Technical Care BD https://www.technicalcarebd.com/2021/06/root-software-android.html

মোবাইল রুট করার নিয়ম | রুট করার সফটওয়্যার

রুট করার সফটওয়্যার | মোবাইল রুট করার নিয়ম  আজকের আর্টিকেলের বিষয়বস্তু হচ্ছে মোবাইল ফোন রুট করার নিয়ম সম্বন্ধে। বর্তমান সময়ে অনেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকেন। কিন্ত এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার নিয়ম কি? কিভাবে মোবাইল ফোন রুট করবেন সেই বিষয়ে জানেন না। 

মোবাইল রুট করার নিয়ম

মনে রাখবেন যে, এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করা কিন্ত সকলের জন্য জরুরি নয়। যদি আপনি নিজের মোবাইল ফোনে কিছু experiments করতে চান আর মোবাইল ফোনের পারফর্মেন্স বৃদ্ধি করে নিয়ে মোবাইলকে আরও শক্তিশালী করতে চান, তাহলে আপনার মোবাইল ফোনটি একবার রুট করে দেখতে পারেন।

অনেক টেকনিক্যাল সম্পর্কে জ্ঞান রাখা মানুষরাই মোবাইল ফোন রুট করেন। তবে হ্যাঁ, যদি আপনি সাধারন একজন মানুষ হয়ে থাকেন আর টেকনিক্যাল বিষয় সম্পর্কে যদি আপনার তেমন কোন জ্ঞান না থেকে থাকে তাহলে মোবাইল ফোন রুট করে আপনার তেমন কোনো লাভ হবেনা।

তবে মনে রাখবেন, এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার পরবর্তীতে আপনি এমন কিছু মজার অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন যেগুলো মোবাইল ফোনে পূর্বে ব্যবহার করতে পারতেন না। মোবাইল রুট করার পরে যে অ্যাপস গুলো ব্যবহার করতে পারবেন-

  • Font Style পরিবর্তন অ্যাপ
  • Security Apps
  • Ram বাড়ানোর অ্যাপস
  • Performance Booster Apps ইত্যাদি

এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন রুট করার পরে আপনি অনেক কোম্পনির মোবাইল এর Stock Rom ইনস্টল করে বিভিন্ন কোম্পনির স্মার্টফোনের মজা নিতে পারবেন। এছাড়াও আরও অনেক ধরনের লাভ আছে যা আপনি এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার পরবর্তী সময়ে বুঝতে পারবেন।

তােহ চলুন নিম্নে আলোচনা করা থেকে জেনে নেই মোবাইল রুট কি? কিভাবে মোবাইল ফোন রুট করতে হয় বা রুট কাকে বলে এবং এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার নিয়ম সম্বন্ধে। 

রুট কি | মোবাইল রুট কি?

বর্তমান সময়ে রুট শব্দটি আমাদের সবার কাছে এতটাই পরিচিত হয়ে গেছে যে, এটাকে আমরা সবাই রুট ইউজার বলার পরিবর্তে সরাসরি মোবাইল রুট বলে থাকি। সহজ ভাষায় বলতে, রুট হচ্ছে একটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অর্থাৎ প্রশাসক। অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এর বাংলা অর্থ হচ্ছে গাছের শিকড়। মূলত রুট বলতে সেই পারমিশণকে বোঝায় যেটার মাধ্যমে ইউজারকে সবসময় ক্ষমতার অধিকারী করে তোলা হয়।

রুট হচ্ছে একটি অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন পারমিশন বা অনুমতি। এই অনুমতি যদি আপনার মোবাইল ফোনে থাকে তাহলে আপনি যা ইচ্ছা সেটাই করতে পারবেন। যারা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ইউজার তারা অ্যাডমিনিষ্ট্রেটর প্রিভিলেজ ব্যাতিত কখনো সিস্টেম ফাইলগুলোকে নিয়ে কাজ করতে পারবেন না।

ঠিক তেমনি ভাবে লিনাক্সও অপারেটিং সিস্টেমে রুট অনুমতি ইউজার ছাড়া সিস্টেম অ্যাডমিনিষ্ট্রেটর কাজগুলো করা যায়না। লিনাক্স চালিত সার্ভারে আপনি যেটা ইচ্ছা সেটাই করতে পারবেন। এক কথায় যার সকল কিছু করার অনুমতি আছে তাকে রুট ইউজার অর্থাৎ রুট বলা হয়।

আশাঁ করি, অনেক সহজেই বুঝতে পারছেন যে রুট কি এবং রুট কাকে বলে। তোহ এবার চলুন জেনে নেই এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার নিয়ম সমন্ধে।

কম্পিউটার ছাড়া রুট | মোবাইল রুট করার নিয়ম কম্পিউটার ছাড়া

আগে যখন কেউ মোবাইল রুট করার কথা চিন্তা করতো তখন কম্পিউটার ব্যবহার করার প্রয়োজন হতো। কিন্ত বর্তমান সময়ে আপনি এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার জন্যে এমন অনেক ধরনের Rooting Apps পাবেন যার সাহায্য ৫ মিনিটের মধ্যে নিজের এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনকে সহজেই রুট করতে পারবেন।

এই মাধ্যম গুলো হচ্ছে সহজে এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার সেরা উপায়। মোবাইল রুট করার এই অ্যাপস গুলো আপনি গুগল প্লে স্টোর থেকে অথবা গুগলে সার্চ করে সহজেই ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ বিদ্যুৎ বিল কমানোর উপায়

আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাকে এমন ৩টি মোবাইল রুট করার অ্যাপ/সফটওয়্যার এর বিষয়ে বলবো যেগুলাে ব্যবহার করে সহজে এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করতে পারবেন। তার জন্য আপনাকে প্রথমে এই মোবাইল রুট করার অ্যাপস গুলো মোবাইল ফোনে ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পরের স্টেপ গুলো অনুসরণ করুন।

রুট করার সফটওয়্যার

মোবাইল রুট করার পূর্বে আপনাকে কিছু বিষয় সম্পর্কে আগে থেকেই নজর দিতে হবে। এই বিশেষ ও নিয়মগুলো আমি আপনাকে বলবো। তাহলে চলুন জেনে নেই এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার অ্যাপস গুলো সমন্ধে।

১. King Root | রুট কিভাবে করবো

King Root এন্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশান যেকোনো এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার জন্য সবথেকে সেরা এবং ভালো অ্যাপ্লিকেশান হিসাবে প্রমানিত হয়েছে। King Root অ্যাপ মোবাইল ফোনের রুটিং প্রসেসকে অনেক সহজে সুরক্ষিত ভাবে সম্পূর্ণ করে।

মোবাইল ফোন রুট করার যতগুলো অ্যাপ আছে তার মধ্যে সবথেকে বহুল ব্যবহার করা হয়ে থাকে এই অ্যাপটি। এই অ্যাপ্লিকেশানটি গুগল প্লে স্টোর থেকে সহজে ডাউনলোড করতে পারবেন। আর এই অ্যাপের মাধ্যমে কম্পিউটারের সাহায্য ছাড়া নিজের মোবাইলকে রুট করতে পারবেন।

২. SuperSU – One Click Root | রুট করার সফটওয়্যার

SuperSU মোবাইল রুটিং অ্যাপের ব্যাপারে আপনি গুগলে সার্চ করে সহজেই ডাউনলোড লিংক পেয়ে যাবেন। আমি এই অ্যাপ ব্যবহার করে আমার নিজের রিয়েল্মি মোবাইল ফোন রুট করেছি। কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই মাত্র একটি ক্লিক করে আমার এন্ড্রয়েড মোবাইলটি সফলভাবে রুট হয়ে গিয়েছে। তাই যদি আপনি আপনার এন্ড্রয়েড মোবাইল রুট করার কথা ভাবেন এবং যদি আপনি ভাবেন কিভাবে মোবাইল রুট করবো তাহলে এই SuperSU App টি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

৩. FamaRoot | রুট করার অ্যাপ

Fama Root App এর মাধ্যমে আপনি শুধুমাত্র এক ক্লিকের মাধ্যমে আপনার এন্ড্রয়েড ফোন রুট করতে পারবেন। এই অ্যাপটি আপনি গুগল প্লে স্টোর থেকে সহজেই ডাউনলোড করে নিতে পারবেন না। কেননা এই রুট করার অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপ নেই।

তবে, গুগলে সার্চ করে এই FamaRoot এন্ড্রয়েড ফোন রুট করার অ্যাপটি আপনি অনেক রকমের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। আপনার স্মার্টফোন রুট করার জন্য এই অ্যাপটি আপনার কাজে আসবে কি-না সেটা এই অ্যাপটি ব্যবহার করলেই জানতে পারবেন।

রুট করার আগে কি করতে হয়

  • মোবাইল রুট করার পূর্বে ফোনের চার্জ কমপক্ষে ৭০% রাখতে হবে। যার কারণে আপনার রুটিং প্রসেসে কোনো ধরনের সমস্য হবেনা।
  • রুট করার পূর্বে মোবাইল ফোনে থাকা সকল প্রয়োজনীয় ফাইল, ডকুমেন্ট, গান, ছবি ইত্যাদি ব্যাকআপ নিয়ে রাখবেন।
  • উপরোক্ত আলোচনা করা অ্যাপসগুলোর মধ্যে আপনি যে অ্যাপ ব্যবহার করে মোবাইল রুট করবেন সেই অ্যাপটি অবশ্যই সেই ফোনেের ইন্টারনাল মেমোরিতে ইনস্টল করতে হবে।
  • মোবাইল ফোন রুট করার অ্যাপটি ওপেন করে সেখানে দেয়া স্টেপগুলো অনুসরণ করে নিজের মোবাইল ফোনটি রুট করুন।

রুট করার সুবিধা |  মোবাইল রুট করে লাভ কি হবে 

যদি আপনি মোবাইল রুট করার চিন্তা ভাবনা করেন, তাহলে মোবাইল ফোন রুট করে কি লাভ হবে তা জানা অবশ্যই জরুরি। তাছাড়া ফোন রুট করার মজাই আলদা।

  • মোবাইল ফোন রুট করে মোবাইলের UI ইউজার ইন্টারফেস পরিবর্তন করতে পারবেন।
  • যখন আপনি নতুন মোবাইল ফোন কিনেন তখন ফোনের মধ্যে আগে থেকে কিছু অ্যাপস ইনস্টল করা থাকে, যেগুলোকে আপনি আনইন্সটল করতে পারেন না। যার ফলে অনেক সময় আপনার মোবাইল ফোনটি ধীর গতি বা স্লো হয়ে যায়। তবে হ্যাঁ, আপনি যখনি মোবাইল ফোন রুট করবেন তখনি সেই সকল অ্যাপসগুলো আনইন্সটল করতে পারবেন।
  • প্রসেসর ওভার ক্লক এবং আন্ডার ক্লক করে সহজে মোবাইলের প্রসেসর এবং পারফর্মেন্স বৃদ্ধি করতে পারবেন।
  • বিভিন্ন কোম্পনির স্মার্টফোনগুলোর Stock Rom অর্থাৎ Custom Rom গুলো মোবাইল ফোনে ইনস্টল করতে পারবেন।
  • এছাড়াও আপনি এমন অনেক অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন, যেসকল অ্যাপ রুট করার পূর্বে আপনি সেই মোবাইলে ব্যবহার করতে পারতেন না।
  • আশাঁ করি, মোবাইল ফোন রুট করার লাভগুলোর ব্যাপারে সহজেই জানতে পারলেন। তাহলে এবার চলুন নিচে আলোচনা করা মোবাইল ফোন রুট করার কারণে মোবাইলের কি কি ক্ষতি হতে পারে।

মোবাইল রুট করার ফলে কি কি ক্ষতি হতে পারে

মোবাইল রুট করার কারণে মোবাইলের তেমন কোনো বিশেষ ক্ষতি হয়না। মোবাইল রুট করার কারণে আপনার মোবাইলের সমস্যা হওয়ার সুযোগ অনেক কম থাকে। কিন্ত, আবার অনেকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে তাদের বিশাল বড় ক্ষতি হয়ে গেছে মোবাইল ফোনে।

  • মোবাইল ফোন রুট করার কারণে আপনার মোবাইল ফোনের ওয়ারেন্টি থাকবে না অর্থাৎ ফোনের ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে যাবে।
  • মোবাইল রুট করার ফলে অপেরাটিং সিস্টেম থেকে অটোমেটিক আপডেট না আসার সম্ভাবনা থাকে।
  • মোবাইল রুট করার সময়ে অবশ্যই ভালো করে স্টেপগুলো পড়ে জেনে বুঝে অনুসরণ করুন। আর তা হলে ফোনটি চিরকালের জন্যে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
  • রুট করার কারণে আপনার মোবাইলে নানান ধরনের ক্ষতিকারক ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে। যার ফলে মোবাইল ফোনের বিশাল বড় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • আমি আমার ফোনটি রুট করার কারণে দেখলাম ফোনটি আগের থেকে অনেক বেশি স্লো হয়ে গেছে। তাই আপনার ফোনটিও স্লো বা ধীর গতির হয়ে যেতে পারে।

বিঃদ্র- আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করা আমি যে ৩টি মোবাইল রুট করার সফটওয়্যারগুলো বিষয়ে বললাম, সেগুলো ব্যবহার করে আপনি অনেক সহজেই নিজের স্মার্টফোনটি রুট করতে পারবেন। কিন্ত যদি রুট করার পরবর্তী সময়ে আপনার মোবাইল ফোনটির কোনো ধরনের ক্ষতি হয় তবে আমি এবং আমার এই technicalcarebd.com ব্লগটি কোনো ভাবে দ্বায়ী থাকবে না।

শেষ কথা

আজকের আর্টিকেল থেকে জানলাম রুট কি? রুট কাকে বলে? মোবাইল কিভাবে রুট করতে হয় এবং মোবাইল রুট করার নিয়ম সেই ব্যাপারে। যদি আপনি মোবাইল রুট করার নিয়ম সম্বন্ধে জানতে চান তাহলে উপরের মোবাইল রুট করার অ্যাপস গুলোর সাহায্য কোনো রকম কম্পিউটার ছাড়া মাত্র এক ক্লিক করে মোবাইল রুট করতে পারবেন।

আমি আপনাকে পরামর্শ দিবো, যদি আপনি দামি ফোন ব্যবহার করেন তাহলে ফোনটি রুট করবেন না। কেননা, রুট করার কারণে আপনার ফোনের সিকিউরিট সিস্টেম অনেক বাজে হয়ে যাবে বা যেতে পারে। যার কারণে মোবাইল ফোনে সহজে ক্ষতিকারক ভাইরাস প্রবেশ করতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ স্মার্টফোন স্লো হয়ে গেলে ফাস্ট করবেন যেভাবে

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া