ই ক্যাপ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

ই ক্যাপ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - আপনি যদি আপনার ত্বক নিয়ে সচেতন হোন। তাহলে ত্বকের যত্নের জন্য ইতিমধ্যে আপনার ভিটামিন ই ক্যাপসুল সম্পর্কে পরিচিত হওয়ার কথা। ভিটামিন ই ক্যাপসুলকেই মূলত ই ক্যাপ বলা হয়। এটি মূলত একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

ই ক্যাপে মূলত আটটি যৌগ থাকে যার মধ্যে একটি যৌগ মাত্র মানবদেহের জন্য কার্যকারী। আর সেই যৌগের উপকারিতাই অনেক। মানব দেহের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ই ক্যাপ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমরা হয়তো জানি না যে ই ক্যাপ মূলত আমাদের শরীরের শারীরিক বিকাশ ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও খুব ভালো ভূমিকা পালন করে থাকে। এটি আমাদের ডায়েটেও রাখা যেতে পারে।

ই ক্যাপ মূলত বাজারে কেনাবেচা করা হয় ক্যাপসুল আকারে। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এটি প্রাকৃতিক ভাবেও পাওয়া যায় যেমন চিনা বাদাম, পালং শাক ও সবুজ শাকসবজিতেও পাওয়া যায়। তাছাড়া এটি একটি চর্বি দ্রবনীয় ভিটামিন। চলুন আজকের আর্টিকেলে আমরা ই ক্যাপ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেইঃ

(toc) #title=(সুচিপত্র)

ই ক্যাপ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

ই ক্যাপ কি

ভিটামিন ই হল একটি চর্বি-দ্রবণীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রমে এবং সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি প্রাকৃতিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু খাবারে পাওয়া যায় এবং বাজারে ক্যাপসুল আকারে কিনতেও পাওয়া যায়। ভিটামিন ই ক্যাপসুলকেই মূলত ই ক্যাপ বলা হয়। ভিটামিন ই ক্যাপসুল শরীরে ভিটামিন ই এর ঘাটতি পূরণ করে। ভিটামিন ই আমাদের শরীরকে নানাভাবে উপকার করে। যদিও ভিটামিন ই বেশ কিছু উপকারি, তবে এর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যান্ত জরুরী। ই ক্যাপ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুনঃ কাজু বাদাম খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

ই ক্যাপ কয় ধরনের

বাজারে নানা ধরনের ই ক্যাপ পাওয়া যায়। বিভিন্ন ড্রাগ কোম্পানি সাধারণত ই ক্যাপ প্রস্তুত করে থাকেন। তিন ধরনের ই ক্যাপ সাধারণত বাজারে বেশি পাওয়া যায়। যেমন

  • ই ক্যাপ ২০০
  • ই ক্যাপ ৪০০
  • ই ক্যাপ ৬০০

ই ক্যাপ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

ই ক্যাপ খাওয়ার উপকারিতা কি? ভিটামিন ই ক্যাপসুলের প্রচলন অনেক বেড়েছে এবং এটি বেশিরভাগ ত্বক এবং চুলের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে এটি ছাড়াও এর অন্যান্য সুবিধা রয়েছে যা আমরা আরও জানব। তাহলে আসুন জেনে নিই ভিটামিন ই ক্যাপসুলের উপকারিতা সম্পর্কে।

ই ক্যাপ খাওয়ার উপকারিতা

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে: ই ক্যাপে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামক এক ধরনের উপাদানের উপস্থিতি থাকে। এবং এই উপাদানটি আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে। সারাদিন রোদে ঘোরাফেরা করার ফলে আমাদের ত্বক প্রাণহীন হয়ে যায়। ত্বকের এই সমস্যা দূর করতে ই ক্যাপ দারুন ভাবে সাহায্য করে।

চুল পড়া বন্ধ করে: চুল পড়া বন্ধের জন্য ই ক্যাপ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ঔষধ। অধিকাংশ মানুষই চুল পড়া বন্ধ করতে ই ক্যাপ সেবন করে থাকে। ই ক্যাপ শুধুমাত্র চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে না নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। যারা চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা নিঃসন্দেহে ই ক্যাপ সেবন করতে পারেন।

যৌ*ন সমস্যা সমাধান করে: আমাদের সমাজে অনেক মানুষ রয়েছেন যাদের শারীরিক অক্ষমতা রয়েছে। শারীরিকভাবে দুর্বল এই মানুষেরা ই ক্যাপ সেবন করতে পারেন। এটি সেবনে আপনি আপনার শরীরে ধীরে ধীরে সক্ষমতা ফিরে পাবেন এবং সহ বাসের সময়ও আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে।

বয়সের ছাপ দূর করে: বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের ত্বকে এক ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করে। আমাদের ত্বকের চামড়া কুঁচকে যায় বিভিন্ন রকমের কালচে দাগ দেখা দেয়। এমনকি বয়সের কারণে বলিরেখা দেখা দেয়। অ্যান্টি এজিং উপাদান যা আমাদের ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই ত্বক ভালো রাখতে ই ক্যাপের জুড়ি মেলা ভার।

নখ ভালো রাখতে সাহায্য করে: আমাদের আশেপাশে অনেকেই রয়েছে যাদের নখ খুব সহজেই ভেঙে যায়। এমনকি নখের সৌন্দর্য খুব একটা দেখা যায় না। ই ক্যাপ আমাদের নখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই নখের সমস্যা দূর করতে এই ক্যাপ সেবন করা যেতে পারে।

ক্ষত সারাতে: ই ক্যাপ ক্ষত সারাতে দারুন ভাবে কার্যকরী। কোথাও কোন ভাবে আঘাত লেগে কেটে গেলে ওই স্থানে যদি ক্ষত হয়ে যায় তাহলে আপনি ই ক্যাপ খেতে পারেন। এটি ক্ষত স্থান দ্রুত সারিয়ে তোলে।

ভিটামিন ই এর অভাব পূরণ: নাম শুনে বোঝা যাচ্ছে এটি আমাদের শরীরে ভিটামিন ই এর অভাব পূরণ করতে সাহায্য করে। মূলত ভিটামিন ই এর অভাবে আমাদের শরীরে যে সকল রোগ দেখা দেয় সে সকল রোগের প্রতিরোধের জন্য আমরা নিয়মিত ই ক্যাপ সেবন করতে পারি। ভিটামিন ই জাতীয় খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ভিটামিন ই সেবন করলে শরীরে ভিটামিন ই এর অভাব পূরণ হয়ে যাবে।

আরো পড়ুনঃ কাতিলা গামের উপকারিতা - কাতিলা গাম এর উপকারিতা

ই ক্যাপ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া - ই ক্যাপ খাওয়ার অপকারিতা

ই ক্যাপ খাওয়ার আগে ই ক্যাপ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নেওয়া জরুরি। যদিও ই ক্যাপ খাওয়ার কোন অপকারিতা নেই বললেই চলে। এটি সাধারণত আমাদের শরীরে ভিটামিন ই এর অভাব পূরণ করে। তবে অনেকের ই ক্যাপে এলার্জিজনিত সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও ঘনঘন সেবনের ফলে আমাশয় ও দেখা দিতে পারে। 

আপনি যদি অ্যালার্জির থাকার কারণে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, ক্ষত বা র*ক্তপাত, ক্লান্তি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, হালকা ফুসকুড়ি, দৃষ্টি পরিবর্তন, বমি বমি ভাব এই লক্ষণগুলির মধ্যে কোনটি লক্ষ্য করেন তবে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে দেখা করুন।

যেকোনো ওষুধ পরিমিত খাওয়া উচিত। বেশি কোন কিছুই সেবন করা উচিত নয় এবং ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরী। তাই ই ক্যাপ গ্রহণের আগে আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিন।

ই ক্যাপ ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

ঔষধ খাওয়ার আগে অবশ্যই তার নিয়ম জানতে হবে। বাজারে সাধারণত তিন ধরনের পাওয়ার এর ই ক্যাপ পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেই খাওয়ার নিয়ম:

  • ই ক্যাপ ২০০ mg: সকালে ও রাতে অর্থাৎ দুই বেলা সেবন করবেন।
  • ই ক্যাপ ৪০০ mg: দিনে যে কোন একবার সেবন করবেন হয়তো রাতে নয়তো সকালে।
  • ই ক্যাপ ৬০০ mg: দিনে একবার সেবন করবেন।

তবুও খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিন।

আরো পড়ুনঃ কাতিলা গাম কিভাবে খেতে হয়

ই ক্যাপ এর দাম

  • ই ক্যাপ ২০০ mg সাধারণত প্রতি পিস ৪.৫০ টাকা। একপাতায় সাধারণত দশটি ক্যাপসুল থাকে তাই এক পাতার দাম ৪০ টাকা।
  • ই ক্যাপ ৪০০ mg প্রতি পিসের মূল্য ৬.৫০ টাকা। এক কথায় সাধারণত ১০ টি ক্যাপসুল থাকে এবং এক পাতার মূল্য ৬০ টাকা।
  • ই ক্যাপ ৬০০ mg এর প্রতি পিসের মূল্য ৮ টাকা। এক পাতায় সাধারণত ১০ টি ক্যাপশন থাকে যার মূল্য ৮০ টাকা।

শেষ কথা

ই ক্যাপ আমাদের শরীরে ভিটামিন ই এর অভাব পূরণ করে। ই‌ ক্যাপ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আপনাদেরকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তবুও সেবনের আগে অবশ্যই একজন ভাল ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। আশা করি এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনি কিছুটা হলেও উপকৃত হয়েছেন। আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

পোষ্ট ক্যাটাগরি:

এখানে আপনার মতামত দিন

0মন্তব্যসমূহ

আপনার মন্তব্য লিখুন (0)