথম অংশ বাংলায় এবং শেষ অংশ বাংলায় লিখতে হবে। এরপর আপনার নামের প্রথম ও শেষ অংশ ইংরেজিতে লিখতে হবে।

এরপর আপনার জন্ম তারিখ দিতে হবে। এরপর পিতা-মাতার কততম সন্তান আপনি এটি দিতে হবে। এরপর আপনার লিঙ্গ সিলেক্ট করুন। এরপর ক্রমান্বয়ে আপনার দেশ, বিভাগ, জেলা, গ্রাম বাংলা ও ইংরেজিতে লিখুন।

এরপর পরবর্তী পেজে ক্লিক করুন।

ধাপ ৪: এরপর আরেকটি ফরম পেইজ আসবে। নিম্ন লিখিত কি কি পূরণ করতে হবে। 

ফরমের প্রথম ঘরে পিতার জন্ম সনদের নম্বর লিখতে হবে। এরপর ঘর দুটিতে পিতার নাম বাংলাতে এবং ইংরেজিতে বড় অক্ষরে লিখতে হবে। 

এরপর ঘরের দুটিতে যথাক্রমে পিতার ন্যাশনাল আইডি কার্ডের নাম্বার এবং জাতীয়তা উল্লেখ করতে হবে।

এরপর মাতার তথ্য একইভাবে পূরণ করতে হবে।

এই ফরমের ঘরগুলো সঠিকভাবে পূরণ করার পর পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৫: এরপর আপনার নিজের ঠিকানা দিতে হবে। প্রথমেই “আপনি কি নিম্নলিখিত কোন ঠিকানা স্থায়ী হিসেবে ব্যবহার করতে চান?  এখান থেকে যদি আপনি কোনটিই নয় সিলেক্ট করেন তাহলে ঠিকানা দেওয়ার একটি পেইজ চলে আসবে। আর যদি আপনার বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা হয় তাহলে “একই” অপশানে ক্লিক করুন। আপনার ঠিকানা লেখার পর পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৬: এরপরের পেইজে আবেদনকারীর তথ্য দিতে হবে। এখানে আবেদনকারীর সম্পর্ক, মোবাইল নাম্বার, ই-মেইল এড্রেস দিতে হবে। নিবন্ধনকারী যদি ১৮ বছরের বেশী হয়ে থাকে তবে নিজেই আবেদন করতে পারবেন।

ধাপ ৭: সকল তথ্য সঠিকভাবে বসানোর পর এখন আপনাকে আপনার দেওয়া সকল তথ্য দেখানো হবে। আপনি আরেকবার আপনার সকল তথ্য ঠিক আছে কি না তা যাচাই করে নিতে পারেন। এছাড়াও আপনার তথ্য সংশোধন করার জন্য পূর্ববর্তী পেইজে ক্লিক করে আগের পেইজের তথ্য সংশোধন করতে পারবেন। তথ্য যাচাই করর পর আপনি এবার “সাবমিট” বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৮: জন্ম নিবন্ধনের আবেদন সাবমিট করার পর এরপর আপনাকে একটি আবেদন নাম্বার দেওয়া হবে। আবেদন নাম্বারটি সংরক্ষণ করে রাখবেন। এই নাম্বার-টি দিয়ে সহজেই জন্ম নিবন্ধনের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন। এই পৃষ্ঠার আবেদন পত্রের প্রিন্ট করে নিতে হবে।

ধাপ ৯: জন্ম নিবন্ধন আবেদনের ১৫ দিন পর  প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে ও আবেদন পত্রে প্রিন্ট কপি নিয়ে নির্দিষ্ট কার্যালয়ে যেতে হবে। এরপর সকল প্রসেস কম্পিলিট করার পর আপনার জন্ম সনদ পেয়ে যাবেন।

জন্ম নিবন্ধন তৈরি খরচ কত

বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন আবেদনের শুরু হওয়ার পর থেকে ২০১০ সালের জুন মাস পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধন বিনামূল্য জন্ম সনদ তৈরির সুযোগ ছিল। তারপর নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। নিচে জন্ম নিবন্ধন তৈরি খরচ কত টাকা লাগবে তার তালিকা দেওয়া হলোঃ

দেশে আবেদনের ক্ষেত্রেঃ

১। শিশুর জন্ম থেকে ৪৫ দিন বয়স পর্যন্ত বিনামূল্য

২। শিশুর জন্মের ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত - ২৫ টাকা

৩। শিশুর জন্মের ৫ বছর পর থেকে -৫০ টাকা

বিদেশে আবেদনের ক্ষেত্রেঃ

১। শিশুর জন্ম থেকে ৪৫ দিন বয়স পর্যন্ত বিনামূল্য

২। শিশুর জন্মের ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত -১ মার্কিন ডলার 

৩। শিশুর জন্মের ৫ বছর পর থেকে -১ মার্কিন ডলার

আরো পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়ম

শেষ কথাঃ নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ২০২৩ নিয়ে

একজন বাংলাদেশী নাগরিকের একটি জন্ম সনদ থাকা প্রয়োজন। একজন মানুষের প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হলো জন্ম নিবন্ধন। পরিশেষে আমি বলতে চাই, আজকে আমি আপনাদের সাথে  নতুন নিয়মে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ২০২৩ নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।

সহজ পদ্ধতিতে আপনি কিভাবে জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন তা দেখেয়েছি। আজকের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন তাহলে বিস্তারিত বুঝতে পারবেন। আজকের এই পোস্টটি তথ্যবহুল মনে হলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

পোষ্ট ক্যাটাগরি: