Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2021/04/Learn-how-to-avoid-hacking.html

হ্যাকিং থেকে বাঁচার উপায় | হ্যাকিং থেকে বাঁচার ৭টি উপায়

হ্যাকিং থেকে বাঁচাটা বর্তমান সময়ে বেশ সোজাই হয়ে গেছে। আজকাল দেখা যায় সবার অনলাইন অ্যাকাউন্ট গুলো কম বেশি হ্যাকিংয়ের ঝুঁকির মাঝে থেকে যায়। আর সমস্যা হলো যে হ্যাকিং থেকে বাঁচার জন্য বা হ্যাকারদের হাত থেকে বাঁচার উপায় কেবল বলতে পারেন কেবল হ্যাকারগণ। সম্প্রতি সময়ে হ্যাকিং থেকে বাঁচার জন্য হ্যাকারদেরই দেওয়া কয়েকটি মূল্যবান পরামর্শ প্রকাশ করেছে CNN। যেহেতু এই পরামর্শ গুলো স্বয়ং হ্যাকারদেরই দেওয়া তাই এগুলো অনুসরণ করলে আশা করি আপনি অনলাইন প্লাটফ্রমে নিরাপদ থাকবেন। তো চলুন জেনে নেই হ্যাকিং থেকে বাঁচার উপায় গুলো কি কি;

হ্যাকিং থেকে বাঁচার উপায়
স্মার্টফোনের ওয়াই-ফাই বন্ধ

মোবাইলফোনের ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ সব সময় চালু করে রাখবেন না। কেননা হ্যাকারদের হ্যাক করার পন্থা হচ্ছে এই সকল সুযোগ খোঁজা। ফোনের ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ সব সময় অন করা থাকলে অপরিচিত ব্যক্তিগণ আপনার ফোনের মধ্যে কি কি তথ্য আছে সেগুলো দেখার জন্য চেষ্টা করে।

এখন কথা হলো ফোনে ওয়াইফাই ও ব্লুটুথ চালু করা থাকলে সমস্যা কি? সমস্যা হলো আপনি আপনার ডিভাইস দিয়ে আগে কোন কোন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত ছিলেন হ্যাকারগণ তা জানতে পারেন। আগের যুক্ত হওয়া সেই নেটওয়ার্ক গুলোর সূত্র ধরে হ্যাকারগণ প্রতারণার ফাঁদ সৃষ্টি করে। হ্যাকারগণ পূর্ববর্তী নেটওয়ার্কের ছদ্মবেশে অনুরুপ নতুন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে। 

আপনার ডিভাইস বা স্মার্টফোনটিকে পূর্বের কোনো ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ নেটওয়ার্কে আপনার ডিভাইসটি যুক্ত করার জন্য প্রলোভন দেখায়। আর যদি কেউ একবার সেই নেটওয়ার্কের আওতায় ঢুকে পড়ে তাহলে হ্যাকাররা সেই ফোনে অসংখ্য অসংখ্য ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেয় আর আপনার অজান্তেই স্মার্টফোনে থাকা তথ্যগুলো তথ্য চুরি, নজরদারির মতো ইত্যাদি কাজগুলো চালিয়ে যান। তাই উচিত যখন কোন কাজের প্রয়োজন হয় না তখনই ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ করে নিন।

স্মার্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার | জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন

যেসকল ওয়েবসাইট অথবা অ্যাকাউন্টে আপনার প্রয়োজনীয় সকল তথ্য আছে সেই সকল অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইট গুলোতে সব সময় জটিল ও দীর্ঘ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। যেমন; ছোট-বড় অক্ষর, চিহ্ন, সংখ্যা প্রভৃতি মিলিয়ে আপনার পাসওয়ার্ডটিকে জটিল করে নিন। যতটা সম্ভব প্রত্যেকটা অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং পাসওয়ার্ড মনে রাখার জন্য একটি নোট ব্যবহার করুন এবং পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। এই ক্ষেত্রে আমি সাজেস্ট করবো ‘লাসপাস’ বা ‘পাসওয়ার্ড সেফ’ ব্যবহার করতে। প্রতিবছরে অন্তত একবার হলেও পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত।

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করুন

বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিজের অনলাইনে অ্যাকাউন্ট গুলো নিরাপদ থাকবে তা ভাবা মোটেও ঠিক হবে না। প্রায় সময়ই দেখা যায় যে অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড হ্যাক হতে।

তাই জন্য অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার জন্য টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার করুন। বর্তমান সময়ে অনেক ওয়েবসাইট এবং সার্ভিস রয়েছে যেগুলোতে দুই স্তরের নিরাপত্তা ফিচারটি ব্যবহার করছে। টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করার ফলে ইউজারকে তাঁর অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার সময় নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার পরেও তার স্মার্টফোনে বা ট্যাবে নতুন করে আরও একটি কোড নাম্বার যাবে সেটি কোড নাম্বারটি ব্যবহার করতে হবে। 

এতে করে অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত একটি স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়। দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার করার ফলে আপনার হাতে যতক্ষণ স্মার্টফোনটি থাকছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আর অনন্য কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না সেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নেয়া যায়।

অ্যাপল, গুগল, টুইটার, লিঙ্কডিন, ফেসবুক, ড্রপবক্সের মতো ইতাদি অনেক সার্ভিসের ক্ষেত্রে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। আপনি যখন নতুন কোনো ডিভাইসে লগিন করতে চাইবেন, তখন আপনার নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার পর আরও একটি গোপন কোড দেয়ার জন্য বলবে। এই কোডটি কেবল শুধুমাত্র আপনার ফোনে পাবেন। টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবহার করার ফলে যদি হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ডটি জেনেও যায়, তার পরেও আপনার মোবাইল নম্বরে আসা কোডটি না জানা পর্যন্ত আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারবে না।

HTTPS এইচটিটিপিএস দেখে ব্যবহার করুন

প্রত্যেকটা ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় এইচটিটিপিএস দেখে ব্যবহার করুন। HTTPS ব্যবহার করতে ‘এইচটিটিপিএস এভরিহোয়্যার’ টুলটি ব্যবহার করতে পারেন। এই এইচটিটিপিএস এভরিহোয়্যার টুলটি ব্যবহার করার ফলে আপনার ব্রাউজারের সকল তথ্য এনক্রিপ্ট করে থেকে। আর আপনি যদি কোন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় অ্যাড্রেস বারে শুধু HTTP ব্যবহার করেন তাহুলে যে কেউ আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্রাউজ করার বিষয়ে নজরদারি করতে পারে।

ওয়াই-ফাই সেটআপ | Wifi Setup

ওয়াই-ফাই সেটআপ করার সময় পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। ডিফল্ট পাসওয়ার্ড কখনও ইউজ করবেন না। সেটআপ করার সময় সিকিউরিটি এনক্রিপশন দেবার সময় WPA-2 বেঁছে ব্যবহার করুন। দেখা গেছে বেশির ভাগ রাউটার গুলোতে Wired Equivalent Privacy (WEP) বা Wireless Protected Access (WPA) ডিফল্ট আকারে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেকোনো ভাবে এই এনক্রিপশন রিমুভ করুন।

ওয়াই-ফাই হাইড না করা

আপনার বাড়ির রাউটার সেটিংসের সময় আপনাকে জিজ্ঞাসা করে থাকে Hide The SSID? আপনি যদি এটি আপনার Wifi কে আড়াল করার জন্য ‘Yes’ নির্বাচন করে দিয়ে থাকেন, তখন তা আপনার স্মার্টফোন অথবা ল্যাপটপ হোম নেটওয়ার্ক খুঁজে পাওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে স্ক্যান করে থাকে। যদিও সংযোগ পাওয়ার গেলেও সব সময় নেটওয়ার্ক পাওয়ার জন্য আপনার ডিভাইস স্ক্যান চালাতে থাকে। হ্যাঁ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে আপনি এই SSID লুকানোর ফলে আপনি নিজেকে পাঁচ বছর পুরোনো প্রযুক্তির কাছে সমর্পণ করলেন।

ইন্টারনেট সুবিধার প্রোডাক্ট কিনতে তাড়াহুড়া

মার্কেটপ্লেসে ইন্টারনেটের সুবিধা জন্য নতুন কোন প্রোডাক্ট আসলে আমরা অনেকেই সেটি ক্রয় করার জন্য তারাহুড়া করে থাকি। প্রযুক্তি প্রোডাক্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ইন্টারনেটের সুবিধার জন্য নতুন সকল প্রোডাক্ট বাজারে নিয়ে আসার জন্য যেভাবে তাড়াহুরা করে কিন্ত সেই সকল প্রোডাক্টে এতো বেশি গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়ে তারা ততবেশি গুরুত্ব প্রদান করে না। হ্যাকার স্ট্যানস্লাভ বলেন যে, ইন্টারনেট সুবিধার এমন প্রোডাক্ট নিরাপদ ও গোপনীয়তা নিয়ে কথা বলার জন্য বলা হলেও আদতে কিন্ত তা নয়। তাই আমাদের উচিত যখন আমরা ইন্টারনেট সুবিধার নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহার করবো তা নিরাপদ কি না সেটি দেখে ক্রয় করা উচিত।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া