Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2020/02/blog-post_24.html

স্মার্টফোনের রুট (Root) কি সুবিধা ও অসুবিধা জেনে নিন

বর্তমান সময় হচ্ছে ডিজিটাল যুগ। আর এই সময় অনেক এই স্মার্টফোন বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন। কিন্ত এই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা রুট (ROOT) কথা শুনেন নি এমন কাউকে খুজে পাওয়া যাবেনা। কিন্ত অনেক ব্যবহারকারী আছে যারা এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন রুট (ROOT) কি তা সম্পর্কে জানেন না। আবার অনেক এই বলেন এন্ড্রয়েড স্মার্টফোনের বাড়তি পারফরমান্স পাওয়ার জন্য রুট করা হয়। 

আর এই কথা শুনে অনেকেই তাদের স্মার্টফোনটি রুট করার আগ্রহ করে থাকেন। কিন্ত দেখা যায় তাদের স্মার্টফোনটি রুট করার পর তা আগের চেয়ে অনেক দুর্বল হয়ে গিয়েছে। তাই আমরা আজ এই লেখাটিতে রুট সম্পর্কে কিছু ধারনা দেবো এবং রুট এর সুবিধা এবং অসুবিধা তুলে ধরবো। চলুন তাইলে দেখে নেয়া যাক;

রুট(ROOT)কি 

রুট (ROOT) মানে হচ্ছে শিকড়। কিন্ত এন্ড্রয়েড স্মার্টফোনের রুট বলতে বোঝায় পারমিশন বা অনুমতি। এই রুট করা মানে স্মার্টফোন এর ব্যবহারকারীদের সেই ফোনের সর্বময় ক্ষমতা দিয়ে দেই। আর এই রুট করা থাকলে ব্যবহারকারী যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। ইচ্ছামতো ফোন ব্যবহার করতে পারবে এবং তার ইচ্ছা অনুযায়ী কাস্টমাইজ করতে পারবে। তাই এই পদ্ধতিকে রুট বা সুপার ইউজার বলা হয়ে থাকে। 

সুপার ইউজার হলো সবার মাথা। স্মার্টফোন বা মোবাইল ফোন নির্মাতারা তাদের ফোনে এমন এমন জিনিস গুলো কিছু লুকিয়ে রেখেছেন যা ব্যবহারকারী দেখতে পারে না। অবশ্য এসব লুকিয়ে রাখার অনেক কারন আছে। আর এসবের মাঝে কোনো ভুলত্রুটি হলে আপনার ফোনটি অকেজো হওয়ার সম্ভব আছে। তবে জেনে বুঝে ব্যবহার করা হলে কোন সমস্যা হবে না। আর রুট করলে এসব গোপনীয় জিনিস দেখা যায়। আর ফোনটি রুট করার ফলে সব গোপনীয় সেটিংস জানা যায়। তাই রুট (ROOT) কে সুপার ইউজার বলা হয়। 

স্মার্টফোন রুট করা থাকে না যে কারনে

স্মার্টফোন বা মোবাইল ফোন যাই বলা হয় না কেন। এই স্মার্টফোনের নির্মাতারা তাদের এসব পণ্য তৈরি করার সময় অনেক সিকিউর দিয়ে রাখেন। ফোনে তৈরি করার সময় তা অনেক ফাইলে লক করে রাখেন। কেননা এই ফাইল গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ফাইল গুলোকে রুট (ROOT) ফাইল ও বলা হয়। রুট ফাইলের কোনো একটি কারণ বশত নষ্ট হয়ে গেলে ফোনের পুরো প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে যাবে। 

কিন্ত লক থাকা কারনে ব্যবহারকারী রুট অ্যাক্সেস পায় না। রুট করে থাকার কারনে আপনার ফোনে ভাইরাস বা ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম ঢুকতে পারে না। ফলে ফোন থাকে ভালো। যার কারনে আপনার ব্যবহার করা স্মার্টফোনটি ভালোভাবে চালাতে পারেন। 

যে কারনে স্মার্টফোন রুট (ROOT) করবেন 

অনেক এই নানা রকম কারনে তাদের স্মার্টফোনটি রুট (ROOT) করে থাকেন। যেমন কেউ কেউ তাদের ফোন এর ভালো পারফরমান্স এবং ফোনের গতি বাড়ানোর জন্য রুট (ROOT) করে থাকেন। কেউ কেউ আবার ইন্টারনাল মেমরি ফাকা এবং ফোনটিকে স্বাধীনভাবে কাস্টমাইজ করার জন্য মোবাইল ফোন রুট করে থাকেন।
রুট করার করার সুবিধা

  • স্মার্টফোন ফোনে থাকা অজথা বা যেসব অ্যাপ গুলা আপনার কাজে লাগে না আর যেসব ফাইল বা অ্যাপ ফোন থেকে মুছে ফেলা যায় না। কিন্ত স্মার্টফোনটি রুট (ROOT) করার ফলে আপনি সেসব ফাইল মুছে ফেলতে পারবেন। 
  • বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে আপনার ফোনের টেম্পোরারি ফাইল মুছে ফেলতে পারবেন। যার ফলে আপনার ফোনে আগের থেকে গতি ভালো বাড়বে। 
  • রুট (ROOT) করার ফলে ফোনের প্রসেসর এর গতি বাড়িয়ে নিয়ে যায়। যার ফলে কাজ করে অনেক সুবিধা হয়। 
  • রুট (ROOT) করার পর আপনি ফোন টিকে ইচ্ছা মতো কাস্টমাইজ করতে পারবেন। 
  • রুট করার পর আপনি অনেক ভালো অ্যাপ পেয়ে যাবেন আর সেগুলো আপনাকে অনেক সুবিধা দিবে। যা আপনি কল্পনা করতে পারবেন না। আর রুট ছাড়া তা করতে পারবেন না। 
  • রুট (ROOT) করার ফলে আপনার ফোনের সিস্টেম ইচ্ছা মতো আপডেট করতে পারবেন। ফোনের পুরাতন সিস্টেম ডিলিট করে দিয়ে আপনি নতুন অপারেটিং সিস্টেম লাগিয়ে নিতে পারবেন। আর এই সিস্টেম কে বলা হয়ে থাকে কাস্টম রম। 

রুট (ROOT ) করার অসুবিধা 

রুট করার ফলে আপনি নিম্নের বিষয় এর অপর ক্ষতির সম্মুখীন হবেন; 

  • রুট করার ফলে আপনার ব্যবহার করা ডিভাইস টির ওয়্যারেন্টি শেষ হয়ে যাবে। স্মার্টফোন নির্মাতারা আর আপনার স্মার্টফোন টি দেখবে না। তাই রুট করার আগে আপনাকে ভেবে চিন্তা করে রুট করতে হবে। তবে অনেক স্মার্টফোন আছে যে রুট করার পর আনরুট করা যায়। তবে ফোনটিতে কাস্টম রম থাকলে ধরা আপনাকে খেতে হবেই। তাই রুট করার আগে সাবধান। 
  • রুট করার পর আপনার ফোনে আপডেট অটোমেটিক ভাবে হইছে। আর এই সময় ভাইরাস ও ঢুকতে পারে। আর এসব কারনে আপনার ফোন নানা রকম সমস্যার মধ্যে পরতে পারে। এমন কি ফোনটি অকেজো হয়ে যেতে পারে। 
  • স্মার্টফোন বা মোবাইল ফোন রুট করার পর কিছু করার পর ফোনের মাঝে ভুল কিছু করলে আপনার ফোনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে বা ওই ফোন টিকে ব্যবহার করার আপনার পক্ষে অসাধ্য হয়ে পরবে। আর এর ফলে আপনাকে আবার নতুন করে সিস্টেম লাগিয়ে শুরু করতে হবে। 

আশা করি এই পোস্টটি পরে আপনি বুঝতে পেরেছেন যে স্মার্টফোন কেন রুট (ROOT) করা হয় এবং মোবাইল রুট করার সুবিধা ও অসুবিধা কি। এবার সব টুকু আপনার ওপর যে আপনি আপনার স্মার্টফোন টি রুট (ROOT) করবেন কি-না। 

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

সর্বশেষ আপডেটেড অফার পেতে চান?

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া