ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার নিয়ম ২০২৪

সহজ উপায়ে ওয়ালটন মোবাইল কিস্তির মাধ্যমে কিনতে চান? তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য। কিভাবে ওয়ালটন প্লাজা থেকে অথবা অনলাইনের মাধ্যমে ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কিনবেন তা বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে।

ওয়ালটনে মোবাইল কিস্তিতে কেনার জন্য বিশেষ কিছু নিয়ম বা শর্ত রয়েছে। তাছাড়া কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রয়োজন হয় কিস্তিতে মোবাইল নেওয়ার জন্য এবং কিস্তির বিশেষ কিছু নিয়মাবলীও রয়েছে তাই এসব কিছু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি।

যদি আপনার কাছে মোবাইল কেনার জন্য পর্যাপ্ত টাকা না থাকে কিন্তু মোবাইল কেনাটা জরুরী হয়ে দাঁড়ায় তাহলে ওয়ালটন আপনার সমস্যার সমাধানের জন্য কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। চলুন তাহলে কিস্তিতে ওয়ালটন মোবাইল কিভাবে কিনবেন তার বিস্তারিত আলোচনা জেনে নিই। পাশাপাশি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ওয়ালটন এসি কিস্তিতে কেনার নিয়ম ২০২৪ এই লেখাটি পড়তে পারেন।

(toc) #title=(এক নজরে সম্পূর্ণ লেখা পড়ুন)

ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার নিয়ম ২০২৪

কিস্তিতে ওয়ালটন মোবাইল কেনার শর্ত

ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কিনতে হলে মোবাইলের সম্পূর্ণ টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন না। মোবাইলের দাম অনুসারে ৪০ ভাগ আগে টাকা আপনাকে দিতে হবে এবং বাকি ৬০ ভাগ টাকা আপনি কিস্তির মাধ্যমে মাসে মাসে পরিশোধ করবেন। কিস্তির জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মাবলি বা শর্তাবলি শুধুমাত্র ওয়ালটন প্লাজা নির্ধারণ করবে।

ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

  • ক্রেতার ন্যাশনাল আইডি কার্ড অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
  • সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি 
  • ২ জন জামিনদার অর্থাৎ সাক্ষীর আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং ছবি।
  • পরিবারের একজন সদস্যকে নমিনি করতে হবে। যাতে ক্রেতার অবর্তমানে ক্রেতার পরিবার সুরক্ষা নীতিমালার সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। তাই ক্রেতার পরিবারের একজন সদস্যের পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিয়ে রাখতে হবে।

ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার নিয়ম

আপনার এলাকার নিকটস্থ কোনো ওয়ালটন প্লাজায় গিয়ে প্রথমে আপনাকে ম্যানেজারের সাথে কিস্তির বিষয়ে আলোচনা করে নিতে হবে। তারপর ম্যানেজার আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে চান চাইতে পারেন এবং আপনার সকল তথ্য দিয়ে একটি ফরম পূরণ করতে বলবে।

আপনি সকল তথ্য সঠিকভাবে দিয়ে ফরমটি পূরণ করবেন। ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করার উপরে কিন্তু আপনার কিস্তির আবেদন মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে। তাই সবগুলো সঠিক তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

এই ফর্মটি পূরণ করার সাথে আপনাকে আরো কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। কিস্তিতে মোবাইল কেনার জন্য এই কাগজপত্র গুলো অত্যন্ত জরুরী। যে যে কাগজ এবং আর ডকুমেন্ট প্রয়োজন সেগুলো আমি উপরে উল্লেখ করে দিয়েছি। তাই মোবাইল কেনার সময় সেই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আর কাগজপত্র গুলো নিয়ে যাবেন।

তাছাড়া যদি আপনাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন থাকে তাহলে ওয়ালটনের হটলাইন নাম্বারে (১৬২৬৭ বা ০৯৬১২৩১৬২৬৭) কথা বলতে পারেন। ওয়ালটনের নিত্য নতুন ফোনের আপডেট পেতে তাদের ফেসবুক পেজের দেখতে পারেন।

ওয়ালটনের ফেসবুক পেজে ফলো দিয়ে রাখলে কিন্তু আপনি তাদের নিত্য নতুন পণ্য এবং অফার সম্পর্কে সহজে জানতে পারবেন। সাধারণত যে কোনো বিশেষ দিবস বা ঈদ উপলক্ষে ওয়ালটন অনেক ছাড় দিয়ে থাকে। তাই এই ছাড়ের সময় কিস্তিতে মোবাইল কেনা আপনার জন্য অনন্য সুযোগ হতে পারে।

কত বছরের কিস্তিতে ওয়ালটন মোবাইল নিতে পারবেন

আপনি কিস্তির মাধ্যমে ওয়ালটন মোবাইল এর টাকা পরিশোধ করতে ঠিক কতটা সময় পাবেন তা নির্ভর করবে মোবাইলের দামের উপর। সাধারণত ওয়ালটন কোম্পানি কিস্তির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর সময় দিয়ে থাকে। তবে মোবাইলের দাম তুলনামূলক কম হয় তাই আপনি ছয় মাসের একটু বেশি সময় কিস্তি পরিশোধ করার জন্য পেতে পারেন।

ওয়ালটন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কিস্তি পরিশোধের সুবিধা

যেহেতু কিস্তিতে ওয়ালটন মোবাইল কেনার পর ক্রেতা অনেক দিনের কিস্তি সুবিধা পাই তবুও বারবার কিস্তি প্রদান করতে শোরুমে যাওয়া একটি বিরক্তি কর ব্যাপার এবং এতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়।তাই বাড়িতে বসে ওয়ালটন দিচ্ছে কিস্তি পরিশোধের সুবিধা।

আপনার ফোনে সহজেই ওয়ালটনের কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন। প্রথমে আপনার ফোনে বিকাশে পে বিল অপশনের ট্যাপ করুন তারপর অন্যান্য অপশন আসবে সেখানে ট্যাপ করতে হবে এবং ওয়ালটন প্লাজা বাছাই করুন এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহজেই কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন। তবে বিকাশের মাধ্যমে ওয়ালটন মোবাইলের কিস্তি পরিশোধ করতে এক পারসেন্ট সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

ওয়ালটন প্লাজা কিস্তি আবেদন ফরম

বাড়িতে বসে ওয়ালটন মোবাইল ফোন কিস্তির মাধ্যমে কিনতে হলে ওয়ালটনের ওয়েবসাইটে গিয়ে কিস্তি নেওয়ার জন্য আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।

অনলাইনে ওয়ালটনের কিস্তির ফরম পূরণ করতে যে যে তথ্যগুলো লাগবে তা হলো-

  • নাম 
  • মোবাইল নাম্বার 
  • ই মেইল আইডি
  • ন্যাশনাল আইডি কার্ডের নাম্বার 
  • জেলার নাম
  • থানার নাম 
  • পণ্যের নাম
  • নিকটতম প্লাজার ঠিকানা
  • পণ্য ডেলিভারি করা ঠিকানা

এ সকল তথ্য পূরণ করার পরে ওয়ালটনের একজন প্রতিনিধি আপনার সাথে যোগাযোগ করবে এবং পরবর্তী করণীয় জানিয়ে দিবে।

কে / কারা ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন?

বাংলাদেশের সকল প্রাপ্ত বয়স্ক এবং মানসিকভাবে সুস্থ নাগরিক যিনি/যারা আইনানুগ ভাবে চুক্তি সম্পাদন করার যোগ্যতা রাখেন এবং যাদের বয়স ১৮-৬৫ বছর, সেই সকল নাগরিক ওয়ালটন প্লাজা থেকে কিস্তিতে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।

কিস্তিতে ওয়ালটন মোবাইল যারা পাবে না

  • অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যাদের বয়স ১৮ এর নিচে।
  • মানসিকভাবে অসুস্থ কোন ব্যক্তি যারা ওয়ালটনের সাথে চুক্তি সম্পাদনে অক্ষম।
  • যারা ওয়ালটন থেকে পণ্য কেনার সময় যারা সঠিক তথ্য প্রদান করে না।
  • ম্যানেজার যাদের তথ্যের মধ্যে ত্রুটি খুজে পাবে এবং যাদেরকে কিস্তির জন্য যোগ্য মনে করবে না।

ওয়ালটন এর কিস্তি সুবিধা

  • আপনি সর্বোচ্চ তিন বছর অর্থাৎ ৩৬ মাস কিস্তি প্রদানের সুযোগ পাবেন।
  • আর যদি পণ্যটি নগদে নিতে চান তাহলে সর্বোচ্চ চার মাস সময় পাবেন নগদে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করার জন্য।
  • আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সর্বনিম্ন ডাউন পেমেন্ট ১০% থেকে শুরু হয়।
  • আপনি যদি কোনো শিক্ষার্থী অথবা শিক্ষক হন তাহলে ল্যাপটপ কেনার জন্য বিশেষ কিস্তি সুবিধা পাবেন ১ বছর পর্যন্ত।
  • কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অথবা এতিমখানার জন্য পণ্য ক্রয় করেন তাহলে ০ (শূন্য) টাকা ডাউনপেমেন্ট দিয়ে এক বছরের বিশেষ কিছু সুবিধা পেতে পারেন।
  • ওয়ালটন থেকে কিস্তিতে পণ্য ক্রয় করে আপনি বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা দিতে পারেন। যেমন ক্যাশ, নগদ, রকেট, বিকাশ, কার্ড ইত্যাদি মাধ্যমে।
  • তাছাড়া ওয়ালটন প্লাজা থেকে যেকোনো পণ্য কিস্তিতে কেনার একটি বিশেষ সুবিধা সেটি হলো "কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা" নীতিমালা। অর্থাৎ কিস্তি চলাকালীন সময়ে আপনি যদি মারা যান তাহলে কিস্তির টাকা আপনার পরিবারকে পরিশোধ করতে হবে না উপরন্তু আপনার পরিবার ওয়ালটনের পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক অনুদান পাবে।
  • আপনার ক্রয় করা পণ্যটির মূল্য যদি ১০ হাজারের বেশি হয় তাহলে আপনি এই কিস্তি সুবিধা পাবেন।কিন্তু যদি১০০০০ বা তার কম হয় তাহলে আপনাকে ক্যাশ দিতে হবে।
  • আপনার যদি ক্রেডিট কার্ড থেকে থাকে তাহলে ইএমআই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে সহজে ওয়ালটন থেকে ফোন কিনতে পারবেন।

ওয়ালটন মোবাইলের দাম

ওয়ালটন মোবাইলের দাম

Model: NEXG N6 Lite

MRP: 13,648 tk

ওয়ালটন মোবাইলের দাম

HANON X20

MRP 20,998 tk

কিস্তিতে ওয়ালটনের পণ্য ক্রয়কারীদের জন্য সুরক্ষা নীতি

ওয়ালটন থেকে কিস্তিতে যেকোনো পণ্য কিনলে ক্রেতারা পাচ্ছেন বিশেষ সুরক্ষা নীতি। কিস্তি চলাকালীন সময়ে ক্রেতা মারা গেলে তার কিস্তির বাকি টাকা মওকুফ করে দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত কিছু টাকা তার পরিবারকে সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়। পরিবারের কেউ মারা গেলে সে ক্ষেত্রেও অনুদান দেওয়া হয়ে থাকে। তাই মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত সকলেই walton থেকে কিস্তিতে পণ্য কেনার জন্য আগ্রহী হচ্ছে।

কিস্তিতে মোবাইল কোথায় পাবো

শুধুমাত্র যে ওয়ালটন থেকে কিস্তিতে মোবাইল কিনতে পারবেন তা নয়। কেননা বর্তমানে মোবাইল ফোনের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে মোবাইল ফোন বিক্রয়কারী কোম্পানির গুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই নিজেদের ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিতে সবাই কিস্তিতে মোবাইল ফোন বিক্রি সুবিধা চালু করেছে।

বর্তমানে দারাজ ওয়ালটন এবং রবি শপ এ প্রতিষ্ঠানগুলো কিস্তিতে মোবাইল ফোন বিক্রি করছে। তাই আপনার পছন্দমত মোবাইল ফোনটি যে প্রতিষ্ঠানে ভালো দামে পাওয়া যাবে এবং সহজ কিস্তিতে পাওয়া যাবে সেখান থেকে ক্রয় করতে পারেন। অবশ্যই একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন সেটি হলো কিস্তিতে যে প্রতিষ্ঠান আপনাকে জিরো পার্সেন্ট ইন্টারেস্ট দিবে সে প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য নেওয়ার চেষ্টা করাই ভালো।

কিস্তিতে ওয়ালটন মোবাইল নিয়ে শেষ কথা

আশা করি, আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনারা বুঝতে পেরেছেন কিভাবে ওয়ালটন থেকে কিস্তিতে মোবাইল ফোন ক্রয় করবেন, কিস্তি নিতে আপনার কি কি কাগজপত্র দরকার হবে, কিস্তি নেওয়ার নিয়ম এবং কিস্তির সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে। তবে অবশ্যই ওয়ালটন থেকে কিস্তিতে মোবাইল কিনতে হলে ওয়ালটনের দেওয়া কিস্তি নীতিমালা ভালোভাবে পড়ে বুঝে নিবেন। ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার নিয়ম জানার পাশাপাশি আরো জানতে পারেন বর্তমানে রহিম আফরোজ আইপিএস এর দাম ২০২৪

পোষ্ট ক্যাটাগরি:

এখানে আপনার মতামত দিন

0মন্তব্যসমূহ

আপনার মন্তব্য লিখুন (0)