Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2021/04/What-is-SEO-Search-Engine-Optimization-2021.html

এসইও (SEO) কি এবং কেন দরকার হয় | এসইও কত প্রকার

আপনি যদি অনলাইন পাবলিশার বা ব্লগার হয়ে থাকেন কিংবা যদি অনলাইন পাবলিশিং এর দুনিয়ায় পা রেখে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেন। তাহলে আপনি হয়তো এসইও SEO টার্মটির সাথে ওতপ্রোত ভাবে পরিচিত। আর এসএইও SEO কথাটির সাথে খুব ভালোভাবে পরিচিত না হলেও হয়তো আপনি এই SEO টার্মটির কোথাও না কোথাও শুনেছেন। 

যদি না শুনে থাকেন তাহলে কোন সমস্যা নেই। আজকে খুব অল্প সময়ে অল্প কথায় ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো যে এসইও SEO কি এবং কেন অনলাইন পাবলিশিং বা ব্লগার এর ক্ষেত্রে এটির এসইও SEO দরকার হয়ে থাকে। তাহলে প্রথমেই জানা যাক যে,

এসইও (SEO) কি এবং কেন দরকার হয়? | এসইও কত প্রকার | এসইও এর কাজ কি | অন পেজ এসইও

এসইও কি | What is SEO

আপনি হয়তো আগে থেকেই জানেন যে এসইও বা SEO হচ্ছে Search Engine Optimization এর সংক্ষিপ্ত রুপ। তবে সহজ ভাষায় এসই কি? আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে আপনার টার্গেটেড মানুষের কাছে পৌঁছে টার্গেটেড ভিজিটর কিংবা আপনার বিজনেস ওয়েব সাইটে আপনার সম্ভাবনা ময় কাস্টোমার দেরকে আনার জন্যই ব্যাবহার করা হয় এসইও।

আমরা সবাই জানি যে, ইন্টারনেটে যেকোনো ওয়েবসাইটের ভিজিটরের অন্যতম একটি সোর্স হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন। অধিকাংশ ইউজাররাই গুগল বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে কোনো না কোন কিওয়ার্ড টাইপ করে সার্চ করে। আর সেই কিওয়ার্ডের জন্য যেসব রেজাল্ট সার্চ ইঞ্জিনে সামনে আসে, সেই রেজাল্টগুলো থেকে কোন একটি ওয়েবসাইটে ভিজিট করে থাকে ভিজিটররা।

আপনি যখন গুগলে কিংবা অনন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে কোন কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করবেন, তখন সার্চ রেজাল্টে কোনো ওয়েবসাইটের লিংক যত ওপরের দিকে থাকবে। সেই ওয়েবসাইট এই আপনি তত বেশি পরিমান ভিজিট করে থাকবেন আর হ্যাঁ এটাই হওয়া স্বাভাবিক। ঠিক তেমনি আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে অনেক বেশি পরিমান ভিজিটর পেতে চান। তাহলে আপনাকেও চেষ্টা করতে হবে যে আপনি যেসব কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করেন বা কাজ করবেন সেই কিওয়ার্ডে কেউ সার্চ করলে যেন আপনার ওয়েবসাইটের নাম এবং লিংক ও অন্যান্য ওয়েবসাইটের থেকে প্রথম পর্যায় বা আগে থাকে। 

আপনি কিভাবে নিশ্চিত হবেন যে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটটি সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ রেজাল্টে অনন্য সকল ব্লগ বা ওয়েবসাইট এর থেকে প্রথম পর্যায়ে থাকছে? এটির উত্তর হচ্ছে এসইও (SEO)। কোন ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ রেজাল্টে ওপরের বা প্রথমের দিকে আনার প্রক্রিয়াটিই হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসএইও SEO। এসইও SEO মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে যথা,

অন-পেজ এসইও | On Page SEO

যদিও বর্তমানে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে বা অনন্য সকল সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ রেজাল্টে ওপরের বা প্রথমের দিকে থাকার একমাত্র শর্ত হচ্ছে ওয়েবসাইটে বা ব্লগে ভালো কন্টেন্ট তৈরি করা। এছাড়াও আপনার ওয়েব সাইটের ভেতরেই আরও কিছু কাজ করার দরকার থাকে। যা আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলের সার্চ রেজাল্টে র‍্যাংক করাতে সাহায্য করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ আপনার ওয়েবসাইটের মেটা (Meta Description) ডেসক্রিপশন ঠিক রাখা, যাতে গুগলের ক্রলার বটগুলো আপনার ওয়েবসাইট ক্রল করার সময় আপনার ওয়েবসাইট সম্পর্কে যথেষ্ট ইনফরমেশন পেয়ে যায়। 

এমন আরও অনেক ফ্যাক্টর আছে যেগুলো আপনার ওয়েবসাইটের ভেতরেই আপনাকে করতে হবে এসইও ভালো রাখার জন্য। মূলত এসইও ভালো রাখার উদ্দেশ্যে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্টের ভেতরে যা যা করেন, সেগুলোই অন-পেজ এসইও।

অফ-পেজ এসইও | Off Page SEO 

ব্লগ বা ওয়েবসাইট কে গুগলের সার্চ ইঞ্জিনে অথবা অনন্য সকল সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করানোর জন্য শুধুমাত্র অন-পেজ এসইওটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। ওয়েবসাইট কে গুগল এবং অন্য সকল সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ রেজাল্টে র‍্যাংক করাতে হলে আপনাকে অবশ্যই আরও কিছু কাজ করতে হবে। সেসকল কাজ করতে হয় আপনার ওয়েবসাইটের বাইরে। হতে পারে সেটা অন্য কোন বড় ওয়েবসাইটের সাথে ব্যাকলিংক তৈরি করা, হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করা কিংবা যেকোনো কিছু। মূলত আপনার ওয়েবসাইটের জন্য যে এসইও আপনি ওয়েবসাইটের বাইরে গিয়ে করেন, সেটাই অফ-পেজ এসইও।

ব্ল্যাক-হ্যাট এবং হোয়াইট হ্যাট এসইও

এসইও কি (What is SEO ) তা তো জানা হলো। তবে এসইও SEO এর আরেক টি মনে রাখার বিষয় হচ্ছে যে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে কোন ধরনের এসইও করবেন আপনি। এক কথায়, আপনি যদি গুগলের সার্চ রেজাল্টে সবার ওপড়ে ওঠার জন্য কোন অবৈধ উপায় অবলম্বন করেন। যেমন- প্রয়োজনের বেশি কিওয়ার্ড ব্যবহার করা, অপ্রয়োজনীয় বা অহেতুক কিওয়ার্ড ইউজ করা, মিস লিডিং কিওয়ার্ড ব্যবহার করা ইত্যাদি তাহলে সেটা হয় ব্ল্যাক-হ্যাট এসইও এবং এই রকম কাজ গুলো কখনোই করা ঠিক নয়। 

বর্তমান আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সময়ে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও (Black Hat SEO) করে আপনি কখনোই সফল হতে পারবেন না। আর এতক্ষনে বুঝতেই পারছেন যে, এসইও করার যে উপায় গুলো বৈধ, সেগুলো হচ্ছে হোয়াইট হ্যাট এসইও (White Hat SEO)। যেমন, সীমিত পরিমান কিওয়ার্ড ইউজ করা, অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ট্যাগ ব্যবহার না করা, সঠিকভাবে ইন্টার লিংকিং করা, ইমেজের অল্টার ট্যাগ সঠিকভাবে লেখা ইত্যাদি। সফলতার কথা চিন্তা করলে আপনাকে শুধুমাত্র হোয়াইট হ্যাট এসইও করতে হবে। এই দুই ধরনের এসইও ব্ল্যাক হ্যাট এবং হোয়াইট হ্যাট এসইও এর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে বেশি বেশি গুগল সার্চ ব্যাবহার করতে পারেন।

টার্গেটেড অনলাইন পাবলিশিং বা ব্লগ ওয়েবসাইট এর জন্য এই দুই ধরনের এসইও ব্ল্যাক হ্যাট এবং হোয়াইট হ্যাট এসইও আপনি করতে পারেন। তবে সবসময় মনে রাখতে হবে যে, গুগলের সার্চ রেজাল্টে ওপরের দিকে আসার একমাত্র শর্ত হচ্ছে অন্যদের থেকে আরও ভালো মানের বা ভালো কোয়ালিটির কন্টেন্ট তৈরি করা এবং নিয়মিত পাবলিশ করা। 

এইটুকু নিশ্চিত করতে পারলে আপনাক এসইও কি, কেন করবেন, না করলে কি হবে এসব কিছু নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার পড়বে না। তবে যদি বিজনেস ফোকাসড ওয়েবসাইট হয়ে থাকে। তাহলে আপনাকে আপনার এসইও নিয়ে অনেক বেশি সিরিয়াসলি ভাবতে হবে।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া